০৮:০৬ পি.এম
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে আদালতের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানের পর, তারা ওই দুই ফ্ল্যাটের মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) তৈরির কাজ শুরু করেছে।
প্রথম দিনের ইনভেন্টরির ফলাফলে ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্সের ঘড়ির বক্স, মার্সিডিজ বেঞ্জসহ মোট ৮টি বিলাসবহুল গাড়ির চাবির তথ্য উন্মোচিত হয়। মুক্তার গহনা, ঝাড়বাতি সহ বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্ৰীর তথ্যও উঠে এসেছে। উদ্ধার হয়েছে একটি রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডও, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকা।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে ১০টা সাড়ে ১০ মিনিটের দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গুলশান-২-এর ৬৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ করে দুদক কর্মকর্তারা। তাদের সঙ্গে এ সময় পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক আখতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালতের অনুমতি নিয়ে দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি যৌথ দল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাটে মালামালের ইনভেন্টরি তৈরির কাজ করছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ফ্ল্যাট দুটি দুদকের নিযুক্ত রিসিভারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, অভিযানের প্রথম দিনে দুই ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্সের চারটিসহ মোট আটটি ঘড়ির বক্স, তিন সেট মুক্তার গহনা, চারটি ঝাড়বাতি, বেড, সোফা এবং প্রায় ১০০ সেট কামিজের তালিকা করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামীকাল সোমবারও ইনভেন্টরির কাজ চলবে। এরপরই সব মালামালের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রায় সাড়ে সাত হাজার বর্গফুট জায়গার দুটি ফ্ল্যাট আদালতের ক্রোক আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দখলে নেওয়া হচ্ছে। এজন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গুলশান থানা পুলিশের উপস্থিতিতে বন্ধ ফ্ল্যাট দুটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। দুদকের দাবি, ফ্ল্যাটে মার্সিডিজ বেঞ্জসহ আটটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি এবং দুর্নীতির নানা আলামত উদ্ধার হয়েছে। তবে বহু মূল্যবান মালামাল আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে সংস্থাটি ধারণা করছে।
অভিযানের সময় একটি বিলাসবহুল রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডও উদ্ধার করা হয়। কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঘড়িটি ১৮ ক্যারেট হোয়াইট গোল্ডের রোলেক্স সেলিনি (মডেল-৫০৫১৯)। এটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি লন্ডনের বিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর হ্যার্ডস থেকে কেনা হয়। ওয়ারেন্টি কার্ডে ঘড়ির মালিকের নাম, মডেল নম্বর এবং সিরিয়াল নম্বর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
আন্তর্জাতিক ঘড়ির বাজারের বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, একই মডেলের ব্যবহৃত ঘড়ির বর্তমান বাজারমূল্য ১৩ থেকে ১৭ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে। আর নতুন বা অব্যবহৃত ঘড়ির দাম প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য ২১ লাখ টাকার কাছাকাছি।
দুদক জানিয়েছে, ফ্ল্যাট দুটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে সংস্থাটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পত্তিগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সংস্থাটির দাবি, তার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নয়টি দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া ৩০টি মামলার মধ্যে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য-প্রমাণও সংগৃহীত হয়েছে।
এর আগে আদালত যুক্তরাজ্যে তার নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের ওপর ক্রোক আদেশ দেয় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট মোটের ওপর জব্দের নির্দেশ দেয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি প্রতিষ্ঠানে করা বিনিয়োগও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা এসব সম্পত্তি ও বিনিয়োগের মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন