১২:১৩ পি.এম
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গভীর রাতে ডাকাতের হামলার কারণে রিগান আক্তার মিম নামে এক গৃহবধূ মারা গেছেন। পাশাপাশি আহত হয়েছেন একই পরিবারের অপর গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার (২৪)।
বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর রাতে শাহরাস্তি পৌরসভাধীন বাত্তলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূ রিগান আক্তার মিম (২৬) সে গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ। তাঁর আড়াই বছর বয়সী কন্যা সাইফা ও চার মাসের ছেলে সিরাজ রয়েছে। গৃহবধূর স্বামী রনি ঢাকায় চাকরি করেন। ঘটনার সময় বাড়ির অভ্যন্তরে দুটি গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু উপস্থিত ছিল।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
আহত গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার জানিয়েছেন, রাত ১২টার পরে তিনি নিজের কক্ষের মধ্যে তিন মাস বয়সী সন্তানসহ ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে দালানের জানালা ভেঙে সেখানে ঢুকে মুখ বাঁধা দুই ব্যক্তি তাকে ও তার শিশুকে ছুরির মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র দিতে বলেছিল। তিনি আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র দিতে চাইলে ডাকাতেরা তার ওড়না দিয়ে হাত বাঁধে এবং হাতুড়ি দিয়ে মাথায় দুই দফা আঘাত করে। পরে তাদের কাছে থেকে তার কানের দুল, আলমিরা থেকে অন্য একটি জোড়া দুল এবং একটি আংটি নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ডাকাতেরা পাশের রুমে চলে যায়।
সুমাইয়া আরও জানান, পাশের কক্ষে বড় জায়ের কান্নার শব্দ শুনতে পেলেও বাঁধা অবস্থায় তার সাহায্য করার ক্ষমতা ছিল না।
পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, রাতে তিনি বাড়ির লোহার গেটে তালা লাগিয়ে চাবি টেবিলের ওপর রেখেছিলেন এবং ঘুমিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে তিনি জেগে উঠে গেট খুলতে গিয়ে দেখেন গেটটি ভেতর থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।
প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন বলেন, মিমের ঘর থেকে আর্তচিৎকার শুনে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঘরের ভেতর ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে জানালায় ডাকাডাকি করলেও কোন সাড়া পাননি। তখন ডাকাতির ঘটনা সন্দেহ হলে তিনি কয়েকজন প্রতিবেশীকে খবর দেন। পরে মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয়রা বাড়িটি ঘিরে পূর্ব পাশের একটি জানালার কপাট খোলা দেখতে পান। ভেতরে তাকিয়ে মিমকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। চেয়ারম্যান (দাদা শ্বশুর) গেট খুলে দিলে তারা ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে ছোট গৃহবধূকে বাঁধা অবস্থায় কান্না করতে দেখা যায়। পরে অপর কক্ষে গিয়ে মিমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। স্থানীয়রা ওড়না খুলে তাকে জাগানোর চেষ্টা করলেও কোন সাড়া পাননি। খবর পেয়ে চিকিৎসক এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এদিকে, খবর পেয়ে নিহতের বাবা-মা এবং অন্যান্য স্বজনরা ঘটনাস্থলে আসেন। দুই শিশু সন্তানকে বুকে জড়িয়ে তাদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
ডাকাতি এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মকর্তারা ছুটে যান। এরই মধ্যে পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, "ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।"
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, "ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের পর আইনের আওতায় নেওয়া হবে।"
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন