০৩:১৪ পি.এম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি শিপইয়ার্ডে পুরোনো এলএনজি ট্যাংকার কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ৭ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ আরও ১৪ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের দাবি করতে হয়েছে যে, মালিকপক্ষের গাফিলতি এবং সঠিক নিয়ম না মানার কারণে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, অন্যান্য দিনের মতোই ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল জাহাজভাঙা কারখানায় কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। শুক্রবার সকালে তারা একটি পুরোনো এলএনজি ট্যাংকার কাটার কাজ শুরু করেন। এ সময় হঠাৎ করেই বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে, ফলে ইয়ার্ডের ভেতরেই অনেকে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। কারখানার ভেতর থেকে শ্রমিকদের চিৎকার শুনে অন্যান্য শ্রমিকরা তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে যান।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
গ্যাসের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু ঘটে। বাকিদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক আরও চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাত শ্রমিকের সবার বাড়িই ভাটিয়ারী এলাকায়। জানা যায়, গত বছর এই এলএনজি ট্যাংকারটি ফেরদৌস শিপ ইয়ার্ডে আনা হয়েছিল।
এদিকে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকার কারণে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে শ্রমিকদের মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছেন স্বজন ও সহকর্মীরা। উদ্ধারকারী এক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সবাইকে আইনের আওতায় আনা হোক যারা এর সাথে জড়িত। কাটিং করার সাথে সাথে বিষাক্ত গ্যাসগুলো লিক হওয়ার কারণে যে কাটিং করতে নামছে, উনি জায়গাতেই শেষ। ছয় জন লোক এভাবে পড়ে ছিল, আমরা নিজেদের হাতে করে তাদের টেনে বের করি।’
বিক্ষুব্ধ একটি স্বজন বলেন, ‘এরা কোনো সেফটি নেয় নাই। এই সেফটি না নেয়ার কারণেই এই অবস্থা হয়েছে। এত বড় ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই কেন? আর দুর্ঘটনার পর মালিকপক্ষ দরজা পর্যন্ত খুলছিল না।’
ফায়ার সার্ভিস বলছে, সঠিক নিয়ম মেনে কাজ করলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেতো। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘জাহাজের ভেতরে যে পুরাতন গাদ বা ময়লা থাকে, সেগুলো আধুনিক সিস্টেমে পরিষ্কার করে তারপর কাটিং করতে হয়। কিন্তু আমাদের ধারণা, এই জাহাজটি পরিষ্কার না করেই কাটা হচ্ছিল। কাটার সঠিক নিয়মকানুন ফলো করলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত না।’
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এ দুর্ঘটনার পর থেকে ইয়ার্ডের মালিকপক্ষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন