০৪:১৬ এম
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, সার্জিক্যাল সামগ্রী ও চিকিৎসা-সরঞ্জাম পাওয়ার ঘটনা প্রচারিত হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগ নড়েচড়ে বসেছে। এ বহুল আলোচিত ঘটনায় প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করতে, দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাখ্যা দিতে তলব করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই হাসপাতালের একটি দীর্ঘকালীন তালাবদ্ধ কক্ষে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, সার্জিক্যাল সামগ্রী ও চিকিৎসা-সরঞ্জাম সংরক্ষিত থাকার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও পাওয়া গেছে। বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনায় গুরুত্বের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ১১ জুলাই একটি অফিস আদেশ জারি করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা-সরঞ্জাম সংরক্ষণে কোনো ধরনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বা দায়িত্বে গাফিলতি ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সেইসঙ্গে বাবুগঞ্জ হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কে এম মনিরুল ইসলামকে প্রধান করে ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার, বিভিন্ন বিভাগের কনসালট্যান্ট, প্রধান সহকারী, সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্টোর কিপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১২ জুলাই (রবিবার) সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ওই বিষয়ে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে বিশেষভাবে দেখা হবে কিভাবে এতদিন সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা-সরঞ্জাম তালাবদ্ধ কক্ষে রাখা হয়েছে, এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কেন যথাসময়ে অপসারণ বা ধ্বংস করা হয়নি, সরকারি সম্পদের অপচয় বা অব্যবস্থাপনা ঘটেছে কি না এবং এসব ঘটনা জন্য কারও অবহেলা বা দায়িত্বহীনতা আছে কি না। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও তাদের দাবি, শুধুমাত্র তদন্ত কমিটি গঠন করেই দায়িত্ব শেষ হবে না। যদি তদন্তে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, গাফিলতি, কিংবা সরকারি সম্পদের অপচয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেইসঙ্গে সরকারি ওষুধ সংরক্ষণ, বিতরণ ও হিসাব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, সেকারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। উল্লেখ্য, এর আগে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি দীর্ঘকালীন তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, সার্জিক্যাল সামগ্রী এবং বিভিন্ন চিকিৎসা-সরঞ্জাম উদ্ধারের তথ্য উঠে এসেছে। সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনা হয়েছে। ঘটনার এই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন