ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঋণখেলাপিরা অযোগ্য, ইসির সিদ্ধান্ত


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঋণখেলাপিরা অযোগ্য, ইসির সিদ্ধান্ত

ঋণখেলাপির গ্যারান্টার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি এবং ভূমি করসহ বিভিন্ন সেবার বিলখেলাপি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এছাড়া, পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার আইনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এই বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে আইন সংশোধনের জন্য সুপারিশ পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, "আইন সংশোধনের বিষয়টা আইনগত ব্যাপার। আমরা প্রস্তাব পাঠাবো স্থানীয় সরকার বিভাগকে। স্থানীয় সরকার বিভাগ যদি আমাদের প্রস্তাব উপযুক্ত মনে করেন, তাহলে তারা সেভাবে ব্যবস্থা নিবেন।"

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

এর আগে, বেলা ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৬টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভায় চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসি সচিব বলেন, "মূলত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সাথে যে আইনগুলো আছে, পাঁচ স্তরের-সিটি করপোরেশন, উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা এবং জেলা পরিষদ। এই আইনগুলোর ভেতরে আমাদের কমিশনের বিবেচনায় যে সমস্ত জায়গায় কিছু কিছু মনে হয়েছে যে স্ট্রিমলাইন করা দরকার, আমরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।"

তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে সব আইনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা সমানভাবে উল্লেখ নেই। তাই সব আইনেই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবে কমিশন নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।"

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

এছাড়া, তিনি জানান, কমিশনের মত হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন না। পাশাপাশি, বর্তমানে একজন ব্যক্তিগত ঋণখেলাপি হিসেবে খেলাপি থাকলে তাকেও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাবে কমিশন সম্মত হয়েছে।

তিনি বলেন, "শুধু ব্যাংক ঋণ নয়, বিদ্যুৎ, ওয়াসা, ভূমি করসহ বিভিন্ন সরকারি বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিলখেলাপিদেরও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্যতার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কর্ণধারের প্রতিষ্ঠানের নামে বকেয়া থাকলেও সেটি অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে।"

এছাড়া, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদেরও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখার ব্যাপারে কমিশন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে পরিবর্তনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব জানান, "সবগুলোর ভেতরে সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।"

আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন

তিনি বলেন, "আইন সংশোধনের বিষয়টা আইনগত ব্যাপার। কমিশনের আলোচনা অনুযায়ী গৃহীত আইন সংশোধনের প্রস্তাবগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আচরণ বিধিমালাও সংশোধন করা হবে।"

ইসির প্রস্তাব কবে পাঠানো হবে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, "যত তাড়াতাড়ি পারি পাঠিয়ে দেব।"

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, "এখন আমরা ১৬ বছর ও তদুর্ধ্বদের ডাটা কালেকশন করি এনআইডির জন্য অথবা ভোটার তালিকার জন্য। যখন একজন ১৮ বছরে পৌঁছান, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান।"

ইসি সচিব বলেন, "এই ডাটা কালেকশনটা কোন লেভেল পর্যন্ত নামানো যায়- সেটি নিয়ে আরও কিছু পর্যালোচনার পরে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা এসএসসি নাকি ক্লাস এইট নাকি প্রাথমিক, যেটাই হোক না কেন, একটি তুলনামূলক বিবরণী অনুযায়ী পরবর্তীতে সিদ্ধান্তে আসব।" সূত্র বাসস

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পায়ের সাহায্যে লিখে কামিল পাস, সরকারি চাকরির স্বপ্ন নিলা খাতুনের সিরাজগঞ্জের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৫ এম


পায়ের সাহায্যে লিখে কামিল পাস, সরকারি চাকরির স্বপ্ন নিলা খাতুনের সিরাজগঞ্জের

জন্মের সময় থেকেই তার দুই হাত নেই। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই নিলা খাতুনের স্বপ্নের পথকে থামাতে পারেনি। তিনি অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে পা দিয়ে লিখে কামিল (মাস্টার্স সমমান) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সিরাজগঞ্জের নিলা খাতুনের এই সাফল্য আজ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দিনমজুর উসমান গনি ও শাহিনুর বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে নিলা তৃতীয়। জন্ম থেকেই তার দুই হাত নেই। তবে ছোটবেলা থেকে লেখাপড়ার প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রচণ্ড। প্রথমে মায়ের সহায়তায় স্কুলে যাতায়াত করলেও পরে নিজেই সব কাজ করতে শিখে যান। বর্তমানে তিনি পা দিয়েই লেখালেখি, পরীক্ষা দেওয়া এবং দৈনন্দিন সব কাজগুলো স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করেন।

শুধু লেখাপড়া নয়, ঘরের বিভিন্ন কাজেও দক্ষতার সঙ্গে পারদর্শী নিলা। পা দিয়ে তরকারি ও মাছ কাটার পাশাপাশি উঠান ঝাড়ু দেওয়া এবং টিউবওয়েল চাপিয়ে পানি তোলার কাজও করেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছেন। ২০১৭ সালে দাখিল পরীক্ষায় ৩.৭০ জিপিএ, ২০১৯ সালে আলিম পরীক্ষায় ৩.৮৬ জিপিএ এবং ২০২২ সালে ফাজিল পরীক্ষায় ২.৯২ সিজিপিএ পান। পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ আহমেদ কামিল মাদরাসা থেকে কামিল প্রথম বর্ষে ২.৯৮ এবং দ্বিতীয় বর্ষে ২.৯২ সিজিপিএ অর্জন করে মাস্টার্স (কামিল) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

নিলা খাতুন জানান, “শিক্ষকতা আমার সবচেয়ে প্রিয় পেশা।” তাই তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষক নিবন্ধনের (এনটিআরসিএ) জন্য আবেদন করেছেন। তার কথায়, “একটি সরকারি চাকরি পেলে আমার দীর্ঘদিনের সংগ্রাম সফল হবে।”

নিলার মা শাহিনুর বেগম বলেন, “ছোটবেলা থেকেই মেয়েটার পড়াশোনার খুব ইচ্ছা ছিল। অনেক কষ্টের মধ্যেও সে কখনো হাল ছাড়েনি।” তিনি আরও বলেন, “এখন চাই, সে যেন একটি সরকারি চাকরি পায়।”

অসুস্থ বাবা উসমান গনি জানিয়েছেন, “দিনমজুরি করে মেয়েটিকে পড়িয়েছি। অনেক কষ্ট করে সে আজ এই জায়গায় এসেছে। সরকারের কাছে আমার একটাই আবেদন, তার যোগ্যতার মূল্যায়ন করে তাকে একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হোক।”

কামারখন্দ ফাজিল মাদরাসার বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শমসের আলী বলছিলেন, “নিলা অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। দুই হাত না থাকলেও পা দিয়ে লিখে যে সাফল্য সে অর্জন করেছে, তা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

জীবনের প্রতিটি ধাপে প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে চলা নিলা খাতুন এখন শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তিনি তার সংগ্রামের গল্পকে সফলতার গল্পে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মাঝে আত্মবিশ্বাস, সাহস ও সম্ভাবনার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেনের সেনাপ্রধানকে বরখাস্ত করলেন জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৮ এম


ইউক্রেনের সেনাপ্রধানকে বরখাস্ত করলেন জেলেনস্কি

উইক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশটির সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়েছেন।

টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভের মুখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুদ্ধের অভিজ্ঞ জেনারেল মিখাইলো দ্রাপাতিকে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে দায়িত্ব থেকে সরানোর কয়েক দিনের মধ্যেই সেনাপ্রধানকে বরখাস্ত করা হলো।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অপসারণের পর দেশজুড়ে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নামেন।

শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভকে সরানোর পেছনে সেনাপ্রধান সিরস্কির সঙ্গে মতবিরোধের বিষয়টি জড়িত। পরবর্তীকালে সেই তথ্যও সামনে আসে। ৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন গতি আনা, সেনাবাহিনীতে পরিবর্তন এবং দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ জোরদার করার জন্য প্রশংসা করা হয়। অন্যদিকে ৬০ বছর বয়সী সিরস্কিকে অনেকেই পুরোনো ধাঁচের সেনা কর্মকর্তা হিসেবে দেখতেন। তার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে অনাগ্রহী থাকার অভিযোগ ছিল।

নতুন সেনাপ্রধান মিখাইলো দ্রাপাতি দায়িত্ব গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি বার্তায় উল্লেখ করেন, দেশের জন্য লড়াই করা প্রতিটি সেনাসদস্যের প্রতি সম্মান রেখে তিনি সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবেন। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে সিরস্কির অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি।

এর আগে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও সিরস্কির সামরিক অবদানের কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের সময় রাজধানী কিয়েভ রক্ষায় তাঁর ভূমিকার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

গত সপ্তাহে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইয়েভহেনি খমারা। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নতুন নিয়োগ-সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

এদিকে নতুন সেনাপ্রধান দ্রাপাতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভ। তিনি এই নিয়োগকে দেশের জন্য নতুন আশার প্রতীক বলে উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয় ফেদোরভকে সরানোর পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং সেনাবাহিনীতে পরিবর্তনের দাবির মুখেই শেষ পর্যন্ত জেলেনস্কি সেনাপ্রধান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বঙ্গোপসাগরে নজরদারি বাড়াতে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর উদ্যোগ বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩১ এম


বঙ্গোপসাগরে নজরদারি বাড়াতে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর উদ্যোগ বাংলাদেশের

মহাকাশে মেরিটাইম স্যাটেলাইট পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছে সরকার, যা বঙ্গোপসাগরে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানোর জন্য করা হচ্ছে। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি জানায়, এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সমুদ্রপথে চোরাচালান, মানবপাচার রোধ এবং জলসীমায় অবৈধ মাছ আহরণ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। শিগগিরই ‘এআইএস-টু ডট জিরো’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করবে সংযুক্ত কর্তৃপক্ষ। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৮ সালের মাঝামাঝিতে মেরিটাইম স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণের প্রত্যাশা করছে সরকার।

একাত্তরের রক্ত দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মালিকানা আন্তর্জাতিক আদালতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে বঙ্গোপসাগরের বিশাল একটি এলাকায়। ২০১২ ও ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের রায়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ নিরসনের পরে বাংলাদেশ সমুদ্রের বুকে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা পায়। সেই সময় থেকেই সুনীল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান বিশেষজ্ঞরা করেছেন। তবে, সার্বক্ষণিক নজরদারি গড়ে উঠেনি সাগরের এই বিশাল এলাকায়।

কোস্টগার্ডের নজরদারিকে ফাঁকি দিয়ে মানবপাচার, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম এই জলসীমা দিয়ে চলমান রয়েছে। সাগরে ৪০ মিটারের কম গভীরতার বাণিজ্যিক ট্রলারের ওপর মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা কতটা পালন করা হচ্ছে, এ বিষয়ে কোন নজরদারি নেই। এই পরিস্থিতিতে, নিজেদের জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার মেরিটাইম স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরের বিশাল এলাকা এখনও নজরদারির বাইরে রয়েছে। তিনি বলেন, "নজরদারি না থাকলে তো সেখান থেকে যে কেউ মাছ ধরে নিয়ে যাবে। বঙ্গোপসাগরে আমাদের যে সকল সম্পদ রয়েছে, সেগুলোর সঠিক ব্যবহারে অবশ্যম্ভাবীভাবে স্যাটেলাইট বেজড সমাধান প্রয়োজন।"

বিএসসিএল জানিয়েছে যে, অক্টোবরের মধ্যে ‘এআইএস-টু ডট জিরো’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই কাজটি সম্পন্ন হবে। এখানে স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে স্যাটেলাইট নির্মাণের জন্য ভেন্ডর বা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কত টাকা খরচ হবে, তা স্যাটেলাইটের আয়ু ও কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করবে।

ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান আরও জানান, যদি এই বছরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়, তাহলে ন্যূনতম ১৮ মাসের মধ্যে স্যাটেলাইট পাঠানো সম্ভব হবে। এর আগে, ২০১৮ সালের ১১ মে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বিএস-ওয়ান সফলভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা, বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ এম


বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা, বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

উজানে ঢল এবং ভারি বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বর্তমানে এটি বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তায় পানি বেড়ে যাওয়ার ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯ টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার, যেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। ফলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তার পানির বৃদ্ধির কারণে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

এ প্রসঙ্গে ডিমলা টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সাহিন বলেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। যদি পানি বাড়তে থাকে, তাহলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, তিস্তা নদীর পানি সকাল ৯টায় বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারেজে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%