মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৫ পি.এম
প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশের নিরাপদ প্রজননের উদ্দেশ্যে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে সারাদেশে। এই সময়কালে ইলিশের পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, কেনাবেচা এবং বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইলিশ পরিবহণ, মজুদকরণ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় এবং বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। নিষিদ্ধকালে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়ন করা হবে। এ সময়ে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা প্রদান করবে।
সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, "ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।" বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, "প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড এবং মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।" প্রয়োজনে হটস্পটগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
তিনি অবৈধভাবে ধরা মাছ বাজারজাত বন্ধে বরফকল, আড়ত এবং বাজারেও নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে অবৈধ জাল অপসারণের জন্য কঠোর অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। "কোনো অবস্থাতেই নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বা বাজারজাত করার সুযোগ দেওয়া যাবে না," বলেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, "মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।"
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে চিহ্নিত করতে হবে। কোথায় দুর্বলতা বা কার্যক্রমে কি ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি অবৈধ জাল বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, "নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।" সরকারের পাশাপাশি জেলে প্রতিনিধিদেরও এসব জাল না কেনার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, "নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে সরকার জেলেদের প্রণোদনা দিচ্ছে।" এই সহায়তা প্রকৃত জেলেদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছানোর জন্য তদারকি বাড়ানো হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ইলিশের উৎপাদন কমায় বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে- এটি উদ্বেগের বিষয়।" কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা চিহ্নিত করে সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকবৃন্দ, র্যাব, কোস্ট গার্ড, বিমানবাহিনী, নৌ পুলিশ ও বিজিবির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিসহ জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৩নং বিতারা ইউনিয়নের বিতারা দক্ষিণপাড়া ও খলাগাঁও সরকারবাড়ি সংলগ্ন পূর্ব খালের উপর দীর্ঘ সময় ধরে কোনো ব্রিজের অভাব রয়েছে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এই ব্রিজের অভাবে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকার কারণে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেড়ে গেছে। এক সময় খালের ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও সেটি ভেঙে যাওয়ার ফলে দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে সরাসরি পথের পরিবর্তে প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের জন্য খালের উপর নতুন বাঁশের সাঁকো নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন কচুয়া উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিতারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারী।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি বাঁশের সাঁকো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
স্থানীয়রা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে খালের ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। ব্রিজের অভাবে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কৃষক, নারী, বয়স্ক ও সাধারণ পথচারীদেরও ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হয়।
ছাত্রদল নেতা মো. দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চলাচলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। আপাতত তাদের চলাচলের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে বাঁশের সাঁকো নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতা করেছি। তবে এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।"
তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বাঁশের সাঁকোটি আপাতত চলাচলের দুর্ভোগ কমালেও স্থায়ী সমাধানের জন্য খালের উপর দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এতে শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্ত্রীকে অজান্তে মাদক খাইয়ে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক ব্যক্তি নিজের ৬০টি অপরাধ স্বীকার করেছেন। আদালতে তিনি জানান, ২০০৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাত দিয়ে এনডিটিভি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
আইনি কারণে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। ষাটোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের স্টকপোর্ট এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার ম্যানচেস্টারের মিনশাল স্ট্রিট ক্রাউন কোর্টে শুনানির সময় তিনি ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে মাদকজাতীয় পদার্থ প্রয়োগসহ একাধিক অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
স্বীকারোক্তির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগগুলো আদালতে পড়ে শোনানোর সময় ওই ব্যক্তিকে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তে দেখা যায়।
দোষ স্বীকারের পর গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রিক জ্যাকসন বলেন, "জটিল এই তদন্তে ভুক্তভোগীকে সহায়তা করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।" তিনি আরও জানান, "কেউ মাদক প্রয়োগের মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে আশঙ্কা করলে, তার কাছে প্রমাণ, নিশ্চিত তথ্য বা ঘটনার স্পষ্ট স্মৃতি না থাকলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে।"
এর আগে ওই ব্যক্তি স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া তার অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও যৌন তৃপ্তির উদ্দেশ্যে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার কথাও স্বীকার করেন।
এই মামলায় আরও ১২ জন সহ-আসামি রয়েছেন। তাদের বয়স ২৮ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে। তবে তারা ওই নারীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এছাড়া, আরেক ব্যক্তি এর আগে ওই নারীর বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের কথা স্বীকার করেছিলেন।
প্রধান আসামির সাজা পরে ঘোষণা করা হবে। মামলার বিচার আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে বলে জানা গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের তরফ থেকে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামকে নিয়োগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সম্মতি প্রদান করা হয়নি নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য প্রিন্ট’-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে নতুন হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূত নিয়োগের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামের জন্য নয়াদিল্লির অনুমোদন এক মাসেরও বেশি আগে চাওয়া হয়েছিল। তবে ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশনসের অনুচ্ছেদ ৪ অনুযায়ী, গ্রহণকারী দেশের সম্মতি ছাড়া কোনো কূটনৈতিক নিয়োগের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা সম্ভব নয়।
ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, ভারত কোনো দেশের প্রস্তাবিত ব্যক্তিকে নামঞ্জুর করার পেছনে কারণ ব্যাখ্যা করতে বাধ্য নয়। এই প্রক্রিয়াটি গোপন রাখা হয় যাতে গ্রহণকারী দেশ কোনো কূটনৈতিক নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করলেও সেটি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। তিনি আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আসাদ আলম সিয়াম বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। অতীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বর্তমান শীতল পরিস্থিতির কারণে সিয়ামের নিয়োগ অনুমোদনের বিষয়টি থমকে রয়েছে। আগস্ট মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শেষ মুহূর্তে নয়াদিল্লি সফর বাতিল হয়ে যায়। আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সাথে ভারতের যোগাযোগ জোরদার করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে 'বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন' (বিমসটেক)-এর চেয়ারম্যানে থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহান্তে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেননি। এমনকি ঢাকা থেকে কোনো প্রতিনিধিও পাঠানো হয়নি। ভারতে বর্তমান হাইকমিশনার হামিদুল্লাহও এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না।
রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও, সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টায় নয়াদিল্লি ও ঢাকা বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চালু রেখেছে। গত সপ্তাহে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক (আইজিআরএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সীমান্ত পারাপারের ট্রেন চলাচল পর্যালোচনার জন্য উভয় দেশের রেল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই বৈঠক গঠিত হয়েছে।
ঢাকায় তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর গত সাত মাসে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ দল এবং কারিগরি প্রক্রিয়া উভয় পক্ষ থেকে পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে। তবুও রাজনৈতিক শীতলতা সামগ্রিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গত এক মাসে ভারতকে দুটি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে নয়াদিল্লি থেকে—একটি রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি ব্রিকস সম্মেলনে বিমসটেকের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। তবে দুটি সফরের কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি।
মূলত গত ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের কারণে এই রাষ্ট্রীয় সফরটি জটিল রূপ ধারণ করে। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি নয়াদিল্লিতে পালিয়ে যান এবং সেখানেই অবস্থান করছেন। আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে দুই দেশই কূটনৈতিক যোগাযোগের নানা উপায় খুঁজছে। ভারত চলতি বছরের শুরুর দিকে রাজনীতিবিদ ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে তাদের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। ত্রিবেদী জুনের শেষের দিকে তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ঢাকার সাথে সম্পর্ককে নয়াদিল্লি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তা স্পষ্ট করতে ভারতীয় প্রশাসনিক কাঠামোয় তার পদটিকে 'ক্যাবিনেট পদমর্যাদায়' উন্নীত করা হয়েছে। হাসিনার পতনের পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাপক অবনতি ঘটে। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন। তার মেয়াদে সম্পর্ক অত্যন্ত কঠিন সময় অতিক্রম করে, কারণ ঢাকা তখন চীন ও পাকিস্তানের দিকে তাদের কূটনীতি মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করছিল।
তারেক রহমানের অধীনে সম্পর্কে কিছুটা ইতিবাচক গতি দেখা গেলেও গত মাসে তা আবার থমকে গেছে। নয়াদিল্লি আশা করেছিল বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন, তবে দুই দেশ কোনো সমঝোতার কাছাকাছি গেলেই বারবার নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের শূন্য হওয়া উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তার পক্ষে এই ফরম উত্তোলন করা হয়।
মির্জা ফয়সাল আমিনের পক্ষে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। তিনি জানান, মির্জা ফয়সাল আমিন দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও দলের সংগঠক হিসেবে তৃণমূলের আস্থাভাজন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দল তাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ কার্যক্রম চলবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামীকাল বুধবারের মধ্যে সংগৃহীত মনোনয়ন ফরম জমা দিতে পারবেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে দলের আরও কয়েকজন স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে পারেন।
মির্জা ফয়সাল আমিন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ