০৯:৪০ এম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফিরোজা নাজনীনের শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে নানা বিতর্কের জন্ম হয়েছে। এই বিতর্কের পর বিভিন্ন অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি 'ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি' গঠন করেছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিয়োগ বোর্ডের আগের দিন বোর্ডের এক্সপার্টের সঙ্গে প্রার্থীর স্বামীর সাক্ষাৎ, ফলাফলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগ, স্বজনপ্রীতির বিষয় এবং বিভাগীয় সভাপতির তথ্য দিতে গড়িমসির মতো বিষয় যুক্ত হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান সিন্ডিকেট সদস্যদের সমন্বয়ে এই বিশেষ কমিটি গঠন করেছেন।
একমাত্র অধ্যাপক ড. রোকসানা মিলিকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন একাডেমিক শাখার কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম। এছাড়াও সদস্য হিসেবে থিওলজি অনুষদের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. সেকান্দার আলী অন্তর্ভুক্ত আছেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রোকসানা মিলি বলেছেন, ডিন অফিসে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একাডেমিক শাখা বিষয়টি অবহিত করেছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত তদন্তকাজ শুরু করা হবে।
অন্যদিকে সদস্য সচিব মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক চিঠি হাতে পাওয়ার পর কার্যক্রম শুরু হবে।
নিয়োগ বোর্ডের আগের দিন, বোর্ডের এক্সপার্ট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী ফারহানের সঙ্গে কুষ্টিয়ার একটি আবাসিক হোটেলে প্রার্থী ফিরোজা নাজনীনের স্বামী অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের সাক্ষাৎ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। নিয়োগের আগের দিন ওই সাক্ষাতের কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এদিকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ অনুযায়ী, ফিরোজা নাজনীন তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নকালে ড. জাহিদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে মানোন্নয়ন পরীক্ষার সময়ও তার দায়িত্ব পালন ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ওই সময় প্রার্থীর ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বর্ষে ফিরোজা নাজনীনের ফল ছিল ২ দশমিক ৯৩, দ্বিতীয় বর্ষে ৩ দশমিক ৩৫, তৃতীয় বর্ষে ৩ দশমিক ৫৭ এবং চতুর্থ বর্ষে ৩ দশমিক ৮৪। পরে মানোন্নয়ন পরীক্ষার পর প্রথম বর্ষের ফল বেড়ে ৩ দশমিক ৩৮, দ্বিতীয় বর্ষে ৩ দশমিক ৪২ এবং তৃতীয় বর্ষে ৩ দশমিক ৬৪ হয়। মাস্টার্সের ক্ষেত্রে তার ফল ছিল ৩ দশমিক ৬৪।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, গঠিত 'ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি' বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন