ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা, গুদামে পানি ঢুকে নষ্ট কোটি টাকার আমদানি পণ্য


টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা, গুদামে পানি ঢুকে নষ্ট কোটি টাকার আমদানি পণ্য

টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টির ফলে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বন্দরের একাধিক গুদাম ও শেডে হাঁটুপানি জমে গেছে এবং এতে আমদানি করা কোটি টাকার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে প্রায় প্রতি বর্ষাতেই তাদের একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বন্দর সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টির ফলে বন্দরের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন পাঁচটি গুদাম ও শেডে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্য পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকদের দাবি, এতে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তবে এ ধরনের ক্ষতির জন্য কার্যকর কোনো ক্ষতিপূরণ তারা পান না।

যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত আরও ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এভাবে দুই দিনে মোট ২১৫ মিলিমিটার বৃষ্টির ফলে বন্দরের বিভিন্ন শেড ও গুদামে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

আমদানিকারক আল মামুন বলেন, “সামান্য বৃষ্টি হলেই বন্দরের বিভিন্ন গুদামে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় প্রতি বর্ষাতেই কোটি টাকার আমদানি পণ্য নষ্ট হয়।” তিনি আরও বলেন, পণ্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত সংরক্ষণ ফি বা ডেমারেজও দিতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানিকারকরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান সজনের অভিযোগ, “বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যবস্থাপনার কথা বলে আসলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয় না। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কমিটি করা হলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই। বীমা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কোনো ক্ষতিপূরণও পান না।”

বেনাপোল আমদানি ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমিনুল হক বলেছেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই বন্দর প্লাবিত হয়ে বিভিন্ন গুদামে থাকা আমদানি পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকার এই বন্দর থেকে বছরে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পায়। কিন্তু অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।” তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।

জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানান।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক কাজী রতন বলেন, “টানা বৃষ্টির ফলে কয়েকটি শেডে রাখা পণ্য পানিতে ভিজেছে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অবিরাম বৃষ্টির কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।” তিনি জানান, বৃষ্টি কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা রোধে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি শফিকুর রহমানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৫ এম


গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি শফিকুর রহমানের

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যে, সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে। একই সঙ্গে তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধের দাবিসহ জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত চার দফা দাবির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর করা, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানানো হয়।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদেরকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। জাতিকে কথা দিয়েছি, লড়াই করে গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব। এর থেকে এক চুলও সরব না।”

তিনি দাবি করেন, বৈষম্য দূর করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে অবস্থানের কথা বলা হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, “নির্বাচনের আগে তিস্তা নিয়ে আন্দোলনের কথা বলা হয়েছিল। অথচ বর্তমান বাজেটে এ প্রকল্পের জন্য ১০ টাকারও বরাদ্দ নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে ১১ দল সরকার গঠন করতে পারলে এ দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সীমান্তে উত্তেজনা ও পুশইনের ঘটনায় জনগণ এবং বিজিবি একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট নয়। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান না নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রংপুরকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুধু ঘোষণা দিয়ে হবে না, এর জন্য মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন। আলুচাষিদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, হিমাগারে আলু সংরক্ষণে প্রতি বস্তায় ৬০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বড় চাপ। এই ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

দ্রব্যমূল্য, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ মূল্যস্ফীতির চাপে কষ্টে থাকলেও দুর্নীতিবাজরা সেই কষ্ট অনুভব করে না। ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রী হলেও দুর্নীতি করলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।”

দেশের সার্বভৌমত্য প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই দেশের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের মানুষই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ না করলে দেশ এখনও পাকিস্তান থাকত: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৮ এম


ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ না করলে দেশ এখনও পাকিস্তান থাকত: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন, "পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু না করলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না, বরং দেশ এখনও পাকিস্তানের অংশ হিসেবেই থেকে যেত।" তিনি পাশাপাশি দাবী করেছেন, মুক্তিযুদ্ধ কোন রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল গোটা বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।

এই মন্তব্য তিনি শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকার মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে করেছেন।

স্পিকার এসময় বলেন, "ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট যদি ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু না করত, তাহলে এই দেশ এখনো পাকিস্তান থাকত।" তিনি আরও জানান, সে সময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। তারা আলাদাভাবে বিদ্রোহ করে জনগণকে সংগঠিত করে এবং মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি গড়ে তোলে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ নয়, বরং একটি জাতির যুদ্ধ। তার ভাষায়, "১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনতার যুদ্ধ। একটি জাতির যুদ্ধ।" তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক কারণে মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধরত বাহিনী ও যোদ্ধাদের অবদান যথাযথভাবে ইতিহাসে স্থান পায়নি।

আলোচনায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও বক্তব্য দেন স্পিকার। তিনি বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানি বাহিনীর সম্ভাব্য হামলার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তবে শেখ মুজিবুর রহমান বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে চাননি এবং পাকিস্তান ভাঙার দায় নিজের ওপর নিতে রাজি ছিলেন না বলে স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

হাফিজ উদ্দিনের ভাষ্য, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হওয়ার পর জনগণের জীবন ও সম্ভ্রম রক্ষায় ইস্ট বেঙ্গাল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ গড়ে তোলে। "এই সময় স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন মেজর জিয়াউর রহমান। এটি হলো প্রকৃত সত্য। যে ঘোষণায় জাতি উদ্দীপ্ত হয়েছে, অনুপ্রাণিত হয়েছে। হাজার হাজার ছাত্র-যুবক ঘরবাড়ি ছেড়ে যুদ্ধে অংশ নিতে এগিয়ে এসেছে।"

নিজের সেনাজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্পিকার জানান, সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না। পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় থাকার সময় ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন সেক্রেটারি মেজর মোহাম্মদ মালিক তাকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করেন। পরে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি কাকুলে প্রশিক্ষণের সময় তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং তার অনুপ্রেরণায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, "আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি স্বাধীনতার মহান ঘোষক, এ দেশের মহান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে, যিনি আমাকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। তার কথাতেই আমি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়েছি।"

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বাস্তবতা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী কোনো সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়, পুরো বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিল। আর এ কারণেই তাদের পরাজয় অনিবার্য হয়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, আজও রাস্তায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কোনো সৈনিককে দেখলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। "কিসের স্পিকার, কিসের প্রধানমন্ত্রী, কিসের রাষ্ট্রপতি। নাথিং লাইক ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। নাথিং লাইক বিইং এ সোলজার। এটা হলো আমার অনুভূতি।"

বক্তব্যে একাত্তরের যুদ্ধের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন স্পিকার। তিনি দাবী করেন, মুক্তিবাহিনী একক প্রচেষ্টায় সিলেট জেলা শহর দখল করেছিল এবং ১৫ ডিসেম্বর এমসি কলেজ এলাকায় সংঘটিত যুদ্ধে তিনি দুটি কোম্পানির নেতৃত্ব দেন। ওই যুদ্ধে তার কোম্পানির আটজন সদস্য শহীদ হন বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষদিকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবদান স্মরণ করে স্পিকার উপস্থিত সবার উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, "ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতায় গৌরবময় অবদান রেখেছে, এ কথাটি আপনারা কি স্বীকার করেন?" উপস্থিত অতিথিদের সম্মতিসূচক সাড়া পাওয়ার পর তিনি আরো বলেন, "আমার মনে হয়, হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ নির্দেশনা, প্রয়োজনে বাতিল হবে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১০ এম


বন্যা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ নির্দেশনা, প্রয়োজনে বাতিল হবে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি

দেশের বিভিন্ন জেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে দুর্গত মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে মাঠ পর্যায়ে সাত দফা জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বন্যাকবলিত এলাকায় চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ। প্রয়োজনে তাদের ছুটি বাতিল করার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

এছাড়া জরুরি ওষুধ, ওআরএস, স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং সাপের কামড়ের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় অ্যান্টি স্নেক ভেনমের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় দেশের সব বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন নিয়োগ দিতে হবে। তারা স্থানীয় কন্ট্রোল রুম ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রাখবেন। যোগাযোগ সহজ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের কাছে ফোকাল পারসনদের মোবাইল নম্বরও সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্গত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশনা রয়েছে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, বন্যাদুর্গত এলাকায় গৃহীত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং বা প্রেস নোটের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানাতে হবে। এ লক্ষ্যে রোববার (১২ জুলাই) বন্যাদুর্গতদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম তুলে ধরে জরুরি প্রেস ব্রিফিং আয়োজনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্যাকবলিত সব উপজেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, ওআরএস, স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টি স্নেক ভেনম সংরক্ষণ করতে হবে। কোথাও সংকট দেখা দিলে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করতে নির্দেশনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, "বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলা এবং জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য সকল কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।"

জরুরি ভার্চুয়াল সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকরা, পরিচালক (প্রশাসন), বিভাগীয় পরিচালক এবং দেশের সব সিভিল সার্জন অংশগ্রহণ করেন। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৭৮৬ নতুন রোগী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৩ এম


হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৭৮৬ নতুন রোগী

দেশে হামের সংক্রমণ এখনও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৭০২ জন সন্দেহজনক এবং ৮৪ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এক দিনে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮৬ জনে পৌঁছেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রকাশিত একটি বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১০ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ১১ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত এ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে একজন করে রয়েছেন ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে। জেলা ভিত্তিক হিসাবে ঢাকা, সুনামগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলায় একজন করে মৃত্যুর রিপোর্ট রয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত দেশে সর্বমোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১০ হাজার ৬০১ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি ও চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৪১০। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে। অপরদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৬৬০ জন।

হাসপাতালভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় বাড়তি ৬৬০ জনকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে ৫২৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মারাত্মক ৯৩ হাজার ৪৯১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৯ হাজার ৭৬২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বিভাগভিত্তিক চিত্র অনুযায়ী, ঢাকায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। এই বিভাগে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ১৯৬ এবং নিশ্চিত রোগী ৮ হাজার ৬৮৮ জন। এখানে সন্দেহজনক হামে ২৮৫ জন এবং নিশ্চিত হামে ৫৭ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

সংক্রমণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। সেখানে সন্দেহজনক রোগী ১৯ হাজার ৪৭০ জন এবং নিশ্চিত রোগী ১ হাজার ৫১৩ জন। এই বিভাগের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০ জন এবং সন্দেহজনকভাবে ৫৪ জন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশে হাম পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%