শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০২ পি.এম
ব্রাজিল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাদের প্রথম প্রীতি ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বিশ্বকাপের পর। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও শেষ মুহূর্তে গোল করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সম্মান রক্ষা করেছেন রায়ান। ফলে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ৬৮ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার নেস্তোরি ইরানকুন্ডা প্রথম গোলটি করেন। পরে যোগ করা সময়ের ৯০+৫ মিনিটে রায়ান ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান।
প্রথমার্ধে লাতিন আমেরিকার দেশটি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে কোনো গোল করতে পারেনি। তবে তারা তখন পর্যন্ত গোল হজমও করেনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এস্তেভাও অস্ট্রেলিয়ার জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে রেফারি গোলটি বাতিল করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। কিন্তু তারা গোলের দেখা পাচ্ছিল না। বরং ৬৮তম মিনিটে নেস্তোরি ইরানকুন্ডা ব্রাজিলের জালে বল পাঠান।
গোল পরিশোধের জন্য ব্রাজিল মরিয়া হয়ে ওঠে। বারবার আক্রমণ করলেও ফিনিশিংয়ে অভাবে জালের দেখা পাচ্ছিলেন রাফিনিয়ারা। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ব্রাজিল কর্নার পায়।
সেখান থেকে রাফিনিয়ার দুর্দান্ত শটে হেডে বল জালে পাঠান রায়ান। তিনি শেষ বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়েছেন। এবার প্রীতি ম্যাচে গোল করে আনচেলত্তির জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় দুই দল ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার ভর্তির প্রক্রিয়ায় কম সিজিপিএ থাকলেও গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ বিদ্যমান। তবে, কম পয়েন্ট নিয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া এবং টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার খরচসহ পূর্ণ ফান্ডিং অর্জন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
আবেদন করার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্য বা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের নিজস্ব শর্তাবলী যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক এবং বিভাগভেদে ভর্তির ন্যূনতম পয়েন্ট ও ফান্ডের নিয়মে বড় ধরনের তারতম্য দেখা যায়।
যেমন, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ইস্ট বে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম ২.৫ জিপিএর সমতুল্য ফল নির্ধারণ করেছে। তবে, বিভাগীয় শর্তগুলো আলাদাভাবে পূরণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অন্যদিকে, ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের মনোবিজ্ঞান বিভাগে ২.৫ জিপিএ চাওয়া হলেও শিক্ষা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কিছু প্রোগ্রামে অন্তত ২.৭৫ না থাকলে বিশেষ আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করতে হয়, যা সরাসরি ভর্তির নিশ্চয়তা দেয় না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পরামর্শক সংস্থা ‘এডুকেশনইউএসএ’ জানায়, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে টিউশন ছাড় ও ভাতা পাওয়া সম্ভব। তবে, বেশিরভাগ স্কলারশিপ মোট খরচের কেবল একটি অংশ বহন করে। তাই, ভর্তির সুযোগ থাকা মানেই পূর্ণ ফান্ডিং পাওয়া নয়।
এ ছাড়া, অনলাইনে বহুল আলোচিত ‘ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপল’ কোনো প্রথাগত ক্যাম্পাসে পড়াশোনার প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। প্রতিষ্ঠানটিতে টিউশন ফি না থাকলেও গ্র্যাজুয়েট কোর্সে অ্যাসেসমেন্ট ফি দিতে হয়। তাই, শিক্ষার ধরন ও আনুষঙ্গিক খরচ আগেই স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষাবিদেরা জানান, কম সিজিপিএ থাকলে শক্তিশালী রিসার্চ, কাজের অভিজ্ঞতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP) ও ভালো সুপারিশপত্রের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব। তবে, এগুলো কোনো ন্যূনতম বাধ্যবাধকতাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মওকুফ করে না। তাই, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট থেকে ভর্তির সার্বিক শর্ত যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নাটোরে সাত বছরের একটি শিশুর ডান হাতের একটি আঙুলের একাংশ কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে পুলিশের এক কনস্টেবল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত শিশুটিকে নাটোর সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোর শহরের বড়হরিশপুর পশ্চিম চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায়।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের কনস্টেবলের নাম শাকিল, যিনি নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত। তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ভুক্তভোগী শিশুর বাবার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন।
আহত শিশুটির বাবা মো. মাহমুদুল হাসান মিলন জানান, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বাসায় ভাড়াটিয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তার স্ত্রী পিকনিকের আয়োজন করেন। এ সময় দুই শিশু খেলাধুলার একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি উভয় শিশুর মা তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেন। এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ কনস্টেবল শাকিল তার ছেলেকে জোর করে নিজের রুমে নিয়ে যান। সেখানে বটি দিয়ে শিশুটির ডান হাতের আঙুল কেটে দেন। এ সময় শিশুটির কান্নার শব্দ পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আলী জানান, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতে অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল শাকিল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সকালে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়। মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির নিয়মে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। এখন থেকে মুসলিমদের বিয়ে সরকারি রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আসাম মুসলিম বিবাহ নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক বিধিমালা ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। এর ফলে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ক্ষেত্রে কাজীদের পূর্বের ভূমিকা সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং সরকারি ব্যবস্থার আওতায় আসছে পুরো প্রক্রিয়া।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, রাজ্যজুড়ে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির জন্য একই ধরনের সরকারি ব্যবস্থা চালু করা হবে। এই দায়িত্ব পালন করবেন সরকারি রেজিস্ট্রাররাই। বিয়ের নথিভুক্তির আবেদন বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও রেজিস্ট্রার নিয়োগের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
আসাম সরকার ২০২৪ সালে মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক নথিভুক্তি আইন চালু করেছিল। সেই আইনের মাধ্যমে কাজীদের হাতে থাকা মুসলিম বিয়ে নথিভুক্ত করার ক্ষমতা তুলে নেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে তখন বিস্তারিত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়নি।
এবার ২০২৬ সালের বিধিমালা অনুমোদনের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব সরকারি রেজিস্ট্রারদের হাতে দেওয়া হলো। নতুন ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য মুসলিম বিয়েকে সরকারি নথির আওতায় আনা এবং বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করা।
২০২৪ সালের আইনে মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়েদের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং ছেলেদের বয়স অন্তত ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিয়ে নথিভুক্তির সময় বয়স, পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ছেলে ও মেয়ের স্বেচ্ছায় বিয়েতে সম্মতির ঘোষণাপত্রও প্রয়োজন হবে।
আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯৩৫ সালের আসাম মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ নথিভুক্তি আইনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক ছিল না। পরে ২০১০ সালে সেই আইনে পরিবর্তন এনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে তখনও নথিভুক্তির দায়িত্ব কাজীদের হাতেই ছিল।
২০২৪ সালের নতুন আইনে কাজীদের সেই ক্ষমতা তুলে নেওয়া হলেও সরকারি ব্যবস্থায় কীভাবে নথিভুক্তি হবে, তা নিয়ে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। এবার মন্ত্রিসভার অনুমোদিত নতুন বিধিমালায় সেই ব্যবস্থাই স্পষ্ট করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় মুসলিম বিয়ের সরকারি নথি আরও সুশৃঙ্খল হবে। একই সঙ্গে বয়স যাচাই এবং পরিচয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে নাবালিকা বিয়ে ঠেকাতেও প্রশাসনের পক্ষে নজরদারি সহজ হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে ধর্মীয়ভাবে প্রচলিত প্রথার পাশাপাশি সরকারি নথিভুক্তির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিয়ে নথিভুক্তির জন্য সরকারি রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করতে হবে এবং নির্ধারিত নথি ও বয়সের শর্ত পূরণ করতে হবে। আসাম সরকারের নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর রাজ্যের মুসলিম সমাজে বিয়ে নথিভুক্তির পুরো প্রক্রিয়াই সরকারি প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে চলে যাবে। কাজীদের মাধ্যমে নথিভুক্তির পুরোনো ব্যবস্থা আর থাকবে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের মঞ্চে ভাষণ প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ভিশন বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তিনি ভাষণ দেন।
দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজের এবং সরকারের ভিশন তুলে ধরার সময় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হবে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম-খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট এবং টাকা পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের জন্য সরকার রিকভারি, রস্টোরেশন, রিকনস্ট্রাকশন; অর্থাৎ ‘থ্রি আর’ কৌশল অনুসরণ করছে।
তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকার কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেতে চায়।
তিনি বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্ট আপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করতে চলতি অর্থবছরে ৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। তাই নারীরা সরকারের সব পরিকল্পনার অগ্রভাগে রয়েছেন। নারী শিক্ষা, নারীদের কর্মসংস্থান এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিষয়টিকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তা তৈরির জন্য বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারীদের জন্য নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে সরকার। স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের বিনা-বেতনে শিক্ষার সুযোগও অবারিত করা হয়েছে।
সরকারপ্রধান বলেন, শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়; সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার এবং প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে। সেই লক্ষ্য পূরণে ইতোমধ্যেই, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ই-হেলথ কার্ড এর মতো বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে, সরকার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে।
তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’-কে সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবেই বিবেচনা করে। প্রতিটি সেক্টরে সহায়তার জন্য প্রবর্তন করা কার্ডগুলোকে সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেয়া ৩১ দফা কর্মসূচি সরকার বাস্তবায়ন করে চলেছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির ‘লিভ নো ওয়ান বিহাইন্ড’— এই প্রতিপাদ্যের সঙ্গে বর্তমান সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির কমপক্ষে ৭৩ শতাংশ কার্যক্রমের সরাসরি এবং ২৭ শতাংশ কার্যক্রমের পরোক্ষভাবে মিল রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহর এবং গ্রামের মধ্যে উন্নয়ন বৈষম্য দূর হবে। একইসঙ্গে ২০৩০ এজেন্ডার সব ক্ষেত্রে, জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্পোর্টসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নৈতিক মানসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে, কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষার উপর জোর দিয়ে শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই গড়বে আগামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ। আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বায়ো-টেকনোলোজি এবং বিজ্ঞানের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছি। প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এর সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সক্ষমতা আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ সবার নাগালের মধ্যে আনতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক। বাংলাদেশ উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্বকে সম্মান করে। একইসঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
সরকারপ্রধান বলেন, বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রায় কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না থাকে। সবার জন্য ন্যায্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশ এবং দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল যাতে দেশে দেশে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো যায়, সেজন্য জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ‘স্বল্পোন্নত দেশ’-এর তালিকা থেকে উত্তরণের অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য সকল দেশের ক্ষেত্রে এই উত্তরণ প্রক্রিয়াটিকে টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক সহায়তা অপরিহার্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় প্রতিটি দেশ একে অপরের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ মনে করে, বিশেষ করে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাণিজ্য সহায়তা ও সম্প্রসারণ, কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থবহ সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা একে অপরের সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করতে পারি।
তিনি বলেন, কোভিড মহামারি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। তবে, কোভিড বিশ্বকে বার্তা দিয়েছে, বিশ্ব সমাজকে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই একের প্রতি অন্যের সহায়তা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা অপরিহার্য। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা, চিকিৎসা-সামগ্রী ও রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে এগুলো সবার জন্য সহজলভ্য হয়।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে ক্ষমতাহীন রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। জনগণের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, কল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যে রাষ্ট্রে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সমান অধিকার, সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ— সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য একটি পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ এবং স্থিতিশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা অংশীদারিত্ব উদ্ভাবন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই।
তারেক রহমান বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে, প্রতিটি শিশু তাদের সকল সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠবে— সর্বোপরি জনগণ পাবে নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা। এজন্যই আমরা বলি, ‘সবার আগে বাংলাদেশ......সবার জন্য বাংলাদেশ’।
এরপর প্রধানমন্ত্রী পুনরায় বিশ্ব মানবতার প্রতি বাংলাদেশের অকুন্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ