০৪:৩৩ পি.এম
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথ রয়েছে। প্রতিদিনের ন্যায় সেখানেই দায়িত্ব পালন করেন এক সাধারণ সিকিউরিটি গার্ড আব্দুস সালাম। তবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি, তিনি একটি নীরব অভ্যাসও গড়ে তুলেছিলেন; প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর ওই রাস্তায় আসার সময় হাতে ধানের শীষ নিয়ে সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। এই দৃশ্যটি নীরবে লক্ষ্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীও। শেষ পর্যন্ত, সেই আব্দুস সালামকে তিনি বিশেষ উপহার পাঠিয়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার সময় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন রাজধানীর রমনা এলাকায় গিয়ে ওই সিকিউরিটি গার্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তার পক্ষ থেকে কিছু উপহার তার হাতে তুলে দেন। এ সময় তিনি আব্দুস সালামের শারীরিক অবস্থা ও তার পরিবারের খোঁজখবরও নেন।
আব্দুস সালামের জন্মস্থান পাবনার নগরবাড়ি ঘাট এলাকায়। অর্থাভাবে গত আট মাস ধরে তিনি রাজধানীর পুরাতন রমনা থানার সামনের একটি ব্যাংকের বুথে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করছেন। এর আগে তিনি পেশায় একজন গাড়িচালক ছিলেন। কিন্তু স্ট্রোক করার কারণে তিনি আর গাড়ি চালাতে পারেননি। এরপর থেকে তিনি গাড়ির স্টিয়ারিং ছেড়ে সিকিউরিটি গার্ডের কাজে নিযুক্ত হন। অসুস্থ শরীর নিয়েও প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা কাজ করেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রী যখন তার সচিবালয়ের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় রমনা পুরাতন থানার কাছে বুথের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আব্দুস সালামকে সালাম দেন, তখন তিনি অধিকাংশ দিনই ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তার এই নীরব শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার প্রকাশ জেনে প্রধানমন্ত্রী তার অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারির মাধ্যমে ওই ব্যক্তির খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য উপহার পাঠান।
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন আব্দুস সালাম। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো কল্পনাও করিনি, এটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হবে আর প্রধানমন্ত্রী আমার জন্য উপহার পাঠাবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে ভালোবাসি, মাকে ভালোবাসি, প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। তিনি এই পথে চলার সময় আমি সব দিনই প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দিই, তিনিও আমাকে গাড়ির ভিতর থেকে হেসে সালামের উত্তর দেন। হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। আজ আমার জীবনের সেরা দিন। সবচেয়ে আনন্দের দিন। প্রধানমন্ত্রী আমার মত ক্ষুদ্র মানুষকে উপহার পাঠিয়েছেন, এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে।’
একজন সাধারণ মানুষের নীরব ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক সাড়া স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসার জন্ম দিয়েছে। তারা বলছেন, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন সাধারণ মানুষের আন্তরিক অনুভূতির এভাবে মূল্যায়ন নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্ত।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন