০৪:০২ পি.এম
ঠাকুরগাঁওয়ে এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পরে আদালত মামলার রায় প্রকাশ করেছে। মামলায় তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অপর তিন আসামির জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে আদালত, ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য দণ্ডিতদের সম্পত্তি বিক্রির নির্দেশও দিয়েছে।
রোববার, ১৯ জুলাই দুপুরে ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত আসামিরা হলেন, ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোয়ালপাড়া এলাকার ইউনুস কসাইয়ের ছেলে আনিস রানা, মুসলিমনগর এলাকার মাইরুদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম এবং ভোট কসাইয়ের ছেলে মো. দুলাল। আদালত তাঁদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা জরিমানা হিসেবে অর্থদণ্ডও দিয়েছে।
এখন অনুমান করা হচ্ছে পৌর শহরের মুসলিমনগর এলাকার মো. সেলিমের ছেলে আনিছুর, বাংরু মোহাম্মদের ছেলে মো. খতিবুর খতু এবং বজলুর ছেলে মো. লালুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের জন্য এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এখন লক্ষ্য করা হচ্ছে আসামিদের মধ্যে আনিস রানা পলাতক রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী দক্ষিণ সালন্দর এলাকায় একটি বান্ধবীর বাড়ি থেকে ফিরে আসার সময় ঠাকুরগাঁও–পঞ্চগড় সড়কের পাশে এনামুল পেট্রোলপাম্পের পেছনের নির্জন স্থানে কয়েকজন যুবকের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
তাঁকে জোর করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তিনজন পর্যায়ক্রমে তাঁকে ধর্ষণ করেন। অপর তিনজন এই ঘটনায় সহযোগিতা করেন।
ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় এবং পরে ভুক্তভোগী বাড়িতে ফিরে এসে পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানান। শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর, ২০১১ সালের ২৪ অক্টোবর ভুক্তভোগীর বাবা মো. মোসলেম উদ্দিন ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেছেন স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মেহেদী হাসান এবং অ্যাডভোকেট মো. দিদার আলী।
রায়ে আদালত বলেছেন, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(এ) ধারার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। তাঁরা জেল কোড অনুযায়ী কোনো ধরনের সাজা মওকুফ বা রেমিশনের সুবিধাও নিতে পারবেন না।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
এছাড়া আদালত নির্দেশ দিয়েছে, দণ্ডিতদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থকে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য করা হবে। আপিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর দণ্ডিতদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি থেকে ওই অর্থ আদায় করা হবে। প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসক তাঁদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেবেন। পরে সেই অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে।
এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন