বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪১ পি.এম
এক টুকরো রান্না করা গরুর মাংসের বাজারমূল্য সাধারণত বেশ চড়া হয়ে থাকে। কিন্তু পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে ভিন্ন এক দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে মাত্র ১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে রান্না করা এক টুকরো গরুর মাংস। এই স্বল্পমূল্যের প্রিয় খাবারটি পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটছে তৃপ্তির হাসি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একটি খাবারের দোকান রয়েছে, যার নাম ‘ইয়াহিয়ার স্বাদের কোণ’। দোকানটির মালিক মো. জয়নাল আবেদীন গত এক মাস ধরে প্রতি শুক্রবার শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ১০ টাকায় রান্না করা গরুর মাংস বিক্রি করে আসছেন। তবে, একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ দুই টুকরো মাংস ক্রয় করতে পারেন। অর্থাৎ, দুই টুকরো মাংসের জন্য শিক্ষার্থীদের খরচ হচ্ছে মাত্র ২০ টাকা।
দোকান মালিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে এভাবে স্বল্প মূল্যে গরুর মাংস সরবরাহ করা হয়। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মাংস বিক্রি শুরু হলে দোকানের সামনে শিক্ষার্থীদের ভিড় জমে যায়। কখনও কখনও সেখানে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
১০ টাকায় রান্না করা গরুর মাংস কীভাবে দেওয়া সম্ভব—এ প্রশ্নের উত্তর জানতে জানা যায়, এই উদ্যোগের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগিতা রয়েছে।
জয়নাল আবেদীন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে সপ্তাহজুড়ে অনুদান সংগ্রহ করা হয়। কেউ নগদ অর্থ দেন, আবার কেউ সরাসরি গরুর মাংস কিনে দেন। সেই অর্থ ও মাংস দিয়েই প্রতি শুক্রবার শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্প মূল্যে মাংস বিক্রির আয়োজন করা হয়।
জয়নাল আবেদীন বলেন, তিনি প্রায় এক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে খাবারের দোকান পরিচালনা করছেন। শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমূল্যে খাবার দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, "আমার দোকানের আশপাশের কয়েকটি খাবারের দোকানে দুই টুকরো রান্না করা গরুর মাংস ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। একদিন চিন্তা করলাম, শিক্ষার্থীদের জন্য যদি কম দামে গরুর মাংস দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়।" বিষয়টি সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করলে তারা উৎসাহ দেন এবং আর্থিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। মূলত তাদের দেওয়া অনুদানের টাকাতেই এখন মাত্র ১০ টাকায় এক টুকরো গরুর মাংস দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, "অনেক শিক্ষক গোপনে টাকা দেন কিংবা গরুর মাংস কিনে দিয়ে যান। তারা মূলত শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই সহযোগিতা করেন।" তবে যতটুকু অর্থ বা মাংস পাওয়া যায়, তা দিয়ে সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়। সহযোগিতা বাড়লে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে স্বল্প মূল্যে মাংস দেওয়া সম্ভব হবে।
এছাড়া, জয়নাল আবেদীন শিক্ষার্থীদের জন্য আরও একটি সুবিধা চালু করেছেন। তার দোকানে রুটি বা পরোটার সঙ্গে ডাল কিংবা সবজি নিলে এর জন্য কোনো অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় না।
জয়নাল আবেদীন বলেন, "আশপাশের অনেক দোকানে রুটি বা পরোটার সঙ্গে ডাল-সবজির জন্য আলাদা করে ১০ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু আমি শিক্ষার্থীদের জন্য রুটি বা পরোটার সঙ্গে ডাল-সবজি বিনা মূল্যে দিয়ে থাকি।" শিক্ষার্থীদের উপকার এবং সওয়াবের নিয়তেই মূলত এই উদ্যোগ নিয়েছি।
প্রতি শুক্রবার দুপুরে দোকানটির সামনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি যেন আলাদা এক চিত্র তৈরি করে। স্বল্প মূল্যে গরুর মাংস পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই অনেকে দোকানের সামনে এসে অপেক্ষা করেন। মাংস বিক্রি শুরু হলে তৈরি হয় দীর্ঘ সারি। সামর্থ্যের মধ্যে পছন্দের খাবার পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
জয়নাল আবেদীন বলেন, "শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে মাংস নিতে আসে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।" তিনি আরও বলেন, সহযোগিতা বাড়লে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে এই সুবিধার আওতায় আনতে চান।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা অন্য কেউ এই উদ্যোগে সহযোগিতা করতে চাইলে তারা অনুদান দিতে পারেন। সহযোগিতা যত বাড়বে, তত বেশি শিক্ষার্থীকে স্বল্প মূল্যে গরুর মাংস দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) তিনি নিজের ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ ধন্যবাদ জানান।
স্ট্যাটাসে সারজিস আলম উল্লেখ করেন, ‘মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের এমপির (ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি) বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষ থেকে যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে- সেজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।’
এদিকে, রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জাতীয় নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অডিটোরিয়ামে নবনির্মিত ‘অগ্রযাত্রা ভবন’, ‘প্রান্তিক সংযোগ’ পরিষেবা, ‘প্রান্তিক শক্তি’ এবং ‘ভ্রাম্যমাণ আইটি প্রশিক্ষণ সেন্টার’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জাতীয় নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জাতীয় নির্বাচন, পূজা, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, জাতীয় অনুষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলের নিরাপত্তায় সদস্যরা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্গম পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে নিরাপত্তা রক্ষা, অবৈধ পুশইন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও তারা সক্রিয়। পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযান, চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধ, নিখোঁজ শিশু উদ্ধার, বৃক্ষরোপণ এবং দালালবিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে জননিরাপত্তা ও জনসেবায় অবদান রাখছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ আরও জোরদার হবে।
তিনি আরও জানান, তেজগাঁওয়ে ৩.৪২৮ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া আধুনিক সদর দপ্তর কেবল একটি নতুন অবকাঠামো নয়, বরং বাহিনীর ব্যাপক সংস্কার, আধুনিকায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নির্মিতব্য এই বহুতল ভবন আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, দ্রুত তথ্য বিনিময়, সেন্ট্রাল অপারেশন মনিটরিং, কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার আধুনিক কমান্ড সেন্টার হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদী।
মন্ত্রী বাহিনীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’-এর আলোকে জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে দর্শনের বিকাশ ঘটে, তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়। তার সরকারের সময়ে ১৯৯৫ সালে আনসার বাহিনী আইন, ব্যাটালিয়ন আনসার আইন ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল আইন প্রণীত হয়। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে তিনি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘স্বাধীনতা পদক’ প্রদান করেন, যা বাহিনীর গৌরবময় অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। সেই ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সদিচ্ছা ও উদ্যোগে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য নতুন সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
নারীদের জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে নারীদের জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ডিজিটালাইজেশন এ বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এসব উদ্যোগ নারীসহ বাহিনীর সব সদস্যের দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আরও কার্যকর অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
মন্ত্রী বলেন, একইসঙ্গে এক লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবীকে প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার কার্যক্রম ও জননিরাপত্তায় একটি দক্ষ, সংগঠিত ও কার্যকর স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ বর্তমান সময়ের প্রয়োজনের সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এ উদ্যোগ দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা আরও জোরদার করবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ পিএসসি’র সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফেনীর ‘মহুয়া-কহুয়া’ সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে জেলার পশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মহুরী ব্রিজ এলাকায় উক্ত প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন তিনি।
উদ্বোধনী ফলকে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্প।
ফলক উন্মোচনের পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর তিনি নদী খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এর আগে ঢাকা থেকে সড়কপথে অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান ফেনী-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি জয়নাল আবেদীন, ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, মহিলা সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ জেলা নেতারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাছ খাওয়ার সময় গলায় কাঁটা ফুটে যাওয়ার ঘটনা শিশুদের মধ্যে বেশ পরিচিত। এই পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার ভাতের দলা, পাউরুটি বা কলা খাইয়ে কাঁটা নামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এই পদ্ধতিতে কাঁটা আরও গভীরে ঢুকে গলার টিস্যুতে আটকে যেতে পারে। এর ফলে পরবর্তীতে সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
অতএব, শিশুর গলায় মাছের কাঁটা ফুটলে আতঙ্কিত না হয়ে কীভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভাত-পাউরুটি-কলা দিয়ে কাঁটা নামানোর চেষ্টা নয়
গলায় কাঁটা ফুটলে প্রথমেই ভাতের দলা, পাউরুটি বা কলা খাইয়ে কাঁটা নিচে নামানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। খাবার জোর করে গিলালে কাঁটা আরও গভীরে ঢুকে গলার টিস্যুতে আটকে যেতে পারে।
এতে গলার ভেতরে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তাই শিশুকে জোর করে কোনো খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত।
লেবু বা ভিনেগারেও ভরসা নয়
অনেকে মনে করেন লেবুর রস বা ভিনেগার খেলে মাছের কাঁটা গলে যায়। কিন্তু এই ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এসব খাওয়ানোর চেষ্টা করে অযথা সময় নষ্ট না করাই ভালো।
আঙুল বা চামচ দিয়ে কাঁটা খোঁচাবেন না
কাঁটা বের করার জন্য শিশুর গলার ভেতরে আঙুল, চামচ বা কোনো সরঞ্জাম ঢুকিয়ে খোঁচাখুঁচি করা বিপজ্জনক হতে পারে। এতে কাঁটা আরও ভেতরে ঢুকে যেতে পারে এবং গলার ভেতরে আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে।
তাহলে কাঁটা ফুটলে কী করবেন?
কাঁটা ফুটে যাওয়ার পর শিশুর শ্বাস নিতে সমস্যা না হলে এবং সে স্বাভাবিকভাবে কাশতে পারলে তাকে কয়েকবার স্বাভাবিকভাবে কাশতে দেওয়া যেতে পারে। কাশির মাধ্যমে কখনো কখনো আটকে থাকা কাঁটা বেরিয়ে আসতে পারে।
তবে খুব জোরে কাশতে বাধ্য করা উচিত নয়। শিশুর অস্বস্তি বেশি হলে বা কাঁটা বের না হলে ঘরোয়া উপায়ে বারবার চেষ্টা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি সবসময় কাঁটার কারণে নয়
কখনো কাঁটা নিচে নেমে যাওয়ার পরও গলায় কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি হতে পারে। কারণ কাঁটা যাওয়ার সময় গলার ভেতরের টিস্যুতে সামান্য আঁচড় বা ক্ষত তৈরি হতে পারে।
তাহলে কাঁটা বের হয়ে যাওয়ার পরও কিছু সময় অস্বস্তি থাকতে পারে। উপসর্গ ধীরে ধীরে কমছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ সময় কোনো ঘরোয়া টোটকা প্রয়োগ না করাই ভালো।
কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?
গলায় কাঁটা ফুটে গেলে শিশুর শ্বাস নিতে সমস্যা হলে অপেক্ষা করা যাবে না। একইভাবে মুখ দিয়ে রক্ত পড়া, তীব্র ব্যথা, অতিরিক্ত লালা পড়া, গলা বা ঘাড় ফুলে যাওয়া কিংবা অস্বস্তি বাড়তে থাকলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
কাঁটা ফুটে যাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অস্বস্তি না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশু হলে গলায় কাঁটা আটকে আছে বলে সন্দেহ থাকলে নিজে থেকে বের করার চেষ্টা না করে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়াই নিরাপদ।
শিশুর গলায় মাছের কাঁটা ফুটলে ভয়ে তাড়াহুড়ো করে খাবার গিলিয়ে দেওয়া বা গলার ভেতর কিছু ঢুকিয়ে কাঁটা বের করার চেষ্টা না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ