মোঃ রনি সিকদার, বিশেষ প্রতিনিধি
১১:৪৭ পি.এম
অভিযোগ সূত্রে পাওয়া গেছে, ভুক্তভোগীরা জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রারের উপাধি দিয়েছে একেএম নূরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি। বিভিন্ন সূত্র বলছে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী গত ২ বছরে দুর্নীতি করে কমপক্ষে ২ শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযোগ আছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মচারী নুরুন্নবীকে অপকর্মে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে।
টাকা দিলে নতুন কোম্পানি বা সোসাইটি কিংবা সংগঠনের সরকারি নিবন্ধন পাওয়া যায় একদিনে। আবেদন দেয়ার একদিন পরেই ১ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দিলে পাওয়া যায় সংস্থা বা কোম্পানির অনুমতি। তবে ঘুষ না দিলে যতই নিয়মতান্ত্রিক হোক কিংবা আবেদনকারী ক্ষমতাধর হোক কাউকে নিবন্ধন দেবে না রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী। এতেই ভুক্তভোগীরা যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর বা আরজেসির অফিস ভবন বা টিসিবি ভবনের দেয়ালে পোস্টারিং করেছে “রেজিস্টার একেএম নুরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি”। গতকাল সকালে পোস্টার দেখা গেলেও দুপুরে দেয়াল থেকে উধাও হয়েছে রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ছড়ানো পোস্টার।
টিসিবি ভবন ১ নং কারওয়ান বাজারে বসেন দুর্নীতির এই মহাকবি। সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তিনি দুর্নীতি করেও হয়েছেন নাম্বার ওয়ান (১ নং)। তার কার্যালয়ের প্রায় সকল কর্মকর্তা কর্মচারী সরকারি সেবা দেয়ার আগে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ টাকা ঘুষ লেনদেনের সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। তবে, জয়েন্ট স্টকের সৎ কর্মকর্তা কর্মচারীরা গ্রাহকের সাথে সরাসরি টাকা লেনদেন না করে, দালাল চক্রের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেন করে থাকে। ১নং কারওয়ান বাজার টিসিবি ভবনে বহু সরকারি বেসরকারি অফিসের ব্যবহারের জন্য বৃহৎ ৪টি লিফট থাকলেও শত-শত দালাল লাইন দিয়ে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে চলাচল করে লিফটগুলো সর্বদা ব্যস্ত রাখে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে সিঁড়ি দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
টিসিবি ভবনের নিচ তলা ও তার আশেপাশে কাব্যকস ভবন, তাজ ম্যানশন, এসি ভবন ছাড়াও কম্পিউটার নিয়ে ছড়িয়ে থাকা শতশত দালাল বসে থাকে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন করিয়ে দেয়ার জন্য। দোকানের সামনে ঝুলে থাকা ব্যানারে লেখা আছে; “জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন কনসালটেন্ট ফার্ম”। টিসিবি ভবনের পেছনে পেট্রোবাংলা গলি বা কাঠপট্টির গলিতে এসি ভবন ৩/বি ঠিকানায় বসে সোহাগ ভুঁইয়া। সোহাগ ভুঁইয়ার বসার স্থান একটি যতটুকু তাতে ছোট্ট একটি প্লাস্টিকের চেয়ার বসবে কোনোরকমে। তার ছোট্ট একটি চেয়ার ও কম্পিউটার নিয়ে বসার স্থান সামনে পেছনে এক গজ জায়গায় হবে। তার ভিজিটিং কার্ডে লেখা রয়েছে তিনি সিএফ কনসালটেন্সির উপদেষ্টা।
ভবনের গলিতে মানুষ চলাচল করলে এই উপদেষ্টার বসার চেয়ারে ধাক্কা লাগে। উপদেষ্টা সোহাগ ভুঁইয়া সেই স্থানে বসতে মাসিক ভাড়া দেয় ৩৫ হাজার। এর পরে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের টাকা দেয়া ছাড়াও অন্যান্য খরচ করতে হয় তাকে। সোহাগ ভুঁইয়া বলেছেন তিনি ইউনুস সরকারের (ইন্টেরিম সরকার) শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কয়েকশো সোসাইটি ও কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন নেয়ার আবেদন করিয়েছে। চোর, ডাকাত, মাদকাসক্ত, চোরাকারবারি, ছিনতাইকারী, পলাতক আসামি, খুনি, বখাটে, হিরোইনখোর, (নতুন ভোটার হয়েছে এমন) নানাপ্রকার কিশোর অপরাধীরা নামে-বেনামে কোম্পানি ও সংগঠন রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নিয়েছে। সোহাগ ভুঁইয়ার বিকাশ নাম্বার চেক করলে বের হবে কত লাখ টাকা লেনদেন হয় মাসে।
সোহাগ ভুঁইয়ার মতো শতশত দালাল ওঁৎ পেতে বসে আছে কম্পিউটার নিয়ে, নানাবিধ কনসালটেন্সি ফার্মের নাম দিয়ে। তাদের বক্তব্য গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই যাচাই-বাছাই করে না এই সুযোগ গ্রহণ করছে জয়েন্ট স্টকের লোকসহ সকলে। সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থায় আছে জয়েন্ট স্টকের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। আবেদন দেয়ার সাথে সাথেই রেজিস্ট্রেশন। শুধু দরকার হবে নগদ টাকা। সোহাগ ভুঁইয়ার মতো শতশত উপদেষ্টা, পরিচালক, এমডি, প্রোপ্রাইটর পরিচয় দিয়ে একটি গঠনতন্ত্র সকল মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহার করে। শুধু সোসাইটি বা কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে মালিকানা সংশোধন এবং উদ্যোক্তাদের নাম ছবি পরিচয় পরিবর্তন করেই নতুন সংস্থা বা কোম্পানির কাগজ তৈরি করে আবেদন জমা দেয়। জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা করে দিতে এই কম্পিউটার অপারেটারদের ক্ষমতা লক্ষণীয়। তারা চাইলে এক দিনের মধ্যেই রেজিস্ট্রেশন হয়। বেশি দিন লাগলে সর্বোচ্চ দুই দিন। নামের ছাড়পত্রের জন্য ২৩ শত এবং রেজিস্ট্রেশনের জন্য সরকারি ফি ১৮ হাজার, মোট ২০ হাজার পাঁচ শত খরচ। সোসাইটির গঠনতন্ত্র ও কমিটির নাম ছবি সাজিয়ে দিতে কম্পিউটার অপারেটরেরা গ্রাহকদের নিকট থেকে নেয় ১৫ হাজার। টোটাল খরচ ৩৫ হাজার। ১৫ হাজার টাকা নিয়ে এক ঘণ্টায় কাজ কমপ্লিট করে। ১৫ হাজার টাকার এই কাজ অন্য কোথাও করলে খরচ হওয়ার কথা সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা।
কম্পিউটার অপারেটর সোহাগ ভুঁইয়ার জবানবন্দিতে জানা যায় তিনি “বাংলাদেশ সার্ভেয়ার সোসাইটি” নামের একটি সংস্থার অনুমতি এনে দিতে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেনের সাথে যুক্ত হয়। সোহাগ ভুঁইয়া নিজে ওই সংস্থার সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জয়েন্ট স্টকে রেজিস্টেশনের জন্য আবেদন জমা দেয়। ২০২৬৩৯৭৩২৭ আবেদনটির সাবমিট নাম্বার। রেজিস্ট্রারের নিকট থেকে সংস্থাটির রেজিস্ট্রেশন এনে দিতে পারবে এমন একজন সাংবাদিকের সাথে সোহাগ ভুঁইয়া কন্টাক্ট করে ৪০ হাজার টাকায়। বাংলাদেশ সার্ভেয়ার সোসাইটি নামের ওই সংস্থা অনুমতি নেয়ার ব্যাপারে করা কন্টাক্ট ২দিন পরেই প্রত্যাহার করে সোহাগ ভুঁইয়া ওই সাংবাদিককে জানায় লাইসেন্স হয়ে গেছে। জুলাই এর ২ তারিখ বাংলাদেশ সার্ভেয়ার সোসাইটি জয়েন্ট স্টকের কম্পিউটার অপারেটর রিয়াজ উদ্দিনের টেবিলে পরীক্ষাধীন ছিল। রিয়াজ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায় তার টেবিল থেকে ফরোয়ার্ড করে যথাযথ কর্মকর্তার কাছে দেয়া হয়েছে। সংস্থাটির অনুমতিতে কোন ঘুষ লেনদেন হওয়ার ব্যাপারে এই কম্পিউটার অপারেটার কোন মন্তব্য করতে চায়নি।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য ; সজল নামের নারায়ণগঞ্জের একজন বাসিন্দার সাথে সাক্ষাৎ হয়। তিনি বলেন তার জন্মস্থান এলাকা বরিশালের একটি গ্রামীণ উন্নয়ন সোসাইটির রেজিস্ট্রেশনের জন্য তিনি এসে বহুরকম হয়রানির শিকার হয়েছেন। এক পর্যায়ে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির নিবন্ধকের সহকারী খায়েরকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে তার সোসাইটি অনুমোদন পেয়েছে। ঘুষ নেয়ার অভিযোগের সত্যতা জানতে জয়েন্ট স্টেকের উচ্চমান সহকারী মোহাম্মদ আবুল খায়ের (পিএ টু রেজিস্ট্রার) কোন মন্তব্য করেনি। তার হটসঅ্যাপে টেক্সট দিয়ে উত্তর জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে। একই দিনে মোঃ শামসুদ্দিন শামস নামের আরো একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, জয়েন্ট স্টক কোম্পানির অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারী ঘুষ লেনদেনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। এরা এক হাতে টাকা নেয় অন্য হাতে রেজিস্ট্রেশন দেয়। নিবন্ধক একেএম নূরুন্নবী কবির, রণজিৎ কুমার রায় উপ নিবন্ধক, যাদব কুমার পোদ্দার সহকারী নিবন্ধক, আবুল খায়ের পিএ টু রেজিস্ট্রার ছাড়াও কয়েকজন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন শামসের কাছে সরাসরি টাকা চেয়ে বলেন, টাকা ছাড়া আসলে কোন সোসাইটি বা সংস্থার অনুমতি হয় না। রেজিস্ট্রার স্যারের নির্ধারিত খাম রাখতে হয়, এর পরেই রেজিস্ট্রেশন। লেনদেন কম বা চাহিদা মাফিক না হওয়ায় এক পর্যায়ে শামসুদ্দিন শামসের সাথে আবুল খায়ের পিএ টু রেজিস্ট্রার বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে। এই ভুক্তভোগী বলেছেন, তার সোসাইটির অনুমতির জন্য তিনি হাইকোর্ট যাবেন এবং জয়েন্ট স্টক কোম্পানির কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্ত ও বিচার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অবহিত করবেন।
খুঁটির জোর: মন্ত্রণালয় সাংবাদিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আলম বলেন মন্ত্রণালয়ের অনেকেই জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রার নুরুন্নবীর নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা ঘুষের অংশ গ্রহণ করে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে টাকা দিলেই কোম্পানি বা সংস্থা অনুমতির জন্য ঘুষ লেনদেনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের শুরু থেকে তার সংগঠনের অনুমোদন পেতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিও শাখায় আবেদন করে অনুমতির জন্য। মন্ত্রী ও সচিব এবং টিও শাখার মহাপরিচালক সকলের কাছে যেতে যেতে বহু হয়রানি হওয়ার এক পর্যায়ে টিও শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব আশরাফুল সিদ্দিক স্বাক্ষরিত একটি পত্র পেয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আলম। চার মাস হয়রানির পরে পাওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে- জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রারের কাছে যেতে। জয়েন্ট স্টক রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী তার সহকারী আবুল খায়েরকে দেখিয়ে ফয়সাল আলমকে বলেন তার সাথে যোগাযোগ রাখতে। পরের দিন আবুল খায়ের ১৪ লাখ টাকা চেয়ে ফয়সাল আলমকে জানিয়েছে আগামীকাল আপনার ফাউন্ডেশন রেজিস্ট্রেশন হবে। এতে বিস্মিত হয়ে ফয়সাল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি নিয়ে গেলাম, রেজিস্ট্রার মন্ত্রণালয়ের চিঠি গুরুত্ব দিলো না। বিষয়টি মন্ত্রণালয় সাংবাদিক ফোরাম এর সাধারণ সভায় উপস্থাপন করলে পরে খারিজ হয়ে যায়। টাকা দিয়ে সংস্থা অনুমতি নিতে আগ্রহী নয় তার কমিটির সদস্যরা।
১৪ লাখে সোসাইটির নিবন্ধন দেয়ার ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সাংবাদিক ফোরাম অনুমতি চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিও শাখায় আবেদন করেন ফয়সাল আলম। আবেদনের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রারের কাছে যাওয়া অনুরোধ করলে ফয়সাল আলম ওই রেজিস্ট্রারের সহযোগিতা চায়। একদিন পরে ফয়সাল আলমকে ফোন করে রেজিস্ট্রার বলে, আপনার নামে অন্য এক সাংবাদিক অভিযোগ দিয়েছে তাই আপনার সংগঠন অনুমতি পেতে বিলম্ব হবে। এর পরের দিন আবু তালেব নামের একজন লোক এই সংস্থার অনুমতি দিতে পারবে বলে ১৪ লাখ টাকা দাবি করে। জয়েন্ট স্টকের পাশে “কাব্যকস” নামের একটি ভবনে আবু তালেবের অফিস রয়েছে। জয়েন্ট স্টক থেকে কোম্পানির অনুমতি পাইয়ে দিতে ক্লায়েন্টকে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকেন এই আবু তালেব। ফয়সাল আলম বলছেন জয়েন্ট স্টকের চারপাশে এরকম শতাধিক আবু তালেব আছে, যারা রেজিস্ট্রার নুরুন্নবীর ঘুষ লেনদেনের সহযোগিতা করার জন্য অফিস খুলে বসছে। ফয়সাল আলম নিশ্চয়তা দিয়ে অভিযোগ পুনঃব্যক্ত করেছেন; রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী ইশারা ইঙ্গিতে টাকা চেয়েছে।
ফয়সাল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিও শাখার ডিজি যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দারকে নজরদারি করেছি তিন মাসের বেশি সময়। পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সচিব দুর্নীতি করবেই এটা স্বাভাবিক। তবে তাকে নানাভাবে দুর্নীতির পথ দেখায় আশেপাশের কর্মচারীরা। সচিবের দুর্নীতির বড় সহায়তাকারী হচ্ছে দুর্নীতিবাজ কর্মচারী বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার। বাণিজ্য সংগঠনের অনুমতি নিতে আসা লোকজনের নিকট থেকে এই মহাপরিচালক নানারূপের সুবিধা ও সহায়তা গ্রহণ করে। ফয়সাল আলম বলেন, তিনি সরকারের অসৎ কর্মচারী। তার দুর্নীতির পাল্লা খুবই ভার। তিনি রাষ্ট্রের সামান্য কর্মচারী হয়েও সর্বক্ষণ তার অফিস কক্ষ ভেতর থেকে লক করে রাখে। মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ এরিয়া রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রয়েছে। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত অফিস করেন। সেখানে একজন সামান্য যুগ্মসচিব নিজের কক্ষে ভেতর থেকে তালা দিয়ে রাখে। নাজমুল নামের একজন অফিস সহকারী মহাপরিচালকের কক্ষের দরজায় দাঁড়ানো থাকে সশস্ত্র বাহিনীর নিরাপত্তা কর্মীর স্টাইলে। এমন স্টাইলে দেখা যায় না কোন সচিবের নিরাপত্তা কর্মীকেও। মন্ত্রণালয়ে আরো শতাধিক যুগ্মসচিব আছে। সকলের কক্ষ সর্বসাধারণের জন্য স্বাভাবিক ভাবেই খোলা দেখা যায়। সেখানে প্রবেশ করা যায়, সেবা নেয়া যায়। কিন্তু এই মহাপরিচালক নিশ্চয়ই মহাদুর্নীতি করে আত্মরক্ষার জন্য এভাবে অফিস রুদ্ধ করে রাখে। কিছুদিন আগে তিনি এক মাসের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেছেন। কি কারণে এই দীর্ঘ ছুটিতে ছিলো সেই সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না।
এ ব্যাপারটা তার মন্তব্য নিতে মহাপরিচালক মোস্তফা জামাল হায়দারের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তার কক্ষে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ও নিষিদ্ধ থাকায় তার সাথে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইলে কল করলেও তিনি পরে কল ব্যাক করবেন বলে সক্রিয় টেক্সট দেন। কিন্তু পরে আর কথা বলেন না।
রেজিস্ট্রারের বক্তব্য : টাকা নিয়ে সনদ কোম্পানি বা সোসাইটির অনুমতি দেয়ার অভিযোগ নিয়ে ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী কবিরকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন; “আজ আমার চাকুরি জীবনের শেষ বৃহস্পতি। আপনি আরো কয়েকদিন ফোন করেছিলেন, ধরতে পারিনি অফিসে খুব বিজি থাকি। এই মুহুর্তে আমার সামনে ১০ লোক, ২টি হাত দিয়ে কাজ করি আরো ২টি হাত বেশি থাকলে আরেকটু বেশি কাজ করতে পারতাম। আমি আগামী রবিবার অফিস করবো না। সোমবার আসবো, সেদিন আপনি আসেন”। পরের সপ্তাহে অর্থাৎ ২৫ আগস্ট ২০২৬ ইং রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী সরকারি চাকুরি থেকে অবসরে যাবেন। সূত্র বলছে, অবসরের সাথে সাথেই তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সকল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। কিছুদিন আগে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল কাগজ হারিয়ে যাওয়ার কথা বলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। বিজ্ঞাপনে দেখা যায় এ, কে, এম, নূরুন্নবী কবির (৫৮), পিতা: মোঃ জয়েন উদ্দিন, মাতা: মোসাঃ নুরজাহান বেগম, ঠিকানা (বর্তমান)-কাওরান বাজার টিসিবি ভবন, গ্রাম-কাওরান বাজার, ইউনিয়ন/ওয়ার্ড-ওয়ার্ড নং-নতুন-২৬ (পুরাতন-৩৯), থানা-তেজগাঁও, জেলা-ঢাকা। এস.এস.সি, সাল ১৯৮২, রোল নং – ৫৯৯০৯, রেজি: নং – ৪১২৫৯, এইচ.এস.সি সাল ১৯৮৪, রোল নং-১২৯২৬, রেজি: নং- ২৪১৪ উভয় ঢাকা বোর্ড এবং বি.এস.সি. (সম্মান), রসায়ন বিভাগ, সাল-১৯৮৭ এবং এম.এস.সি. সাল-১৯৮৮, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তেজগাঁও থানা জিডি নং: ১৮৬৯ তারিখ: ২৯/০৬/২০২৬। তার সরকারি সার্ভিস আইডি নং ৫৯১৪ ভোটার আইডি 19675611076707257
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দপ্তরের এক কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলছেন, জয়েন্ট স্টকের এ.সি.আর অত্যন্ত অসন্তোষজনক। কোন পক্ষ যদি মন্ত্রী পরিষদের কাছে অভিযোগ দেয় তা যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা হতে পারে। বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এ.সি.আর) হচ্ছে কোনো সরকারি কর্মচারীর কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করে তার অব্যবহিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রদত্ত প্রতিবেদন। শুধু কর্মদক্ষতা মূল্যায়নই নয়, এতে তার আচরণ, চরিত্র এবং সততা সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করা হয়।
জয়েন্ট স্টকে কর্মরত আইনজীবী ও স্টেক হোল্ডাররা উক্ত দুর্নীতিবাজ রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী কবিরসহ আরজেএসসির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নেপালের ত্রিশূলী নদীর তীরে কাদায় ভরা বিশাল সুড়ঙ্গপথে ৬০০-এর বেশি শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারে। তাদের জীবিত উদ্ধারের আশায় অপেক্ষা করছেন স্বজনেরা। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, উদ্বেগও ততই বাড়ছে। উদ্ধারকারীরাও আশঙ্কা করছেন, জীবিতদের কাছে পৌঁছানোর গুরুত্বপূর্ণ সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
সোমবার, ত্রিশূলী-৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পৌঁছানোর চেষ্টা চালান উদ্ধারকারীরা। পাহাড়ের ঢালে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরির চেষ্টা করা হয়। এর পর সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাস ঢোকানো শুরু হয়।
নিখোঁজ প্রকৌশলী অরুস ভান্ডারির স্ত্রী অনুশিলা ভান্ডারি বলেন, “আমি চাই আমরা তাকে খুঁজে পাই। আমি চাই তিনি বাড়ি ফিরে আসুন।”
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বন্যায় মৃত বেড়ে ৯৩৯ হয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা সংশোধন করে ৩ হাজার ৯২৫ জন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় সাতজনের একজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সোমবার জানিয়েছেন, এসব প্রকল্প থেকে ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন ও নেপালের সামরিক সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক দল। ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও এতে যুক্ত রয়েছেন।
সোমবার একটি উদ্ধারকারী দল একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের দিকে যাওয়া সুড়ঙ্গে ঢুকতে সক্ষম হয়। তবে সেখানে কাউকে না পেয়ে পরে ফিরে আসে।
এর আগে সপ্তাহের শেষ দিকে একটি সুড়ঙ্গে বাতাস ঢোকানোর কাজ শুরু করেন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু আটকে থাকা শ্রমিকদের স্বজনেরা বলছেন, এই ব্যবস্থা আরো আগেই নেওয়া উচিত ছিল।
স্বামীকে উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকা সিতা পান্ডে নেপালের দৈনিক কান্তিপুরকে বলেন, “আমি এখনো ৫০ শতাংশ আশা করি তিনি বেঁচে আছেন। কারণ সুড়ঙ্গের ভেতরে অক্সিজেনের ব্যবস্থা রয়েছে।”
আরেক নিখোঁজ শ্রমিকের স্বজন জীবন খাড়কা বলেন, “যত দেরি হচ্ছে, আমাদের আশা ততই কমে যাচ্ছে। এই অভিযান আরো দ্রুত করতে হবে। আমাদের কাছে প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ।”
সুড়ঙ্গের চিহ্নও মিলছে না
অস্ট্রেলীয় প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স দূর থেকে নেপালের উদ্ধারকারীদের ভূগর্ভস্থ অনুসন্ধানে সহায়তা করছেন। তার ভাষ্য, উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গগুলোর অবস্থান শনাক্ত করতেই হিমশিম খাচ্ছেন।
বিবিসি রেডিও ফোরকে ডিক্স বলেন, “সুড়ঙ্গগুলোর কোনো চিহ্নই আর নেই। সবকিছু যেন হারিয়ে গেছে। জায়গাটিকে চাঁদের পৃষ্ঠের মতো দেখাচ্ছে।”
তার মতে, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা গেলে সেখানে পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ ঠিক করা সম্ভব হবে। এ ধরনের অভিযানে সাধারণত খনন করতে হয় এবং বড় পাথর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সরাতে হয়।
ডিক্স বলেন, কিছু পাথর বাড়ির চেয়েও বড়। জীবনে এমন কিছু আগে দেখেননি বলেও জানান তিনি।
তার মতে, এটি একটি “অসাধারণ” উদ্ধার অভিযান।
তবে ভূগর্ভের পরিবেশ বন্যার পানির ভয়াবহতা থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিয়ে থাকতে পারে। এ কারণে সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা এখনো দেখছেন ডিক্স।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প
নেপাল জলবিদ্যুতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটির পাহাড়ি নদীগুলোকে ঘিরে বছরের পর বছর ধরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যায় নির্মিত বা নির্মাণাধীন অন্তত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেছেন, উদ্ধার অভিযান “আরো জোরদার” করা হয়েছে। তিনি বন্যাটিকে “সাধারণ কোনো ঘটনা নয়” বলে উল্লেখ করেছেন।
সোমবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শাহ বলেন, হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপালে যে দুর্যোগ বাড়ছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে বিষয়টি তুলে ধরার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছিলেন মিলান খারেল। বন্যার পর থেকে তার সন্ধানে অপেক্ষা করছেন বোন প্রিয়া খারেল।
প্রিয়া বলেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ফিরে আসা লোকজন জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে মানুষ ছিল। সেনাবাহিনী দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে পারলে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব বলে আশা করছেন তিনি।
শনাক্ত করা যাচ্ছে না অধিকাংশ লাশ
বন্যায় মৃতদের শনাক্ত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবিসি নেপালিকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রায় ৯০০ লাশের মাত্র ৪ শতাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
বন্যার স্রোতে ভেসে প্রায় ৩০০ লাশ চিতওয়ান জেলার নদীতীরে এসে পৌঁছেছে। সেখানে অস্থায়ীভাবে লাশ দাফন করা হচ্ছে।
সাদা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ও মাস্ক পরা কর্মীরা শনাক্ত না হওয়া লাশ ট্রাকে তুলছেন। লাশ পচে যাওয়ায় দুর্গন্ধে সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
শনিবার শহরের বাইরে একটি বনাঞ্চলের বড় অংশ খুঁড়ে রাখা হয়। চিকিৎসাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা সেখানে পাওয়া অজ্ঞাত লাশ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছেন।
চিতওয়ানের জেলা প্রশাসক গণেশ আরিয়াল বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে লাশ শনাক্ত হওয়ার পর স্বজনেরা তাদের প্রিয়জনের দেহাবশেষ নিয়ে যেতে পারবেন।
তিনি বলেন, “আমাদের এখানে পর্যাপ্ত ফ্রিজার নেই। তাই অস্থায়ীভাবে দাফন করাই ছিল শেষ বিকল্প। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা সত্যিই হিমশিম খাচ্ছি।”
তিব্বতে ১৬ মৃত্যু, নিখোঁজ ৫৪৬
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরো ৫৪৬ জন।
চীনে বন্যার ভিডিও ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সরকারি হিসাবের চেয়ে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা অনেক বেশি—অনলাইনে এমন দাবি বা অনুমান করায় কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে “প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা” নেওয়া হয়েছে। এসব শাস্তির মধ্যে সতর্কবার্তা, জরিমানা ও স্বল্পমেয়াদি আটক থাকতে পারে।
নেপালেও বন্যা নিয়ে ভুল তথ্য হিসেবে বিবেচিত অনলাইন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তাদের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকে জিয়া উদ্যান এলাকায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। খণ্ড খণ্ড মিছিলে জড়ো হয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে।
নেতারা মন্তব্য করেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনকে সামনে রেখে দলকে আরো সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। একইসঙ্গে দেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ আরও অনেক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার কারণে মৃতের সংখ্যা ৯৫৫ জনে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। দেশটির নুয়াকোট জেলার একটি বাড়ি থেকে একসঙ্গে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা এই দুর্যোগের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষ জানায়, নুয়াকোটের বেত্রাবতী এলাকার ওই বাড়ি থেকে সোমবার সকালে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যার পানিতে বাড়িটি ভেসে যাওয়ার পর সেখানে এসব মরদেহ আটকা পড়ে ছিল।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের ধসের ফলে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়। ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থায় প্রবল স্রোত নেমে এসে উত্তর ও মধ্য নেপালের বহু শহর ও গ্রাম প্লাবিত করে। এতে ঘরবাড়ি, যানবাহন, সড়ক ও সেতুর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যার পর থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে ঘন কাদা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কয়েকটি টানেলে ৯০০ জনের বেশি শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ১১টি প্রকল্পের ৯৩৩ শ্রমিক নিখোঁজ বা আটকা পড়েছেন। রাশুয়া ও নুয়াকোট জেলার কয়েকটি টানেলে এখনো উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৪০ থেকে ৪২ জন প্রকৌশলী কাজ করছিলেন। বন্যার পর তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ত্রিশূলী ৩বি প্রকল্পের ১১৮ শ্রমিকও নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল সেনাবাহিনী কাদা ও পানি সরাতে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ, খননযন্ত্র ও সার্চলাইট ব্যবহার করছে। তবে টানেলের ভেতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় উদ্ধারকাজে সময় লাগছে।
এদিকে প্রতিবেশী ভারতের উত্তর প্রদেশের কুশীনগরের গণ্ডক নদী থেকে ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন নারী এবং সাতজন পুরুষ রয়েছেন। মরদেহগুলো নেপালে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বজনদের কেউ পোশাক, গয়না, ট্যাটু বা ব্যক্তিগত সামগ্রী দেখে মরদেহ শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষারও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
নেপাল মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধারকাজে ফ্রিজার, ডিএনএ কিট, লাইডার, ড্রোন ও সেতু নির্মাণের সরঞ্জাম চেয়েছে। ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় প্রায় ৬৫ হাজার মানুষের জরুরি পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা প্রয়োজন। এ ছাড়া ২২ হাজারের বেশি শিশুর সুরক্ষা সহায়তা দরকার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৯টি স্কুল; এর মধ্যে ৯টি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং ৮টি স্কুল বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ১০ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩২৩ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯টি দেশের প্রায় ৫৯০ বিদেশি নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে বিব্রতকর পরাজয়ের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দলের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। চলমান সফরের অংশ হিসেবে সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। তাদের পরিবর্তে নতুন একদল ক্রিকেটারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দলের প্রধান কোচ এবং বোলিং কোচকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
পিসিবি জানায়, দল থেকে অব্যাহতি পাওয়া সাত ক্রিকেটার হলেন— মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আঘা, আলী উসমান, আমের জামাল, মুহাম্মদ আওয়াইস জাফর এবং খুররম শাহজাদ। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকে অব্যাহতি দিয়ে তাদের জায়গায় যথাক্রমে মাইক হেসন এবং অ্যাশলে নফকে নিয়োগ দিয়েছে পিসিবি।
নতুন দলে অন্তর্ভুক্ত করা সাতজন খেলোয়াড় হলেন— সাইম আইয়ুব, আবদুল্লাহ ফজল, আরাফাত মিনহাস, সাদ বেগ, মুহাম্মদ রানধাওয়া, রেজাউল্লাহ এবং মুহাম্মদ ইমরান জুনিয়র। এই সাতজনের মধ্যে সাইম আইয়ুব আটটি এবং আবদুল্লাহ ফজল দুটি টেস্ট খেলেছেন। বাঁহাতি স্পিন-অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস খেলেছেন তিনটি ওয়ানডে ও চারটি টি-টোয়েন্টি। এছাড়া উইকেটরক্ষক-ব্যাটার সাদ বেগ ২০২৫-২৬ কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়রেরও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে ডানহাতি পেস-বোলিং অলরাউন্ডার মুহাম্মদ রানধাওয়া এবং রেজাউল্লাহ এখনও কোনো পর্যায়ে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেননি। বার্মিংহামে তৃতীয় টেস্টের পূর্বে তারা সবাই পাকিস্তান দলে যোগ দেবেন।
হেডিংলি ও লর্ডসে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে হতাশাজনক পরাজয়ের পর পাকিস্তান এই বড় পরিবর্তনের পথে অগ্রসর হয়েছে। লর্ডসে রোববারের হারটি ছিল গত ১১টি অ্যাওয়ে টেস্টে পাকিস্তানের দশম এবং সব মিলিয়ে শেষ ২০ টেস্টে ১৫তম পরাজয়। বর্তমান আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) চক্রে পাকিস্তান দুটি জয় এবং ছয়টি পরাজয়ের সঙ্গে ১৬.৬৭ পয়েন্ট শতাংশের সঙ্গে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে অবস্থান করছে বাবর আজমের নেতৃত্বে।
আগামী বার্মিংহাম টেস্টের জন্য বাবর আজমের নেতৃত্বে পাকিস্তানের হালনাগাদ স্কোয়াডে রয়েছেন— আবদুল্লাহ ফজল, আরাফাত মিনহাস, আজান আওয়াইস, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ আলী, মুহাম্মদ ইমরান, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, মোহাম্মদ গাজি ঘোরি (উইকেটরক্ষক), রেজাউল্লাহ, সাদ বেগ (উইকেটরক্ষক), সাইম আইয়ুব, সাজিদ খান, সৌদ শাকিল, শান মাসুদ এবং উবাইদ শাহ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ