সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৫ পি.এম
দুর্গাপূজার প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার গুলিসাখালী ইউনিয়নের কবুতরখালী গ্রামের ‘রাজ মন্দিরের’ আয়োজকেরা। মন্দির প্রাঙ্গণে চলছে প্যান্ডেল, প্রতিমা, আলপনা ও সাজসজ্জার কাজ। আয়োজকদের দাবি, এখানে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ দুর্গাপূজার আয়োজন হতে যাচ্ছে।
পূজার আনুষ্ঠানিকতা আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের আয়োজনটি ভিন্ন ভিন্ন থিমে সাজানো হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় প্রতিমার সংখ্যা কমিয়ে এবার ১৬০টি প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিমার পাশাপাশি বিভিন্ন থিমের আয়োজনও বাড়ানো হয়েছে।
কবুতরখালীর হালদার বাড়িতে এই পূজার আয়োজন করছেন অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সুদীপ কুমার হালদার ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. স্নিগ্ধা চক্রবর্তী দম্পতি। তাদের সঙ্গে কাজ করছেন একদল তরুণ-তরুণী।
সরেজমিনে দেখা যায়, মন্দিরের বিশাল আঙিনাজুড়ে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। সেখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা হচ্ছে ১৬০টি দেব-দেবীর প্রতিমা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে ইতিবাচক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে দেশের গুণীজনদের ছবি ও বিভিন্ন উপদেশমূলক বাণী গাছ ও আশপাশের এলাকায় টানানো হয়েছে। এ কারণে প্রতিবছর পূজাকে ঘিরে হালদার বাড়িটি দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণের জায়গায় পরিণত হয়।
আয়োজকেরা জানান, পূজায় ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি সামাজিক কার্যক্রমও থাকবে। দর্শনার্থী মায়েদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার থাকবে। সেখানে প্রতিদিন স্যানিটারি প্যাড বিতরণ করা হবে। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং অন্যান্য সমাজসেবামূলক কার্যক্রমও থাকবে।
২০১৬ সালে ৪০টি প্রতিমা দিয়ে এ পূজার আয়োজন শুরু করেন সুদীপ-স্নিগ্ধা দম্পতি। মোড়েলগঞ্জের একটি বড় পূজা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা নিজেদের বাড়িতে এই আয়োজন শুরু করেন। এরপর প্রতিবছরই বেড়েছে আয়োজনের পরিসর। গত কয়েক বছরে প্রতিমার সংখ্যা তিন শতাধিক পর্যন্ত হয়েছিল।
ডা. সুদীপ কুমার হালদার বলেন, "লক্ষাধিক মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই উৎসব। দুর্গাপূজাকে সব ধর্মের মানুষের মিলনক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজের ইতিবাচক বিষয়গুলো মানুষের সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করছি।"
ডা. স্নিগ্ধা চক্রবর্তী বলেন, "ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুরে গণভোজের আয়োজন করা হয়। এতে শত শত মানুষ অংশ নেন। পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে মানুষকে খাওয়াতে পেরে আমরা আনন্দ পাই।"
মাগুরা জেলার প্রতিমা নির্মাণশিল্পী উজ্জ্বল বিশ্বাস গুরু জানান, "মন্দিরে দুই বছর ধরে কাজ করছি। চার থেকে পাঁচ মাসের পরিশ্রমে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করেছি। এত বড় আয়োজন তার জানা মতে আর কোথাও হচ্ছে না। বড় এই আয়োজনের সঙ্গে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।"
এদিকে, পূজাকে ঘিরে মঠবাড়িয়া থানার পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, আনসার, স্বেচ্ছাসেবকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মন্দির ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমার প্রেক্ষাপটে মধ্যরাতে হঠাৎ করে বাড়ানো জ্বালানি তেলের মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি উত্থাপন করেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বর্তমানে নিম্নমুখী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকার সংকট মোকাবিলায় দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে দায়িত্ব গ্রহণের ৭ মাসের মাথায় ২ দফা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে যাতায়াত, যোগাযোগ, পণ্য ও যাত্রী পরিবহনসহ শিল্প উৎপাদনে ভাড়া ও মূল্য বৃদ্ধি করার মতো গণবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংগঠনটি জরুরী ভিত্তিতে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে পূর্বের মূল্য বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সরকার জনস্বার্থে কোথাও ব্যবসা করবে, কোথাও ভর্তুকি দেবে, এটাই বাস্তবতা। দেশের এই চরম আর্থিক সংকটের মুহূর্তে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিয়ে দেশের অর্থনীতি সচল রাখা এবং মূল্যস্ফীতি কমানোর মাধ্যমে সংকটাপন্ন জনগণের পাশে থাকা সরকারের দায়িত্ব বলে স্মরণ করিয়ে দেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পৃথক দুটি গ্রামে শিয়ালের আক্রমণে নারী ও শিশুসহ ৯ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের জিগাবাড়ি ও তালুক বেলকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। একসঙ্গে এতজন মানুষ শিয়ালের কামড়ে আহত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
আহতদের মধ্যে জিগাবাড়ি গ্রামের মুকুল মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৩৮), তার ছেলে রাকিবুল হাসান (১৩), ইয়াকুব আলীর ছেলে এনামুল হক (২৬), আহাদ আলীর মেয়ে আয়শা আক্তার (৩) এবং আব্দুর রহিমের ছেলে হাসান মিয়া (৭) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
অন্যদিকে, তালুক বেলকা গ্রামের জমশের আলীর স্ত্রী লিলি বেগম (৪০), মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে সাদেক হোসেন (৭০), হান্নান মিয়ার স্ত্রী আফরুজা বেগম (৩৭) এবং শফিউল ইসলামের ছেলে শাওন মিয়া (৬) শিয়ালের কামড়ে আহত হয়েছেন।
আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন সময় শিয়ালগুলো গ্রামে ঢুকে নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালায়। পরে আহত নয়জনকে চিকিৎসার জন্য সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
একই ইউনিয়নের দুটি গ্রামে শিয়ালের আক্রমণে একসঙ্গে ৯ জন আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই শিয়ালের হামলা থেকে নিরাপদ থাকতে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করছেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান জানিয়েছেন, শিয়ালের কামড়ে আহত নয়জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে চারজনের আঘাত গুরুতর। আহত সবাইকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে জলাতঙ্কের টিকা প্রদান করা হয়েছে। শিয়ালের আক্রমণের পর দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর আজিমপুরে সরকারি কোয়ার্টারে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত দুই আসামিকে, এক নারীসহ, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালত শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন আদালত মঞ্জুর করেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, নুরুল আমিন (৪৫) এবং লুৎফন নাহার (৪২)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নুরুল আমিন সুপ্রিম কোর্টে এমএলএসএস (পিয়ন) হিসেবে ১৬তম গ্রেডে কর্মরত।
লালবাগ থানার পরিদর্শক নাজমুল হোসেন দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী জামিনের আবেদন করেননি। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক ছিদ্দিকুর ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। লুৎফন নাহার তাদের পূর্বপরিচিত এবং একই এলাকায় বসবাস করেন। আর্থিক সংকটের কারণে প্রায় এক মাস আগে ওই তরুণী লুৎফন নাহারের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লুৎফন নাহার তরুণীকে আজিমপুর চায়না বিল্ডিংয়ের সরকারি কোয়ার্টারের পঞ্চম তলায় নুরুল আমিনের বাসায় নিয়ে যান। ওই সময় বাসায় নুরুল আমিন ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। পরে লুৎফন নাহার তরুণীকে সেখানে রেখে বাইরে অপেক্ষা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে একা পেয়ে নুরুল আমিন তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। এ সময় তরুণীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে লুৎফন নাহারও সেখানে আসেন এবং মামলায় ধর্ষণের ঘটনায় তাকে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে লালবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণী ও দুই আসামিকে থানায় নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর কাছে মোবাইল ফোন না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী খিলগাঁও থানা পুলিশের সহায়তায় পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়।
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত চলমান থাকায় তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। মামলাটির তদন্ত চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনার কয়রায় অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় মৃত্যুর প্রহর গুণছিলেন স্থানীয় বামিয়া শ্রীফলতলার হারুন সানার স্ত্রী দুলিপা পারভীন ও তার শিশু সন্তান হোসাইন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের নজরে আসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত তাদের ভিডিও।
পরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত জেডআরএফের প্রোগ্রাম পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহর মাধ্যমে খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও খুলনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীকে তাদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
সে মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় মা ও তার শিশু সন্তান ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। বর্তমানে তারা কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, বিষয়টি শনিবার রাতে আমাকে ফোনে জানানো হয়। তাৎক্ষণিক আমি প্রতিনিধি পাঠিয়ে তাদের তথ্য সংগ্রহ করি। গতকাল রোববার সকালে মা ও শিশুকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
জেডআরএফের সদস্য ডা. এম আর হাসান ও কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রেজাউল করিম রাজিবের তত্বাবধানে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। মা ও শিশুটির দ্রুত আরোগ্যে লাভের জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা আমাদের পক্ষ থেকে অব্যাহত থাকবে।
হারুন সানা জানান, তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার বামিয়া শ্রীফলতলায়। অভাব-অনটনের সংসারে চরম আর্থিক সংকটে পড়ায় স্ত্রী দুলিপা পারভীন ও শিশু সন্তান হোসাইনের চাহিদা অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে পারেননি। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তাদের পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণীর সহযোগিতায় এখন হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রেজাউল করিম রাজিব জানান, ওই নারী পুষ্টিহীনতার কারণে দুর্বল এবং যৌনাঙ্গের বাইরে একটা ফোঁড়া হয়েছিল। ফোঁড়াটা এখন ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে। আর তার শারীরিক পুষ্টির জন্য মাল্টিভিটামিন স্যালাইনসহ অন্যান্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে। বাচ্চার চিকেন পক্স হয়ে শরীর ও মুখে সাদা স্পট পড়ে গেছে। যা একটা সময় পর ঠিক হয়ে যাবে। তার জন্য হাসপাতাল থেকেই বিশেষ পুষ্টির দুধ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মা ও শিশু দুজনই স্বাভাবিক আছে।
অসহায় পরিবারের আকুতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চিকিৎসার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় এ পরিবারটিতে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন চিকিৎসার মাধ্যমে দুলিপা পারভীন ও তার শিশু সন্তান হোসাইন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে-এটাই তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রত্যাশা করছেন। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ