১২:৫৮ এম
সৌদি আরবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই পা হারানোর পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ একজন দণ্ডিত আসামিকে বরিশালের আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন। বুধবার (১ জুলাই) ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করে বরিশালের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। এ বিষয়ে আদালতের বিচারক পলি আফরোজ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে আইনজীবী ও বেঞ্চ সহকারী জানিয়েছেন।
ওই আসামি গৌরনদীর ভীমেরপাড় এলাকার বাসিন্দা ফারুক সরদারের ছেলে রফিকুল ইসলাম সরদার (৩৫)। তার চাচা জাকির সরদার জানিয়েছেন, রফিকুল ইসলাম ২০১৭ সালের একটি মাদক মামলার আসামি ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সৌদি আরবে চলে যান। সেখানে গিয়ে গত জানুয়ারি মাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার ফলে তার দুটি পা কাটতে হয়েছে। ফলস্বরূপ তার পেছনের মাথা থেকে পিঠ এবং হাত ঝলসে গেছে। তার মাথাও স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না। সৌদি আরবে চিকিৎসা শেষে তিনি গত মাসে দেশে ফিরে আসেন। তার দেশে ফেরার খবর পেয়ে পুলিশ দুই দিন আগে বাড়িতে যায়। তাদের তখন শারীরিক অবস্থা দেখে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পুলিশ আশা করেছিল, আদালত তার শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রেখে জামিন দেবেন। কিন্তু আদালতে নিয়ে আসার পর জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চাচা জাকির সরদার এবং অপর চাচা তরিকুলও উল্লেখ করেছেন, রফিকুলের সেবাযত্নের জন্য চারজন মানুষের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়াও, তার পায়ে সংক্রমণ হয়েছে। তিনি একা কিছু করতে অক্ষম। এমন অবস্থায় কারাগারে গেলে তার না খেয়ে থাকার পাশাপাশি সংক্রমণ আরও গুরুতর হয়ে যেতে পারে। রফিকুলের আইনজীবী একরামুজ্জামান জয় জানান, তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করবেন যাতে তিনি ন্যায়বিচার পান। আইন অনুযায়ী শুধুশাস্তির নয়, প্রতিকারের কথাও উল্লেখ আছে। তাকে সামনে থেকে দেখলে বোঝা যাবে তিনি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষম। তার দুটি পা নেই এবং শরীরের অধিকাংশ অংশ ঝলসে গেছে। আইনগত কার্যক্রমের জন্য একজন আসামিকে কারাগারে রাখা হয়। তবে এ পরিস্থিতিতে তার পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জামিনের জন্য আমরা অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়েছিলাম, কিন্তু আদালত সেটি বিবেচনা করেনি। এখন আমরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হব।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রেজাউল ইসলাম জানান, আসামি রফিকুল ইসলাম সরদারকে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করেছে। আইন অনুযায়ী বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। এই বিষয়ে মুক্তির সুযোগ নিম্ন আদালতের নেই। তবে উচ্চ আদালত চাইলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। বরিশাল হাজতখানার এএসআই মো. আলমগীর বলেন, শুরুর দিকে আসামিকে সাধারণ কয়েদির মতো রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে কারা হাসপাতালে রাখার অনুমতি চাওয়া হয়। বিচারক সেই অনুমতি দিয়েছেন। এরপর পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বন্দরের এবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় রফিকুল ইসলাম সহ দুজনকে আটক করা হয়। পুলিশ দাবি করে, রফিকুলের প্যান্টের পকেট থেকে ৬০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে উজিরপুর মডেল থানায় দুজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। পরে সেই মামলায় তার অনুপস্থিতিতে আদালত তাকে কারাদণ্ড দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন