বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:৪৭ পি.এম
দেশের শিল্পখাতকে শক্তিশালী করতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বারের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এই কথা বলেন।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণে সরকার আশাবাদী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ‘গিয়ার্ড আপ’ বা পুরোপুরি প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের শিল্পখাতকে শক্তিশালী করতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত থাকবে। শিল্প ভালো না হলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাই শিল্পের সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিটিএমএ’র পক্ষ থেকে বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বৈঠকেই কয়েকটি বিষয় সমাধান হয়েছে। যেগুলো বাকি রয়েছে সেগুলো সরকার বিবেচনা করবে। তিনি এই সময় বলেন, আমরা চাই আমাদের শিল্পগুলো ভালো করুক। অর্থনীতি দাঁড়াতে হলে শিল্পখাত ভালো করতে হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী কালকের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান অনেকটাই শিল্পের ওপর নির্ভর করছে। তাই ব্যবসায়ীদের সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা করতে হবে এবং সমাধানের চেষ্টা চলতে থাকবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসা সহজ করতে সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ শিথিল (ডি-রেগুলেশন) করেছে। এরপরও যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো নিয়েও আলোচনা চলছে এবং পর্যায়ক্রমে সমাধান আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাৎটি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে।
বৈঠকের সময়, উভয়েই দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী এবং ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। সেই সাথে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান প্রযুক্তিগত ও সামরিক সহযোগিতা আরও নিবিড় করার পাশাপাশি দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য চীনে উচ্চতর প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রেক্ষিতে, প্রথাগত সামরিক সহযোগিতার বাইরে সাইবার স্পেসের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে যৌথ উদ্যোগের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
এছাড়া, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় দেশের একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশের অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা খাতে চীনের ধারাবাহিক সহায়তার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার দেশের ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা না করেই নগরবাসী যেন সহজে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া আরও সহজ হবে।
দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ৫০ শয্যা ও জেলা হাসপাতালগুলোতেও ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি বলেন, নতুন অবকাঠামো, ভবন ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যাতে দেশের কোনো গ্রাম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না থাকে। চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টানা ভারী বর্ষণের ফলে কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় ঘুমন্ত অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার সময় আহত হয়েছেন আরো একজন নারী।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত দেড়টার দিকে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মছনিয়া কাটার ডবল তলী এলাকায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মৃত শিশুদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ওবাইদুল ইসলামের ছেলে আবদুল মজিদ, ওবাইদুল ইসলাম (১৩) এবং মো. কাজলের মেয়ে রুমী আক্তার (১৩) রয়েছেন।
এই বিষয়ে বরইতলী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দু শুক্কুর জানান, ‘ঘুমন্ত অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে বাড়ির পেছনের পাহাড়ধসে দুই শিশু এবং একজন নারী চাপা পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। এরপর চাপা পড়া অবস্থায় স্থানীয় গ্রামবাসীরা দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন। বর্তমানে মরদেহ বাড়িতে রয়েছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি রাত ৩টার সময় খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলটি গভীর পাহাড়ি এলাকার মধ্যে অবস্থিত। সেখানে নৌকা কিংবা পায়ে হেঁটে যেতে হয়। তবুও আমরা স্থানীয়ভাবে পাহাড়ে বসবাসকারী ব্যক্তিদের সরে যেতে সতর্ক করেছিলাম। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু তবুও তারা সরেননি।’
ইউএনও জানান, আহত ওই নারীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে।
এ ঘটনার ফলে গত চার দিনে কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা ১৭ জনে পৌঁছেছে। মৃতদের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অন্তত ১৩ জন রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে, ৬ জুলাই দিবাগত রাতে টানা বর্ষণের মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে পেকুয়া উপজেলায় পাহাড়ধসে বসতঘরের দেওয়ালে চাপা পড়ে সাত বছর বয়সী একটি শিশুর মৃত্যু ঘটে। এসব ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার জেলায় ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরপরে গত রোববার থেকে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ৩টা পর্যন্ত জেলায় মোট ৫০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বর্তমানে সমুদ্রবন্দর এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত রক্ষিত রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবের কারণে টানা বৃষ্টিতে পটিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। এতে বাড়িঘর, কাঁচা সড়ক, কৃষিজমি, বীজতলা এবং মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা, জিরি, কোলাগাঁও, হাবিলাসদ্বীপ, বড়লিয়া, জঙ্গলখাইন, আশিয়া, কাশিয়াইশ, ছনহরা এবং ভাটিখাইনসহ শোভনদন্ডী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বহু গ্রামের কাঁচা সড়ক কাদায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও রাস্তার অংশ ভেঙে যাওয়ার কারণে জরুরি চলাচলও ব্যাহত হয়ে পড়েছে। বাড়ির উঠান, বসতঘর এবং কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক এবং দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানাচ্ছেন, বীজতলা এবং নতুন আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মৌসুমি চাষাবাদ ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, পুকুর ও জলাশয়ের মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষুদ্র মৎস্যচাষিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য হচ্ছে, এক রাতের বৃষ্টিতে কয়েক মাসের বিনিয়োগ পানিতে ভেসে গেছে। এছাড়া, বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানিবন্দি পরিবারগুলো রান্না, নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শওকত আকবর বাসসকে জানিয়েছেন, অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পশ্চিম পটিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য ভেল্লাপাড়া স্লুইস গেট নিয়মিত খুলে রাখতে হবে যাতে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা যায়।
তিনি আরও জানান, রাস্তাঘাট, কৃষিজমি, বীজতলা, মাছের ঘের এবং বসতবাড়ির যে ক্ষতি হয়েছে, তা দ্রুত তালিকাভুক্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট কাটিয়ে উঠা কঠিন হবে।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বাসসকে জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ