মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৫ পি.এম
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় এক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে তার সৎ বাবা এবং ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক প্রতিবেশী যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ডানে আটারকছড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো—ডানে আটারকছড়া এলাকার মৃত এরফান উদ্দীন চৌধুরীর ছেলে অভিযুক্ত সৎ বাবা ফজলুল হক চৌধুরী (৬৫) এবং একই এলাকার জামাল উদ্দীনের ছেলে প্রতিবেশী যুবক শহিদুল (২৩)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী তার মায়ের সঙ্গে আটারকছড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সৎ বাবা ফজলুল হক চৌধুরীর বাড়িতেই বসবাস করে আসছিল। গত সপ্তাহে ঘরে একা থাকার সুযোগে ফজলুল হক মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে ধারাবাহিকভাবে মেয়েটির ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণ চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে ঘটনাটি জানাজানি হলে প্রতিবেশী যুবক শহিদুলও সুযোগ কাজে লাগিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। স্থানীয় জানাজানি হলে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকারিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ভুক্তভোগী সঙ্গে এ ধরনের নির্মম ঘটনা ঘটে আসছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার কিছু যুবকও মেয়েটির পিছু নেয় এবং সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পাওয়ার পরপরই লংগদু থানা পুলিশের একটি দল অভিযুক্ত সৎ বাবা ও ধর্ষণচেষ্টাকারী প্রতিবেশী যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এই সাক্ষাৎটি মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের ডেপুটি স্পিকার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
ডেপুটি স্পিকার সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘকালীন বন্ধুত্বপূর্ণ এবং বহুমাত্রিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।
তিনি সম্প্রতি চীনের ইউনান প্রদেশে তার সফরের কথা উল্লেখ করে সেখানে পাওয়া উষ্ণ আতিথেয়তা, আন্তরিকতা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সহযোগিতার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনের বিদ্যমান সহযোগিতার জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, "বাংলাদেশের জনগণ ও চীনের জনগণের উন্নয়নে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে চায়।" তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালীকরণ, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ঐতিহাসিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৮০ সালের চীন সফরের সময় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ভবিষ্যতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি লাভ করে। তিনি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, এই সফর বাংলাদেশ-চীনের মধ্যকার সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করবে।
ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, "দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-চীন পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।"
সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ সংসদীয় পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক সফর, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে মংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়।
বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে পাওয়া সহযোগিতা ও আন্তরিকতার জন্য ডেপুটি স্পিকার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।
সাক্ষাৎ শেষে ডেপুটি স্পিকার রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের সাফল্য ও কল্যাণ কামনা করেন। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের উপরাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফেনীর আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবু তালেব, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘কুক্কুরুত সেলিম’ নামে পরিচিত, তার বিরুদ্ধে এক নারীর দ্বারা ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। আবু তালেব এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে, তিনি ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে হেনস্তা ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলেছেন।
লিখিত অভিযোগে আবু তালেব উল্লেখ করেন, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুরুতর এবং মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এমনকি, তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ও পেজ নষ্ট করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার পক্ষে তার কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হলেও তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা। তার একটি ফোনালাপ কেটে-ছেঁটে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
এদিকে, ভুক্তভোগী নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরালো বক্তব্য রাখেন এবং কান্নাজড়িত কণ্ঠে অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ‘কুক্কুরুত সেলিম’ বলেন, কারও বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা উচিত। যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুরুতর অভিযোগ ছড়িয়ে একজনের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানান আবু তালেব।
তিনি এ ঘটনায় বিভিন্ন পোস্ট, শেয়ার ও মন্তব্যের তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করার কথাও জানান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলাম রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। তিনি আদালতকে জানিয়েছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
আবেদনে ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন উল্লেখ করেছেন, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক হবে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালতে এই বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম।
রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি নিয়ে নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।
এজাহারে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে জানিয়েছেন। এর মধ্যে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে বাদীকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন।
সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ। তিনি এজাহারে লিখেছেন, লাশ উদ্ধারের সময় মেয়ের বিছানার ওপরে তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
"শরৎ রানী যেন কাশের বোরখাখানি খুলে, কাশবনের ওই আড়াল থেকে নাচছে দুলে দুলে"—কবি নির্মলেন্দু গুণের এই পঙ্ক্তির মতো শরতের শুভ্রতায় সেজেছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মার বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চর। চারদিকে এখন কাশফুলের অপার সমারোহ। মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা হাজারো কাশফুল যেন ঢেউ তুলছে সাদা সমুদ্রের বুকে। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজ-বাদামি মাটির বিশাল প্রান্তরজুড়ে প্রকৃতি আপন হাতে বিছিয়ে দিয়েছে শুভ্রতার চাদর। নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর কাশফুলের মিতালি মিলিয়ে পদ্মার চরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে শরতের এক অপার্থিব সৌন্দর্য।
শরৎ এলেই বাংলার প্রকৃতি বদলে যায়। নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘের ভেলা, হালকা বাতাস আর মাঠ-ঘাটজুড়ে দুলতে থাকা কাশফুল জানান দেয় ঋতুর পরিবর্তনের কথা। সেই চিরচেনা শরতের রূপ এবার যেন আরও মোহনীয় হয়ে ধরা দিয়েছে সদরপুরের পদ্মার চরে।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ২ নং আকোটেরচর ইউনিয়নের আকোট বাজারসংলগ্ন পদ্মার বুকে জেগে ওঠা একটি বিস্তীর্ণ চরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে কাশবন। যতদূর চোখ যায়, শুধু কাশফুল আর কাশফুল। বাতাসের মৃদু দোলায় সাদা কাশফুলগুলো যখন একসঙ্গে দুলতে থাকে, তখন পুরো চরটি যেন ঢেউ খেলানো শুভ্র সমুদ্রের রূপ নেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল চরটির বিভিন্ন অংশজুড়ে ঘন হয়ে জন্মেছে কাশবন। কোথাও কাশফুল কোমরসমান, কোথাও আবার তার চেয়েও উঁচু। সাদা কাশফুলের মাথাগুলো বাতাসে দুলে দুলে তৈরি করছে অপরূপ দৃশ্য। নীল আকাশের নিচে সাদা কাশফুলের এই বিস্তীর্ণ সমারোহে পদ্মার চরটি যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক ছবি।
স্থানীয়দের দাবি, সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একসময় শরতের মৌসুমে এমন কাশবন চোখে পড়ত। নদীর চর, ফসলের মাঠের প্রান্ত, খালের পাড় কিংবা পতিত জমিতে শরতের বাতাসে দুলত অসংখ্য কাশফুল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মানুষের বসতি, কৃষিকাজ ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনেক জায়গা থেকে হারিয়ে গেছে সেই কাশবন। ফলে পদ্মার এই চরে গড়ে ওঠা বিশাল কাশবন এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
প্রকৃতির এই সৌন্দর্যের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসছেন কাশফুল দেখতে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে আসছেন। কাশবনের মধ্যে হাঁটছেন, ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন এবং স্মৃতির পাতায় ধরে রাখছেন শরতের এই শুভ্রতা।
বিশেষ করে বিকেলের দিকে কাশবনের দৃশ্য হয়ে ওঠে আরও মনোমুগ্ধকর। পশ্চিম আকাশে সূর্যের আলো যখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসে, তখন সেই আলো কাশফুলের সাদা রঙে পড়ে তৈরি করে অন্যরকম এক আবহ। পদ্মার বাতাসে কাশফুলের দোল আর দূরে নদীর জল— সব মিলিয়ে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে প্রশান্তিময়।
ঘুরতে আসা কয়েকজন জানান, ব্যস্ত জীবন ও শহুরে কোলাহল থেকে কিছু সময়ের জন্য প্রকৃতির কাছে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করেছে এই কাশবন। তাদের মতে, শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বড়দেরও প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য এমন জায়গার প্রয়োজন রয়েছে।
তারা বলেন, কালের পরিক্রমায় ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় সদরপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে শরতের কাশবন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় গ্রামের পর গ্রামজুড়ে কাশফুলের দোলা দেখা গেলেও এখন অনেক জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কাশবন দেখা যায়। পদ্মার চরের এই বিস্তীর্ণ কাশবন তাই শুধু সৌন্দর্যের নয়, প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রত্যাশা, পদ্মার চরের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন অযত্নে নষ্ট না হয়। কাশবন ধ্বংস না করে এর স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ দেওয়া হলে প্রতিবছর শরৎ মৌসুমে এটি হয়ে উঠতে পারে সদরপুরের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক স্থান।
প্রকৃতির এই অপরূপ আয়োজন দেখতে আসা মানুষেরাও চান, কাশফুলের এই শুভ্রতা শুধু তাদের প্রজন্মেই সীমাবদ্ধ না থাকুক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও যেন পদ্মার চরে এসে দিগন্তজোড়া কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে— এটাই তাদের প্রত্যাশা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ