ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিরাপত্তা ছাড়াই জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে ৭ শ্রমিকের মৃ/ত্যু


নিরাপত্তা ছাড়াই জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে ৭ শ্রমিকের মৃ/ত্যু

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি শিপইয়ার্ডে পুরোনো এলএনজি ট্যাংকার কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ৭ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ আরও ১৪ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের দাবি করতে হয়েছে যে, মালিকপক্ষের গাফিলতি এবং সঠিক নিয়ম না মানার কারণে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, অন্যান্য দিনের মতোই ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল জাহাজভাঙা কারখানায় কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। শুক্রবার সকালে তারা একটি পুরোনো এলএনজি ট্যাংকার কাটার কাজ শুরু করেন। এ সময় হঠাৎ করেই বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে, ফলে ইয়ার্ডের ভেতরেই অনেকে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। কারখানার ভেতর থেকে শ্রমিকদের চিৎকার শুনে অন্যান্য শ্রমিকরা তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে যান।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

গ্যাসের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু ঘটে। বাকিদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক আরও চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাত শ্রমিকের সবার বাড়িই ভাটিয়ারী এলাকায়। জানা যায়, গত বছর এই এলএনজি ট্যাংকারটি ফেরদৌস শিপ ইয়ার্ডে আনা হয়েছিল।

এদিকে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকার কারণে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে শ্রমিকদের মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছেন স্বজন ও সহকর্মীরা। উদ্ধারকারী এক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সবাইকে আইনের আওতায় আনা হোক যারা এর সাথে জড়িত। কাটিং করার সাথে সাথে বিষাক্ত গ্যাসগুলো লিক হওয়ার কারণে যে কাটিং করতে নামছে, উনি জায়গাতেই শেষ। ছয় জন লোক এভাবে পড়ে ছিল, আমরা নিজেদের হাতে করে তাদের টেনে বের করি।’

বিক্ষুব্ধ একটি স্বজন বলেন, ‘এরা কোনো সেফটি নেয় নাই। এই সেফটি না নেয়ার কারণেই এই অবস্থা হয়েছে। এত বড় ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই কেন? আর দুর্ঘটনার পর মালিকপক্ষ দরজা পর্যন্ত খুলছিল না।’

ফায়ার সার্ভিস বলছে, সঠিক নিয়ম মেনে কাজ করলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেতো। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘জাহাজের ভেতরে যে পুরাতন গাদ বা ময়লা থাকে, সেগুলো আধুনিক সিস্টেমে পরিষ্কার করে তারপর কাটিং করতে হয়। কিন্তু আমাদের ধারণা, এই জাহাজটি পরিষ্কার না করেই কাটা হচ্ছিল। কাটার সঠিক নিয়মকানুন ফলো করলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত না।’

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

এ দুর্ঘটনার পর থেকে ইয়ার্ডের মালিকপক্ষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন কাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:২৫ পি.এম


মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন কাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা

ঢাকা, ১৪ আগস্ট, ২০২৬ : গণতন্ত্রের মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল পালন করা হবে।

এ উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ঢাকাসহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়, মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। আগামীকাল ১৫ আগস্ট শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে বিএনপি'র সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মিলাদ ও দোয়া মাহফিলগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের আপসহীন নেত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত বছর ৩০ ডিসেম্বর অগণিত ভক্ত রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান।

মঙ্গলবার ভোর ছয়টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) তাঁর বয়স ছিল ৮০ বছর।

সেদিন এভারকেয়ার হাসপাতালে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সে সময়ের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, "এই সংবাদটা নিয়ে সবার সামনে দাঁড়াতে হবে ভাবিনি। আমরা এবারও ভেবেছিলাম он আগের মতো সুস্থ হয়ে উঠবেন। আমরা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলছি আজ ভোর ৬টায়, গণতন্ত্রের মা, আমাদের অভিভাবক, জাতির অভিভাবক আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন।"

মৃত্যুর সময় বেগম খালেদা জিয়ার শয্যাপাশে ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির তখনকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় হাসপাতালে আরও উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। স্বজনদের মধ্যে ছোট ভাই শামীম এসকান্দার ও তাঁর স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও শেষ সময়ে হাসপাতালে ছিলেন। এছাড়াও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরাও উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাও ছিল তাঁর।

হার্ট ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে গত বছর ২৩ নভেম্বর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা তদারকি করে।

আগস্ট মাসের প্রথমদিকে চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নিতে উদ্যোগ নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার কারণে পরবর্তীতে তা আর সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধিতে স্মরণীয় হয়ে আছেন। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে জীবনের পরম সত্যের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

রাজনীতিকদের জীবনে উত্থান-পতন ঘটে। মামলা-মোকদ্দমা, গ্রেফতার, কারাবাস, নির্যাতন, প্রতিপক্ষের আক্রমণ এসব তাঁর জীবন থেকে অবিচ্ছেদ্য। বেগম খালেদা জিয়াও এসব চরম পর্যায়ের নির্যাতন সহ্য করেছেন। সহ্য করেছেন স্বামী ও সন্তানের মৃত্যু, সর্বদা থাকা দীর্ঘ রোগযন্ত্রণা।

রাজনৈতিক জীবনে মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত ছাড়াও প্রতিপক্ষের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন তিনি। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন, যিনি ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে তাঁর জন্ম। তাঁর আদি বাড়ি ফেনীতে। তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন।

১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। জিয়াউর রহমান বীর উত্তম রাষ্ট্রপতি হলে বেগম জিয়া ফার্স্ট লেডি হিসেবে তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন। এ সময় তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার এবং নেদারল্যান্ডসের রানি জুলিয়ানাসহ নানা দেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

১৯৮১ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন।

বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রেক্ষাপটে একটি অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে কোনো আসনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাঁচটি পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনে বিজয়ী হন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার ঘোষণা, কড়া হুঁশি/য়ারি উত্কোরিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৩ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার ঘোষণা, কড়া হুঁশি/য়ারি উত্কোরিয়ার

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উভয় দেশের এই ঘোষণা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং সাউথ কোরিয়ার মধ্যে এই সামরিক পরিকল্পনাকে ঘিরে উত্তর কোরিয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। উত্তর কোরিয়া পিয়ংইয়ংয়ের মাধ্যমে ‘নতুন স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির দেয়া প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয়েছে এই তথ্য। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, আগামী সোমবার (১৭ আগস্ট) থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত দুই দেশের যৌথ বার্ষিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ (ইউএফএস) অনুষ্ঠিত হবে। মহড়ার আগে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবৃতি দিয়ে এই ঘোষণাটি দেন। এটি পিয়ংইয়ংয়ের জন্য এ বছরের বার্ষিক মহড়ার ক্ষেত্রে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এই মহড়াটিকে গত পাঁচ বছরের তুলনায় ভিন্ন এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশলের প্রয়োগের উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে। এসব পদক্ষেপ মূলত পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। শত্রুপক্ষ সৃষ্ট এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি কখনও সহ্য করবে না উত্তর কোরিয়া।

অতিরিক্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উদ্ভূত নতুন হুমকির মুখে দেশ রক্ষায় পিয়ংইয়ং নতুন স্তরের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাধ্য হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ পরাশক্তিকে অপ্রতিরোধ্য সামরিক শক্তি দ্বারা প্রতিহত করার কৌশল গড়ে তুলেছে।

সাধারণত, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়াকে উত্তর কোরিয়া আক্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হয়। যৌথ মহড়ার এই ঘোষণার পরপরই সামরিক শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যে বুধবার (১২ আগস্ট) এবং বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জাপান সাগরের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে পিয়ংইয়ং।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৮ পি.এম


ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম সম্প্রতি নগর ভবনে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে নির্দিষ্ট এলাকার রিকশা ওই এলাকার মধ্যেই চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় গিয়ে যাতে যানজট সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজন অনুযায়ী দিন ও সড়কভিত্তিক চলাচলের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

তিনি বলেন, রিকশার সমস্যাটা কোত্থেকে আসলো, কীভাবে আসলো- সেটা বের করে সমাধান করতে হবে। এই সমস্যাটাও আমাদেরই, আমাদেরই সমাধান করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকেই সমাধান করতে হবে।

আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা শহরের রাস্তায় বর্তমানে এদিক-সেদিক, উল্টো দিকসহ বিভিন্নভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এসব রিকশা চালকদের অনেকেই ট্রাফিক আইন ও চলাচলের শৃঙ্খলা মানছে না। ফলে নগরীর বিভিন্ন সড়কে অযাচিত যানজট আরও বাড়ছে।

রিকশা ব্যবস্থাপনাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বন্যা, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসে ফুটপাত ও অন্যান্য উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান নিচ্ছে।

কেউ রিকশা চালাচ্ছে, আবার কেউ ভ্যান নিয়ে সবজি বা অন্যান্য পণ্য বিক্রি করছে। এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মানুষের ঢাকামুখী প্রবেশ নগরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশের মানুষকে কি আমরা ঢাকা শহরে জায়গা দিতে পারব? এটাও তো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ কারণে রিকশা ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন আব্দুস সালাম।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, গত ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকায় প্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে। এসব রিকশাকে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মধ্যে আনা হবে। এজন্য ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, ডেমরার একটা রিকশা কোনোভাবেই নিউ মার্কেটে যেতে পারবে না। অঞ্চলভিত্তিক আমরা ভাগ করে দেব। ভাগ করে দিয়ে তাদেরকে হয়তো দিনও ভাগ করে দেব। কিছু কিছু রাস্তা ভাগ করে দেব, কিছু কিছু রাস্তায় যাতে তারা একেবারেই চলাচল করতে না পারে-সেই জায়গটা ঠিক করে দেব।

তিনি আরও বলেন, লাইসেন্স ছাড়া কেউ ঢাকা শহরে রিকশা চালাতে পারবে না। কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে চলাচল করা কিংবা ডেমরা থেকে নদী পার হয়ে রিকশা নিয়ে অন্য এলাকায় চলে আসার কোন সুযোগ থাকবে না। একইভাবে উত্তর সিটির রিকশাও নির্বিচারে এই এলাকায় চলাচল করতে পারবে না।

আব্দুস সালাম বলেন, আমরা অঞ্চলভিত্তিক ভাগ করে দেব। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে আমরা এই বিষয়টিকে একটি পদ্ধতির মধ্যে আনতে চাই। সেটার জন্য তো কিছুটা সময় লাগবে এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমসহ সকলের সহযোগিতা চাই।

তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আইন প্রণয়ন করে সিটি কর্পোরেশনের কাছে পাঠানোর পর তা বাস্তবায়ন করা হবে।

রিকশার পাশাপাশি বাস চলাচলেও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথা জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, ঈদের আগে যত্রতত্র বাস থামানো এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস থামানো ও যাত্রী ওঠানোর জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যত্রতত্র যাতে বাস থামাতে না পারে, যত্রতত্র যেখান সেখান থেকে যাতে যাত্রী উঠাতে না পারে-এটাও একটা সিস্টেমে আনতে হবে।

আব্দুস সালাম বলেন, পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কিছু সময় দেওয়া হয়েছে এবং এখন পরিবহন ব্যবস্থাকেও একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার কাজ চলছে। আশা করি, কয়েক মাসের মধ্যে অনেকটা পদ্ধতির মধ্যে চলে আসবে, ইনশাআল্লাহ।

নগরীর যানজট ও অব্যবস্থাপনার জন্য শুধু প্রশাসন বা সিটি কর্পোরেশনকে দায়ী না করে নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল হওয়ারও আহ্বান জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।

তিনি বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য, সুন্দর ও শৃঙ্খলাপূর্ণ নগর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি নগরবাসীর সহযোগিতাও প্রয়োজন।

এদিকে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর আলোকে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

মীর শাহে আলম বলেন, এ নীতিমালা সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচলে শৃঙ্খলা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক লাইসেন্সিং ও নিবন্ধন কার্যক্রমের ফলে সরকারের কোষাগারে রাজস্ব জমা হবে।

তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্যে বিদ্যমান বিধিমালা সময়োপযোগী করে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য একটি সমন্বিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ নির্ধারণের লক্ষ্যে প্রচলিত বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরে হ/ত্যা মাম/লায় একজনের মৃ/ত্যুদণ্ড ও অপ/রজনের যাব/জ্জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


চাঁদপুরে হ/ত্যা মাম/লায় একজনের মৃ/ত্যুদণ্ড ও অপ/রজনের যাব/জ্জীবন

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণের নারায়নপুর বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী অমর সরকারকে (৪৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যার অপরাধে জয় বিশ্বাস অনিককে (২১) মৃত্যুদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, অপর ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই মামলায় অপর আসামি হৃদয় সূত্রধরকে (২১) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) কামাল হোসাইন এই রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার সুভারিয়া সরকার বাড়ির অর্জুন বিশ্বাসের ছেলে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হৃদয় সূত্রধর মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়নপুর সারপাড় এলাকার গোপাল সূত্রধরের ছেলে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যবসায়ী অমর সরকার মতলব দক্ষিণ উপজেলার সারপাড় এলাকার শ্রী রবি ভক্তের ছেলে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, বিগত ২০২২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে ২টার মধ্যে অমর সরকার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মাধবী শিল্পালয় থেকে বাড়িতে আসার পথে উভয় আসামি যোগসাজশে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। ওই রাতেই ঘটনাটি আড়াল করার জন্য জয় বিশ্বাস অনিক নিজেই অমর সরকারকে কে বা কারা হত্যা করেছে এমন সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তার বাবার কাছে। তখন রবি ভক্ত ও তার বড় ছেলে জীবন কৃষ্ণ বাড়ি থেকে প্রায় ৮০ গজ দূরে দাস বাড়ির উঠানে তার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি মতলব দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করে অমর সরকারের বাবা রবি ভক্ত। মামলা হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত উল্লিখিত আসামি হৃদয়কে ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং জয় বিশ্বাসকে ২৪ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করে।

মামলাটির তদন্ত করেন তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান। তিনি মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১০ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সালমা বেগম বলেন, মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় বিচারক এই রায় দেন। রায়ের সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন এবং অপর আসামি হৃদয় জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন। আসামি পক্ষে সরকার নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%