মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৭ পি.এম
বাগেরহাট, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ ও চারা পরিচর্যার পাশাপাশি মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধিতে সবাইকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
আজ বাগেরহাটের মোংলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানকালে প্রতিমন্ত্রী মোংলা উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং পুকুরপাড়ে একটি চারাগাছ রোপণ করেন।
বক্তব্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জনমানুষের দল বিএনপির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমরা সেই দলের কর্মী হিসেবে দলের দূরদর্শী প্রতিষ্ঠাতাকে আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ আমরা বৃক্ষরোপণ করার পাশাপাশি জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করেছি। আশা করি, এ ধরনের ইতিবাচক ও উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশের প্রতিটি জনপদ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।”
মৎস্য সম্পদ ও প্রকৃতির সুরক্ষার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রয়োজনীয় আমিষের চাহিদা পূরণে মৎস্য ক্ষেত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সারা দেশে বর্তমানে বৃক্ষরোপণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা দেশের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ও সময়োপযোগী।
এ সময় তিনি বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে পরিত্যক্ত জলাশয়ে মৎস্য চাষ এবং বেশি করে গাছ রোপণ ও তার যথাযথ পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে মোংলা বন্দর শ্রমিক-কর্মচারী সংঘ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কোস্টগার্ড সংলগ্ন শ্রমিক-কর্মচারী সংঘ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
উক্ত র্যালিতে মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আ. মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, বিএনপি নেতা শেখ রুস্তুম আলী, নাসির তালুকদার, গোলাম নুর জনি, বাবলু ভূঁইয়া ও মোস্তাফিজুর রহমান জনিসহ স্থানীয় অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব ‘ক্লিন ও গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শক্ষা ও গবেষণার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইউজিসির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
আজ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ২৩তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ মন্তব্য করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত উন্নয়ন বলতে কেবল নতুন ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণকে বোঝায় না। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করাও সামগ্রিক অগ্রগতির একটি অপরিহার্য অংশ।’
তিনি রুয়েটের বিদ্যমান শান্ত ও সবুজ পরিবেশের প্রশংসা করেন এবং ক্যাম্পাসের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে সেটিকে আরো সুপরিকল্পিত ও সবুজ হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দেন।
শিক্ষার গুণগত মান ও সুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, উচ্চশিক্ষার মূল লক্ষ্য কেবল ডিগ্রি প্রদান হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞানের পাশাপাশি উচ্চ নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় সমৃদ্ধ দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।
অনুষ্ঠানে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সিলেট, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ড্রোনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
আজ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট সেক্টর সদর দফতরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ (এসএসএসডিডব্লিউ)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এই বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, “সীমান্তের যেসব দুর্গম ও গভীর বনাঞ্চলবেষ্টিত এলাকা রয়েছে, যেখানে সরাসরি জনবল দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত দুষ্কর; সেসব জায়গায় নাইট ভিশন এবং থার্মাল প্রযুক্তি সংবলিত ড্রোন ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক আধুনিক ডিজিটাল নজরদারি পরিচালনা করা হবে। থার্মাল প্রযুক্তির এই ব্যবহারের ফলে রাতের আঁধারেও সীমান্তের ওপারে অপরাপর পক্ষের যেকোনো অপতৎপরতা তদারকি এবং চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের রুট চিহ্নিত করে তা প্রতিহত করা অনেক সহজ হবে।”
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের অতি দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং সরাসরি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে বিজিবি সদস্যরা সফলভাবে ড্রোনের ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে এই ড্রোন স্কুলে বিজিবি সদস্যদের সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন ওয়ারফেয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, তবে ভবিষ্যতে বেসামরিক জনবলকেও উন্নত প্রযুক্তি ও ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতে এই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সব সর্বাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করে দেশের সর্বাত্মক সুরক্ষা ও সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে ইতোমধ্যে যুগোপযোগী করা হয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে ল্যাব, হাজতখানা, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক অস্ত্রের মাধ্যমে বাহিনীর কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে ‘মব’ তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা প্রচলিত আইনের মাধ্যমে অত্যন্ত কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজিবির সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি উদ্বোধনের আগে মন্ত্রীকে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ সম্পর্কিত বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সার্বিক দিক নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করা হয়।
উদ্বোধনের পর মন্ত্রী ড্রোন স্কুল কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন এবং পরবর্তীতে বিজিবির দক্ষ পরিচালনায় একটি বাস্তবভিত্তিক অপারেশনাল মহড়া ও ডাইনামিক ড্রোন ডিসপ্লে প্রত্যক্ষ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জয়পুরহাট, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী মন্তব্য করেছেন, যখন দেশের পরিস্থিতি সংকটময় হয়ে ওঠে, তখন সেই সংকট থেকে মুক্তির জন্য জনগণ বিএনপি-কে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসে।
তিনি আজ জয়পুরহাটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী অতীতের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, জনগণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিশ্বাস করে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। একইভাবে, বর্তমান পরিস্থিতিতেও তারা বিএনপি-কে ক্ষমতায় এনেছে।
তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের কাজের প্রশংসা করে বলেন, তিনি দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে এবং সংকট থেকে উদ্ধার করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কয়েকটা দিন সময় দেন, দেখবেন দেশ উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাবে, ইনশাআল্লাহ।’
এর আগে সকালে জয়পুরহাট জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। পরে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বেলা ১১টায় জেলা বিএনপি ও এর সকল অঙ্গ-সংগঠনের উদ্যোগে স্থানীয় শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সার্কিট হাউস মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিপূর্ব এই সমাবেশে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাবসহ বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ আরও বক্তব্য রাখেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এই নির্দেশনার উদ্দেশ্য হলো ভূমি সেবা নিতে আসা নাগরিকদের হয়রানি, অনিয়ম, দুর্নীতি বা দালালের শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করা।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং স্বচ্ছ ও দ্রুত ভূমিসেবা নিশ্চিত করা জেলা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। আজ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।
ফরিদা খানম বলেন, "একজন নাগরিক ভূমি অফিসে কোনো ব্যক্তির কাছে নয়, রাষ্ট্রের কাছে সেবা নিতে আসেন।" তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা হচ্ছে নাগরিককে যথাযথ সেবা প্রদান করা। তিনি আরও বলেন, ভূমি সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম বা হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যে, নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে দ্রুত সেবা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। নামজারি, খতিয়ান, মিউটেশনসহ ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
জেলা প্রশাসক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ঘুষ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ফাইল আটকে রাখা, অযথা হয়রানি কিংবা দালালের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি সতর্ক করেন যে, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত রাখার নির্দেশ দেন এবং নাগরিকদের সরাসরি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি ও সেবা প্রদানের সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদান করতে হবে।
ফরিদা খানম নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, "একজন সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর জমি হয়তো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।" তাই তিনি নিশ্চিত করতে চান যে, কোনো নাগরিক যেন ভূমি অফিস থেকে অপমানিত বা হয়রানির শিকার হয়ে ফিরে না যান।
সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ঢাকা জেলায় সাধারণ খাতে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি ছিল ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ৭২ হাজার ২৮০ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৬ টাকা, যা দাবির ১১০.৬ শতাংশ।
এছাড়া সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২৬ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১৬০ টাকা এবং অর্পিত সম্পত্তির লিজমানি বাবদ ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার ১২৫ টাকা আদায় হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহসীলদার ও সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের রাজস্ব আদায়ে এ সাফল্যের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, "এ অর্জন তাদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন।" তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু ফাইল নিষ্পত্তি করা নয়, মানুষের সমস্যার সমাধান করা। জনগণ যেন দালাল ছাড়াই স্বচ্ছ ও সহজ প্রক্রিয়ায় ভূমিসেবা পান এবং হয়রানি ছাড়াই সন্তুষ্টচিত্তে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, ভূমিসেবা সহজীকরণ ও নাগরিক ভোগান্তি কমানোর বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ