০৭:৫২ পি.এম
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গোপনে বিয়ে দেওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর, তার পিতা প্রকাশ্যে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলেন। খবর পেয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন কিশোরীর পিতাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে।
শুক্রবার কালীগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুনশুরপুর এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মুনশুরপুর এলাকার মৃত আব্দুল মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ রাকিব (৩৪)। বাল্যবিয়ের শিকার কিশোরী হচ্ছে তার নিজের মেয়ে, যে স্থানীয় মসলিন কটন মিল উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
মোবাইল কোর্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার মুনশুরপুর এলাকায় রাকিবের বাড়িতে তার কিশোরী মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছিল। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই করেন।
জন্মসনদ যাচাই করে দেখা যায়, কনের প্রকৃত বয়স ১১ বছর ৯ মাস ১২ দিন। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো মেয়ের বিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। আরও জানা যায়, প্রকৃত বয়সের তথ্য গোপন করে নরসিংদী জেলা আদালতের একজন (নোটারি পাবলিক) আইনজীবীর মাধ্যমে গত ৯ জুলাই বিবাহের ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করা হয়। এতে পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের আফিজ উদ্দিনের ছেলে আরিফ মিয়ার সঙ্গে কিশোরীর বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। ওই ঘোষণাপত্রে কনের জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয় ২০০৭ সালের ১২ অক্টোবর; অর্থাৎ প্রকৃত বয়সের চেয়ে প্রায় সাত বছর বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল।
নথিপত্র যাচাই শেষে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারা অনুযায়ী কিশোরীর বাবা রাকিবকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন