ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জমি সংক্রান্ত বিরোধে বগুড়ায় রক্তক্ষয়ী, নিহত ১


জমি সংক্রান্ত বিরোধে বগুড়ায় রক্তক্ষয়ী, নিহত ১

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ঘটেছে, যার ফলে লিটন সাকিদার (৪০) নামে একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করেছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের মাঝবাড়ী গ্রামে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ওই গ্রামের মুহিদুল ইসলাম সাকিদার এবং খাজা প্রামাণিকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। মূলত এ বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতে একাধিক মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। সকালে ওই জমির দখলকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত নয়জন আহত হন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর গুরুতর আহত লিটন সাকিদারকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে মারা যান।

গুরুতর আহত আরও দুজনকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, এবং অন্য আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

. গাজীপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল ঘিরে তদন্তে পুলিশ,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪১ পি.এম


. গাজীপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল ঘিরে তদন্তে পুলিশ,

গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরের নান্দুয়ান এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ। জানা গেছে, গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির মোড়ল ওই মিছিলে নেতৃত্ব দেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের মহানগরীর ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ৩ নম্বর গেট থেকে মিছিল শুরু হয়। নেতাকর্মীরা রাজেন্দ্রপুর বাজার এলাকায় গিয়ে মিছিলটি শেষ করেন। মিছিলে অংশ নেন প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন।

মিছিলে স্লোগান দেন গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির মোড়ল। তারা বলেছিলেন- শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই, তুমি কে, আমি কে—বাঙালি, বাঙালি, মুজিব তোমার স্মরণে, ভয় করিনা মরণে, মুজিব আমার চেতনা, মুজিব আমার বিশ্বাস, শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা। তারা এসব স্লোগান দিতে দিতে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে মিছিল করেন নিষিদ্ধ সংগঠন গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী।

পরে সংক্ষিপ্ত পথসভায় গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির মোড়ল উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আজকে গাজীপুরের মাটিতে আপনাদের উপস্থিত হয়ে যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, সে জন্য আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, এই গাজীপুরের মাটিতে একটাই আইন চলবে, সেটি হলো শেখ হাসিনার আইন। তিনি আরও বললেন, আমাকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, আমি নাসির মোড়ল শেখ হাসিনার সৈনিক, আমি শেখ হাসিনার কর্মী। নাসির মোড়ল ঘোষণা করেন, এই বাংলাদেশে যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা না আসবেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি—শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে “জয় বাংলা”র বিজয় আমরা ছিনিয়ে আনবই।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, মিছিলের বিষয়টি জানা গেছে। তারা জানান, বিভিন্ন ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, গাজীপুর জেলা পুলিশের জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, মিছিলটি আমাদের থানা এলাকায় হয়নি, এটি মেট্রোপলিটন (জিএমপি) এলাকায় হয়েছে। তবে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামী এক বছরে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ পি.এম


আগামী এক বছরে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে, এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের বড়াইল বাকসন খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য দিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'দেশের চলতি জাতীয় বাজেটে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাঁচ ধরনের নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কোন নির্বাচন আগে এবং কোনটি পরে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।'

এর আগে, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও পলি জমে মৃতপ্রায় হয়ে পড়া বড়াইল বাকসন খালের পুনঃখনন কাজের সমাপ্তি উপলক্ষে খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাগমে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'দীর্ঘ দুই দশক ধরে বগুড়া নানা ক্ষেত্রে অবহেলা ও বৈষম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই বঞ্চনা দূর করে জেলার উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারার সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, 'খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধানে পচাগলা মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৬ পি.এম


দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধানে পচাগলা মরদেহ উদ্ধার

রংপুরের তারাগঞ্জের তিস্তা সেচ ক্যানেলের ধারে পুলিশ উদ্ধার করেছে একটি পচে-গলে যাওয়া মরদেহ এবং মানুষের মাথার খুলি।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে খবর পেয়ে, উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কুঠিপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ এই মরদেহ ও মানুষের মাথার খুলি উদ্ধার করে। স্থানীয় মানুষের ধারণা, এটি কোনো ব্যক্তিকে হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন আগে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে কুঠিপাড়া এলাকায় তিস্তা সেচ ক্যানেলের ধারের জমিতে কিছু কৃষক কাজ করতে যাওয়ার সময় কাজ করার বেশ কিছু পর তীক্ষ্ণ দুর্গন্ধ অনুভব করেন। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে তাদের এগিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমে একটি বিচ্ছিন্ন মাথার খুলি এবং পরে শরীরের অবশিষ্টাংশ এবং পচে-গলে যাওয়া কঙ্কাল দেখা যায়।

খবর পেয়ে, তারাগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে বিকেল ৫টার দিকে মরদেহ ও মাথার খুলি উদ্ধার করে এবং একটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মরদেহটি এতটাই পচে-গলে গেছে যে এটি চেনার কোনো উপায় নেই। জনমানবহীন এই সেচ ক্যানেলের ধারে আক্রমণকারীরা সম্ভবত অন্য কোথাও হত্যা ঘটিয়ে লাশটি এখানে লুকিয়ে রেখেছিল।

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ পরীক্ষার পরেই কেবল মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলা কিউআর ডিজিটাল লেনদেনে নতুন দিগন্ত, শেষ হচ্ছে কি নগদ টাকার যুগ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


বাংলা কিউআর ডিজিটাল লেনদেনে নতুন দিগন্ত, শেষ হচ্ছে কি নগদ টাকার যুগ?

অবকাঠামো এবং প্রযুক্তির আধুনিকতায় দেশ এগিয়ে গেলেও, মাঠপর্যায়ের অর্থনৈতিক মডেলে এখনও রয়েছে বিস্তর ফারাক। এই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, কাগজে-কলমে নতুন এক যুগান্তকারী সমাধান নিয়ে এসেছে ইন্টারঅপারেবল বা সর্বজনীন লেনদেন মাধ্যম ‘বাংলা কিউআর’৷

এতদিন দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) যেমন বিকাশ, নগদ বা রকেটের নিজস্ব আলাদা কিউআর কোড থাকায়, এক অ্যাপের মাধ্যমে অন্য প্রতিষ্ঠানের কিউআর স্ক্যান করে পেমেন্ট করা সম্ভব ছিল না। এই দৃশ্যমান জটিলতা দূর করে দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে একক প্ল্যাটফর্মে আনতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সর্বজনীন সমন্বিত ব্যবস্থা।

এখন থেকে দেশের যেকোনো নাগরিক, যার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, কার্ড কিংবা সচল এমএফএস ওয়ালেট আছে, তিনি এই একটিমাত্র কোড স্ক্যান করেই সেরে নিতে পারবেন যাবতীয় লেনদেন। অন্যদিকে ফুটপাতের হকার, মুদি দোকানদার থেকে শুরু করে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান—সব স্তরের ব্যবসায়ীরা এই একটি কিউআর কোড প্রদর্শন করেই সবার কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে পারবেন।

এই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে, দেশের ছোট-বড় খুচরা ব্যবসার ধরন অনেকটাই বদলে যাবে। আগে যেখানে একটি দোকানের ক্যাশ কাউন্টারে ৪-৫টি ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানির কিউআর কোডের স্ট্যান্ড সাজিয়ে রাখতে হতো, সেখানে এখন থেকে কেবল একটি ‘বাংলা কিউআর’ ঝুলিয়ে রাখলেই চলবে।

ফলে গ্রাহকের ফোনে যে অ্যাপই সচল থাকুক না কেন, তিনি ওই একটি কোড স্ক্যান করেই পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠানের সাথে হিসাব মেলাতে হবে না, একটিমাত্র ব্যাংক বা মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই সব লেনদেন সম্পন্ন হবে।

এতে কাগজের নোট মুদ্রণ এবং তা রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের যে বিশাল অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়, তা ধাপে ধাপে কমে আসবে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে এই ব্যবস্থার নাম ‘ইউপিআই’ (ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস)। সেখানে সবজি বিক্রেতা থেকে শুরু করে বড় শপিংমল—সবাই একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করছে এবং প্রতিদিন সেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন সম্পূর্ণ ক্যাশলেস বা নগদ টাকা ছাড়াই হচ্ছে।

সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এই প্রযুক্তির নানামুখী অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধা রয়েছে। এর প্রধান সুবিধা হলো পকেটে নগদ টাকা বা প্লাস্টিক কার্ড বহনের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া এবং যেকোনো কেনাকাটায় গ্রাহকের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা কোনো অতিরিক্ত হিডেন চার্জ ছাড়াই পেমেন্ট করার সুযোগ।

২ টাকা থেকে শুরু করে যেকোনো অঙ্কের ভগ্নাংশ টাকাও এখানে নিখুঁতভাবে পেমেন্ট করা যায় এবং এর ফলে খুচরা টাকার সংকট দূর হবে। এছাড়া প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড অ্যাপে সংরক্ষিত থাকায় মাস শেষে ব্যক্তিগত খরচের হিসাব রাখা সহজ হয় এবং পকেটে টাকা হারিয়ে যাওয়া বা ছিনতাইয়ের ঝুঁকি থাকে না।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে বড় লাভ হলো, ক্যাশলেস লেনদেনের মাধ্যমে তাদের একটি নির্ভরযোগ্য 'ডিজিটাল ক্রেডিট প্রোফাইল' তৈরি হবে, যা পর্যালোচনা করে ব্যাংকগুলো পরবর্তীতে তাদের জামানতবিহীন ব্যবসা ঋণ দিতে উৎসাহিত হবে।

তবে এই নতুন পেমেন্ট প্রক্রিয়া ও এর কার্যকারিতার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মনে বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে। প্রথমত, পুরোনো একক কিউআর কোডগুলো হুট করে বন্ধ হচ্ছে না, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সেগুলোকে বাংলা কিউআর স্ট্যান্ডার্ডে রূপান্তর করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, গ্রাহক যিনি অ্যাপের মাধ্যমে স্ক্যান করে টাকা পাঠাবেন, তার ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ থাকা বাধ্যতামূলক। তবে বিক্রেতা বা মার্চেন্টের ফোনে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট না থাকলেও চলে, কারণ পেমেন্ট সফল হওয়ার সাথে সাথে তার মোবাইলে সাধারণ এসএমএস নোটিফিকেশন চলে আসে।

তৃতীয়ত, বিদেশি নাগরিক বা প্রবাসীরাও এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন, যদি তারা বাংলাদেশে সচল কোনো সিম ও স্থানীয় ব্যাংক/এমএফএস অ্যাপ ব্যবহার করেন কিংবা বাংলা কিউআর নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত কোনো ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ভিসা বা মাস্টারকার্ড ব্যবহার করে স্ক্যান করেন।

যদিও কাগজে-কলমে উদ্যোগটি অত্যন্ত সম্ভবনাময়, তবে মাঠপর্যায়ে এর সফল বাস্তবায়নে কিছু দৃশ্যমান ও বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী এই প্রযুক্তিকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে বলেন, মানুষ দীর্ঘকাল ধরে নগদ লেনদেনে অভ্যস্ত থাকায়, এই দীর্ঘদিনের অভ্যাস বদলাতে রাষ্ট্রকে ব্যাপক গণ-প্রচারণা চালাতে হবে। জনগণ নিজে থেকে উদ্বুদ্ধ না হলে, এই প্রযুক্তি গতি পাবে না। তথ্যগুলো ডকুমেন্টেড হয়ে যাচ্ছে এবং এসব ব্যবহার করে তাদের উপর ট্যাক্স বসানো হতে পারে—এমন শঙ্কায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পিছুটান দিতে পারে।

যেখানে ভারতে ইউপিআই সম্পূর্ণ ফ্রি, সেখানে আমাদের যদি এটি প্রথমেই সমস্যা হিসেবে তাদের কাছে যায়, তবে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। এই সংকট উত্তরণে মুস্তফা কামাল মুজেরী ‘ক্রস-সাবসিডাইজেশন’ বা ‘ডিফারেন্সিয়াল প্রাইসিং’-এর প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ভারতে যেভাবে করে, ঠিক সেভাবে আমাদেরও বড় করপোরেট সেক্টর বা যাদের সামর্থ্য আছে তাদের জন্য চার্জের হার বেশি করা এবং ক্ষুদ্রদের জন্য রেট কম করা যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে সরকারকে হয়তো নতুন করে ভর্তুকি দিতে হবে না।

পলিসি ও চার্জ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু গুরুতর সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছেন। বিশিষ্ট আইটি বিশেষজ্ঞ জাকারিয়া স্বপন তার পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলা কিউআর-এর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চার্জ, যা মূলত মার্চেন্ট বা ক্ষুদ্র দোকানিকে প্রদান করতে হবে। একজন প্রান্তিক দোকানি যেখানে নগদ টাকায় লেনদেন করলে পুরো টাকা হাতে নেন, সেখানে ডিজিটালি পেমেন্ট নিলে যদি টাকা কম পান, তবে তিনি এই পদ্ধতিতে আগ্রহী হবেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংক মার্চেন্ট ফি ভ্যাটসহ ১ শতাংশ করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। যার সহজ অর্থ প্রকাশ পায়—ক্রেতা বা ভোক্তা নয়, বরং বিক্রেতা বা মার্চেন্টের অ্যাকাউন্ট থেকে এই ১ শতাংশ ফি কেটে নেয়া হবে। অর্থাৎ, একজন ক্রেতা কিউআর স্ক্যান করে ১ হাজার টাকা পরিশোধ করলে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ১ হাজার টাকা কেটে যাবে, কিন্তু বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে হাজারে ১০ টাকা কেটে জমা হবে ৯৯০ টাকা।

বাকি প্রায় ১০ টাকা (ভ্যাটসহ ১ শতাংশ এমডিআর) সেবা ফি হিসেবে সংশ্লিষ্ট অ্যাকোয়ারিং ব্যাংক বা পেমেন্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান পাবে।

বাংলাদেশে প্রতি বছর টাকা ছাপাতে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার কোটি টাকা খরচ হয় উল্লেখ করে জাকারিয়া স্বপন বলেন, সরকার যদি ডিজিটাল লেনদেন উৎসাহিত করে টাকা ছাপানোর খরচ অর্ধেকও কমাতে পারে, তবে সেই সাশ্রয় হওয়া ১০ হাজার কোটি টাকা আগামী ৩-৪ বছর এই খাতে ভর্তুকি হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

তিনি বলেন, এটি কেবল একটি খরচ নয় বরং একটি 'সাবসিডি ইনভেস্টমেন্ট'। পদ্মা সেতুর মতো অবকাঠামোতে বিনিয়োগ হলে, এই ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারে কেন বিনিয়োগ করা হবে না? ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের করের ভয় দূর করতে যদি অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত লেনদেন খরচ শূন্য করা না হয়, তবে এটিও একটি ব্যর্থ প্রজেক্টে পরিণত হতে পারে।

প্রান্তিক মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং আইনগত অবকাঠামোগত জটিলতা বিশ্লেষণ করে অপরাধ বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রথমত এটাকে ঝামেলা মনে করবে। দ্বিতীয়ত, যদি দেখে এখানে কম বা বেশি বড় কথা নেই, তাদের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে, তাহলে তারা এখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।

চার্জের বোঝা দূর করা, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং করের ভীতি দূর করে যদি সাধারণ ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করা যায়, তবেই হয়তো কাগজের নোটের নির্ভরতা কমিয়ে 'ক্যাশলেস বাংলাদেশ' গড়ার স্বপ্ন শহরের শপিংমলে সীমাবদ্ধ না থেকে ছড়িয়ে পড়বে দেশের প্রতিটি গলির মোড়ে, চায়ের দোকানে, সেখানেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%