ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাথরঘাটায় ৫০ ফুট উঁচু তালগাছে বজ্রপাতে আগুন, বৃষ্টিতে নিয়ন্ত্রণ


পাথরঘাটায় ৫০ ফুট উঁচু তালগাছে বজ্রপাতে আগুন, বৃষ্টিতে নিয়ন্ত্রণ

বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বজ্রপাতে একটি ৫০ ফুট উঁচুতালগাছে আগুন লেগে গেছে এবং আগুন দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে। সোমবার (২৯ জুন) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে এ ঘটনার সূচনা ঘটে। যদিও কিছুক্ষণ পর শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টির কারণে আগুনটি নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পনু মোক্তারের বাড়ির সামনের বিশাল আকৃতির তালগাছটিতে হঠাৎ বজ্রপাত হলে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ধরে যায়। গাছটি অত্যন্ত উঁচু হওয়ায় স্থানীয়দের পক্ষে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। তারা নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বজ্রপাতের বিকট শব্দের পর তালগাছের মাথা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো গাছটি জ্বলতে শুরু করে।

পরে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হলে আগুন ধীরে ধীরে নিভে যায়। স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বজ্রপাতের শব্দ ছিল অত্যন্ত বিকট। মুহূর্তেই গাছে আগুন ধরে যায়। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সবাই নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে ঘটনাটি দেখেছেন। স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ জানান, বজ্রপাতের শব্দ ছিল অত্যন্ত বিকট। মুহূর্তেই গাছে আগুন ধরে যায়। আগুনের শিখা দেখে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সবাই নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে ঘটনাটি দেখেছেন। পরিবেশকর্মী মির্জা শহিদুল ইসলাম খালিদ বলেন, এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে অবস্থান না করে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। বিশেষ করে বৈরী আবহাওয়ায় বড় গাছ ও খোলা মাঠ এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুলাদীতে মাছি উড়তেই মিলল মাটিচাপা লাশ, স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ এম


মুলাদীতে মাছি উড়তেই মিলল মাটিচাপা লাশ, স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

এক ব্যক্তি নিখোঁজ ছিলেন তিন দিন ধরে। তার পরিবার সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। এতে হতাশ হয়ে স্বজনরা বাড়ির পাশে মাছির উড়ন্ত অবস্থার দিকে নজর দেন। সন্দেহ হলে মাটি খুঁড়লে একটি হাত বেরিয়ে আসে। পরে পুলিশ এসে মাটিতে চেপে রাখা নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। সোমবার (২৯ জুন) বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরমালিয়া গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে (৪২) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তি মো. হারুন হাওলাদার (৬০) ছিলেন চরমালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। নিহতের ছেলে এইচ এম জাফর হাওলাদার জানান, তার বাবা ২৭ জুন রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার মা মাধ্যমে খবর পাওয়া যায়, গভীর রাতে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি বাড়িতে এসে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির সময় তার বাবাকে মুখ বেঁধে নিয়ে যায় তারা। পরবর্তীতে থানায় অপহরণের অভিযোগও করা হয়েছিল। জাফর বলেন, এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও বাবার সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে রান্নাঘরের পাশে মাছির উড়ান দেখে তিনি সন্দেহ করেন। তখন সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি করলেও গর্তের নিচ থেকে একটি হাত বের হয়। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে।

জাফর হাওলাদার আরও জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশ তার মাকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছিল। মোবাইল ফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে তার মাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। আরও অভিযোগ করেন, তার মা এবং তার কথিত পরকীয়ার এক সহযোগী মিলে তার বাবাকে হত্যা করে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কারো নাম বলতে রাজি হননি তিনি। মুলাদী থানার ওসি কেএম সোহেল রানা বলেন, নিখোঁজ হারুন হাওলাদারের মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালের গৌরনদীতে রাতের অন্ধকারে ৮০টি কলাগাছ কাটার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৮ এম


বরিশালের গৌরনদীতে রাতের অন্ধকারে ৮০টি কলাগাছ কাটার অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী শহরের গৌরনদীরে রাতের আঁধারে কলা বাগানে ছোট-বড় মিলে প্রায় ৮০টি কলাগাছ কেটে ফেলার একটি অভিযোগ উঠে এসেছে। এতে গাছের মালিকের প্রায় অর্ধলাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ ঘটনায় সোমবার (২৯ জুন) দুপুরের সময় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী বাগান মালিক এবং দক্ষিণ গোবর্ধন গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ কামরুজ্জান অভিযোগ করেন যে, গোবর্ধন বকুলতলা মসজিদ সংলগ্ন ২৪ শতক সরকারি জমি লিজ নিয়ে তিনি শতাধিক কলাগাছ রোপণ করেছিলেন। গাছগুলো কলার মোচা বের হওয়ার উপযোগী হয়ে উঠেছিল। সোমবার সকালে তিনি বাগানে এসে দেখেন, ৮০টি কলাগাছ কে বা কারা কেটে ফেলেছে। অন্ধকারে রোববার দিবাগত রাতের সময় ধারালো কিছু দিয়ে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে জমি নিয়ে তার বিরোধ রয়েছে। এর আগে এ পক্ষটি জোরপূর্বক তার পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি ধারণা করেন, তার প্রতিপক্ষ রাতের অন্ধকারে শত্রুতার জেরে এ কাজটি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা হালান সরদার মন্তব্য করেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের শত্রুতা থাকতে পারে, কিন্তু গাছের সঙ্গে এমন শত্রুতা কেমন? যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা উচিত। গৌরনদী মডেল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযোগের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝালকাঠিতে যুবলীগ নেতা জাকিরসহ ৪ জনের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০০ এম


ঝালকাঠিতে যুবলীগ নেতা জাকিরসহ ৪ জনের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

ঝালকাঠির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম জাকিরসহ চারজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন এবং তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ জারি করেছেন।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা আড়াইটার সময় ঝালকাঠি জেলা কারাগার থেকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম জাকির, যিনি পরিচিত জিএস জাকির নামে, যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান মুন্না, শাহাজাদা পরাগ, এবং রাজাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব রুবেলকে ঝালকাঠির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম কবির আহমেদ এর আদালতে হাজির করা হয়।

এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার পতনের পর ঝালকাঠি সদর থানায় ছাত্রলীগ নেতা সুমন মণ্ডল কর্তৃক আনীত একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় আসামিদের পক্ষে জামিন আবেদনের জন্য আইনজীবী বনি আমিন বাকলাই তাদের পক্ষে দাঁড়ান।

শুনানি শেষে, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম কবির আহমেদ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে চারজনকে পুনরায় ঝালকাঠি জেলা কারাগারে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তাঁদের বিরুদ্ধে ঢাকার নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলাসহ ঝালকাঠির একাধিক বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এর আগে, ১৮ জুন রাজধানীর বিএমইউ হাসপাতালের সামনে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা রেজাউল করিম জাকির, মেহেদী হাসান মুন্না, শাহাজাদা পরাগ ও আহসান হাবিব রুবেলকে আটক করেন। পরে গত শনিবার (২৭ জুন) তাঁদের ঝালকাঠি জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। আজ তাদের সেখান থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

রেজাউল করিম জাকির ঝালকাঠি পৌর শহরের বিকনা এলাকার একজন বাসিন্দা এবং মো. সুলতান হাওলাদারের ছেলে। তিনি ২০২০ সালের ৬ আগস্ট থেকে জেলা যুবলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এছাড়াও তিনি ঝালকাঠি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী বনি আমিন বাকলাই সাংবাদিকদের জানান, আসামিদের পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়েছিল কিন্তু আদালত শুনানি শেষে আবেদনটি নামঞ্জুর করেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৬ মাস ধরে বন্ধ একমাত্র সি-ট্রাক, জীবনঝুঁকি নিয়ে মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন মনপুরাবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ এম


৬ মাস ধরে বন্ধ একমাত্র সি-ট্রাক, জীবনঝুঁকি নিয়ে মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন মনপুরাবাসী

সাগরকূলের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় যাতায়াতের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মাধ্যম বিআইডব্লিউটিসি-এর সি-ট্রাকটি দীর্ঘ ৬ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।

ফলে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শত শত যাত্রী। প্রমত্তা মেঘনার ‘ডেঞ্জার জোনে’ সি-সার্ভে (সমুদ্র চলাচল উপযোগী সনদ) ব্যতীত যেকোনো সাধারণ নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ মালবাহী ট্রলারে চড়ে প্রতিদিন উত্তাল নদী পাড়ি দিচ্ছেন দ্বীপের বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠেছে, এই ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন বা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কোনো ধরনের তদারকি নেই। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার আগেই জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ নৌযান বন্ধ করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

শনিবার (২৭ জুন) সরেজমিনে তজুমদ্দিন ঘাটে গিয়ে দেখা যায় এক ভয়ানক চিত্র। মনপুরা থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে তজুমদ্দিন ঘাটে এসে পৌঁছায় পণ্য পরিবহনের একটি কাঠের ট্রলার। ট্রলারটির কোনো ফিটনেস সার্টিফিকেট বা যাত্রী পরিবহনের বৈধ অনুমতি নেই। ত্রিপল দিয়ে ঢাকা ট্রলারের খোন্দলের (ভেতরের অংশ) ভেতরেই গাদাগাদি করে বসে আছেন নারী ও শিশুরা। এরপর বিকেল ৩টায় ফিরতি ট্রলারে আবারো তোলা হয় শতাধিক যাত্রী। যেখানে বসার কোনো সুব্যবস্থা বা লাইফ জ্যাকেটের মতো ন্যূনতম নিরাপত্তা সরঞ্জাম নেই। একই খোন্দলে মানুষের সঙ্গে গাদাগাদি করে নেওয়া হচ্ছে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও ভারী মালামাল। প্রচণ্ড গরম ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও জীবন হাতে নিয়ে মেঘনা পাড়ি দিচ্ছে এই মানুষগুলো। ভুক্তভোগী যাত্রী মনপুরা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আমিমুল এহসান জসিম তার স্ত্রীকে নিয়ে ট্রলারে বসার জায়গা না পেয়ে দীর্ঘক্ষণ পন্টুনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সময় সংবাদকে বলেন, ‘এই ট্রলারে যাত্রা করা চরম এক ভোগান্তি আর মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার নাম। বাধ্য হয়ে মনপুরার মানুষ গত ৬ মাস ধরে এভাবে যাতায়াত করছেন। একাধিকবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে সি-ট্রাকটি বন্ধ রাখা হয়েছে। মনপুরার মানুষের স্থায়ী স্বস্তির জন্য এই রুটে একটি নতুন ও আধুনিক সি-ট্রাক বরাদ্দ দেওয়া হোক।’

স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে মনপুরা যাওয়ার জন্য ঘাটে আসা হাজিরহাট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তপন চন্দ্র হাওলাদার ট্রলারের দুরাবস্থা ও নদীর উত্তাল ঢেউ দেখে ভয়ে ট্রলারে উঠতেই সাহস পাননি। তিনি বলেন, ‘মনপুরার প্রতিটি মানুষ প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।

উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা আলী আকবর বলেন, ‘মাঝনদীতে হঠাৎ ঝড়-বাদল শুরু হলে নারী ও শিশুদের কান্নার রোলে ট্রলারের ভেতর এক নারকীয় পরিবেশ তৈরি হয়। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষ আইন ভাঙতে বাধ্য হচ্ছে।’ ঘাট সূত্রে জানা গেছে, তজুমদ্দিন-মনপুরা রুটে নিরাপদ পারাপারের জন্য বিআইডব্লিউটিসির ‘এসটি ইলিশা’ নামের একটি সি-ট্রাক বরাদ্দ ছিল, যা গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে অচল পড়ে আছে। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘ ৮ মাস মেঘনা নদীর ১১০ কিলোমিটার এলাকাকে ‘ডেঞ্জার জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে সি-সার্ভে সনদ ছাড়া কোনো নৌযানে যাত্রী পরিবহন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ মনপুরা-তজুমদ্দিনসহ ভোলার ১০টি রুটে এই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি উপেক্ষা করে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করা হচ্ছে। যোগাযোগ করা হলে বিআইডব্লিউটিসির উপ-বাণিজ্য ব্যবস্থাপক (যাত্রী) খন্দকার মুহাম্মদ তানভী হোসেন সময় সংবাদকে বলেন, ‘মূলত যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ইজারা সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে সি-ট্রাকটি বন্ধ ছিল। তবে আমরা সব জটিলতা কাটিয়ে উঠেছি। শিগগিরই এই রুটে পুনরায় সি-ট্রাক চালু করা হবে।’ এদিকে, সম্প্রতি ভোলা সফরকালে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্বীপ অঞ্চলের নাগরিকদের যাতায়াত সুগম করতে সরকারি বা বেসরকারি খাত—যেখান থেকে সম্ভব দ্রুততম সময়ের মধ্যে মানসম্মত জাহাজ দেওয়ার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%