বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:৪৯ পি.এম
নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় সেফটি ট্যাংক খননের সময় প্রায় ২০ ফুট গভীর গর্তে মাটি ধসে আটকে পড়া এক শ্রমিককে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর ফোনকলের পরে জীবিত উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বুধবার (২২ জুলাই) রাত ৮টা ৫৭ মিনিটে বেলাবো থানার বাড়িচা কুকুরমারা এলাকার শান্তিপুরে হারুন মিয়ার বাড়িতে সেফটি ট্যাংক খননের সময় এক শ্রমিক মাটি ধসে ২০ ফুট গভীরে আটকা পড়েন। পরে স্থানীয় একজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে দ্রুত উদ্ধারের সহায়তা চান।
খবর পেয়ে ৯৯৯ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নরসিংদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনকে বিষয়টি জানানো হয়। এ সময় ৯৯৯-এর কলটি গ্রহণ করেন কল টেকার কনস্টেবল উজ্জ্বল মিয়া। উদ্ধার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট ফায়ার স্টেশনের সঙ্গে সমন্বয় ও তদারকি করেন ৯৯৯-এর ফায়ার ডিসপাচার ফায়ার ফাইটার মো. মেহেদী হাসান।
সংবাদ পেয়ে নরসিংদী ও বেলাবো ফায়ার স্টেশনের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডিএম শিমুল মোহাম্মদ রাফির নেতৃত্বে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে এক্সকাভেটরের সাহায্যে মাটি সরিয়ে প্রায় ২০ ফুট গভীর থেকে মোশারফ হোসেন (৪০) নামে ওই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর তাকে বেলাবো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মোশারফ হোসেন নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার বাসিন্দা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মামলাটির জন্য তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ ওই দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে সক্ষম হননি। তাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা নতুন তারিখ ৩০ আগস্ট নির্ধারণ করেন।
এ সম্পর্কিত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম।
এর আগে, ২০ মে সালমান শাহর মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের উদ্দেশ্যে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করেন যাতে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। ২৪ মে, আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন এবং ময়নাতদন্তের জন্য অনুমতি প্রদান করে।
পরে, ওই আদেশ বাতিল চেয়ে বাদীপক্ষ আবেদন করলে আদালত ওই আবেদনটি নথিভুক্ত করে।
২২ জুন, সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিরূপণের জন্য তার দেহাবশেষ উত্তোলনে সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই সংক্রান্ত অফিস আদেশের অনুলিপি ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে তা নথিভুক্ত করা হয়।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ মৃত্যু বরণ করেন। ওই সময়ে তাঁর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে, ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই, তিনি অ্যাসিডের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ তুলে মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে সিআইডি অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগও তদন্ত করে। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর, সংস্থাটি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে, এবং ২৫ নভেম্বর আদালত ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে।
তবে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমান শাহের বাবা রিভিশন মামলা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর মামলাটি পরিচালনা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। শেষ পর্যন্ত আদালত বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে ঘটনাটি হত্যামামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এ প্রসঙ্গে, রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হক, তাঁর মা লতিফা হক লিও (লুসি), অভিনেতা আশরাফুল হক ডন, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের পৌরসভার আটিয়াতলি এলাকায় অহরহ চুরির ঘটনা ঘটিতেছে। চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা সুজন নামে এক যুবকের সম্পর্কে অভিযোগ করছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আটিয়াতলি মামুনের দোকান এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দারা সুজনের বিরুদ্ধে চুরির বিষয়ে অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত সুজন একই এলাকার বাসিন্দা। এলাকাবাসীর দাবি, সুজন এলাকা ঢুকলেই চুরির ঘটনা ঘটে থাকে। তিনি বাড়ির হাঁড়ি-পাতিল থেকে শুরু করে অন্যান্য জিনিসপত্র চুরি করেন। সাম্প্রতিক সময়ে পুকুরের মাছ, একটি ঘরের হাঁড়ি-পাতিল, মোবাইল ও মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা জানান, স্থানীয় খাসের বাড়ির কামাল হোসেনের মোটরসাইকেল, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার, আব্দুল গফুরের অটোরিকশা, তামান্নার মোবাইল, ইব্রাহিমের বাইসাইকেল এবং শাহাদাতের পুকুরের মাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে। মাছ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত সুজন নাজিম উদ্দিন নামে এক দোকানিকে মারধর করেন। পরে স্থানীয় লোকজনও সুজনকে মারধর করেছেন।
ভুক্তভোগী মো. ইব্রাহিম বলেছেন, "সুজন এলাকায় এলেই চুরির ঘটনা ঘটছে। আমার বাইসাইকেলটি চুরি হয়ে গেছে।" দোকানি নাজিম উদ্দিন বলেন, "সুজন মাদকসেবী এবং ব্যবসা করে। মানুষের বাড়ির হাঁড়ি-পাতিল থেকে শুরু করে চোখের সামনে যা পায় সবই চুরি করে। তার যন্ত্রণায় মানুষ অতিষ্ঠ।" অটোরিকশাচালক আব্দুল গফুর জানিয়েছেন, "আমার নতুন অটোরিকশাটি চুরি করে নিয়ে গেছে। স্থানীয় গণ্যমান্যদের কাছে বিচার দিয়েও কোনো লাভ হয়নি।"
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে মো. সুজনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মারধরের কারণে সুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেছেন, "চোর-ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যদি সুজন চুরির ঘটনায় জড়িত থাকে, তবে তদন্তের মাধ্যমে অবশ্যই তাকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মৃত্যুর পর দাফন হবে কি না, এই অনিশ্চয়তাকে মাথায় রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের আয়েশা বেগম (৭০) নিজেই নিজের কবর খুঁড়ে রেখেছেন। এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা ঘটে গেছে জেলার সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বড়বালিয়া পাইকারমনি গ্রামে।
জানা গেছে, স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি দীর্ঘকাল ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বড়বালিয়া পাইকারমনি গ্রামে একা জীবন যাপন করছেন।
স্থানীয়দের মতে, তিন ছেলে সম্পত্তি নিজেদের নামে হওয়া পর থেকে তারা মায়ের খোঁজ-খবর রাখার বিষয়ে প্রায় পুরোপুরি অবহেলা করেছেন। পরে মায়ের সংকটের সময়, তিনি ছেলেদের বাড়ি ছেড়ে স্বামীর দেয় জমিতে একটি জরাজীর্ণ ঘরে আশ্রয় নিয়ে আছেন। সেই ঘরের পাশেই তিনি নিজের কবরটি তৈরি করেছেন।
তারা আরও জানান, বৃদ্ধার ছেলেরা অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট সচ্ছল এবং ব্যবসায় যুক্ত হলেও, মায়ের ভরণপোষণের দায় তাদের কাছে নেই। এমন বিষয় নিয়ে কেউ কথা বললে, তাদের গালিগালাজের শিকার হতে হচ্ছে।
আয়েশা বেগম বলেছেন, "পৃথিবীতে আমি অনেক কষ্ট করে সন্তানদের মানুষ করেছি, কিন্তু এখন কেউ আমার খোঁজ নেয় না। প্লাবিত আবহাওয়ার মধ্যে ঘরে পানি পড়ে, অনেক সময় আমি খালি পেটে থাকতে বাধ্য হই।"
এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বৃদ্ধা মায়ের সাহায্যে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে আয়েশা বেগমের দুই ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনায় একটি যৌথ অভিযানে প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (২২ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেড়া পৌর এলাকার নাজিম বাজারের মোল্লা সুপার মার্কেটে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূরেন মায়িশা খান। এসময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোকাররম হোসেন এবং বেড়া মডেল থানার একটি দলও উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, অভিযান চলাকালে মোল্লা সুপার মার্কেটের একটি গোডাউন থেকে প্রায় ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ৩০০টি চায়না দুয়ারী জব্দ করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূরেন মায়িশা খান গণমাধ্যমকে জানান, গোডাউনের মালিকপক্ষের অসহযোগিতার কারণে অভিযানে পরিচালনা করতে প্রায় চার ঘণ্টা লেগে যায়। উদ্ধার করা অবৈধ জাল ও চায়না দুয়ারী থানায় হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মার্কেটের ম্যানেজার মকরম বলেন, যেসব ব্যবসায়ী ওই মার্কেটের কক্ষ ভাড়া নিয়েছেন, তাদের অধিকাংশ বেড়া বাজারে মনোহারি, ফিল্টার নেট, সুতা কিংবা মুদি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারা ভাড়া নেওয়া কক্ষগুলো গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছিলেন এবং সেখানে অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী মজুত রাখা হয়েছিল। তিনি জানান, এ খবর তিনি জানতেন না।
দোকান ভাড়ার সময় লিখিত চুক্তিপত্র করা হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে মকরম বলেন, এ বিষয়ে মার্কেটের মালিকই ভালো বলতে পারবেন।
মার্কেটের মালিকের ছেলে লিটন জানান, ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে তাদের বার্ষিক ভিত্তিতে ভাড়ার হিসাব হয়। তারা সুতা ব্যবসার আড়ালে অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারের ব্যবসা পরিচালনা করছে- এ তথ্য তাদের জানা ছিল না।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ার ব্যবহার করে মাছ শিকার জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ