সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৭ পি.এম
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকায় পদ্মার তীব্র স্রোত ও ভয়াবহ ভাঙনের কারণে একটি মসজিদ সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে মুসল্লিরা ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন। পরবর্তীতে ফজরের সময় গিয়ে তারা দেখতে পান, মসজিদটির সেখানে কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট নেই।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি, রাকিরকান্দি ও পূর্বরাখী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার পাড়জুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড পূর্বেই বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য অস্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। তবে কয়েক দিনের প্রবল স্রোতে সেই প্রতিরোধব্যবস্থার একটি বড় অংশও ধসে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চেষ্টা থামায়নি, কিন্তু নদীর স্রোত এতটাই তীব্র যে, প্রতিরোধব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থার মধ্যেই রাকিরকান্দি এলাকার মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদটি শেষ পর্যন্ত পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।
মাদরাসার ছাত্র সোহেল জানান, "আমরা শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে মসজিদে এশার নামাজ পড়ে মাদরাসার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলাম। পরে ফজর নামাজ পড়তে এসে দেখি মসজিদটি নেই, নদীতে ভেঙে গেছে। এখন আমরা খোলা মাঠে নামাজ আদায় করছি।"
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান দুদু মন্তব্য করেন, "কিছু অসাধু ব্যক্তি ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় নদী গভীর হয়ে এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।"
মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. খালেক সাইফুল বলেন, "আমাদের এখানে ৫ বছর ধরে নদীতে কিছু না কিছু ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের মাদরাসার ১০০ শতাংশ জমি ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। অনেক দিন ধরে শুনছি এখানে স্থায়ী বাঁধ দেবে। কিন্তু পদক্ষেপ দেখছি না। মানুষের বাড়ি-ঘর, মসজিদ সব পদ্মায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে।"
শুধু সদর উপজেলা নয়, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বানারী এলাকায়ও তীব্র নদীভাঙন চলছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্রোতের কারণে ছোট নৌযান চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয় মো. হোসেন লিটন খান বলেন, "আমরা এই এলাকার লোকজন পদ্মার করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাচ্ছিনা। আমাদের এখানকার মাদানী কমপ্লেক্সের মসজিদসহ ভালো একটা অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখানে প্রতি বছর মাহফিলের সময় অনেক লোক হয়। মাহফিল করার যে মাঠ ছিলো, সেটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মাদানী কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠানটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের আকুল আবেদন প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় এখানে একটি স্থায়ী বাধ নির্মাণ করা হোক।"
স্থানীয় জামাল জানান, "নদীটা ছোট ছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে আশে-পাশের অনেকগুলো বাড়িঘর নদীতে চলে গেছে। এখানে মানুষের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নাই। অনেকে এই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। এখানে একটি মাদরাসায় এলাকার ছাত্ররা লেখাপড়া করে, সেই মাদরাসার মসজিদটিও ভেঙে গেলো।"
এদিকে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভাঙন কবলিত সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকা পরিদর্শন করেছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন ও মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী। এ সময় তারা বালুর বস্তা ফেলে ভাঙনরোধে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী বলেন, "এই এলাকার ভাঙনরোধে আমরা মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে ভাঙনের হুমকিতে থাকা ৪০০ মিটার এলাকা নিয়ে কাজ করছি আমরা।"
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে। তীব্র স্রোতে একটি মসজিদ পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনরোধে আমরা আন্তরিক। সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, "পদ্মা নদীতে পানির স্রোত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে আমরা আমাদের সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ইতালিতে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার কয়েক দিন পর দেশে ফিরে এসেছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই তথ্য জানান।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাঁধন বলেন, "আমার কাছে মনে হয়, যারা আক্রমণটা চালাচ্ছে, তারা নিজেদের একটা সমস্যার মধ্যে ফেলছে। আক্রমণকারীরা মনে করছে তারা পার পেয়ে যাবে, কিন্তু আজকে তারা আমার গায়ে হাত তুলেছে। এমন নয় যে শুধু দূর থেকে গালি দিয়েছে, স্লোগান দিয়েছে, পানি মেরেছে। তারা আমার গায়ে হাত তুলেছে। তাদের এই বর্বরতা বন্ধ হতে হবে। আমার কাছে মনে হয়, তারা তাদের স্থানটাকে আসলে অনিরাপদ করছে।"
ভেনিসে হামলার ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাঁধন বলেন, "প্রবাসী ভাইয়েরা আমার সঙ্গে বর্বরতা করেছে এবং আমাকে খুবই জঘন্যভাবে আক্রমণ করেছে। এটার কারণে আমাদের দেশের নাম আসলে বিদেশের মাটিতে কিন্তু ক্ষুণ্নই হলো। বিদেশিরা ভাববে, আমরা হয়তো জাতিগতভাবে সারাক্ষণ মারামারি করি। যে যেখানে যাচ্ছে, সেখানেই আক্রমণের শিকার হচ্ছে। সেটা তো আসলে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বাঁধন বলেন, "আমি একটা কথা বলতে চাই, যাঁরা এই দলের সাপোর্টার, তাদের জন্য আমার একটাই কথা, আপনারা দলকে ভালোবাসতে পারেন, সাপোর্ট করতে পারেন, কিন্তু আপনারা দলকানা হইয়েন না। আজকে আপনার বিচার হলে আপনার পরিবার সাফার করবে। বড় বড় নেতা যাঁরা আছেন, আরামে দেশে–বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যাঁরা বিদেশের মাটিতে বসে অডিও বার্তা, ভিডিও বার্তা দিয়ে আপনাদের উসকে দিচ্ছেন, তাঁদের জীবনটা কিন্তু আপনাদের মতো নয়। আপনারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বিদেশ থেকে টাকাগুলো বাংলাদেশে পাঠান। আপনারা প্লিজ এটা কইরেন না। এটা আমার রিকোয়েস্ট। আপনারা যেটা করেছেন, সেটা খুবই অন্যায় হয়েছে।"
আরেক প্রশ্নের জবাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশ্যে বাঁধন বলেন, "নেতাদের প্রতি একটাই অনুরোধ করব, আপনারা একটি বড় দল। সাময়িকভাবে হয়তো আপনাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু আপনারা তো ভবিষ্যতে রাজনীতি করবেন। আপনারা কী ধরনের রাজনীতি করবেন, সেটার কিন্তু একটা রূপরেখা আপনারা তৈরি করছেন। আপনারা এমন রূপরেখা তৈরি কইরেন না, যেটার জন্য ভবিষ্যতে আপনাদের লজ্জিত হতে হবে।"
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে নিজের টিম নিয়েও অভিযোগ করেন বাঁধন। তিনি জানান, "সবাই তাতে সহযোগিতা করলেও তার টিম তাকে ‘ডিজওন’ করেছে। টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকেও তাকে বাদ দিয়েছে।"
বাঁধনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার দলের সঙ্গে অংশ নেন বাঁধন।
৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়। প্রিমিয়ার শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বাঁধন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ১৩ বছর বয়সী কিশোরী নেহা ব্লান্ট প্রযুক্তি ও তরুণ ভাবনার মেলবন্ধন ঘটিয়ে পানি অপচয় রোধে একটি নজির স্থাপন করেছেন। তিনি তৈরি করেছেন ‘ওয়াটার সেভার’ নামের একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, যা বিশ্বজুড়ে লাখো পরিবারকে পানির অপচয় কমাতে এবং নিয়মিত সাশ্রয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করছে।
নিজের উদ্ভাবিত অ্যাপ এবং ‘ওয়াটার সেভার্স’ প্রচারণার মাধ্যমে নেহা ১০ লাখের বেশি মানুষের কাছে পানি সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন। তার এই উদ্যোগের ফলে প্রায় ১ লাখ মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন, যার ফলে আনুমানিক ২ কোটি গ্যালন পানি সাশ্রয় হয়েছে বলে জানায় পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যাকশন ফর নেচার।
পরিবেশ সুরক্ষায় অসাধারণ এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নেহা ২০২৬ সালের ‘আন্তর্জাতিক ইয়াং ইকো-হিরো অ্যাওয়ার্ডে’ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন এবং কমিউনিটি এনগেজমেন্ট বিভাগে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।
উদ্যোগটির পেছনের গল্পটি বেশ সাধারণ। স্থানীয় মিউনিসিপ্যাল ইউটিলিটিজের সতর্কবার্তায় নেহা লক্ষ্য করেন যে, একটি মাত্র লিক হওয়া কল থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার গ্যালন পানি অপচয় হতে পারে। এই তথ্যটি তাকে প্রযুক্তির সাহায্যে দৈনন্দিন পানি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট হিসাব রাখার অ্যাপ তৈরিতে অনুপ্রাণিত করে। টানা সাত মাস প্রোগ্রামিং করে মাইএসকিউএল কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তিনি এই ‘ওয়াটার সেভার’ ওয়েব অ্যাপটি তৈরি করেন।
ছোটবেলা থেকেই অনন্য মেধার স্বাক্ষর রাখা নেহা মাত্র তিন বছর বয়স থেকে কোডিং শিখছেন। ইতিমধ্যে ১৩ বছর বয়সেই তিনি ২২টি কলেজ ক্রেডিট অর্জন করেছেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় কাউন্টির সর্বকনিষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে এপি ক্যালকুলাস কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। অ্যাপ উদ্ভাবন ছাড়াও তিনি সুবিধাবঞ্চিত কিশোরীদের বিনামূল্যে ২০০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কোডিং শিখিয়েছেন।
বর্তমানে নেহা স্থানীয় পৌরসভার সঙ্গে মিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারঅ্যাকটিভ চার্টসংবলিত ‘ওয়াটার সেভার ২.০’ সংস্করণের কাজ করছেন। ভবিষ্যতে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সাইবার নিরাপত্তায় উচ্চশিক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামোর নিরাপত্তায় কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে এই উদীয়মান তরুণ উদ্ভাবকের।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কখনো কখনো বাস্তব জীবনের ঘটনাবলী সিনেমার কাহিনীকে হার মানাতে পারে। নেদারল্যান্ডসে বেড়ে ওঠা দুই নারীর জীবনে ঘটেছে এমনই একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা। দীর্ঘ সময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল টিজেন ৩০ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন যে তারা আসলে একই বাবা-মায়ের সন্তান, অর্থাৎ আপন বোন।
আশির দশকে ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করা মিনা ও মিনালকে জন্মের কয়েক মাস পর দুটি আলাদা অনাথ আশ্রম থেকে দুই ডাচ দম্পতি দত্তক নেন। এরপর তারা নেদারল্যান্ডসের কাছাকাছি এলাকায় বড় হন।
কৈশোরের শুরুতে একটি দত্তক গ্রহণকারী সংস্থার অনুষ্ঠানে তাদের প্রথম দেখা হয়। প্রথম দেখাতেই দুজনের চেহারা ও অঙ্গভঙ্গিতে অদ্ভুত মিল দেখে তারা অবাক হন। তাদের বন্ধুদেরও বিষয়টি নজরে আসে। এমনকি মিনা তখন বলেছিলেন, মিনালের নাক ও হাসি তাঁর নিজের মতো।
সেই সাক্ষাতের পর তারা ফোন নম্বর ও ঠিকানা বিনিময় করেন। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। বছরের পর বছর তারা একে অপরকে চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে নিজেদের স্কুল, বন্ধু, সম্পর্ক, ভ্রমণ, নাচ, খেলাধুলা ও সংগীত নিয়ে আলোচনা করতেন। মজার বিষয়, দুজনেরই প্রিয় ব্যান্ড ছিল ব্যাকস্ট্রিট বয়েজ।
তবে প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মিনাল ফ্রান্সে চলে যান। অন্যদিকে, প্রথম সন্তানের মা হওয়ার কারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মিনা।
২০১৭ সালে ভারতে জন্ম নেওয়া দত্তক সন্তানদের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে মিনা ডিএনএ পরীক্ষার বিষয়ে জানতে পারেন। পরে তিনি নিজেও পরীক্ষা করান। কিন্তু তখন কোনো উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া যায়নি। একসময় ফোনের মেমোরি পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় তিনি ডিএনএ পরীক্ষার অ্যাপটিও মুছে দেন।
এরপর চলতি বছরের ২০ মে ফেসবুকে মিনালের একটি বার্তা পান মিনা। সেখানে লেখা ছিল, "আমাকে মনে আছে?" বার্তার সঙ্গে মিনাল তার ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের একটি স্ক্রিনশটও পাঠান। তিনি এপ্রিল মাসে নেদারল্যান্ডসে নিজের দত্তক বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করেছিলেন।
বার্তা পাওয়ার পর মিনা আবার সেই অ্যাপ ইনস্টল করেন। ফলাফল দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। পরীক্ষায় দেখা যায়, তাদের ডিএনএ শতভাগ মিলে গেছে। অর্থাৎ তারা একই জৈবিক বাবা-মায়ের সন্তান।
মিনা বলেন, ফলাফল দেখে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন। তার ভাষায়, "মিনাল যেন তাঁর জীবনের হারিয়ে যাওয়া ধাঁধার সেই অংশ, যার জন্য তিনি এতদিন অপেক্ষা করছিলেন।"
এরপর আগস্টের এক রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে দুই পুরোনো বন্ধু প্রথমবারের মতো বোন হিসেবে দেখা করেন। তাদের সেই আবেগঘন পুনর্মিলনে কান্না, আলিঙ্গন এবং হাসির আবহ ছিল। এরপর তারা একসঙ্গে প্রথমবারের মতো সেলফিও তোলেন।
তিন সন্তানের মা মিনা বলেন, "অসাধারণ অনুভূতি ছিল। মনে হলো, ঘরে ফিরে এসেছি।"
ফ্রান্সে সঙ্গী ও দুই ছেলেকে নিয়ে থাকা মিনালও বিষয়টিকে অবিশ্বাস্য বলে মনে করেন। তিনি বলেন, "বোন হওয়ার আগে আমরা বন্ধু ছিলাম। আমরা পুরো সময়টাই বোন ছিলাম, শুধু আমরা তা জানতাম না।"
ডিএনএ পরীক্ষার পর থেকে দুজন প্রায় এক দিন পরপর কথা বলছেন। তারা একে অপরের পরিবার, সন্তান, সঙ্গী এবং বাবা-মায়ের সঙ্গেও দেখা করেছেন। তাদের কথাবার্তা ও আচরণেও রয়েছে বিস্ময়কর মিল। পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্য করেছেন, তারা একে অপরের কথা শেষ করে দেন, একইভাবে মাথা নাড়েন এবং হাঁটেন।
মিনা জানান, তাদের এখন সবচেয়ে বড় ইচ্ছা যে জায়গা থেকে তাদের গল্পের শুরু, সেখানে আবার একসঙ্গে ফিরে যাওয়া। তারা কোনো একদিন ভারতে গিয়ে মুম্বাইয়ের রাস্তায় পাশাপাশি হাঁটতে চান।
তবে এত বছর একে অপরের পাশে থাকতে না পারার আক্ষেপও রয়েছে মিনার। জীবনের কঠিন সময়ে বাবাকে হারানো কিংবা কোনো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার মতো মুহূর্তে দুজন কেউই জানতেন না, যে তাদের পাশে থাকার মতো একজন আপন বোন পৃথিবীর অন্য প্রান্তে রয়েছেন।
দীর্ঘ তিন দশকের বন্ধুত্বের পর ডিএনএ পরীক্ষা তাদের সম্পর্কের নতুন পরিচয় দিয়েছে। বন্ধুত্ব থেকে বোনত্বে বদলে যাওয়া এই গল্প যেন প্রমাণ করে যে রক্তের সম্পর্ক কখনো কখনো অজান্তেই মানুষকে একে অপরের কাছে টেনে রাখে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের তিন নেতা এবং যুবলীগ ও ছাত্রলীগের চার শীর্ষ নেতার মামলার রায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঘোষণা করা হবে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রায় ঘোষণার জন্য এই দিন নির্ধারণ করেন। এর আগে, গত ১৮ আগস্ট মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
বিচারকাজ চলাকালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডসহ সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্কে বলা হয়, জুলাই গণআন্দোলন দমন করতে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকে ছাত্র-জনতা হত্যার জন্য চূড়ান্ত নীলনকশা ও পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া অডিও ও ভিডিও ফুটেজে এই ষড়যন্ত্রের স্পষ্ট প্রমাণ উঠে এসেছে।
প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালকে আরও জানায়, আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলির যে বিতর্কিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা সরাসরি বাস্তবায়ন করেছিলেন ওবায়দুল কাদের। এই নির্দেশের নৃশংস পরিণতিতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শত শত নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ