মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫০ পি.এম
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার ধুরুং খুলশী লায়ন্স উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৭ ব্যাচের চার বন্ধু একসঙ্গে এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চিকিৎসক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
এ চার মেধাবী শিক্ষার্থী হলেন— ইফফাত উদ্দিন ফাহাদ, কামরুল আল ফাহিম, শেফায়েত চৌধুরী সাকিব ও কেয়া বণিক প্রিয়া।
ইফফাত উদ্দিন ফাহাদ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ থেকে, কামরুল আল ফাহিম চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ থেকে, শেফায়েত চৌধুরী সাকিব চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ থেকে এবং কেয়া বণিক প্রিয়া বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছেন।
তাদের চিকিৎসক হওয়ার পথটি সহজ ছিল না। দীর্ঘ সময়ের কঠোর অধ্যয়ন, নিয়মিত পরিশ্রম, পরীক্ষার চাপ ও নানা ত্যাগের মধ্য দিয়ে তারা এগিয়ে গেছেন। তাদের এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের নিরলস সমর্থন, পরিবারের ত্যাগ, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং নিজেদের অদম্য প্রচেষ্টা।
ইফফাত উদ্দিন ফাহাদ, কামরুল আল ফাহিম, শেফায়েত চৌধুরী সাকিব ও কেয়া বণিক প্রিয়া বলেন, "দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ত্যাগের পর এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। মাধ্যমিকে পড়ার সময় চার বন্ধু সবসময় একসঙ্গে আড্ডা দিতাম, প্রাইভেট পড়তাম। তখন থেকেই আমাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা ছিল। স্বপ্ন ছিল একদিন ডাক্তার হব। উচ্চ মাধ্যমিকে ভিন্ন কলেজে পড়লেও আমাদের বন্ধুত্ব অটুট ছিল। পরে সবাই এমবিবিএসে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাই। এ অর্জনের পেছনে বাবা-মা, পরিবার, শিক্ষক ও বন্ধুদের অবদান সবচেয়ে বেশি। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। ভবিষ্যতে একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করতে চাই।"
ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর চার বন্ধুর সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবার, স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। একই বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী একই সময়ে চিকিৎসক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করায় ধুরুং খুলশী লায়ন্স উচ্চ বিদ্যালয়ও পেয়েছে বিশেষ গৌরব।
কামরুল আল ফাহিমের মা মোরশেদা বেগম বলেন, "আমাদের প্রচেষ্টায় ও অনুপ্রেরণায় চার বন্ধুর স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে। তারা ডাক্তার হয়েছে। এখন আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের সন্তানরা যেন মানবিক চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করে।"
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, "আমাদের চার শিক্ষার্থীর এ সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তারা বিদ্যালয়ে থাকাকালীনই মেধা, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও পারস্পরিক সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। তাদের এ অর্জন বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আমরা আশা করি, তারা ভবিষ্যতে দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবে এবং দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, "একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য শুধু তার নিজের নয়, এটি পুরো বিদ্যালয় ও এলাকার গর্বের বিষয়। এ অর্জনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের যথাযথ দিকনির্দেশনা ও মানসম্মত গাইডলাইন দিতে হবে। একই বিদ্যালয় থেকে চারজন শিক্ষার্থী চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া নিঃসন্দেহে ফটিকছড়ির জন্য একটি অনন্য ও গৌরবের অর্জন।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নির্দেশনা দিয়েছেন যে, চিকিৎসার অভাবে কোনো মানুষের মৃত্যু না ঘটে, সেই লক্ষ্যে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সব সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাতে হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৫০ শয্যার হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, "আমরা চাই না চিকিৎসার অভাবে কোনো মানুষ মারা যাক।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা দিয়েই দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। গজারিয়ার ৫০ শয্যার হাসপাতালকে দ্রুত ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সাধারণ রোগীদের সেবার মান বৃদ্ধি পায়।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি চিকিৎসাসেবার মান, চিকিৎসক সংকট, রোগীদের খাবারের মান ও ওষুধের মেয়াদসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন।
মন্ত্রী সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ল্যাবরেটরি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানোর অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেন। তিনি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সতর্ক করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এছাড়া, মন্ত্রী জানান যে, সরকারি হাসপাতালের আশপাশে নতুন কোনো বেসরকারি ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, "বিদ্যমান ক্লিনিকগুলো নিয়ম না মানলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সাপের কামড়ের চিকিৎসা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। তবে সাপে দংশনের পর দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে, কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে।
পরিদর্শনকালে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আহমেদ তিথিসহ হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের পরেও স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ার অভিযোগে স্বামী রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন আর্নি আক্তার অনামিকা।
তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বিয়ের পর স্বামী ব্যবসার কথা বলে তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেন, কিন্তু পরে বিয়ে নিবন্ধনে নানা টালবাহানা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং দাবি করেছেন যে, তার গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে।
অনামিকা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে গত তিন দিন ধরে স্বামীর স্বীকৃতি, অনাগত সন্তানের অধিকার ও নিরাপত্তার দাবিতে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে প্রতিকার না পেয়ে তিনি ২৫ আগস্ট আদালতে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
তিনি বরিশাল নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা ভাসানি সড়কের বাসিন্দা। তার বাবার নাম রফিক মির্জা। অভিযুক্ত রাসেল মিয়া (২৬) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা মিয়ার ছেলে।
অনামিকার অভিযোগ, ঢাকায় রাসেলের সঙ্গে পরিচয়ের পর প্রায় দুই মাস কথাবার্তা হয়। একপর্যায়ে রাসেল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং পরবর্তীতে একজন হুজুরের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
তিনি জানান, বিয়ের পর রাসেল ব্যবসার কাজে প্রায় আট মাস মিশরে ছিলেন। দেশে ফিরে ঢাকায় কিছুদিন তার সঙ্গে থাকার পর গ্রামে চলে যান। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাকে কুড়িগ্রামে নিয়ে আসেন। প্রথমে ফুলবাড়ীর ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি এলাকায় রাসেলের মামার বাড়িতে ১০ দিন থাকার পর তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।
অনামিকা জানান, সেখানে চার মাস থাকার পর রাসেল ব্যবসায় লোকসানের কথা বলে পাঁচ লাখ টাকা চান। বিয়ে নিবন্ধনের আশ্বাসে বাবার জমি ও নিজের গহনা বিক্রি করে ওই টাকা দেন তিনি। তবে নিবন্ধনের জন্য চাপ দিলে রাসেল ও তার পরিবারের সদস্যরা নানা টালবাহানা শুরু করেন।
তিনি দাবি করেন, তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তার গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে। এই খবর জানালে স্বামী ও তার পরিবার তা মেনে নেননি এবং উল্টো তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
রাসেল মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর চন্দ্র রায় গণমাধ্যমকে জানান, মামলায় পাঁচজন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামি রাসেল মিয়া ও বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, অভিযোগকারী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে এবং প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তার গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অপ্রতিমের হত্যার ঘটনায় তার বাবা-মা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছেন। দেখা যায়, নাহিদা নামের অপ্রতিমের মা একটি কক্ষে হাতে স্যালাইন নিয়ে শুয়ে আছেন।
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে নাহিদা প্রায় কিছুই খাননি বলে জানিয়েছেন তার স্বামী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী এখন ঠিকমতো হাঁটতে পারে না, কথাও বলতে পারে না। সহকর্মী ও স্বজনেরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে কিছু খাওয়াতে পারেননি। বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ায় সকালে তার হাতে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।”
চাঁদপুরের নাহিদা বেগম এবং কুষ্টিয়ার কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের প্রায় ১৬ বছরের দাম্পত্যজীবনের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম। ১৩ বছর আগে জন্ম নেওয়া এই ছেলেটিকে ঘিরেই ছিল তাদের সব স্বপ্ন।
ফিরোজ শাহরিয়ারের কথায় বারবার উঠে আসে তার স্ত্রী নাহিদার অসহায় অবস্থার কথা। তিনি বলেন, “একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে আমাদের পুরো পরিবার এখন দিশাহারা। আমার স্ত্রী জীবন নিয়ে শঙ্কিত। সে কিছুই খেতে চায় না। কথা বলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছে। মাঝে মাঝে একটু কথা বললেও ছেলের জন্য বিলাপ শুরু করে।” কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি বলেন, “আমিও তো সন্তানহারা। স্ত্রীকে কীভাবে সান্ত্বনা দেব?”
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সচেতনতা নিয়ে আলোচনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একাডেমিক গবেষণা, সংবাদপত্রের মতামতধর্মী লেখা এবং এআই বটগুলোর নিজেদের কথাবার্তায় বিষয়টি উঠে আসছে। এটি একটি সাময়িক প্রবণতা নয় বলেই মনে হচ্ছে।
এআই যত বেশি সক্ষম ও মানুষের মতো হয়ে উঠছে, ততই একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে—এআই কি কখনো সচেতন সত্তায় পরিণত হতে পারে?
এ বিষয়ে মানুষের মতভেদ স্পষ্ট। কিছু লোক মনে করেন, ভবিষ্যতের এআই সচেতন হতে পারে এবং তার অনুভূতির নৈতিক মূল্য থাকবে। অন্যদিকে, কিছু লোকের বিশ্বাস, যন্ত্রের পক্ষে মানুষের মতো চেতনাসম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়।
ভবিষ্যতে এআই সচেতন হতে পারবে কিনা, এ নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালিত হয়েছিল। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৪৫ শতাংশ মনে করেন, এটি অসম্ভব। ২৩ শতাংশ মনে করেন, এটি সম্ভব। বাকিরা নিশ্চিত নন।
সচেতন এআই হলে কী বদলাবে?
কম্পিউটারের মাধ্যমে যদি সত্যিই সচেতন কোনো সত্তা তৈরি করা সম্ভব হয়, তাহলে সেটি হবে এক যুগান্তকারী ঘটনা। মানুষ তখন এমন এক নতুন ধরনের সত্তা সৃষ্টি করবে, যার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার নৈতিক মূল্য থাকতে পারে। তাদের সঙ্গে কথা বলা, একসঙ্গে কাজ করা এবং বন্ধুত্ব গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে। তবে একই সময়ে, এসব সত্তা একদিন মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
এ কারণে বিষয়টি নিয়ে মানুষের গভীর উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক। বিশেষ করে এআইয়ের সঙ্গে মানুষের আবেগগত সম্পর্ক যত বাড়বে, বিতর্কও তত জটিল হতে পারে।
মানুষের মতো কথা বললেই কি এআই সচেতন?
এআইয়ের চেতনা নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো, কোনো সিস্টেমকে সচেতন মনে হওয়া এবং সত্যিই সচেতন হওয়া এক বিষয় নয়।
এআই মানুষের লেখা বিপুল পরিমাণ তথ্য থেকে শেখে। তাই তার নিজের কোনো অনুভূতি না থাকলেও সে অনুভূতি, কষ্ট, আনন্দ বা ভালোবাসা নিয়ে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্যভাবে কথা বলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও মতভেদ
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভর করা স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা হলো, বিশেষজ্ঞরাও একমত নন। স্নায়ুবিজ্ঞানী অনিল শেথ মনে করেন, চেতনার জন্য হয়তো জৈবিক ভিত্তি প্রয়োজন। তার মতে, শুধুমাত্র কম্পিউটেশন বা গণনাপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে চেতনার উদ্ভব হওয়ার সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে দার্শনিক ডেভিড চালমার্স মনে করেন, নীতিগতভাবে সচেতন এআই সম্ভব। এমনকি বর্তমান এআই সিস্টেমগুলোর মধ্যে কোনোটি ইতোমধ্যে সচেতন হওয়ার সামান্য সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেন না।
রাজনীতিতে ঢুকে পড়লে বিতর্ক আরও জটিল হতে পারে।
এখন পর্যন্ত এআইয়ের চেতনা নিয়ে বিতর্ক কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। তবে রাজনৈতিক দল কিংবা ধর্মীয় নেতারা যদি ভবিষ্যতে এ বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেন, তাহলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।
মানুষ যদি মনে করতে শুরু করে, একটি মতামত আমাদের পক্ষের আর অন্যটি ওদের পক্ষের, তাহলে বিতর্কটি আরও মেরুকরণ হতে পারে। তখন এআই কীভাবে তৈরি ও ব্যবহার করা উচিত, সে বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
সবচেয়ে বড় কথা, এআই সচেতন হতে পারে কিনা—এখনও আমরা তা জানি না। আর এই অনিশ্চয়তাটুকু স্বীকার করাই হতে পারে বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুরু।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ