০৩:১২ পি.এম
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন জানিয়েছেন, দুর্যোগের সার্বিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই মনিটরিং করছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্যসহ ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী এসময় বলেন, পাহাড় ধস এবং বন্যা কবলিত এলাকার অসহায় মানুষের সহযোগিতা যতদিন প্রয়োজন, সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে তিন মাস লাগলে তিন মাস ধরে সহায়তা দেওয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হবে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ আমাদের সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক।
গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) রাতে রাঙামাটি শহরের ভেদভেদীস্থ লোকনাথ ব্রক্ষচারী আশ্রমের হলরুমের সংলগ্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এম ইকবাল হোসেইন এই প্রসঙ্গে আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুসারে আমরা সবাই কাজ করছি। তিনি আমাদের সবাইকে দৌড়ের উপরে রেখেছেন এবং কোথায় কী করলে ভালো হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করছেন। প্রধানমন্ত্রী সমস্ত মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমের বিষয়ে অবহিত আছেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যা পরিস্থিতি দেখভাল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে সেখানে পাঠিয়েছেন। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত চট্টগ্রামে আগামী ৬-৭ দিন থাকবেন এবং যতদিন প্রয়োজন, ততদিন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার সার্বিক বিষয় মনিটরিং করবেন।
তিনি বলেন, তিন পার্বত্য জেলাসহ পাঁচটি জেলার পরিস্থিতি দেখা এবং এ বিষয়ে রিপোর্ট প্রদানের জন্য আমাকে পাঠানো হয়েছে। এখানে এসে দেখলাম টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে অনেক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি মোটামুটি সামাল দিতে পেরেছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনে আরো ত্রাণ সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, পানি কমলে ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে কী করা যায় তা আমরা স্থানীয় প্রশাসনসহ সবার সাথে বসে সমাধানের চেষ্টা করবো।
রাঙামাটি ২৯৯ নং সংসদীয় আসনের সাংসদ দীপেন দেওয়ান এমপি, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মাদ আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মো. রুহুল আমীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মুহম্মদ ইমরানুল হক ভুঁইয়া এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হোসেইন আরও বলেন, দুর্যোগ এবং বন্যার প্রকোপটা এখন যে আমরা দেখছি, এটাতো একদিনে হয়নি। হ্রদের নাব্যতাতো একদিনে কমেনা। এই বিষয়ে আমাদের আগে চিন্তা করা উচিত ছিল।
তিনি বলেছেন, প্রকৃতির উপর হাত দিয়ে মানুষ প্রকৃতি ধ্বংস করেছে। সেজন্য এই সংকট মোকাবেলা করা আমাদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট মোকাবেলায় আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। পরে তিনি সবার মাঝে খাবার বিতরণ করেন। এর আগে তিনি খাগড়াছড়ি জেলা পরিদর্শন করে শনিবার রাতে রাঙামাটির আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন