বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:২৬ পি.এম
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ভারত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই আমন্ত্রণ সংক্রান্ত চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পৌঁছেছে, যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্বারা পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ সময় তিনি ভারতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের বিষয়েও কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভারত একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক দেশ। তিনি আশা করেন, আলোচনার মাধ্যমে ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো সমাধান করবে, যা ঢাকা প্রত্যাশা করছে।
রাষ্ট্রপতির বিষয়ে তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ফোনকালের সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিকট এ মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে, যদি কোনো তথ্য আসে, তাহলে বাংলাদেশ সরকার অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত করবে।
এ ছাড়া দক্ষিণ এবং মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে দুটি দেশের সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হবে বলেও শামা ওবায়েদ আশা প্রকাশ করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
‘কেন যাব মোরা দূরের পথে, সঠিক বিচার পেতে চলে যাই গ্রাম আদালতে’ অথবা ‘অল্প সময়ে স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে।’ এ স্লোগানে রাজশাহী জেলার ৭২টি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতগুলো আগে ছিল বেশ সক্রিয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে অধিকাংশ চেয়ারম্যান এবং মেম্বাররা পালিয়ে যাওয়ায় এখন গ্রাম আদালতগুলো অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।
আগে মাত্র ১০ টাকা দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া ফরমে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে সুষ্ঠু বিচার পেতে পারলেও এখন সেই গ্রাম আদালতগুলোর কক্ষ সার্বক্ষণিক অবস্থায় তালাবদ্ধ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ বেড়ে গেছে। ফলে ভুক্তভোগী ও বিচারপ্রার্থীদের ন্যায্য বিচার পেতে আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সার্বিক উন্নয়ন এবং সেবামূলক কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। ফলে রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলার ৭২টি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমও স্থবির হয়ে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাম আদালতের বিচার কাজ যেই রুমে চলে, সেই রুমে ধুলার স্তুপ জমেছে। চেয়ারগুলো বছরব্যাপী সাজিয়ে রাখা হয়েছে, একটার ওপর একটা। বেশিরভাগ কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ছোটখাটো দেওয়ানি, ফৌজদারি ও সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি সুযোগ গ্রামবাসী পেতেন, তা এখন নিষ্ক্রিয়। ফলে বাধ্য হয়ে বিচারপ্রার্থীদের আদালতগামী হতে হচ্ছে, এতে মামলার জটও বাড়ছে। পরিলা ইউনিয়ন পরিষদের বাসিন্দা আকবর আলী জানান, প্রতিবেশীর সঙ্গে ছয় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন কিন্তু বিচার কাজ এখনও শুরু হয়নি। তিনি বলেন, “করবে শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলেন পারছে না।” আর দু'মাসের মধ্যে সমাধান না হলে দেওয়ানি আদালতে মামলাও করবেন।
এদিকে প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে মেম্বারদের মধ্যে থেকে একজন প্যানেল চেয়ারম্যান অথবা একজন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে পরিষদের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। চেয়ারম্যান এবং প্যানেল চেয়ারম্যানদের ভাষ্যমতে, সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন গ্রাম আদালতে জমা পড়া অভিযোগের বিচার কাজ করা হচ্ছে। রাজশাহীর পবা উপজেলার ৯ নম্বর পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাঈদ আলী জানান, “আমাদের ইউনিয়নে প্রতি বৃহস্পতিবার গ্রাম আদালতের বিচার কাজ চলে। মাসে অভিযোগ পড়ে ২০ থেকে ২৫ টি।”
বাগমারা উপজেলার ১০ নম্বর মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল ইসলাম জানান, বিচারে একপক্ষ উপস্থিত হচ্ছে, অন্যপক্ষ আসছে না, এতে বিচার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ৫ নম্বর মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মেজর বিশ্বাস উল্লেখ করেন, “আমার এখানে বিচার কাজ করার জন্য কোন এজলাস নেই। তাই চেয়ারম্যানের রুমে বিচার কাজ করা হয়।”
এদিকে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আহমেদ জানান, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, সেজন্য প্যানেল চেয়ারম্যানদের নিয়ে সভা এবং সেমিনারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন তারা।
অন্যদিকে রাজশাহীর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা বলেন, “কোন কোন অভিযোগের বিচার কাজ গ্রাম আদালতে করার বিষয় সম্পর্কে প্যানেল চেয়ারম্যানদের অবহিত করা হচ্ছে।” পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জেলায় মোট ৭২ জন ইউপি চেয়ারম্যান এবং সাধারণ মেম্বার ৬৩৯ জন, সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ২১৩ জন। গ্রাম আদালতের আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন লক্ষ টাকা জরিমানা হওয়ার বিধান রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের।
এদিকে, এক মাসে ৭২ টি ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ জমা পড়েছে প্রায় ১ হাজার ২'শ টি। এর মধ্যে বিচার কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৩'শ ৪৫টির।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আফতাব মজুমদার জয় নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২২ জুলাই) রাতের দিকে নগরীর হালিশহর থানার বিডিআর মাঠ এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার আফতাব মজুমদার এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সংগঠক এবং বন্দর থানা যুবশক্তির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অনুসন্ধান থেকে আরও জানা যায়, গত ১৪ মে তার দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনের সই করা এক সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, চান্দগাঁও থানায় দায়ের হওয়া একটি ধর্ষণ মামলায় আফতাব মজুমদার জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
মামলার নথিসূত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের এক দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আফতাবের পরিচয় হয়। এক সময় তাদের মধ্যে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হলে আফতাব ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ের আশ্বাস দেন।
আগামী ১৪ জুলাই রাতে চান্দগাঁও এলাকার সুইট প্যালেস নামক একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন আফতাব। পরবর্তীতে যখন ওই শিক্ষার্থী বিয়ের তাগিদ দেন, তখন আফতাব তা অস্বীকার করে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, অভিযুক্ত আফতাব এর আগেই বিবাহিত এবং তার একটি সন্তান রয়েছে।
ঘটনার পর গত ১৯ জুলাই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চান্দগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপি’র ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় বলেন, আফতাব এনসিপিরও একজন সদস্য এবং তিনি বিবাহিত। তার বিরুদ্ধে আনা নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবে।
অভিযুক্তের ঘটনার সাথে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় জড়িত নয়। আইন অনুযায়ী তার বিচার চলবে বলেও তিনি জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ডা. জুবাইদা রহমান, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট, দেশের স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিশেষভাবে সংকটে থাকা সাধারণ ও গ্রামীণ মানুষের চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের ‘বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্বের সম্মাননা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে দেশ। যদি আপনারা মেধা, শ্রম, অধ্যবসায় ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে গ্রাম পর্যায়ে সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন, তবেই দেশের সব স্তরের মানুষের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
তিনি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডে ১ হাজার রোগীর জন্য ২.২ জন ডাক্তার থাকার কথা। আর প্রতি ১ হাজার জনের বিপরীতে ১.৪৮ নার্স। অথচ বাংলাদেশে একজন ডাক্তারকে দেখতে হয় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ রোগীকে। নার্সদের অনুপাত ১ হাজার রোগীর বিপরীতে শূন্য দশমিক ৫৪৯। সরকারি চিকিৎসকদের অনুপাত ৬ হাজার ৫০০ রোগীর বিপরীতে মাত্র ১ জন। গ্রামাঞ্চলে এই পরিস্থিতি আরও ভিন্নতর। ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক শহরাঞ্চলে অবস্থান করলেও দেশের প্রায় ৭৮ শতাংশ মানুষ বাস করেন গ্রামে। এর ফলস্বরূপ চিকিৎসায় দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটা আগামীর বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে কোনো গ্রামবাসী চিকিৎসার অভাবে যেন প্রাণ না হারায়, কোনো অন্তঃসত্ত্বা মা যেন প্রাণ না হারায়, কোনো নবজাতক যেন মায়ের কোল খালি করে চলে না যায়-এমন একটা চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় যা পৃথিবীর বুকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। কারণ সবার স্বাস্থ্যই গুরুত্বপূর্ণ।’
হাসপাতালটির অতীত ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘এক সময় হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের মান এতটাই উঁচুতে ছিল, যা অনেক সরকারি হাসপাতালেও ছিল না। আমাদের চিকিৎসকদের দায়িত্ব এই হারিয়ে যাওয়া গুণগত মান পুনরুদ্ধার করা। ইস্কাটন গার্ডেন ঢাকা শহরের কেন্দ্রবিন্দু—আমরা যদি এখানে বিশ্বমানের সার্ভিস দিতে পারি, তবে মানুষকে অন্য কোথাও যেতে হবে না। হাসপাতালের সেবার মানে কোনো আপস করা যাবে না।’
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম হাসপাতালটির সার্বিক বিষয়ে ডা. জুবাইদা রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সব সময় মানুষের কল্যাণের বিষয় ভাবা হয়। আমাদের বিনীত দাবি, ডা. জুবাইদা রহমান যেন এই ঐতিহাসিক হলি ফ্যামিলি হাসপাতালটিকে নিজের মনে করে দেখভাল ও এর মানোন্নয়নে দিকনির্দেশনা দেন।’
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম প্রধান অতিথিকে ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ডা. জুবাইদা রহমান সবসময় কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের ৮ লাখ স্বেচ্ছাসেবক, হাসপাতাল, মেডিকেল ও নার্সিং কলেজকে যুক্ত করে প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার ও নার্সদের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হবে।
এছাড়া, হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের হারানো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সুনাম পুনরুদ্ধারে প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও দিকনির্দেশনা দেয়ার বিনীত অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে বিজয়ী এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জনকারী মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। এর আগে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট প্রাঙ্গণে পরিবেশ সুরক্ষা ও বার্তা হিসেবে একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. কে. এম. মজিবুল হক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল কবির, ট্রেজারার ডা. আবু মো. মোফাখখারুল ইসলামসহ (রানা) বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ব্যবস্থাপনা পর্ষদ ও কলেজ গভর্নিং বডির সদস্যরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের বাইশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তিন বছর তিন মাস আগে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণের দিন থেকে এই পদের মেয়াদ পাঁচ বছর বলে নির্ধারিত।
বুধবার (২২ জুলাই) দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ করার সম্ভাবনা নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন।
বাংলাদেশের নানা গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতা উল্লেখ করা হতে পারে।
একইসঙ্গে, সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রের ঝলক দেখিয়ে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদকালীন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের জন্য বিএনপির উচ্চ পর্যায় থেকে ইতোমধ্যে বার্তা দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলমান রয়েছে বলেও প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনিও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন সম্পর্কে শুনেছেন বলে জানান। সাংবাদিকদের কাছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি নিজেই বললেন এটা একটা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তো গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। আর এটা যদি ঘটনা হয় সেটাতো আমরাও দেখবো।’
সাংবাদিকরা গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করলে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘গণমাধ্যমে আসছে? হতে পারে, আপনারা রাষ্ট্রপতিকে জিজ্ঞেস করেন।’
ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চান অথবা স্বাস্থ্যগত কারণে, তাহলে তার সেটি করার অপশন রয়েছে।
সরকারের কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে কি না এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের কোনো পদক্ষেপ নাই এখানে।’
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত সাংবাদিকরা উল্লেখ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের তরফ থেকে কিছু বলা হচ্ছে না। আপনারা পত্রিকায় দেখছেন যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, আমিও শুনছি।’
রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করছেন কিনা এমন প্রশ্ন ওঠতেই তিনি রাষ্ট্রপতিকেই প্রশ্ন করতে বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উনি চিকিৎসার জন্য কিছুদিন আগে বিদেশে গিয়েছিলেন, তো চিকিৎসা তো নিতেই পারেন।’
কিন্তু যদি রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছরের নির্ধারিত মেয়াদের আগে পদত্যাগ করেন, তাহলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কেমন হবে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও এসব বিষয়ে মানুষের মাঝে কৌতুহল রয়েছে। রাষ্ট্রপতি কার কাছে পদত্যাগপত্র দেবেন অথবা তার অনুপস্থিতিতে কে দায়িত্ব পালন করবেন- এই বিষয়গুলোও আলোচনা চলছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। ম্যাক্সিমাম তিন মাসের মধ্যে সংসদে নির্বাচন হতে হবে।’
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে?
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী, একজন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সর্বোচ্চ দুই বার দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
২০২৩ সালের ২৪শে এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের সময় আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সময়ের হিসাবে প্রায় তিন বছর তিন মাস ধরে এই পদটিতে রয়েছেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
এখন যদি রাষ্ট্রপতি মেয়াদের আগেই পদত্যাগ করতে চান তবে সে জন্য পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে বলে জানান সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক।
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পদত্যাগ করতে হলে তিনি এখন সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পত্র জমা দিতে হবে বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ সম্পর্কে সংবিধানের ৫০ এর তিন অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক জানান, ‘স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন।’
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করে দেওয়া পত্রটি খুবই ছোট হয়ে থাকে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘ওনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন। স্বেচ্ছায় হোক বা চাপে পড়ে হোক, যেটাই হোক উনি লিখবেন, আমি স্বাস্থ্যগত বা ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করলাম। পদত্যাগ তাত্ক্ষণিক কার্যকর হয়। এটি সাধারণত দুই লাইনের চিঠি হয়। সাধারণত ব্যক্তিগত কারণই উল্লেখ করেন সকলে।’
এছাড়া রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সাথে সেটি গ্রহণ বা গ্রহণ না করার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও উল্লেখ করেন এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।
তিনি জানান, ‘এসবে পদে পদত্যাগপত্র হ্যান্ডওভার করলেই কার্যকর হয়ে যায়। মানে পদত্যাগপত্রটা স্পিকারের কাছে পৌঁছালে স্পিকার একই সঙ্গে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। মেনে নেওয়ার বা না মেনে নেওয়ার কোনো স্কোপ নেই। পদত্যাগপত্র লেখার সাথে সাথে এটি গ্রহণীয় হবে।’
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই পদ শূন্য থাকবে না বলে জানান শাহদীন মালিক। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, অনুপস্থিতি প্রভৃতির কারণে রাষ্ট্রপতি পদে স্পিকার থাকবেন।
এতে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত, কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’
এই অনুচ্ছেদটির ব্যাখ্যা করে আইনজীবী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার বা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’
যদি রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পদত্যাগ করেন, তবে ওই পদ শূন্য থাকবে না। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি থাকবেন এবং সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় সম্পর্কে বলা হয়েছে।
এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে যদি পদ শূন্য হয়, তাহলে মেয়াদ শেষের তারিখের আগে ৯০ দিনের অথবা সর্বনিম্ন ৬০ দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তবে এই নির্বাচন সম্পর্কে কিছু শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হচ্ছে, যে সংসদ রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেছে, সেই সংসদের মেয়াদ শেষের কারণে যদি রাষ্ট্রপতির পদ খালিই হয়, তবে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতির নির্বাচন করা যাবে না।
একইসঙ্গে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন করতে হবে।
এছাড়া রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণ হলে নির্বাচনের বিষয়ে সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসরণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়ে গেলে পদটি শূন্য হবার পর নব্বই দিনের মধ্যে সেটি পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, পদত্যাগ করলে বা রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করবে। সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিন মাস বা দুই মাস, যেটাই হয় সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে।’
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে, ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময়ে তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছিল।
পরবর্তীতে ইসলামী ব্যাংকের সর্বোচ্চ একটি পদে থাকাবস্থায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। পরে ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
চব্বিশের পাঁচই অগাস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনীতির পট পরিবর্তনের কারণে জুলাই আন্দোলনের ছাত্র নেতৃত্বসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি জানান হয়।
সে সময় বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে তার বহাল থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
আওয়ামী লীগের সময়ের রাষ্ট্রপতি হলেও মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বিগত জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া পর আটই অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ পড়ান। যদিও সে সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছিলেন।
সে সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মৌখিক নির্দেশনায় বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিস থেকে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।
পরে ২০২৫ সালের ১২ই ডিসেম্বর মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ‘তিনি অপমানিত হয়েছেন’ বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন।
সে সময় হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি চলে যেতে চাই। এখান থেকে বেরিয়ে যেতেই আমি আগ্রহী।’
সব দূতাবাস, কনস্যুলেট থেকে রাতারাতি তার ছবি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করে ওই সাক্ষাৎকারে তিনে বলেছিলেন, ‘মানুষের কাছে এর মাধ্যমে একটি ভুল বার্তা যায় যে হয়তো রাষ্ট্রপতিকেই সরিয়ে দেওয়া হতে যাচ্ছে। এটি আমাকে গভীরভাবে অপমানিত করেছে।’
গত ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় বিজয় পাওয়ার পর বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির বিভিন্ন সিনিয়র নেতার নামও আলোচনা হচ্ছিল চলতি বছরের মার্চে।
কিন্তু তখন বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মেয়াদের যে সময় বাকি আছে, সে বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি।
কিন্তু মাত্র চার মাস পরেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা আবার শুরু হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ