বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫২ পি.এম
শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক পদে কর্মরত অবস্থায়, দুই নারী কর্মচারীকে ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত করার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস এবং পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে যে, তাদের ব্যক্তিগত কাজে দুই নারী কর্মচারী অনীহা প্রকাশ করলে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়া হয়।
তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভার অফিস সহায়ক রিতা রানী প্রতিদিন সকালে পৌরসভা কার্যালয়ে হাজিরা দেওয়ার পর প্রশাসকের বাসায় চলে যান। সেখানে কয়েক ঘণ্টা অবস্থানের পর দুপুর ১টার দিকে তিনি আবার পৌরসভা কার্যালয়ে ফিরে আসেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস নড়িয়া পৌরসভার প্রশাসকের অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অভিযোগ উঠেছে যে, অফিস সহায়ক রিতা রানীকে নিয়মিত এবং অপর অফিস সহায়ক নাসিমা বেগমকে মাঝে মাঝে প্রশাসকের বাসায় কাজ করতে পাঠানো হচ্ছে।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে যে, রিতা রানী প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে অফিসে হাজিরা দেন। এরপর তিনি পৌর প্রশাসকের বাসায় চলে যান। কাজ শেষ করে প্রতিদিন দুপুর ১টার দিকে আবার পৌরসভা কার্যালয়ে ফিরে আসেন। দুপুর ১টার দিকে পৌরসভা কার্যালয়ে ঢোকার সময় কথা বললে রিতা রানী জানান, "তিনি প্রশাসকের বাসা থেকেই ফিরেছেন।" সপ্তাহে কত দিন এভাবে কাজ করতে হয়— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "প্রতিদিনই যেতে হয়। না গেলে চাকরি থাকবে না।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, অফিস সহায়ক পদে নিয়োজিত কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বাসার কাজে পাঠানো হচ্ছে। এতে একদিকে দাপ্তরিক কাজে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে কর্মচারীদের মধ্যে চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ওই কর্মচারীর দাবি, প্রতিদিন রিতা রানীকে প্রশাসকের বাসায় পাঠানো হয়। তিনি যেতে না চাইলে চাকরি চলে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়। অনেক সময় রিতা রানী ও নাসিমা বেগম— দুজনকেই একসঙ্গে বাসায় কাজ করতে যেতে হয়।
এ বিষয়ে জানতে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, "প্রশাসক ছোট একটি মেয়েকে নিয়ে একা থাকেন।" তার বাসায় স্থায়ী গৃহকর্মী থাকলেও মাঝে মাঝে প্রশাসকের অনুরোধে রিতা রানীকে শিশুটির দেখাশোনার জন্য পাঠানো হয়। তবে চাকরিচ্যুত করার হুমকির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক লাকি দাসও ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তিনি স্বীকার করেন, মাঝে মাঝে রিতা রানীকে তার বাসায় নেওয়া হয়। তিনি বলেন, "তিনি ছোট একটি সন্তানকে নিয়ে একা থাকেন।" বাসায় স্থায়ী গৃহকর্মী থাকলেও প্রয়োজনের সময় রিতা রানীকে মেয়ের দেখাশোনার জন্য ডাকা হয়।
অফিসের কর্মচারীকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা বিধিসম্মত কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এটি নিয়মসম্মত নয়। তবে পরিস্থিতির কারণে মাঝে মাঝে এমনটি করতে হয়েছে।" সাংবাদিকদের আপত্তির পর তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করাবেন না বলেও জানান।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, বিষয়টি মানবিক দিক থেকেও দেখা যেতে পারে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) একা থাকেন এবং তার ছোট সন্তান রয়েছে। তবে পৌরসভা উপজেলা প্রশাসনের অধীন নয়। সে কারণে এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে চান না। তবে সহকর্মী হিসেবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেবেন বলে জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিভাগের আটটি কারাগারে ১৯৮ জন বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন অপরাধের মামলায় বন্দি রয়েছেন, যার মধ্যে মাদক পাচার ও অনলাইন প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির সংখ্যা ৩০, এবং ১৬৮ জন হাজতি হিসেবে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্দিদের মধ্যে মিয়ানমার, চীন, নাইজেরিয়া, লাওস, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমারের নাগরিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ মাদক মামলার আসামি।
সর্বশেষ ১০ সেপ্টেম্বর, চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার একটি বাসায় সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ নাগরিককে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারণা চক্রের সদস্য। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। চাকরির প্রলোভন ও অনলাইন মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
এর আগে, ৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার শহরের একটি হোটেল থেকে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন চীনের এবং একজন তাইওয়ানের নাগরিক। এ সময় ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বিদেশিদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩ কেজি ৯০০ গ্রাম কোকেনসহ বাহামা দ্বীপপুঞ্জের নাগরিক স্ট্যাশিয়া শ্যান্টিয়া রোলকে আটক করা হয়। কোকেনের চালানটি একটি কম্পিউটার ইউপিএসের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
ওই চালানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৩০ সেপ্টেম্বর দুই নাইজেরিয়ান নাগরিক আফিজ ওয়াহাব ও ইকোচুকু এনওয়াগডকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা ফুটবল খেলোয়াড় এবং দেশের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
কারা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৩ কয়েদিসহ ৮৩ জন, কক্সবাজারে ৬১, বান্দরবানে ৪৫, ফেনী-১-এ ৩, কুমিল্লায় ২, রাঙামাটিতে ২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালী কারাগারে একজন করে বিদেশি বন্দি রয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে বিভাগের কারাগারগুলোতে বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে মিয়ানমারের বন্দিদের বেশিরভাগই মাদক মামলার আসামি।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিদেশি নাগরিকদের গ্রেপ্তারের একাধিক ঘটনায় সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে মাদক পাচার ও আন্তর্দেশীয় অনলাইন প্রতারণার বিস্তৃতি নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি নামে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করেছে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), যা ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে হয়েছে।
বাহিনী প্রধান আহসান হাবীব পলাশ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নতুন নাম নিয়ে কার্যক্রম শুরু করার কথা জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, "এসআরবি নামে গেজেট হয়েছে। আমরা র্যাবের নাম পরিবর্তন করে এসআরবি নাম দিয়ে সকল কাজ আজ থেকে শুরু করেছি।"
সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে বাহিনীটি যে লোগো ব্যবহার করেছে, তাতে র্যাবের পরিবর্তে ‘এসআরবি বাংলাদেশ’ লেখা রয়েছে। তবে, লোগোর নকশা অপরিবর্তিত রয়েছে। নতুন লোগো বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও দেখা গেছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর র্যাব বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি নামে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়। মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারির পর তা আইনে রূপ নেয়। এর পরদিনই বাহিনীটি নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করে।
২০০৪ সালের ২৬ মার্চ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গঠিত হয় র্যাব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সফলতার পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বাহিনীটিকে বিলুপ্তির দাবি উঠেছে।
গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাব ও বাহিনীর সাত কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানায় বিএনপি গঠিত পুলিশ প্রশাসন সংস্কার বিষয়ক কমিটি।
এ ধারাবাহিকতায় সরকার এবার কাঠামোগত ও কর্মপরিধি পুনর্বিন্যস্ত করে বাহিনীটিকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি নামে মাঠে রাখছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
এই সৌজন্য সাক্ষাৎটি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এসময় মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জার্মানির পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জার্মানি এবং বাংলাদেশ উভয়েই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ভ্রাতৃপ্রতিম।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে শোষণের শিকার হয়েছে। পাকিস্তান আমলের সময় আমাদের গণতান্ত্রিক বৈষম্য ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও গণতান্ত্রিক উত্তরণ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনে দেশের জনগণ অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েছিল। গুম, খুন, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে দেশে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।
স্পিকার আরও বলেন, দেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য নিজেদের বারংবার উৎসর্গ করেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তারা কখনো বিচ্যুত হয়নি।
জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ পনেরো বছরের স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হয়েছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশে গণতন্ত্র কার্যকর করতে জার্মান সরকারের সর্বোচ্চ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দল জার্মানি-বাংলাদেশের সংসদীয় কমিটি গঠন, মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির প্রসার, অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস কূপ অনুসন্ধান এবং সার কারখানা স্থাপনে গুরুত্বারোপ করে।
স্পিকার এসময় বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় এলাকার গ্যাস ও তেল সম্পদ অনুসন্ধানে জার্মানির বিশেষজ্ঞ দলকে আমন্ত্রণ জানান। তিনি রাষ্ট্রদূতকে জানান, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি জ্বালানির উপর নির্ভরশীল।
এ অনুষ্ঠানে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চরহোগলা এলাকার শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী চরহোগলা জমিদার বাড়ি বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। স্থানীয়ভাবে এই স্থাপনাটি চরহোগলা চৌধুরী বাড়ি বা কালামিয়া জমিদার বাড়ি নামেও পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, দ্রুত সংরক্ষণ উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপত্যকীর্তি হারিয়ে যেতে পারে। প্রাচীন জমিদার বাড়িটির সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, চরহোগলা জমিদার বাড়ি একসময় ওই এলাকার আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বিশাল চত্বর, মূল আবাসিক ভবন, প্রাচীন পারিবারিক কবরস্থান এবং সুবিশাল ঈদগাহ মাঠ এই স্থাপনার ঐতিহাসিক গুরুত্বকে তুলে ধরে। স্থাপত্যশৈলী ও নকশায় ব্রিটিশ-ঔপনিবেশিক রীতি এবং তৎকালীন মুসলিম জমিদারি সংস্কৃতির সংমিশ্রণ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
তবে দীর্ঘ সময় সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। দেয়ালে নোনা ধরে চুন-সুরকি খসে পড়ছে। বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় ভবনের অভ্যন্তরীণ অংশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চারপাশের জঙ্গল ও লতাপাতায় ঢেকে যাওয়ার কারণে স্থাপনাটির সৌন্দর্যও অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। সীমানা প্রাচীরের অভাব এবং স্থানীয়দের অসচেতনতার কারণে ভবনের বিভিন্ন অংশ বেদখল ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, চরহোগলা জমিদার বাড়ি কেবল একটি পুরোনো স্থাপনা নয়; বরং এটি মেহেন্দীগঞ্জ তথা বরিশাল অঞ্চলের জমিদারি প্রথা, সামাজিক পরিবর্তন ও স্থানীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। যথাযথ সংরক্ষণ করা গেলে এই স্থাপনাটি পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে সক্ষম হবে। নিকটবর্তী উলানিয়া জমিদার বাড়ি থাকায় দুটি ঐতিহাসিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে একটি ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া, প্রাচীন স্থাপত্য, নির্মাণশৈলী ও ঐতিহাসিক উপকরণ নিয়ে গবেষণার জন্যও বাড়িটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ঐতিহাসিক এই স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ভবনটির অবস্থা যাচাই করে জরুরি সংস্কার ও সংরক্ষণকাজ শুরু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থাপনার মূল নকশা ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কার, সীমানা নির্ধারণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা দরকার।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের ভাঙচুর ও বেদখল ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চরহোগলা চৌধুরী বাড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ