০২:৪৩ পি.এম
মঙ্গলের প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে নতুন একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য করেছে নাসার ‘পারসিভারেন্স রোভার’। এই রোভারটি জেজেরো খাদের প্রান্তে ২৪৫ ফুট পুরু একটি বিশাল শিলাস্তরের সন্ধান পেয়েছে। নাসার মতে, এই স্তরটি মূলত তৈরি হয়েছে বারবার গ্রহাণুর আঘাতের ফলে।
রোভারের বিজ্ঞানীদের একটি দলের দ্বারা এই শিলাস্তরের নামকরণ করা হয়েছে ‘ব্রুম পয়েন্ট মেম্বার’। তাদের ধারণা অনুযায়ী, এই স্তরটি প্রায় ৩৯০ কোটি বছরের পুরোনো হতে পারে। এটি মঙ্গলে এখন পর্যন্ত পরীক্ষিত সবচেয়ে প্রাচীন ভূখণ্ডের মধ্যে অন্যতম।
বুধবার ‘জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: প্ল্যানেটস’-এ এই গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যা সৌরজগতের ইতিহাসের সবচেয়ে সংঘাতময় একটি সময়ের ধারণা প্রদান করে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এই আবিষ্কারের বিষয়ে পারসিভারেন্স প্রকল্পের বিজ্ঞানী কেন ফার্লে জানিয়েছেন, পৃথিবীর প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস টেকটোনিক প্লেটের কারণে মুছে গেছে। কিন্তু মঙ্গলে টেকটোনিক প্লেট না থাকার ফলে সেই রেকর্ড এখনো অক্ষত রয়েছে। এর ফলে বিজ্ঞানীরা এমন এক ভূতাত্ত্বিক সময়ের সন্ধান পাচ্ছেন, যা পৃথিবীতে আর অবশিষ্ট নেই।
২০২৪ সালের শেষের দিকে রোভারটি এই অঞ্চলে গবেষণা শুরু করবে। সেখানে সংগৃহীত তথ্যে ছয় ধরনের শিলার উপস্থিতি চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, শিলাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে কাচের মতো দেখতে ছোট ছোট গুটিকা বা বিড রয়েছে। এগুলো মূলত শক্তিশালী গ্রহাণুর আঘাতের ফলেই তৈরি হয়েছে। কিছু গুটিকা এমনও রয়েছে, যা পৃথিবীতে ডাইনোসর বিলুপ্তকারী ‘চিকসুলুব’ গ্রহাণুর আঘাতের সৃষ্ট গুটিকাগুলোর মতোই বড়।
গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক অ্যালেক্স জোনস জানিয়েছেন, বিভিন্ন দূরত্বে ঘটা নানা আকারের গ্রহাণুর আঘাতের ফলে এই পুরু শিলাস্তরগুলো জমা হয়েছে। এছাড়াও, স্তরগুলো তৈরির পেছনে পানি বা বরফের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন। পৃথিবীতে গলিত শিলা যখন পানি বা বরফের সংস্পর্শে আসে, তখন দ্রুতগতির প্রবাহ তৈরি হয়; সম্ভবত মঙ্গলের এই স্তরগুলোর ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটেছিল।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন