শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪০ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত। তিনি জানিয়েছেন, সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কর্মজীবন শুরু করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সেখান থেকে তিনি একটি সহজ শিক্ষা পেয়েছেন- বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী সঠিক পরিবেশ প্রয়োজন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে এসব কথা বলেন।
বৈঠকের আয়োজক জেপি মর্গান এবং অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়াল স্ট্রিটের মানুষ নন; একজন বাংলাদেশি এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছি।
তিনি বলেন, "ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা তাদের ব্যবসা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন, আর আমি কাজ করি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায়। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের মূলনীতি একই-সাফল্য নিশ্চিত করা।"
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেছেন। আজ তিনি দেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগগুলো সরাসরি তুলে ধরতে চান।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। দেশটির রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান।
তিনি বলেন, বিশ্ব বাংলাদেশকে বড় উৎপাদন ও তৈরি পোশাকের কেন্দ্র হিসেবে চেনে। এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তা অব্যাহত থাকবে। তবে আজকের বাংলাদেশ এর চেয়েও অনেক বেশি সম্ভাবনা ধারণ করে।
জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সরকার কাজ করছে। নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোর উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় তার সরকার। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের উদ্যোগ এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের কথা তুলে ধরেন তিনি।
বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপনে এসব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গ্যানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রেফারেন্স পয়েন্ট পেয়েছেন এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনো বক্তব্যের পর কী ঘটে, তার ভিত্তিতেই একটি দেশকে মূল্যায়ন করেন। বিধিবিধান কতটা পূর্বানুমেয়, বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত, মূলধন কতটা দক্ষতার সঙ্গে স্থানান্তর করা যায় এবং মুনাফা কতটা সহজে দেশে ফেরত নেওয়া যায়-এসব তাঁদের যৌক্তিক প্রশ্ন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নীতির মাধ্যমে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করাই সরকারের দায়িত্ব। সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেন নয়, উভয় পক্ষের জন্য মূল্য সৃষ্টি করবে এমন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চায়।
ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায় সরকার, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন এবং তাঁদের স্বার্থ ও সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সরল- আরও বিনিয়োগ, আরও বাণিজ্য, আরও কর্মসংস্থান, আরও প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব।
বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে, আপনাদের কথা শুনতে এবং যেখানে সম্ভব বাধা দূর করতে আমরা প্রস্তুত। আশা করি, আপনাদের অনেককেই শিগগিরই বাংলাদেশে দেখতে পাব।"
বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম হাটহাজারী উপজেলা থেকে পুলিশ মো. নাছির উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করেছে, তার কাছে বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ওয়ান শুটারগান (এলজি) এবং ১১ রাউন্ড গুলি-কার্তুজ ছিল। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের ধলই ইউনিয়নের সভাপতি।
পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানিয়েছেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার অভিযান চালিয়ে তার বসতঘর থেকে তাকে আটক করা হয়।
নাছির উদ্দীনের শয়নকক্ষের স্টিলের ওয়ারড্রবের ড্রয়ার থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটারের চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, একই কক্ষের স্টিলের আলমারির নিচের ড্রয়ার থেকে একটি ওয়ান শুটারগান (এলজি) ও সাত রাউন্ড তাজা শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া কার্তুজের গায়ে লেখা রয়েছে শক্তিমান এক্সপ্রেস মেড ইন ইন্ডিয়া।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে নাছির অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেছে। তার বন্ধু মো. তৈয়ব, যিনি রাউজানের বাসিন্দা, তিন-চার মাস আগে বিদেশে যাওয়ার সময় অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলো তার কাছে রেখে যান। দেশে ফিরে তৈয়ব এগুলো নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
এ ঘটনায় নাছির উদ্দীন এবং পলাতক তৈয়বের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকার মাদানী অ্যাভিনিউতে অবস্থিত এসএফবিএল অ্যারেনায় স্যামসন এইচ. চৌধুরীর ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের এই জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে স্যামসন এইচ. চৌধুরীর জীবন, কর্ম ও আদর্শের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বিশেষ স্মৃতিকথা সংকলন গ্রন্থ ‘Samson H. Chowdhury: Stories of Uncompromising Integrity’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এই বইটি স্যামসন এইচ. চৌধুরীর সান্নিধ্যে আসা ব্যবসায়ী নেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পারিবারিক স্নেহভাজনদের স্মৃতিকথা ও অনুভূতির সংকলন।
স্মরণ অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য প্রদান করেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী। এছাড়া, পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন স্কয়ার ফ্যাশনস লিমিটেডের পরিচালক সানচিয়া চৌধুরী।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান।
এই সময় স্যামসন এইচ. চৌধুরীর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র ‘Samson: Through a Son's Lens’-এর একটি সংক্ষিপ্ত অংশও প্রদর্শিত হয়।
এছাড়া, স্যামসন এইচ. চৌধুরীর মানবিক আদর্শকে ধারণ করে অনিতা-স্যামসন ফাউন্ডেশন ও স্কয়ার পরিবার বিভিন্ন সামাজিক জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশব্যাপী মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগ ‘৫৬ হাজার স্কয়ার মাইল জুড়ে’, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম, পোশাক শ্রমিকদের বিনামূল্যে চক্ষু শিবির, কলসিন্দুরের নারী ফুটবলারদের সহায়তা এবং পাবনায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র একটি কৌশলগত সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছে, যার উদ্দেশ্য হলো শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার এবং বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে উভয় দেশের মধ্যে এই সমঝোতা সই হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এতে স্বাক্ষর করেন।
এই নতুন সমঝোতার মূল লক্ষ্য হলো শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক সেফগার্ড এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে সহযোগিতা জোরদার করা। উভয় দেশ বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা মান অনুসরণের বিষয়ে একমত হয়েছে।
সমঝোতা অনুযায়ী, পারমাণবিক শক্তি দুই দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, এমন স্বীকৃতি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই দিয়েছে। একই সঙ্গে, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তার সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে দুটি ১২০০ মেগাওয়াটের ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। ঢাকা পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়াতে চায়।
নতুন সমঝোতায় পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর সেফগার্ড ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। উভয় দেশ পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধসংক্রান্ত চুক্তি বা NPT-এর সদস্য এবং উভয়ের IAEA safeguards agreement ও Additional Protocol কার্যকর রয়েছে বলে সমঝোতায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এটিকে সরাসরি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বা পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের চুক্তি হিসেবে দেখা যাবে না। এটি মূলত দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরির সমঝোতা। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক ‘123 Agreement’ হলে সেটি পারমাণবিক উপকরণ, জ্বালানি, রিঅ্যাক্টর ও সরঞ্জাম স্থানান্তরের জন্য আইনি কাঠামো তৈরি করতে পারে; কিন্তু MoU নিজে সেই ধরনের স্থানান্তরের অনুমতি দেয় না।
বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এর আগে বৃহত্তর জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও উৎস বহুমুখীকরণ নিয়ে একটি কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতা সমঝোতা সই করে। নতুন চুক্তিটি বিশেষভাবে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে।
নতুন এই সমঝোতা এমন সময়ে হয়েছে, যখন বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা বাড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির গুরুত্বও বাড়ছে। ফলে পারমাণবিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে রূপপুর প্রকল্পের বিদ্যমান প্রযুক্তি ও সরবরাহ কাঠামো এবং নতুন মার্কিন সহযোগিতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। রূপপুর প্রকল্পে রুশ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। চলতি বছরের বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতেও ভবিষ্যৎ পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, ফুয়েল রড ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংক্রান্ত একটি বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন সমঝোতাটি বাংলাদেশের পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার একটি নতুন ভিত্তি তৈরি করেছে। এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে ভবিষ্যতে দুই দেশ কী ধরনের প্রযুক্তিগত, নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ও বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে তার ওপর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পূর্ব সুন্দরবনের বনদস্যু মজনু বাহিনীর দ্বারা চারজন জেলের অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে শরণখোলা রেঞ্জের আমবাড়িয়া এবং কটকার কালামিয়ার ভারাণী এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। এই সময় পাঁচটি মোবাইল সেট ও একটি মাছ ধরা নৌকাও দস্যুরা নিয়ে যায়।
অপহৃত জেলেদের মধ্যে তিনজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন রিপন (২৬), ফরিদ (৩০) ও রিপন (২৮)। এই জেলেদের বাড়ি খুলনার কয়রা, বাগেরহাটের শরণখোলা ও রামপাল এলাকায় অবস্থিত বলে জানিয়েছেন অপহৃতদের মহাজনরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলেদের মহাজনরা জানিয়েছেন, বনদস্যু মজনু বাহিনীর ১০-১২ জন সশস্ত্র দস্যু একটি ট্রলারযোগে এসে জেলেবহরে হামলা চালায়। অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে পৃথক স্থান থেকে চারটি নৌকা থেকে চারজনকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় জেলেদের ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল সেট ও একটি নৌকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় দস্যুরা। তবে অপহৃত জেলেদের মুক্তিপণের বিষয়ে দস্যুরা এখন পর্যন্ত কোনো মহাজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিল্টন রায় জানিয়েছেন, জেলে অপহরণের খবর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। জেলেদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ