বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:০৫ পি.এম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) একাডেমিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফল প্রকাশের পাশাপাশি সেশনজট নিরসনের উদ্দেশ্যে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৯টি বিভাগের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা ১৫ দিনের মধ্যে শুরু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সব বিভাগের পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার প্রকাশ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, নৃবিজ্ঞান, ইংরেজি, ফার্মেসি, মার্কেটিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ব্যবস্থাপনা শিক্ষা এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করেছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর জানায়, বাকি বিভাগগুলোও ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পরীক্ষা শুরু করবে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শ্রেণি কার্যক্রম গত ১২ এপ্রিল শুরু হয়। শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর ছয় মাসের মধ্যে প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে মাইগ্রেশনের কারণে কিছু বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক মাস পর ভর্তি হওয়ায় তাদের ক্লাস কার্যক্রম শেষ করতে দেরি হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, "একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আমরা নভেম্বরের শুরুর দিকে ক্লাস শেষ করি। পরে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ১ অক্টোবর থেকে পরীক্ষা শুরু করি। মাইগ্রেশনের কারণে কয়েকটি বিভাগের পরীক্ষা শুরু করতে দেরি হয়েছে। আমাদের বিভাগে মাইগ্রেশনের মাধ্যমে কেউ আসেনি, তাই আমরা কার্যক্রম ঠিকভাবে চালিয়ে যেতে পেরেছি এবং নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পেরেছি। প্রশাসন পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে ধারাবাহিকতা আনতে একসঙ্গে কার্যক্রমগুলো এগিয়ে নিচ্ছে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, "একাডেমিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ থেকেই কঠোরভাবে মনিটরিং শুরু করা হচ্ছে। ১৯টি বিভাগের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা ১ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার সময়সূচি প্রণয়ন, পরীক্ষা শুরু, খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশসহ পুরো প্রক্রিয়া উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের কাছে রিপোর্টের মাধ্যমে মনিটরিং করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে, সম্ভব হলে পরীক্ষার খাতা ১০ দিনের মধ্যে বিভাগে জমা দিতে এবং আট সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে। নির্ধারিত সময়ে যৌক্তিক কারণ ছাড়া ফলাফল জমা দিতে না পারলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বেতন কর্তনের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নিয়ে কোথায় সেশনজট তৈরি হচ্ছে এবং কোথায় তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদে সেশনজট নিরসনের পথ বের করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, "১৯টি বিভাগের ২০তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ১ অক্টোবর পর্যন্ত আটটি বিভাগের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বাকি বিভাগগুলোর পরীক্ষা ১৫ অক্টোবরের মধ্যে শুরু হবে।"
তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে কয়েকটি বিভাগ ফলাফল প্রকাশে পিছিয়ে রয়েছে। এসব বিভাগে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করে ফল প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এখন ২০২৫–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও ধাপে ধাপে অন্যান্য শিক্ষাবর্ষেও এ নীতি কার্যকর করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের জন্য ফিফা আসিয়ান কাপ থেকে বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেছে, টানা দুই হারের পর। এবার স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামতে যাচ্ছে টমাস ডুলির শিষ্যরা। বাংলাদেশ কোচ একাদশে একটি পরিবর্তন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্ট্রাইকিং পজিশনে শেখ মোরসালিনের পরিবর্তে আজ শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছেন শাহরিয়ার ইমন।
ইমনের দুই পাশে আক্রমণের গতি বাড়াতে থাকবেন শুকি ইতোফুসা (বাঁয়ে) এবং রাকিব হোসেন (ডানে)। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করবেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া; তার সঙ্গে থাকবেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞ হামজা চৌধুরী ও শমিত সোম।
এছাড়া রক্ষণভাগের দায়িত্বে থাকবেন সাদ উদ্দিন, তারিক কাজী, জিদান ইউসুফ ও জায়ান আহমেদ। গোলপোস্টের নিচে যথারীতি দায়িত্ব পালন করবেন মেহেদী হাসান শ্রাবণ।
বাংলাদেশ একাদশ
গোলরক্ষক: মেহেদী হাসান শ্রাবণ।
রক্ষণভাগ: সাদ উদ্দিন, তারিক কাজী, জিদান ইউসুফ ও জায়ান আহমেদ।
মাঝমাঠ: হামজা চৌধুরী, শমিত সোম ও জামাল ভূঁইয়া (অধিনায়ক)।
আক্রমণভাগ: শুকি ইতোফুসা, শাহরিয়ার ইমন ও রাকিব হোসেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছর থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে, যা কারিগরি সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা প্রশাসনিক ভবন ও হলরুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, "তিস্তা আমার জীবনসংগ্রামের একটি অংশ। তিস্তা পাড়ের সন্তান আমি। আমি চাই, তিস্তা পাড়ের এই অঞ্চলকে মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীর দুই পাড়ের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিস্তা নদীকেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।"
মন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে বলেন, "এর সমীক্ষা ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে। কারিগরি ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চলছে। আশা করছি, কারিগরি সমীক্ষা শেষ হলে আগামী অর্থবছর থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। তবে সরকারের কোনো প্রকল্প একদিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এর আগে ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে হয়, এরপর ডিপিডি তৈরি হয়। পরে বিভিন্ন পর্যায়ে তা অনুমোদনের জন্য যায়। এভাবে কয়েকটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হয়।"
মন্ত্রী কুড়িগ্রামকে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, "কুড়িগ্রাম জেলাকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। গতকালও আমাদের এই কুড়িগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এ বিষয়ে এসেছিলেন। আজকে আমি নিজে আসলাম।"
তিনি বলেন, "কুড়িগ্রাম থেকে সরকার কোনো আসন পায়নি বলে এ জেলা অবহেলিত থাকবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। কুড়িগ্রাম একটি পশ্চাৎপদ জেলা। এখানে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা অনেক। এ কারণে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে মানুষ যাতে সরকারের ওপর আস্থা রাখতে পারে, সে বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।"
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রযন্ত্রকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই নয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও দুর্নীতি এখনো রয়ে গেছে। আমরা এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি। সরকার আইনশৃঙ্খলার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। কেউ যেন নিজের হাতে আইন তুলে না নেয়। জনগণ ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।"
অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, জেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সদস্য সচিব ও কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং এর আওতাধীন ওভারফ্লো ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছরের খসড়া কনসেশন চুক্তির অনুমোদন প্রদান করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ)।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সিসিইএর ৩১তম সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দাখিল করা প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) প্রকল্পের আওতায় ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং ওভারফ্লো ইয়ার্ড (ওসিওয়াই)-এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) এই চুক্তি সম্পাদন করবে।
এদিকে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অপর একটি প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সিসিইএ। এর আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ডেল্টা স্টার ট্রেডিং এফজেড-এলএলসির মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) রাশিয়ার সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘জেএসসি শেচকিনোআজোট’ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) একটি টেকসই ও সবুজ ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্বন নিঃসরণ নেট-জিরোতে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গতকাল ৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত ‘টেকসই গ্রিন ক্যাম্পাস’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব লক্ষ্য ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেল (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান কর্মশালায় এই পরিকল্পনাগুলি তুলে ধরেন।
উপস্থাপনায় বলা হয়, নেট-জিরো লক্ষ্য অর্জনের প্রথম ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ, পানি, বর্জ্য, পরিবহন ও সবুজায়নসহ বিভিন্ন খাতের বর্তমান পরিস্থিতির ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হবে। বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর জন্য প্রচলিত বাতির পরিবর্তে এলইডি স্থাপন, ভবন ও স্থাপনায় জ্বালানি নিরীক্ষা এবং পর্যায়ক্রমে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ‘৩ই’ বা এনার্জি, ইকোনমি ও এনভায়রনমেন্ট মূল্যায়নে বছরে ৩১০ দশমিক ৭ মেগাওয়াট-ঘণ্টা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে ২৫ বছরে ৭৫৩ দশমিক ৫ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানো এবং ৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৭৮ মার্কিন ডলার সাশ্রয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে।
কার্বন নিঃসরণ কমাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় উৎসস্থলেই জৈব, পুনর্ব্যবহারযোগ্য, অবশিষ্ট, ই-বর্জ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য আলাদা করা হবে। খাদ্য ও বাগানের বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট তৈরি এবং কাগজ, প্লাস্টিক, ধাতু, কাচ ও ই-বর্জ্য অনুমোদিত পুনর্ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তিন বছরের মধ্যে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পানি ব্যবহারে অপচয় কমাতে নিয়মিত লিকেজ পরীক্ষা ও মেরামত, পানির মিটার স্থাপন এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। সবুজায়নের অংশ হিসেবে দেশীয় ও জলবায়ু-সহনশীল প্রজাতির গাছ লাগানো, পরিপক্ব গাছ সংরক্ষণ এবং ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্যের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিবহন খাতে হাঁটা ও সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া, নিরাপদ হাঁটার পথ ও সাইকেল পার্কিং তৈরি, রাইড শেয়ারিং এবং পর্যায়ক্রমে কম-নিঃসরণকারী বা বৈদ্যুতিক যান ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্বন ফুটপ্রিন্ট হিসাব করে বিদ্যুৎ, জেনারেটরের জ্বালানি, যানবাহন, যাতায়াত, বর্জ্য ও কেনাকাটা থেকে সৃষ্ট নিঃসরণ পরিমাপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম তিন মাসের মধ্যে গ্রিন ক্যাম্পাস স্টিয়ারিং কমিটি গঠন, সমন্বয়ক নিয়োগ এবং বিদ্যুৎ, পানি, বর্জ্য, পরিবহন, সবুজায়ন ও পাঠ্যক্রমের ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে গ্রিন ক্যাম্পাস নীতি অনুমোদন, বর্জ্য বিন স্থাপন, পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কার্যক্রম, জ্বালানি নিরীক্ষা, এলইডি স্থাপন, বৃক্ষ ও জীববৈচিত্র্য জরিপ এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথম বছরে নির্বাচিত ভবনগুলোতে ৫ থেকে ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর, ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ প্রচলিত বাতি এলইডিতে পরিবর্তন করার, শনাক্ত হওয়া বড় পানির লিকেজের ৯০ শতাংশ মেরামত করার, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ক্রয় ৩০ শতাংশ কমানোর এবং রোপণ করা দেশীয় গাছের অন্তত ৮০ শতাংশ টিকিয়ে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি মাসিকভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রতিবছর ‘গ্রিন ক্যাম্পাস সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট’ প্রকাশের প্রস্তাবও রয়েছে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন।
এছাড়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও সাবেক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম. আতিউর রহমান, অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদিন সিদ্দিক, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবিব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শফি মোহাম্মদ তোরেক, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার। এছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ