ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পরিত্যক্ত রেল স্টেশন দখলে, চলছে গোয়ালঘর-মুরগির ফার্ম


পরিত্যক্ত রেল স্টেশন দখলে, চলছে গোয়ালঘর-মুরগির ফার্ম

দেশের পূর্বাঞ্চলের ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথের আখাউড়া রেলওয়ে সেকশনের অধীনে আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ১৭০ কিলোমিটার রেলপথে মোট ৬ জোড়া আন্তনগর ট্রেন চলাচল করলেও, এই পথে বন্ধ রয়েছে সবধরনের লোকাল ট্রেন।

ফলে, এই পথে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো হয়ে উঠেছে লোকাল যাত্রীদের চলাচলের একমাত্র ভরসা। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় এই পথে পাঁচটি রেলওয়ে স্টেশনসহ মোট ৬টি রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি হলো, এই পথে বন্ধ হওয়া লোকাল ট্রেন এবং স্টেশনগুলো আবারও চালু করা হলে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। এতে বিনা টিকেটে আন্তঃনগর ট্রেন ভ্রমণের সংখ্যা কমবে এবং সরকারের রাজস্বের পরিমাণও বেড়ে যাবে। এ কারণে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর ঘনঘন যাত্রা বিরতির সংখ্যা কমে আসবে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

সরেজমিনে ঘুরে এবং খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট রেলপথে আখাউড়া হয়ে আজমপুর থেকে, জয়ন্তিকা, কালনি, উপবন ও পারাবত সহ মোট চার জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। একইভাবে, চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের পথে উদয়ন এবং পাহাড়িকা সহ দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করে। সব মিলিয়ে, এই পথে মোট ৬ জোড়া ট্রেন চলাচল করে থাকে। তবে আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে চলাচল করছে না কোনো লোকাল ট্রেন। এ অবস্থায়, এই পথে চলাচলকারী লোকাল যাত্রীদের জন্য আন্তঃনগর ট্রেনগুলোই একমাত্র ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা এবং যাত্রীরা জানান, আখাউড়া থেকে শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার অংশে, বাল্লা, কুশিয়ারা এবং সুরমা মেইলসহ বেশ Several লোকাল ট্রেন চলাচল করতো। তবে লোকসানের অজুহাত দ্বারা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ট্রেনগুলো চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলস্বরূপ, মেরাশানী, সিঙ্গারবিল, কাশিমনগর, ইটাখোলা, লস্করপুর এবং ভাতশালা রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে, এই স্টেশনগুলো পরিত্যক্ত হয়ে মুরগির ফার্ম অথবা গোয়াল ঘরে পরিণত হয়েছে। ফলে, বিনা টিকেটে আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রী ভ্রমণের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনিভাবে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি রয়েছে, লোকাল ট্রেনগুলো আবারও চালু হলে গ্রামাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাত করা যাবে। অন্যদিকে, সরকারের রাজস্বও বাড়বে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের আজমপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম ভূঁইয়া জানান, একসময় এই রেলপথে বাল্লা, কুশিয়ারা সুরমা মেইলসহ বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন চলাচল করত। ফলে, স্থানীয় কৃষকসহ এলাকার বাসিন্দারা উৎপাদিত কৃষি পণ্য নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সহজে যাতায়াত করতে পারতেন। কিন্তু লোকাল ট্রেনগুলো বন্ধ হওয়ার পর, স্থানীয় বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা হচ্ছে আন্তঃনগর ট্রেন।

তিনি বলেন, ‘একদিকে লোকাল ট্রেন বন্ধ, অন্যদিকে লোকাল যে রেল স্টেশনগুলো ছিল সেগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে, যাত্রীরা টিকিট কাটতে পারছেন না এবং তারা বিনা পয়সায় ট্রেন ভ্রমণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই আমরা। আমি মনে করি, বর্তমান নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ ব্যাপারে নজর দেবেন।’

বন্ধ হওয়া ভারত সীমান্তবর্তী সিঙ্গারবিল রেলওয়ে স্টেশনের কাছে অবস্থানরত স্থানীয় ছানাউল হক কলেজের প্রভাষক মো. ইয়াহিয়া বলেন, ‘একসময় আমরা এই সিঙ্গারবিল স্টেশন থেকে ৫ টাকা ভাড়া দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে যাতায়াত করতাম। কিন্তু এখন এগুলো শুধু স্মৃতি।’

তিনি জানান, লোকাল ট্রেনগুলো বন্ধ থাকার কারণে বিজয়নগর উপজেলার সাধারণ মানুষের উৎপাদিত ফল, সবজি ও কৃষি পণ্য বাড়তি ভাড়া দিয়ে পরিবহন করতে হচ্ছে। যদি লোকাল ট্রেনগুলো চলাচল করতো, তাহলে স্থানীয় কৃষকেরা অনেকটাই উপকৃত হতেন। এছাড়া, বন্ধ স্টেশনগুলো চালু থাকলে, সাধারণ মানুষও টিকিট কেটে রেল ভ্রমণ করতে পারতেন। এতে সরকারের রাজস্বের পরিমাণও বাড়ত।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

মেরেশানি রেল স্টেশন এলাকার বাসিন্দা কাহার ভূঁইয়া জানান, ট্রেন এবং স্টেশনগুলো বন্ধ থাকার কারণে গ্রাম অঞ্চলের যাত্রীদের একমাত্র ভরসা এখন আন্তঃনগর ট্রেন। সাধারণ যাত্রীরা আন্তঃনগর ট্রেনে বিনা পয়সায় ভ্রমণ করে থাকেন। এটা এলাকাবাসী বাধ্য হয়েই করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আক্ষেপ করে কাহার ভূঁইয়া আরও জানান, একসময় তিনি মেরাশানী থেকে বিভিন্ন ফল নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব, আশুগঞ্জ বিক্রি করতেন। বিভিন্ন সবজি নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হরষপুর যেতেন। কিন্তু, এখন তাকে বাড়তি মূল্যে পিকআপ এবং সিএনজি যোগে ফল এবং সবজির ব্যবসা করতে হচ্ছে। ট্রেনগুলো চালু হলে, তিনি সহজে ফল এবং সবজি পরিবহন করতে পারতেন। এজন্য তিনি সরকারের কাছে আখাউড়া সিলেট রেলপথে লোকাল ট্রেনগুলো চালু করার দাবি জানান।

ঢাকা থেকে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ফারজানা ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক গতিতে ট্রেনগুলো আসে। এর কিছুক্ষণ পর, আজমপুর স্টেশনে যাত্রা বিরতী দেয়। এর মাধ্যমে আশপাশের অন্তত পাঁচটি স্টেশনে ঘন ঘন যাত্রা বিরতি দিচ্ছে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো। এতে ট্রেনের গতি যেমন কমছে, তেমনিভাবে ভ্রমণে ভোগান্তি ও অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এই পথে লোকাল ট্রেনগুলো চালু থাকলে ঘন ঘন এত যাত্রা বিরতি দিতে হতো না। স্থানীয় বাসিন্দারা লোকাল ট্রেন না থাকার কারণেই আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতি দাবি করছে। আমি মনে করি, সরকারি উচ্চ পর্যায় থেকে অনুসন্ধান করে জনবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি। তাহলে এই পথে ট্রেনের যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।’

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান

ঢাকা থেকে সিলেটগামী পারাবত ট্রেনের যাত্রী লাবিব হাসান চৌধুরী জানান, আজমপুর থেকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত মাত্র ৬০ কিলোমিটার অংশে অন্তত পাঁচটি স্টেশনে যাত্রা বিরতি দিচ্ছে ট্রেনগুলো। এতে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো যতই গতি কমছে, ততই লোকাল ট্রেনে পরিণত হচ্ছে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ নিশ্চয় করণীয় সম্পর্কে ভেবে দেখবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে যাত্রী কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি মো. ইব্রাহিম খান সাদাত বলেন, ‘সারা পৃথিবীর মধ্যে নিরাপদ পরিবহন হচ্ছে ট্রেন। কিন্তু আমরা স্বাধীনতার পর দেখছি, নিয়মিতভাবে ট্রেন পরিষেবাকে অবনমন করা হচ্ছে। আখাউড়া সিলেট রেলপথে লোকাল ট্রেনগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে, স্থানীয় কৃষকরা কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। এছাড়া, ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম থেকে চলে আসা আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রীরা ঘনঘন যাত্রা বিরতির কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের পানি শোধনাগারে মার্কিন হামলা, ১০ হাজার মানুষ বিপাকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৫ পি.এম


ইরানের পানি শোধনাগারে মার্কিন হামলা, ১০ হাজার মানুষ বিপাকে

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশে একটি পানি শোধনাগারে সংঘটিত মার্কিন হামলার ফলস্বরূপ অন্তত ১০ হাজার মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) প্রাদেশিক এক কর্মকর্তা এ তথ্যটি জানিয়েছেন।

ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে টানা সপ্তম রাতের মতো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতের অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে।

তবে ইরানি গণমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানাচ্ছে, মার্কিন হামলায় হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় বুনজি গ্রামের পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আশপাশের ২০টি গ্রামের সুপেয় পানির সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

হরমোজগান পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এই হামলার ফলে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাসকারী ২০টি গ্রামে নিরাপদ পানির সরবরাহ পুরোপুরি ব্যাহত হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো বর্তমানে তীব্র পানি সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে এবং জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প উপায়ে পানি সরবরাহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। উভয় দেশই একে অপরের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল ওয়াশিংটন ও তেহরান। তবে সেই সমঝোতার পরও দুই দেশের মধ্যে সংঘাত ফের আক্রমণাত্মক আকার নিয়ে উঠেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশনে জুলাই মাসের শহীদ দিবস পালন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ পি.এম


পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশনে জুলাই মাসের শহীদ দিবস পালন

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপর, জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পাথফাইন্ডার গ্রুপের চেয়ারম্যান ইকরাম সেহগাল, পাকিস্তানের কূটনৈতিক আসিফ আলী খান দুররানি, মেজর জেনারেল (অব.) জাহিদ মাহমুদ, আমনা সালমান কাদির এবং এম সালেহ জাফিরসহ পাকিস্তানের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। বক্তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত সাহস ও আত্মত্যাগের ফল।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন খান জুলাই আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ছাত্র-জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

আলোচনা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ শিশুর, আক্রান্ত বেড়ে ৭৭৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩১ পি.এম


হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ শিশুর, আক্রান্ত বেড়ে ৭৭৩

দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হওয়ার কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় চার শিশু মৃত্যু বরণ করেছে। এই সময়ের নতুন তথ্য অনুযায়ী হাম ও এটির উপসর্গে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে আরও ৭৭৩ শিশুর মধ্যে।

শনিবার (১৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে একজন ঢাকার বাসিন্দা রয়েছে এবং বাকি তিনজন সিলেট বিভাগের। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এই পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৮৪ শিশুর মৃত্যু হলো। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ল্যাবরেটরিতে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯৫ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭১০ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৩১৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৪৯ শিশুকে হামে আক্রান্ত হওয়ার দায়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিপরীতে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছে ৪৯৮ শিশু।

সব মিলিয়ে গত চার মাসের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৯ হাজার ২৪৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৫ হাজার ৫২৯ জন। এই সময়ের মধ্যে দেশে মোট ৪ হাজার ৬৯৩ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরায় সড়কের জমিতে কাঁটাতারের বেড়া, উঠেছে অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৬ পি.এম


সাতক্ষীরায় সড়কের জমিতে কাঁটাতারের বেড়া, উঠেছে অভিযোগ

আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেও সাতক্ষীরায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমি দখল করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত পক্ষ দাবী করছে যে, এই জমিটি তাদের। কিন্তু সড়ক বিভাগ স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে—এই জমিটি মহাসড়কের। সরকারি খাস খতিয়ানের এই জমি ব্যক্তির নামে কিভাবে রেকর্ড ও মিউটেশন হলো, তা নিয়ে এলাকায় অনেক গুঞ্জন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে মাগুরাগোপিনাথপুর মৌজায় বিজিবি ক্যাম্পের সামনে ওই জমিতে ভাড়াটে লোকজনকে নিয়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া শুরু করা হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয় পক্ষকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, পুলিশ চলে যাওয়ার পর অভিযুক্ত মোসফেকউস সালেহীন ও তার লোকজন আবার পুরো জমিটি ঘিরে ফেলেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাগুরাগোপিনাথপুর মৌজায় বিজিবি ক্যাম্পের সামনে ১নং খাস খতিয়ানের বিএস ১৪১০ দাগে ৭ শতকসহ মোট ৬৩ শতক ওত্পন্ন সম্পত্তি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাভুক্ত। অভিযুক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কলেজ রোড এলাকার মৃত সুলতানুল ইসলামের ছেলে মোসফেকউস সালেহীন জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এই সরকারি সম্পত্তি নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন। পরে বিতর্কিত রেকর্ডের ভিত্তিতে সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুজ্জামান কোনো সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই নামজারি (মিউটেশন) মঞ্জুর করেন। বেআইনিভাবে সম্পত্তি ব্যক্তিনামে রেকর্ড ও মিউটেশন হওয়ার কারণে একদিকে সরকার বিপুল টাকার সম্পত্তি হারিয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, তাঁরা ১৩৩৪ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে জমিটির মিউটেশন সম্পন্ন করেছেন। তবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। নথিপত্র অনুসারে, অভিযুক্তদের দাবিকৃত ১৩৩৪ নম্বর দলিলটি ২০২৩ সালে সম্পাদিত হয়েছে, যার গ্রহীতা লাবসা ইউনিয়নের কামরুন নাহার এবং দাতা আখড়াখোলার তবিবুর রহমান। ওই দলিলের মূল দাগ ও খতিয়ান নম্বরের সাথে অভিযুক্তদের দাবিকৃত জমির দাগ ও খতিয়ানের কোনো মিল বা দূরতম সম্পর্ক নেই।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ জানিয়েছেন, বিতর্কিত এই জমিটি মূলত খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের অংশ। তিনি জমিটি সড়ক বিভাগের মালিকানাধীন নিশ্চিত করে বলেন, ‘এল এ ৫৪/৫৫ নম্বর কেস মূলে অধিগ্রহণ সূত্রে এবং সড়ক ও জনপদের নকশা অনুযায়ী হাল জরিপে ১৪১০ দাগটি খাসভুক্ত। তাই মোসফেকউস সালেহীন গং-এর পক্ষে হওয়া নামজারি খতিয়ানটি (নম্বর: ২০২৬-১-০০০-৩৩) বাতিল করে জেলা প্রশাসকের ১নং খাস খতিয়ান হতে সড়ক ও জনপদের পক্ষে রেকর্ড সংশোধন করার জন্য ইতোমধ্যে লিখিতভাবে আদেশ ও অনুরোধ জানানো হয়েছে।'

আদালতের বিচারাধীন বিষয় এবং সড়ক বিভাগের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এই প্রকাশ্য জমি দখলের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ উত্থাপন হয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%