০৯:৪১ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা এলাকায় সড়কের পাশ ময়লার স্তূপ রয়েছে। সম্প্রতি তোলা হয়েছে এই ছবি।
রিকশাচালক হারুণ মিয়া হ্যান্ডেলবার থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে হঠাৎই নাক চেপে ধরলেন। তিনি কথা বলার মাঝে আচমকা চুপ হয়ে গেলেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
প্রায় এক শ গজ যাওয়ার পর তিনি বললেন, ‘আর কইয়েন না। সারাডা শহরে গন্ধ আর গন্ধ। গন্ধ মানে পচা গন্ধ। নাক চাইপ্পা চলন লাগে।
খালি আমি না, হগলেঅই দেখবেন নাহে ধইরা যায়। কেউ কেউ দেখবেন মাস্ক লাগায়া রাখছে।’
হারুণ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধের কথা বলছিলেন। হারুণ মিয়ার সঙ্গে কথপোকথন চলছিল পৌর এলাকার মেড্ডায় (সিও অফিস) অবস্থিত সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়।
মেড্ডার বাসিন্দা চয়ন বিশ্বাস তার অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ঘর থেকে বের হলেই চোখে ময়লা পড়ে। সড়কের পাশে ফেলে রাখা ময়লার জায়গাটুকু আগে থেকেই শ্বাস বন্ধ করে পার হই। কখনো কখনো আগে মনে না থাকলে দুর্গন্ধ নাকে গিয়ে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।’
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়ক, রেলপথ কিংবা নৌপথ যেভাবেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসা হোক না কেন, সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ সবসময় চোখে পড়বেই।
এসব ময়লা থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধের কারণে পৌর এলাকায় চলাফেরা করা দায় হয়ে পড়েছে।
যদি সড়কপথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে আসা হয়, তখন ময়লার স্তূপ চোখে পড়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অদূরে কাউতলী এলাকায়। রেলপথে এসে স্টেশন থেকে শহরে আসার পথে দেখা যায়, ডানদিকে একাধিক ময়লার স্তূপ। আর নৌপথে গোকর্ণঘাটে এসে নামলে রয়েছে বিশাল ময়লার ভাগাড়, যাকে সরিয়ে নিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করলেও এর কোনো ফল মেলেনি।
বিভিন্ন কার্যালয়ের সামনে ময়লা-আবর্জনা থাকার কারণে মানুষের মধ্যে অস্বস্তি বেড়ে গেছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে একাধিক ময়লার স্তূপ পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা সম্পর্কে তথ্য দেয়।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
শহরের ব্যস্ততম সড়ক টিএ রোডের মঠের গোড়ার সামনেই একটি ডাস্টবিন রয়েছে। এছাড়া হালদারপাড়া, মৌলভীপাড়া, মধ্যপাড়া, পাইকপাড়া, শিমরাইলকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে অন্তত অর্ধশত ময়লার স্তূপ দৃশ্যমান।
গবেষণা পরিচালনা করে জানা গেছে যে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা আনার যে প্রক্রিয়া, তা অনেকটাই সীমিত ও অনিয়মিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন স্থানে রাখা ডাস্টবিনে বাসিন্দারা ময়লা ফেলেন। আবার কোথাও কেউ ময়লা ফেললে সেখানে অন্যরাও ময়লা ফেলেন। এভাবে শহরের শতাধিক স্থান ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
নদী, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণের সংগঠন তরী বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক মো. শামীম আহমেদ বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় এখন স্বস্তির নিঃশ্বাসও ফেলা যায় না। শহরজুড়ে এখন ময়লার দুর্গন্ধ। বলা যায় যে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একেবারে ভেঙে পড়েছে।’
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান
এক প্রশ্নের জবাবে শামীম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নানা অজুহাত দেখান। কখনো বলেন লেবার সংকট, কখনো বলেন গাড়ি কম। সব মিলিয়ে দুর্বিষহ অবস্থায় রয়েছে শহরের মানুষ। সড়কের পাশে ফেলে রাখা ময়লা ড্রেনে ঢুকে মেড্ডা, ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতাও সৃষ্টি হচ্ছে।’
সাধারণ মানুষকেও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন শামীম আহমেদ।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক উপসচিব শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু এলাকার ময়লা-আবর্জনা নিষ্কাশনের বিষয় আমি নিজেই তদারকি করি। মূলত আমাদের লোকবলের অভাব। আধুনিক যন্ত্রপাতিও নেই। মানুষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্জ্যও বাড়ছে। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’
আরও পড়ুন: হাসপাতালের টয়লেট নিজ হাতে পরিষ্কার করলেন এমপি খোকন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন