০৩:৩৬ পি.এম
সারাদেশের অন্যান্য স্থানের মতো নোয়খালীতেও টানা বর্ষণের প্রভাব পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এবং এর ফলস্বরূপ নোয়াখালী পৌরসভার জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টির জন্য স্থবিরতায় পড়েছেন পৌরসভার প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বাসিন্দা। বর্ষার শুরুতেই জলাবদ্ধতার এই পরিস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গত তিন দিনের বৃষ্টির পর পায়ের গোড়ালি সমান পানি জমে গেছে জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে, পুলিশ লাইন্স রোড, হাউজিং রোড, সার্কিট হাউজ সংলগ্ন এলাকা, ফকিরপুর রোড, পুরাতন জেলখানা সড়কসহ শহরের বেশিরভাগ সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে, এবং স্কুল-কলেজগামী ছাত্র, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সালাউদ্দিন পিয়াস জানিয়েছেন, কোটি টাকা ব্যয়ে পরিকল্পনাহীন ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সড়কের তুলনায় উঁচু ড্রেন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিষ্কার না করা এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ঘটছে। এছাড়া বেশ কিছু দিনের জন্য শহরের খালগুলো খনন এবং পরিষ্কার করা হয়নি, যার কারণে বৃষ্টির পানি আটকে থাকে এবং জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর হাসপাতাল সড়ক, পুরাতন জেলখানা সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বর্ষা মৌসুমে ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চলতে থাকার কারণে অনেক সড়কের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে গেছে। এর ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ছে। ২০২৪-২৫ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি নোয়াখালীবাসী। এর ভিতরে বর্ষার সূচনায় শহরের বিভিন্ন সড়ক ও বাড়ির আশেপাশে পানি জমে নতুন করে আগাম জলাবদ্ধতার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই নোয়াখালী পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকর সংস্কার, শহরের খাল পুনঃখনন ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী। তাদের আশা, দ্রুত স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হলে জলাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য বন্যার ঝুঁকি কমে জেলা শহর আবারও স্বাভাবিক ও বাসযোগ্য পরিবেশ ফিরে পাবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের নোয়াখালীর উপপরিচালক ডা. মো. শেখ ছাদেক জানিয়েছেন, নোয়াখালী পৌরসভা একটি ঐতিহ্যবাহী এবং নিম্নাঞ্চলভিত্তিক পৌরসভা, ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে। জনদুর্ভোগ কমাতে পৌরসভা কাজ করছে। গত অর্থবছরে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ৮টি খাল এবং ৭টি ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু অনেক স্থানে আবর্জনা ফেলার কারণে ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
পৌরসভার সক্ষমতা অনুযায়ী সমস্যাগুলোর সমাধানে তারা কাজ অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন