মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:১৮ পি.এম
হবিগঞ্জের মাধবপুরে সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা গৃহকর্মী রেহেনা খাতুনকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ইউএনওর কার্যালয়ে রেহেনা খাতুনের কাছে এই আর্থিক সহায়তা হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় মাধবপুর-চুনারুঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রাফিউর রহমান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৈত্রী রায় উপস্থিত ছিলেন।
সহায়তা গ্রহণের সময় রেহেনা খাতুন তার নির্যাতনের অভিজ্ঞতা, আর্থিক সংকট এবং ঋণগ্রস্ততার বিষয়টি কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সি ও দালালের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা নেওয়ার জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
রেহেনা খাতুন বলেন, "ইউএনও স্যারের এই সহযোগিতা আমি চিরদিন মনে রাখব। আমি অনেক ঋণগ্রস্ত। এই টাকা আমার অনেক কাজে আসবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।"
ইউএনও মেহেদী হাসান বলেন, "রেহেনা খাতুন আমাদের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন। আমরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি।"
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক এবং সাংবাদিক নেতা এমএম গউস মন্তব্য করেন, মধ্যপ্রাচ্যে নির্যাতিত নারীদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো কাজ করে থাকে। রেহেনা খাতুনকে ইউএনওর এই আর্থিক সহযোগিতাকে তিনি সাধুবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, "সাংবাদিকেরা সত্য তুলে ধরবেন, আর সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে এটাই বাস্তবতা।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রত্যেকটি পূজামণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিরাপত্তা প্রদান করবেন, এমনটি জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির পর্যবেক্ষণ দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে তিনি এই তথ্য জানান।
খায়রুল কবির খোকন আরও বলেন, পূজার সময় বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রতিহত করার জন্য প্রশাসন প্রস্তুত থাকবে। এই কার্যক্রমে বিএনপি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। তিনি নেতাকর্মীদের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।
পূজাকে কেন্দ্র করে গুজব বা এআই কনটেন্ট সম্পর্কে সচেতন থাকতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধও করেছেন খায়রুল কবির খোকন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সাধারণ শিক্ষায় বারবার অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, এসএসসি পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ১৫ দিনের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার সাধারণ শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে চায়। তিনি জানান, চতুর্থ শ্রেণি থেকেই পাঠ্যশিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী, প্রতিটি শিশুকে সুশিক্ষার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এর আগে, বেলা ১২টার দিকে পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে ৪৯তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে যোগদান করা ৬১২ কর্মকর্তার ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষকস্বল্পতা কাটানোর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরি এবং পাঠদানে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী সরকারি কলেজকে সাধারণ মানুষের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার ওপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ। শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে সরকারি বরাদ্দের অপচয় রোধেরও আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
‘ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস–২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা এবং অগ্নিনির্বাপণ মহড়ার আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতাউর রাব্বী। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা, পুলিশ সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম মন্তব্য করেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি এবং জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতাউর রাব্বী বলেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য আগাম প্রস্তুতি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। দুর্যোগের সময় জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। পাশাপাশি যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং কার্যকর প্রস্তুতির প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ী জেলার ধাওয়াপাড়া এবং পাবনা জেলার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল আবারও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। ফলে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচলকারী যাত্রী এবং যানবাহন সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. রবিউল ইসলাম এক বার্তায় ফেরি চলাচল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, নাজিরগঞ্জ–ধাওয়াপাড়া নৌরুটে নাব্যতা সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় ১২ অক্টোবর রাত ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে।
এর আগে পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে গত ৫ অক্টোবর দুপুর ১টা ৪০ মিনিট থেকে এই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। টানা ছয় দিন বন্ধ থাকার পর গত রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে ফেরি চালুর পর নৌপথে নাব্যতা সংকটের বিষয়টি সামনে আসে। জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং না করা হলে ফেরি চলাচল আবারও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
রোববার সকালে ধাওয়াপাড়া থেকে নাজিরগঞ্জের উদ্দেশে একটি পরীক্ষামূলক ফেরি চালানো হয়েছিল। এরপর বিকেলে স্বাভাবিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হলেও এক দিনের মাথায় ফেরি চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
এর আগে নাজিরগঞ্জ–ধাওয়াপাড়া নৌরুটে ফেরি চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। টানা ১৬ দিন বন্ধ থাকার পর ২২ সেপ্টেম্বর নৌরুটটি আবার চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অক্টোবরের শুরুতে ফেরি চলাচল আবারও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার ফেরি বন্ধ ও চালুর ঘটনায় এ নৌপথ ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া এবং পাবনার নাজিরগঞ্জের মধ্যে পদ্মা নদী পারাপারের জন্য ফেরি সার্ভিস একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দুই জেলার পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতকারী মানুষ এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্যও এই নৌরুটটি গুরুত্বপূর্ণ। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলে এ পথে সরাসরি নদী পারাপার ব্যাহত হয়। তখন যাত্রী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিকল্প পথে চলাচল করতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় এবং ব্যয়ের মুখে পড়তে হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নৌপথের নাব্যতা সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং করা প্রয়োজন। নাব্যতা সংকটের কারণে বারবার ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় এ রুটের নিয়মিত যাত্রী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে, ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করে নৌপথের নাব্যতা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে কবে নাগাদ ড্রেজিং শুরু হবে এবং ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নতুন কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ