০৭:২৮ পি.এম
সেতুর নিচে বাঁশের খুঁটি রয়েছে, ধসে পড়া ঠেকানোর জন্য দেওয়া হয়েছে ঠেকনা। ১৯৯৬ সালে নির্মিত কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গোলাপেরচর কংক্রিটের সেতুটি এখন শতাধিক বাঁশের ঠেকনার উপরে ভর করেই কোনোমতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রায় তিন দশকের পুরোনো সেতুর মাঝের অংশ দেবে গেছে, পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে, রেলিংয়ের কংক্রিট খসে পড়ে আছে মরিচাধরা রড। এলাকাবাসীর মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে যে, যেকোনো সময় এখানে একটি বড় দুর্ঘটনা হতে পারে।
দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের গোমতী নদীর একটি শাখা খালের ওপর নির্মিত এই সেতুই গোলাপেরচর, চেঙ্গাকান্দি এবং আশপাশের অন্তত সাত গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের একমাত্র স্থল যোগাযোগের মাধ্যম। উপজেলা সদর, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সব গন্তব্যে যাওয়ার জন্য এই সেতুর বিকল্প নেই। এছাড়া এটি মেঘনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ স্থাপন করেছে।
সরেজমিন পরিস্থিতি দেখে জানা যায়, ঝুঁকির কারণে সেতু দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে। মোটরসাইকেল ও সাইকেল আরোহীদেরও সেতু পার হওয়ার জন্য নেমে হেঁটে যেতে হচ্ছে। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে শতাধিক বাঁশের খুঁটি গেঁথে সেতুর নিচে ঠেকনা দিয়েছেন, যাতে সেটি পুরোপুরি ধসে না পড়ে।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, "এখন ব্রিজ পার হতে ভয়ে ভয়ে পার হই। যদি ভেঙে যায়, তাহলে নৌকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে অসুস্থ লোকজন।"
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সেতু ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও স্থায়ী সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ কোনো দেখা যায়নি। ফলে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও রোগীরা নিজেদের জীবন নিয়ে এই সেতু পার হচ্ছেন।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল আজিজ ফারহান বলেন, "এই সেতু ভেঙে পড়লে পুরো এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই নতুন সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।"
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক রফিক মিয়া বলেন, "গাড়ি নিয়ে উঠতেই ভয় লাগে। যাত্রীদের নামিয়ে হেঁটে পার হতে হয়। সব সময় আতঙ্কে থাকি। সরকারি সেতু এখন বাঁশের ঠেকনা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এটা কোনো সমাধান নয়। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা উচিত।"
আরও পড়ুন: ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করলেন
দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, "সেতুটি পরিদর্শন করে জনসাধারণকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন