০৮:৪৫ পি.এম
বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদী থেকে বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে আটক হওয়া ২৪ জেলেকে বিজিবির প্রচেষ্টায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি এবং ৬ জন রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে বিজিবির দীর্ঘ কূটনৈতিক ও সীমান্ত যোগাযোগের পর নাফ নদীর শূন্যরেখা থেকে তাদের গ্রহণ করা হয়। এরপর পরবর্তী সময়ে তাঁদের টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয় বলে সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিশ্চিত করেছে।
দেশে ফিরে আসা জেলেরা বিজিবির কাছে বন্দিদশায় নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। জেলেরা জানিয়েছেন, মিয়ানমারে আটকের পর থেকেই তাদের ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। দিনে মাত্র দুবেলা সামান্য খাবার দেওয়া হতো এবং তাদের জোরপূর্বক অবকাঠামো নির্মাণ, কৃষিকাজ ও মাটি কাটার মতো কঠিন শ্রমে বাধ্য করা হতো। কাজের গতি সামান্য কমলেই তাদের ওপর নেমে আসত মারধর। ফেরত আসা এসব জেলের মধ্যে কেউ আট মাস, আবার কেউ দীর্ঘ দুই বছর ধরে বন্দি ছিলেন।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে অনেক জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার জলসীমায় ঢুকে পড়েন। তখন তাদের আটক করে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি।
বিজিবি অধিনায়ক জানান, মানবিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩৪৮ জন জেলেকে মুক্ত করে দেশে আনা সম্ভব হয়েছে। আজ ফেরত আনা ২৪ জনকে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত মোট ৪৩৪ জন জেলে আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছেন। এখনো বিজিবির জোর তৎপরতা সত্ত্বেও বিদেশের মাটিতে ৮৬ জন জেলে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তাদেরও দ্রুত স্বদেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন