বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:২২ পি.এম
চলতি মৌসুমে দীর্ঘ ১৪ বছর পর লা লিগায় ফিরে আসা রেসিং স্যান্টান্ডারকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। হ্যান্সি ফ্লিকের দল ন্যু ক্যাম্পে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফরোয়ার্ড রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে ৭-২ গোলের বিশাল জয় অর্জন করেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করেছে বার্সেলোনা। তারা রেসিংকে চাপে রেখে দ্রুত এগিয়ে যায়। অষ্টম মিনিটে জোয়াও ক্যান্সেলোর ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া জোরালো শট ক্রসবারে লেগে জালে প্রবেশ করে এবং বার্সেলোনাকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেয়।
এরপরও কাতালানদের আক্রমণের ধার কমেনি। ১৯ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও করিম আদেয়েমি ব্যবধান দ্বিগুণ করতে ব্যর্থ হন। তবে তিন মিনিট পর রাফিনিয়াকে ডি-বক্সে ফাউল করা হলে বার্সেলোনা পেনাল্টি পায়। স্পট কিক থেকে গোল করে রাফিনিয়া দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
ম্যাচের ৩০ মিনিটে রেসিং একটি গোল শোধ করে। ডি-বক্সের ভেতর থেকে কোনাকুনি শটে গোল করেন মাগুয়েত গেয়ি। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ছয় মিনিট পর ক্যান্সেলোর জোরালো শট রেসিংয়ের এক ফুটবলারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করে। আত্মঘাতী গোলে বার্সেলোনা ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান আরও বাড়ান রাফিনিয়া। ৪২ মিনিটে দানি ওলমোর পাস থেকে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ফলে ৪-১ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।
বিরতির আগে বার্সেলোনা আরও একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল। করিম আদেয়েমি ফাউলের শিকার হলে স্বাগতিকরা পেনাল্টি পায়। তবে লামিনে ইয়ামালের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন রেসিং গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ চালিয়ে যায় বার্সেলোনা। ইয়ামালের একটি শট পোস্টে আঘাত করলেও গোলের দেখা পেতে অপেক্ষা করতে হয় ৬৫ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় গোলরক্ষক ভয়চেক সেজনির ভুলে রেসিংয়ের ইয়াসির জাবিরি গোল করে ব্যবধান কমান। প্রতিপক্ষের চাপে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে পিছলে পড়েন সেজনি, সুযোগ কাজে লাগিয়ে টোকায় বল জালে পাঠান জাবিরি।
তবে এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি রেসিং। বার্সেলোনার আক্রমণের মুখে একের পর এক গোল হজম করে তারা। শেষ পর্যন্ত ৭-২ গোলের বিশাল জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কাতালান জায়ান্টরা। রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি বার্সেলোনার হয়ে গোলের তালিকায় নাম লেখান ক্যান্সেলো, গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও লামিনে ইয়ামাল। আর একটি গোল আসে রেসিংয়ের আত্মঘাতী প্রচেষ্টায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চীনের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান জুলং গ্রুপ বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান বেন ওয়াং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানের সঙ্গে তার দপ্তরে সাক্ষাৎ করেন।
এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশে আধুনিক নৌযান নির্মাণ ও মেরিটাইম খাতের উন্নয়ন নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বেন ওয়াং বৈঠকে জানান, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তার প্রতিষ্ঠান এখানে বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক নৌযান ও জাহাজ নির্মাণ করতে চায়। জুলং গ্রুপের লক্ষ্য হলো, উৎপাদিত আন্তর্জাতিক মানের নৌযানগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা।
নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী চীনের এই বিনিয়োগ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিদেশি বিনিয়োগের জন্য চমৎকার এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করেছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পে চীনের এই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি আশ্বাস দেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ নির্মাণ এবং তা বিদেশে রপ্তানির এই উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত এবং প্রশাসনিকসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। যদি এই যৌথ উদ্যোগ সফল হয়, তবে বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টরে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আলঝেইমার রোগটি বয়স্কদের মধ্যে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার একটি অন্যতম পরিচিত রোগ। দীর্ঘকাল ধরে এ রোগের কারণ ও কার্যকর চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা চললেও, এর সম্পূর্ণ কার্যকর প্রতিকার এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তবে সম্প্রতি একটি নতুন গবেষণায় এমন একটি বিষয় উন্মোচিত হয়েছে, যা আলঝেইমার নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
গবেষণার ফলাফল নির্দেশ করে, ট্যাক্সিচালক ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের মধ্যে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার অন্যান্য অনেক পেশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গবেষকদের মতে, এই ধরনের পেশায় নিয়মিতভাবে পথ চিনে চলা এবং তাৎক্ষণিকভাবে দিক নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে, যা মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশে পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
তবে গবেষণাটি চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে না যে, ট্যাক্সি বা অ্যাম্বুলেন্স চালানো আলঝেইমার থেকে সুরক্ষা দেয়।
কীভাবে পেশার সঙ্গে আলঝেইমারের সম্পর্ক মিলল?
গত দুই দশকে পরিচালিত কিছু ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, লন্ডনের ট্যাক্সিচালকদের মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসের একটি অংশ তুলনামূলকভাবে বড় হতে পারে। এই অংশটি স্মৃতি তৈরি এবং বিশেষ করে স্থান ও পথ মনে রাখার সঙ্গে জড়িত।
আলঝেইমার রোগে হিপোক্যাম্পাসের এই অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে গবেষকদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে—নিয়মিত পথ খোঁজা ও স্থানিক স্মৃতি ব্যবহারের মতো কাজ কি ট্যাক্সিচালকদের মস্তিষ্কে এমন কোনো পরিবর্তন ঘটায়, যা আলঝেইমারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত?
নতুন গবেষণায় সেই সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃতভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে।
প্রায় ৯০ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ
গবেষকেরা প্রায় ৯০ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এসব মানুষের মৃত্যুর সময় পেশার তথ্য ছিল এবং তারা তিন বছরের একটি সময়ে মারা গেছেন।
বিভিন্ন বয়সের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ৪৪৩টির বেশি পেশায় আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার হিসাব করা হয়। এতে ট্যাক্সিচালক ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়।
ট্যাক্সিচালকদের মৃত্যুর মধ্যে শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ ছিল আলঝেইমার-সম্পর্কিত। অ্যাম্বুলেন্সচালকদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ১ দশমিক ০৩ শতাংশ।
অন্যদিকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের মৃত্যুর মধ্যে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৮২ শতাংশ, যা সাধারণ জনগণের গড় হারের কাছাকাছি।
গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, অন্যান্য পেশার তুলনায় ট্যাক্সিচালক ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের মধ্যে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যু ৪০ শতাংশের বেশি কম ছিল।
সব ধরনের চালকের ক্ষেত্রে একই ফল নয়
তবে মজার বিষয় হলো, পথনির্দেশ ও চলাচলের সঙ্গে যুক্ত সব পেশায় একই ধরনের ফল পাওয়া যায়নি।
বিমানচালকদের মধ্যে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার ছিল ২ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং জাহাজের ক্যাপ্টেনদের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ১২ শতাংশ। বাসচালকদের মধ্যে এ হার ছিল ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
অর্থাৎ, শুধুমাত্র গাড়ি বা যানবাহন চালানোর সঙ্গে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
ট্যাক্সি ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের ক্ষেত্রে কেন এমন হতে পারে?
গবেষকদের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, ট্যাক্সি ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের অনেক সময় চলার পথে তাৎক্ষণিকভাবে দিক নির্ধারণ করতে হয়। কোন রাস্তা দিয়ে যেতে হবে, কোথায় মোড় নিতে হবে এবং কীভাবে নির্দিষ্ট গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছাতে হবে—এসব সিদ্ধান্ত নিতে নিয়মিত স্থানিক স্মৃতি ও পথ চিনে চলার দক্ষতা ব্যবহার করতে হয়।
এ ধরনের নিয়মিত মানসিক কাজ মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসের গঠন ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হিপোক্যাম্পাস সুস্থ থাকলে তা আলঝেইমার-সম্পর্কিত পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কোনো ভূমিকা রাখে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
অন্যদিকে বাসচালক, বিমানচালক বা জাহাজের ক্যাপ্টেনদের অনেক ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট পথ বা পূর্বনির্ধারিত চলাচলের ব্যবস্থা থাকে। ফলে তাদের কাজের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে পথ খোঁজার প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।
তবে গবেষণার বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত দিলেও এটিকে আলঝেইমার প্রতিরোধের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। কারণ এটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। এ ধরনের গবেষণায় দুটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক দেখা গেলেও একটি বিষয় সরাসরি অন্যটির কারণ—এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
গবেষকেরা মৃত্যুসনদে উল্লেখ করা মৃত্যুর সময়কার প্রধান পেশার তথ্য ব্যবহার করেছেন। কিন্তু একজন মানুষের জীবনে একাধিক পেশা থাকতে পারে। আবার মৃত্যুসনদের পেশার তথ্যও সবসময় পুরোপুরি নির্ভুল নাও হতে পারে।
আরেকটি বিষয় হলো, কিছু মানুষ হয়তো স্বাভাবিকভাবেই পথ চিনতে বেশি দক্ষ। যারা আলঝেইমারের ঝুঁকিতে বেশি, তারা হয়তো এমন পেশা বেছে নেন না, যেখানে নিয়মিত পথ খুঁজে চলতে হয়। ফলে পেশার পরিবর্তে ব্যক্তির স্বাভাবিক সক্ষমতাও ফলাফলের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
ধূমপানের মতো অন্যান্য বিষয়ও এখানে প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন ট্যাক্সি বা অ্যাম্বুলেন্সচালকদের মধ্যে ধূমপানের হার যদি তুলনামূলকভাবে কম হয়, তাহলে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর কম হারের পেছনে সেটিও ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া ট্যাক্সিচালকদের মধ্যে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল মাত্র ১০টি। এত কম সংখ্যার ক্ষেত্রে কয়েকটি তথ্য বাদ পড়লেও গবেষণার ফল পরিবর্তিত হতে পারে।
মুঠোফোনের পথনির্দেশ কি প্রভাব ফেলবে?
গবেষণাটি আরও একটি নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে। বর্তমানে পথ খুঁজে নিতে মুঠোফোনের মানচিত্র ও পথনির্দেশের ব্যবস্থা (গুগল ম্যাপ) ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
ট্যাক্সি ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের যদি এখন আগের তুলনায় কম নিজের মস্তিষ্ক ব্যবহার করে পথ খুঁজতে হয়, তাহলে এই পেশার সম্ভাব্য সুরক্ষামূলক প্রভাবও কমে যেতে পারে কি না—তা ভবিষ্যৎ গবেষণায় দেখা প্রয়োজন।
পথ চিনে চলার অনুশীলন কি সবার জন্য উপকারী?
নতুন গবেষণার ফল সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে—ট্যাক্সি বা অ্যাম্বুলেন্স চালানোর মতো কাজ না করেও কি নিয়মিত স্থানিক স্মৃতির অনুশীলন করা যায়?
পথ খোঁজার খেলা, জটিল ধাঁধা, কিছু মুঠোফোনভিত্তিক খেলা কিংবা বোর্ডের খেলায় স্থানিক দক্ষতা ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। এমনকি জটিল পথে দিকনির্দেশ অনুসরণ করে চলার অনুশীলনও মস্তিষ্কের এই দক্ষতা চর্চায় সহায়ক হতে পারে।
তবে এসব কার্যক্রম আলঝেইমার প্রতিরোধ করে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো নেই। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
এখন কী করা উচিত?
একটি গবেষণার ফলের ওপর ভিত্তি করে আলঝেইমার প্রতিরোধের নতুন কোনো পদ্ধতি নিশ্চিতভাবে গ্রহণ করা ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের প্রচলিত পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ট্যাক্সিচালক ও অ্যাম্বুলেন্সচালকদের মধ্যে আলঝেইমার-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার কম পাওয়ার বিষয়টি গবেষণায় নতুন একটি সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। ভবিষ্যৎ গবেষণায় যদি এই সম্পর্ক নিশ্চিত হয়, তাহলে মস্তিষ্কের স্মৃতি ও স্থানিক দক্ষতার সঙ্গে আলঝেইমারের সম্পর্ক আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে রোগটি প্রতিরোধের নতুন পথও খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।
সূত্র: হার্ভার্ড
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পায়ের জাদু দিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করতে অভ্যস্ত লিওনেল মেসি এবার ভিন্ন এক রূপে হাজির হয়েছেন। দুর্দান্ত একটি হেডারে গোল করার পাশাপাশি তিনি একটি অ্যাসিস্টও প্রদান করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তার অসাধারণ নৈপুণ্যে মেক্সিকোর ক্লাব ক্রুজ আজুলকে ২-০ গোলে পরাজিত করে ক্যাম্পেওনেস কাপের শিরোপা জয় করেছে ইন্টার মায়ামি।
ঘরের মাঠ ন্যু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ২৪তম মিনিটে লুইস সুয়ারেজের দারুণ ক্রস থেকে হেড দিয়ে গোল করে মায়ামিকে এগিয়ে দেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের পর এটি মেসির প্রথম হেডে করা গোল কোনো ফাইনালে।
এই গোলের মাধ্যমে মায়ামির জার্সিতে মাত্র ১১৪ ম্যাচে ১০০ গোল পূর্ণ করেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা। কোনো ক্লাবের হয়ে গোলের সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে এটি মেসির সবচেয়ে কম ম্যাচের কীর্তি।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন মেসি। ৫৫ মিনিটে সুয়ারেজের পাস থেকে তার চিপ শট জালে প্রবেশ করলেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে ম্যাচের ৮১ মিনিটে আবারও মায়ামির গোলের উৎস হয়ে ওঠেন তিনি। মেসির নিখুঁত কর্নার থেকে হেডে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কাসেমিরো।
মায়ামির হয়ে কাসেমিরোর করা চার গোলের তিনটিতেই অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি।
শুধু আক্রমণভাগ নয়, মায়ামির জয়ের পেছনে বড় অবদান ছিল গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ারেরও। ক্রুজ আজুলের একের পর এক আক্রমণ সামলে অন্তত চারটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দলকে ক্লিনশিট এনে দেন তিনি। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণেই শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মায়ামি।
মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) চ্যাম্পিয়ন ও মেক্সিকোর লিগা এমএক্সের চ্যাম্পিয়নের মধ্যে ২০১৮ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এক ম্যাচের বার্ষিক প্রতিযোগিতা ক্যাম্পেওনেস কাপ। সেই আসরেই এবার মেসির নেতৃত্বে শিরোপা ঘরে তুলল ইন্টার মায়ামি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের জন্য স্কুল বাছাই করতে শুধুমাত্র বাসার নিকটবর্তী হওয়া, এলাকার সুনাম অথবা ইন্টারনেটের রেটিং দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যথেষ্ট নয়। সন্তানের প্রয়োজন, স্কুলের শিক্ষক ও কর্মীদের মান, নিরাপত্তা, পড়াশোনার ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের ফলাফল এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা—এসব বিষয় একসঙ্গে যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় শিক্ষা পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুসারে, একাধিক স্কুল বিবেচনা করার সময় অভিভাবকদের কাছে শিক্ষক ও স্কুলকর্মীদের মান, নিরাপত্তা, শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে।
প্রথমেই বুঝুন সন্তানের প্রয়োজন
স্কুল বাছাইয়ের পূর্বে সন্তানের জন্য কোন ধরনের পরিবেশ উপযোগী, তার আগ্রহ কী, ইংরেজি ভাষায় অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন কি না কিংবা বিশেষ শিক্ষাগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে কি না—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
একটি স্কুল অন্য শিশুর জন্য উপযুক্ত হলেও আপনার সন্তানের জন্য একইভাবে কার্যকর নাও হতে পারে। তাই সন্তানের প্রয়োজনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
সরকারি তথ্য যাচাই করুন
এরপর স্কুলের সরকারি তথ্য যাচাই করা উচিত। সরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগ ও স্থানীয় স্কুল এলাকার তথ্য থেকে শিক্ষার্থীদের ফলাফল, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা মূলত স্থানীয় পর্যায়ে পরিচালিত হয়। ফলে একই অঙ্গরাজ্যের মধ্যে বিভিন্ন স্কুল এলাকার নিয়ম, সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষাব্যবস্থায় পার্থক্য থাকতে পারে।
শুধু ইন্টারনেটের রেটিং দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
কোনো একটি ইন্টারনেটভিত্তিক রেটিং বা অভিভাবকের মন্তব্য দেখে স্কুল সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়।
স্কুলের পড়াশোনার ফলাফল, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি এবং উচ্চবিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির তথ্যও দেখতে হবে। এসব তথ্য স্কুল এলাকা বা অঙ্গরাজ্যের সরকারি তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিলে স্কুল সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
নিরাপত্তার তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ
স্কুলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কেমন, বুলিং বা হয়রানির ঘটনা কতটা ঘটে, শৃঙ্খলা ব্যবস্থা কেমন এবং সামগ্রিক পরিবেশ কেমন—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কোনো একজন অভিভাবকের মন্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টকে পুরো স্কুলের চিত্র হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎসের তথ্য মিলিয়ে দেখা অধিক কার্যকর।
বাংলাদেশি পরিবারের জন্য ভাষা সহায়তা জরুরি।
বাংলাদেশ থেকে যেসব পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তানের জন্য স্কুল খুঁজছেন, তাদের জন্য ইংরেজি ভাষায় সহায়তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সন্তান ইংরেজিতে পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ না হলে স্কুলে ইংরেজি শেখার জন্য আলাদা সহায়তা আছে কি না, ভাষা সহায়তার ব্যবস্থা কেমন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে কি না—এসব বিষয় আগে জেনে নেওয়া উচিত।
প্রয়োজনে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে।
পড়াশোনার বাইরের সুযোগও দেখুন
স্কুলের বাইরে শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের কার্যক্রম রয়েছে, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। খেলাধুলা, সংগীত, চারুকলা, দাবা, রোবট তৈরি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন ক্লাব সন্তানের আগ্রহ ও দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।
উচ্চবিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে উন্নত পাঠ্যক্রম, সম্মানসূচক পাঠ্যক্রম, একই সঙ্গে বিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ এবং পেশাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষার মতো ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তাও দেখে নেওয়া যেতে পারে।
উচ্চবিদ্যালয়ে আরও কিছু তথ্য দেখুন
উচ্চবিদ্যালয় বাছাইয়ের সময় শুধুমাত্র কত শতাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে তা দেখলেই হবে না। উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, উন্নত পাঠ্যক্রমে অংশগ্রহণ, শিক্ষার্থীদের ফলাফল এবং কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতির তথ্যও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কোনো একটি নম্বর বা রেটিংকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি না করাই শ্রেয়।
বাসা নেওয়ার আগে স্কুল এলাকা জানুন
যুক্তরাষ্ট্রে অনেক সরকারি স্কুলে বাসার ঠিকানা অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। তাই নতুন বাসা নেওয়ার আগে ওই ঠিকানার জন্য কোন স্কুল নির্ধারিত, স্কুল এলাকার নিয়ম কী এবং ভর্তি প্রক্রিয়া কেমন—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জেনে নেওয়া জরুরি।
কিছু স্কুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের পছন্দ অনুযায়ী স্কুল বেছে নেওয়া, বিশেষায়িত স্কুল কিংবা অন্য ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা থাকতে পারে।
সম্ভব হলে স্কুলে সরাসরি যান
সুযোগ থাকলে স্কুলটি সরাসরি দেখে আসা ভালো। স্কুলের পরিবেশ, শিক্ষক ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং সন্তানের জন্য কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যাবে—এসব বিষয়ে সরাসরি ধারণা নেওয়া যায়।
সবশেষে শুধুমাত্র পরিচিত কারও পরামর্শ বা ইন্টারনেটের রেটিংয়ের ওপর নির্ভর না করে সন্তানের প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য যাচাই করা উচিত। বাসা, স্কুল এবং পরিবারের দৈনন্দিন বাস্তবতা—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিলে সন্তানের জন্য উপযুক্ত স্কুল বেছে নেওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ