বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:৫০ পি.এম
সারা দেশের মতো কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনের পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তবে, এই বছর বোর্ডের অধীনে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ঝরে পড়া নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার মাধ্যমে কুমিল্লাসহ ছয় জেলার একযোগে এ পরীক্ষা শুরু হয়।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, এই বছর বোর্ডের অধীন কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১৯৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে অংশগ্রহণ করছে। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৬৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৩৭ হাজার ৭০৫ জন এবং ছাত্রী ৫৭ হাজার ৩৬৩ জন। অর্থাৎ, ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৬৫৮ জন বেশি।
বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ১ লাখ ২২ হাজার ৪১১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন ও ফরম পূরণ করলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৯৫ হাজার ৬৮ জন। ফলে, বিভিন্ন কারণে পরীক্ষার আগেই ২৭ হাজার ৩৪৩ জন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।
এ বিপুল পরিমাণ ঝরে পড়া শিক্ষার্থী শিক্ষাবিদদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক সমস্যা, অল্প বয়সে বিয়ে, কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়া, নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতি এবং পরীক্ষার উপযুক্ত প্রস্তুতির অভাব—এসবসহ বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে।
এদিকে, পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, কেন্দ্র পরিচালনা, পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক তদারকিতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ জানান, ‘এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিসহ প্রতিটি বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে আইপিএসের ব্যবস্থা রাখা এবং ডিজিটাল মনিটরিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিকল্প প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।’
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কেন্দ্র সচিব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সাথে, পরীক্ষার সময় যানজট এড়াতে জেলা পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বোর্ড কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় এ বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ পরিবেশে সম্পন্ন হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার মহাস্থান মাহী সাওয়ার ডিগ্রি কলেজে অফিস সহকারীর প্রতারণার কারণে প্রবেশপত্র না পাওয়ার ফলে মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে না। এই ঘটনায় পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে শিক্ষার্থীরা এবং তাদের স্বজনরা কলেজে এসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে, পরীক্ষায় অংশ না নিতে পারার কারণে তারা ক্ষোভ জানায়। এ বছর মহাস্থান মাহী সাওয়ার ডিগ্রি কলেজ থেকে তিনটি বিভাগের মোট ৬০০ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর, অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে তাদের ফরম পূরণ করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন কলেজের অফিস সহকারী (কম্পিউটার অপারেটর) সাব্বির হোসেন শাওন। এই সময় তিনি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে চার হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা করে আদায় করেন।
গত ২৪ জুন কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ করা হলেও, ওই ১০ শিক্ষার্থীকে জানানো হয় যে দেরিতে ফরম পূরণ করার কারণে তাদের প্রবেশপত্র পেতে কিছুটা সময় লাগবে। এরপর বুধবার (১ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত কলেজে অপেক্ষা করলেও তারা প্রবেশপত্র পাননি। ফলে প্রবেশপত্র এবং রেজিস্ট্রেশন কার্ড না থাকায় তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, বুধবার থেকেই অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
এ বিষয়ে মহস্থন মাহী সাওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সাভারের ভাকুর্তা এলাকায় অবৈধভাবে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা উৎপাদনের অভিযোগে তিনটি খোলা ভাট্টির ছয়টি চুল্লি গুঁড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। এসময় কাউকে আটক করা না গেলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (১ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখা এবং ঢাকা জেলা কার্যালয়ের যৌথ মোবাইল কোর্ট এ অভিযান চালিয়েছে।
সাভারের ভাকুর্তা এলাকার নির্জন স্থানে পরিচালিত অভিযানটিতে তিনটি নামবিহীন খোলা ভাট্টির ছয়টি চুল্লি এক্সকাভেটরের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান। এ সময় সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা দিয়েছে সাভার থানা পুলিশ।
ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ‘অভিযান চলাকালে সেখানে কাউকে উপস্থিত পাইনি। ফলে কাউকে আটক করা যায়নি। ফলে জরিমানা করার সুযোগ হয়নি। এরপর আমরা ভাট্টিগুলো উচ্ছেদ করি।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘আবারো অবৈধভাবে এমন কাজ করলে পরিবেশ অধিদফতর দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে। তবে এক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কেউ তথ্য দিতে চায় না।’
অনুসন্ধানে অবৈধ সীসা উৎপাদনের সঙ্গে কয়েকটি সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাজধানীর ধোলাইপাড়ের নাসির ও গাইবান্ধার সাজুর নেতৃত্বাধীন চক্রের নাম উঠে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তারা পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে খোলা স্থানে পুড়িয়ে উৎপাদিত সীসা কালোবাজারে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। সরকারকে কোনো ভ্যাট বা কর না দেওয়ায় তাদের লাভও বেশি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাসির বলেন, ‘দেশে অনেকেই এভাবে কাজ করে, শুধু আমরাই না।’ বেআইনি কি না জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘বেআইনি বলেই তো সরকারি লোকজন এসে উচ্ছেদ করেছে।’
অন্যদিকে গাইবান্ধার সাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, উচ্ছেদকৃত ভাট্টিগুলো ধোলাইপাড়ের নাসিরের।
চিকিৎসকদের মতে, খোলা স্থানে পুরোনো ব্যাটারি বা সীসা পোড়ানোর ফলে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি।
বর্তমানে সরকার অনুমোদিত কয়েকটি ব্যাটারি রিসাইক্লিং শিল্প-কারখানায় পরিবেশসম্মত প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরোনো ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকার রাজস্ব পায় এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়। তবে অবৈধ সীসা পোড়ানো চক্রের কারণে একদিকে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
পরিবেশ অধিদফতর জানিয়েছে, অবৈধ সীসা পোড়ানোর খোলা ভাট্টি নির্মূলে অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং মোবাইল কোর্টের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশব্যাপী একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ উদযাপন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ২০২৬) সকালে তিনি বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ উদযাপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করে স্মারক ডাকটিকিট এবং ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর লোগো উন্মোচন করেন।
এ সময় সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। অনুষ্ঠানটিতে দেশের নজরুল গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী ও শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জাতীয় কবি এ ভূখন্ডে জন্ম না নিলেও তার হৃদয়জুড়ে ছিলো বাংলাদেশ। এ দেশের মানুষও তাকে হৃদয়ে ধারন করেছে। মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে প্রধান দিশারী তিনি। দেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামে তার সৃষ্টি প্রধান প্রতিপাদ্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নজরুল প্রাসঙ্গিক।"
তিনি আরও বলেন, "প্রযুক্তির বর্তমান বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে কাজী নজরুলের 'আমি হবো সকাল বেলার পাখি' অথবা 'থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে' এ ধরনের কবিতা প্রজন্মের কাছে আশার আলোকবর্তিকা হতে পারে।"
তিনি বলেন, "আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনই আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ প্রতিরোধের মূল ভাষা। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ।"
'নজরুল বর্ষ' উদযাপনের লক্ষ্যে আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনেক সরকারি কর্মকর্তাগণের উপস্থিতি ছিল। বেশ কয়েকজন নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পীগণও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আপনাদের অভিনন্দন। তবে একটি আধুনিক আবদ্ধ ঘরে বসে আজ যেভাবে 'নজরুল বর্ষ' উপলক্ষে বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করছি এবং স্মারক ডাক টিকেট এবং লোগো উন্মোচন করছি, এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিকে আমি একটু ভিন্নভাবেই আশা করেছিলাম। আজকের এ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে লেখা হয়েছে সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন। এর পরিবর্তে আমন্ত্রণপত্রে যদি লেখা থাকতো সকল বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে নজরুল গবেষক, নজরুল শিল্পী, নজরুলপ্রেমীগণ ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন সেটি বরং আরও বেশি যৌক্তিক এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো বলে আমার বিশ্বাস।
তিনি বলেন, "প্রত্যেক রাষ্ট্র এবং সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ জন্ম নেন, যারা আমাদের আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক জীবন কিংবা আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতি সামাজিক মূল্যবোধ আমাদের সামাজিক দর্শন আমাদের মনোজগতে প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। জাতীয় কবি তেমনই একজন ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব। কৈশোর থেকে পরিণত বয়স, আমাদের জীবনের সকল পর্যায়েই তাঁর প্রভাব অপরিসীম।"
এ সময় অপশক্তি বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালালেও ঐক্যবদ্ধ থাকাই চিরায়ত বাঙালির চরিত্র- এ কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "শুধু মানুষের নিরাপত্তাই নয়, কোনো প্রাণীও যেন হিংস্রতার শিকার না হয়, সরকার সেটি নিশ্চিত করতে চায়। সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।"
এর আগে রোববার (২১ জুন) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকীকে ঘিরে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণার পর সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ ঘোষণা আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। আর তা চলতি বছরের ২৫ মে থেকে কার্যকর হবে। গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে এ বছরের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত একবছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগরে বিএনপির এক নেতার দায়ের করা হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলায় মুরাদনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম আরিফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায়, স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
আটকের পর প্রায় ২০ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে তাকে কুমিল্লা আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে, বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার গাইঢুলি এলাকা থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
মাহবুব আলম আরিফ, সাংবাদিক, সদর এলাকার মৃত মনিরুল হকের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকা, মানবকণ্ঠ এবং স্থানীয় আজকের কুমিল্লা পত্রিকার মুরাদনগর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ জুন প্রকাশিত একটি সংবাদে মাহবুব আলম আরিফ তার পরিচালিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। সেখানে ওই ঘটনার আসামি ফজর আলীকে বিএনপি নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, একই বছরের ৯ জুলাই, মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বাদী হয়ে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১১ নম্বর আমলি আদালতে হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আরিফের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন এবং ওই মামলায় জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, 'তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তিনি সাংবাদিক, এই বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না।'
এদিকে, ওসির এই বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, মাহবুব আলম আরিফ মুরাদনগরের একজন সুপরিচিত সাংবাদিক। রাজনৈতিক কারণে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে, তারা অবিলম্বে তাঁকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ