ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চামড়া খাত থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয়ের লক্ষ্য সরকারের: মুক্তাদির


চামড়া খাত থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয়ের লক্ষ্য সরকারের: মুক্তাদির

বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আজ সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাব দেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ঢাকা, ৭ জুলাই, ২০২৬  : বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আজ সংসদে বলেছেন, দেশীয় কাঁচা চামড়া থেকে উৎপাদিত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বছরে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে উৎপাদিত কাঁচা চামড়া থেকে তৈরি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বছরে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।'

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

আজ জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধির অধীনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিরোধীদলীয় সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ তার চামড়া শিল্পের সম্ভাবনার মাত্র ০ দশমিক ২৬ শতাংশ কাজে লাগাতে পারছে। দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা গেলে উৎপাদন ও রপ্তানি ১২ থেকে ১৪ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।

তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে বিদেশি ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স বা পরিবেশগত ও মান-সংক্রান্ত শর্ত কঠোর না থাকায় দেশের নন-কমপ্লায়েন্ট ট্যানারিগুলোও কাঁচা চামড়া রপ্তানি করতে পারত। কিন্তু বর্তমানে কমপ্লায়েন্স একটি প্রধান শর্তে পরিণত হওয়ায় কাঁচা চামড়া রপ্তানি মারাত্মক সংকটে পড়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) দক্ষ পেশাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমবর্ধমান কমপ্লায়েন্স মানদণ্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তিনি বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের কাজ এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি, কারণ সেখানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত অবকাঠামো এখনও কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।

মুক্তাদির বলেন, এসব মানদণ্ড পূরণে সরকার সিইটিপিকে পুরোপুরি কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, ২৫ হাজার ঘনফুট পানি পরিশোধনের সক্ষমতা নিয়ে সিইটিপি স্থাপন করা হলেও বর্তমানে এটি ১৪ হাজার ঘনফুটের বেশি পানি পরিশোধন করতে সক্ষম নয়।

স্থানীয় চামড়া শিল্পকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করতে সরকার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পাশাপাশি, ট্যানারিগুলোতে ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপন এবং লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, রপ্তানি আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হলেও এলডব্লিউজি সনদের অভাবে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কারখানাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করতে পারছে না।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রধান আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে চামড়া রপ্তানির জন্য এলডব্লিউজ সনদ একটি বাধ্যতামূলক শর্ত। এই নিরীক্ষায় পরিবেশগত মান প্রতিপালন, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা এবং পণ্যের উৎস শনাক্তযোগ্যতা মূল্যায়ন করা হয়। ফলে প্রিমিয়াম বাজারে প্রবেশের জন্য এ সনদ অর্জন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী বলেন, দেশের চামড়া রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। ২০০৯-১০ অর্থবছরে চামড়া রপ্তানি থেকে আয় ছিল ২২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা পাঁচ বছর পর বেড়ে ৪০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। কিন্তু এরপর থেকে রপ্তানি দ্রুত কমতে শুরু করে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা নেমে আসে ১৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরও কমে দাঁড়ায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে চামড়া রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদের মুলতবি ঘোষণা আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪৭ এম


সংসদের মুলতবি ঘোষণা আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত

সংসদ ভবন, ৭ জুলাই, ২০২৬ : আগামীকাল ৮ জুলাই, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এই মুলতবি ঘোষণা করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি খাস জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে: ভূমিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪৮ এম


সরকারি খাস জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে: ভূমিমন্ত্রী

ফাইল ছবি

সংসদ ভবন, ৭ জুলাই, ২০২৬: ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু আজ বলেছেন, সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকারি খাস জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য।

তিনি উল্লেখ করেন, 'ভূমিদস্যুমুক্ত সরকারি খাস জমি নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।' একই সাথে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খাস জমি বিতরণে প্রকৃত ভূমিহীন মানুষের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে।

জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের উত্থাপিত জরুরি মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। তাই ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে সরকারি খাস জমি উদ্ধার কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যাতে প্রকৃত ভূমিহীনদের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের খাস জমি বিতরণে সরকারের অঙ্গীকার বাড়ে।

তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, জেলার প্রশাসকদের (ডিসি) মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫ বছর ধরে বসবাসকারী কিছু পরিবারের জন্য খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তার ব্যর্থতার জন্য এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার নৈতিক দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি পূর্ববর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সে সময়ের সরকারী সম্পত্তি দখল করেছে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা।

খাস জমির বিষয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে প্রতিটি পরিবারকে এক থেকে দুই কাঠা করে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ সরকারের থাকবে।

মন্ত্রী জানান, অবৈধভাবে দখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধার এবং উদ্ধারকৃত খাস জমি যোগ্য উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণের জন্য সরকার ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, অবৈধভাবে দখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধার করতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমি ও ভবন (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ, ১৯৭০, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিধিমালা, ২০২৪-এর বাস্তবায়ন।

তিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কার্যক্রমের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ জয়ে বিশ্বকাপের শেষ আটে আর্জেন্টিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫১ এম


পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ জয়ে বিশ্বকাপের শেষ আটে আর্জেন্টিনা

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ৭ জুলাই ২০২৬ : লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা, যারা দুই গোলে পিছিয়ে ছিল, আটালান্টায় মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। নাটকীয় এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা দারুণ এক জয়ে গল্প রচনা করেছে, যখন তারা দ্বিতীয়ার্ধে ১১ মিনিটের মধ্যে তিন গোল হাসিল করে।

ম্যাচটির মধ্যে নাটকীয়তা কম ছিল না। দলের তারকা খেলোয়াড় মেসি পেনাল্টি মিস করেন। তবে পরে আবারো সেই মেসির গোলেই ম্যাচে সমতা ফিরে আসে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জন্য। এরআগে, দুই গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা, মেসির এ্যাসিস্টে ম্যাচে ফিরার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিল। ইয়াসির ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে মিশর যখন ঐতিহাসিক জয় অর্জনের দিকে চালনা করছিল, তখন মেসি আবারও দলের ত্রাতা হিসেবে উদ্ভাসিত হন।

স্টপেজ সময়সহ শেষ ১১ মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনা ফিরে আসার অসাধারণ গল্প রচনা করে।

এখন মেসি টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোলের নতুন রেকর্ড গড়লেন। একই সাথে তিনি আট গোল করে টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আরও এগিয়ে গেলেন।

ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেড দিয়ে আর্জেন্টিনার গোলের সূচনা হয়। এরপর মেসির গোলের ফলে সমতা আসে এবং স্টপেজ টাইমের দুই মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের গোল জয় নিশ্চিত করে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মোহাম্মদ সালাহের নেতৃত্বে মিশর অধিকারী হৃদয়ে আঘাত লাগে।

ম্যাচ শেষে দুর্দান্ত এই প্রত্যাবর্তণকে সামনে রেখে মেসিকে চোখের পানি ফেলতে দেখা গেছে। মিশরের বিরুদ্ধে কিছু বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্তের কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর মধ্যে ছিল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তাদের একটি গোল বাতিল হওয়া। আর আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের পর পরই উত্তেজনার মাঝে মিশরের কোচিং স্টাফের এক সদস্য লাল কার্ডও দেখেন।

শেষ ৩২-এর ম্যাচে শুক্রবার কেপ ভার্ডের বিরুদ্ধে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ক্লান্ত দেখালেও, কোচ লিওনেল স্কালোনি দলে পরিবর্তন আনেন। মিয়ামিতে শুরু হওয়া একাদশ থেকে নিকোলাস টাগলিয়াফিকো, লিন্দ্রো পারেদেস ও জুলিয়ান আলভারেস দলে অন্তর্ভুক্ত করলে, আর্জেন্টিনা আবারও ধীরগতিতে ম্যাচ শুরু করে।

মারওয়ান আতিয়ার ক্রস পেছনের পোস্টে পৌঁছালে ইয়াসিরের শক্তিশালী হেডে ১৫ মিনিটে মিশর প্রথম গোলটি করে।

পাঁচ মিনিট পর আর্জেন্টিনার সমতায় ফেরার সুযোগ আসে। বক্সের ভেতরে হাইসেম হাসানের ফাউলে টাগলিয়াফিকো পড়ে যায়। কিন্তু বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে মেসির দুর্ভাগ্যের কাহিনীতে যোগ হয় আরেকটি অধ্যায়। আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ীর নেওয়া শটটি কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে তা ঠেকান। ফলে, বিশ্বকাপে টাইব্রেকার বাদে নিয়ে আসা আটটি পেনাল্টির মধ্যে চারটিই মিস করেছেন মেসি। একই সাথে, তিনি এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবল খেলোয়াড় হলেন। এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি।

একেবারে কাছ থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শক্তিশালী হেডও আল আহলির গোলরক্ষক দারুণ দক্ষতায় ঠেকান।

এরপর আলভারেসের নিচের কোণে লক্ষ্য করে নেওয়া শটও অসাধারণ এক সেভের দ্বারা জন্ম দেয়।

এক ঘণ্টা খেলার পর দুর্দান্ত একটি পাল্টা আক্রমণে মনে হয়েছিল মিশর ব্যবধান দ্বিগুণ করেছে। মোহাম্মদ সালাহ বল বাড়ান মোস্তফা জিকোর কাছে। তিনি এগিয়ে আসা এমি মার্টিনেসের উপর দিয়ে নিখুঁত চিপ শটে বলটি জালে পাঠান।

কিন্তু গোল উদযাপন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গোলের আক্রমণ শুরু হওয়ার আগে মিশরের বক্সের ঠিক বাইরে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের ওপর ফাউলের অভিযোগে ভিএআরের বিতর্কিত হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

এই সিদ্ধান্তে গ্যালারিতে উপস্থিত অধিকাংশ আর্জেন্টাইন সমর্থক উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন। কিন্তু খানিক পর আরেকটি দ্রুত গতির মিশরীয় পাল্টা আক্রমণের ফলে তারা আবার স্তব্ধ হয়ে যায়। সালাহ আবারও আক্রমণের নেতৃত্ব দেন। তিনি বল বাড়ান হাসানের কাছে, যার নিচু ক্রস থেকে জিকো সহজেই বলটি জালে জড়ান।

দ্বিতীয়ার্ধের কুলিং ব্রেকের সময় মেসি এবং আর্জেন্টিনার আরও অনেক খেলোয়াড়কে মাথা নিচু করে থাকতে দেখা যায়। তখন মনে হচ্ছিল দলটি পরাজয়ের দিকেই ধাবিত হচ্ছে।

কিন্তু ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেডে আর্জেন্টিনা অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন শুরু করে। শিরোপাধারীরা যেন পরাজয়ের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ান।

কিছুক্ষণ পর মেসির দুর্দান্ত একক দৌড় থেকে সুযোগ পান লটারো মার্তিনেস, কিন্তু তাঁর হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার সাত মিনিট বাকি থাকতে মেসি মুক্তির মুহূর্তটি পেয়ে যান। গনসালো মন্টিয়েল বল পেছনে বাড়িয়ে দিলে ৮৩ মিনিটে অধিনায়ক মেসি দারুণ একটি হাফ-ভলিতে শট নেন।

শোবেইর আবারও বলে হাত ছোঁয়াতে সক্ষম হলেও, তা বাইরে ঠেলে দিতে পারেননি। বল ক্রসবারে লেগে জালে ঢুকে যায়, এবং এর মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপে তার ২১তম গোলটি করেন।

লটারো মার্তিনেসের ক্রস থেকে এনজো ফার্নান্দেজের শক্তিশালী হেড আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ করে। শেষ বাঁশি বাজার পর আর্জেন্টিনা শিবিরের স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের: আঙ্কটাড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৩ এম


২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের: আঙ্কটাড

ঢাকা, ৭ জুলাই, ২০২৬ : ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এ সময় দেশে এফডিআই প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন) পৌঁছেছে।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড-এর ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬’-এ এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহ ছিল ১২৩ কোটি মার্কিন ডলার (১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন), যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন)। বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও এ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন।

প্রতিবেদনটি এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ অর্থ ব্যয়ের কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহ অসম অবস্থায় রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শক্তিশালী এফডিআই প্রবৃদ্ধি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও মোট স্থায়ী মূলধন গঠনে এফডিআইয়ের অংশ তুলনামূলকভাবে কম, তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মডেলের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে দেশীয় বিনিয়োগ এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আঙ্কটাড জানিয়েছে, উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালেও উন্নয়নশীল এশিয়া বিশ্বের প্রধান বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। এ অঞ্চলে এ সময় মোট ৬৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এফডিআই এসেছে।

বাংলাদেশের এ সাফল্য এশিয়ার অর্থনীতিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক আগ্রহের বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রবণতারই প্রতিফলন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা দুই বছর পতনের পর ২০২৫ সালে বৈশ্বিক এফডিআই ৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

এ পুনরুদ্ধারের পেছনে ডিজিটাল অবকাঠামো, উৎপাদন শিল্প, জ্বালানি রূপান্তর প্রযুক্তি এবং অন্যান্য কৌশলগত খাতে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনশিল্প, সেবা, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ভবিষ্যতে এফডিআই প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।

অর্ধ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জিডিপি, শিল্পায়ন ও সংযোগ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক অগ্রগতির ফলে বাংলাদেশ ক্রমেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%