বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:২৬ পি.এম
বাংলাদেশ পরিবহন, শিল্প ও কৃষিতে বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি করে আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনা রাখে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে খরচ কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রকাশিত নতুন ‘স্পেশাল রিপোর্ট অন ইলেকট্রিফিকেশন’ প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানাচ্ছে, বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিকারক উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিদ্যুতায়নের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার সুবিধা ব্যাপক।
বাংলাদেশ কত অর্থ সাশ্রয় করতে পারে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো নির্দিষ্ট হিসাব নেই। তবে আইইএর হিসাব অনুযায়ী, দ্রুত বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে চীন ছাড়া অন্যান্য উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে সম্মিলিতভাবে বছরে ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমাতে সক্ষম হতে পারে। এটি ২০২৫ সালে এসব দেশের মোট জ্বালানি আমদানি ব্যয়ের এক-চতুর্থাংশের বেশি।
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশে বর্তমানে বড় আকারে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও কয়লা আমদানি করা হচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে কিংবা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দেশের জ্বালানি খাতেও চাপ সৃষ্টি হয়।
আইইএর প্রতিবেদনে পরিবহন, বস্ত্র ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং কৃষিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিদ্যুতায়নের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আইইএ বলছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর শহরগুলো সাধারণত ঘনবসতিপূর্ণ এবং মানুষের দৈনিক যাতায়াতের দূরত্ব তুলনামূলকভাবে কম। তাই এসব দেশে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যান ব্যবহারের বড় সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে জনপ্রিয় বৈদ্যুতিক দুই ও তিন চাকার যানের ব্যাটারির সক্ষমতা উন্নয়নশীল দেশের মানুষের গড় দৈনিক যাতায়াতের প্রায় ১০ গুণ দূরত্ব অতিক্রমের জন্য যথেষ্ট। আবার তেলচালিত যানের তুলনায় পরিচালন ব্যয় কম হওয়ায় বৈদ্যুতিক যান কেনার বাড়তি খরচ সাধারণত তিন থেকে ছয় বছরের মধ্যে উঠে আসতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ তেল আমদানিনির্ভর। তাই পরিবহনে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে তেল আমদানি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আইইএর হিসাবে, দ্রুত বিদ্যুতায়ন হলে ২০৩৫ সাল নাগাদ বিশ্বে দৈনিক ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেলের ব্যবহার এড়ানো সম্ভব হতে পারে। এর প্রায় ৮০ শতাংশই হবে জ্বালানি আমদানিকারক অঞ্চলে।
বস্ত্র ও খাদ্য শিল্পে সম্ভাবনা
বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে বস্ত্র ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প। ইস্পাত ও সিমেন্টের মতো ভারী শিল্পে অনেক বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়। কিন্তু বস্ত্র, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, দুগ্ধ, ওষুধ ও পানীয় শিল্পে তুলনামূলক কম তাপমাত্রায় গরম পানি, বাষ্প ও শুকানোর প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়।
এসব কাজে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক বয়লার ও শিল্পে ব্যবহৃত হিট পাম্প কাজে লাগানো তুলনামূলকভাবে সহজ।
আইইএর হিসাবে, বিশ্বে শিল্প খাতে নিম্ন ও মাঝারি তাপমাত্রার কাজে ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় ৪০ শতাংশ বর্তমান প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ীভাবে বিদ্যুৎ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। বস্ত্র ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণকে এক্ষেত্রে বিশেষ সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় এ সুযোগ দেশের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
আইইএ বলছে, আরেকটি সুবিধা আসতে পারে রপ্তানি বাণিজ্যে। আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো সরবরাহব্যবস্থায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর দিকে গুরুত্ব বাড়াচ্ছে। ফলে শিল্পে কম কার্বন নিঃসরণকারী বিদ্যুতের ব্যবহার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতেও সহায়তা করতে পারে।
কৃষিতে সৌরচালিত সেচ
কৃষিতেও বিদ্যুতায়নের বড় সুযোগ দেখছে আইইএ। সংস্থাটির হিসাবে, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষির অবদান ১ থেকে ২ শতাংশ হলেও দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকায় তা ১৭ থেকে ১৯ শতাংশ। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষির বিদ্যুতায়নের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
বিশেষভাবে সেচের কথা বলেছে আইইএ। যেসব এলাকায় গ্রিডের বিদ্যুৎ নেই বা নির্ভরযোগ্য নয়, সেখানে ডিজেলচালিত পাম্পের বিকল্প হতে পারে সৌরচালিত সেচপাম্প। কৃষিপণ্য সংরক্ষণে হিমাগার ও রেফ্রিজারেশনেও বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
বড় বাধা দুর্বল গ্রিড
সংস্থাটি বলছে, পরিবহন, শিল্প ও কৃষিতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে। তাই পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
আইইএ বলছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিদ্যুতায়নের অন্যতম বড় বাধা অনির্ভরযোগ্য ও ব্যয়বহুল গ্রিড বিদ্যুৎ। নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের নিশ্চয়তা না থাকলে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি বেশি দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও শিল্পকারখানা ডিজেল বা গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারে।
তাহলে বিদ্যুতায়নের পাশাপাশি উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। প্রয়োজন হবে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা বা ব্যাটারি, আধুনিক গ্রিড ও চাহিদা ব্যবস্থাপনারও।
আইইএর হিসাবে, দ্রুত বিদ্যুতায়নের জন্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বে বিদ্যুৎ গ্রিড সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের গতি গত এক দশকের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়াতে হবে।
আমদানি কমাতে বিদ্যুতের উৎসও গুরুত্বপূর্ণ
তবে শুধু বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ালেই জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমবে না। সেই বিদ্যুৎ কোথা থেকে আসছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
আইইএ বলছে, বিদ্যুতায়নের সুফল সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাবে যদি বাড়তি বিদ্যুৎ দেশীয় ও কম কার্বন নিঃসরণকারী উৎস থেকে আসে। নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের পাশাপাশি গ্রিড ও বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করলে জ্বালানি নিরাপত্তার সুবিধা আরও বাড়বে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাই পরিবহন বা শিল্পে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে সেই জায়গায় যদি আমদানি করা এলএনজি বা তেল দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়, তাহলে আমদানিনির্ভরতার একটি অংশ মূলত এক খাত থেকে অন্য খাতে চলে যেতে পারে।
বিশ্বের মোট চূড়ান্ত জ্বালানি ব্যবহারে এখন বিদ্যুতের অংশ প্রায় ২৩ শতাংশ। আইইএ বলছে, বর্তমানে থাকা প্রযুক্তি সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করেই এ হার প্রায় ৩৩ শতাংশে নেওয়া সম্ভব। আর ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ৩৫ শতাংশে নেওয়ার একটি বৈশ্বিক লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে সব দেশের জন্য একই পথ প্রযোজ্য নয় বলে জানিয়েছে আইইএ। একটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো, জ্বালানির দাম, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও অর্থায়নের সুযোগের ওপর বিদ্যুতায়নের গতি নির্ভর করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পুকুরে ডুবে মৃত্যু ঘটেছে দেড় বছরের আবু সাঈদ নামে এক শিশুর।
এই ঘটনা ঘটে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে, উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বেলকার তেলিপাড়া এলাকায়। আবু সাঈদ ওই এলাকার মো. রেজাউল ইসলামের সন্তান।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি সকালে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে তাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু ততক্ষণে শিশুটির মৃত্যু ঘটে।
বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহীম খলিলুল্ল্যাহ শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর পাংশায় রুনা খাতুন (৩০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মিলন শেখকে (২০) আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। পাশাপাশি, আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও এক বছরের দণ্ডাদেশে পরিণত হবে।
এছাড়া, মামলার অপর দুই আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাদের নারী ও শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক মো. ইউসুফ হোসেন এই রায় দেন। এ সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মিলন পাংশা উপজেলার খামারডাঙ্গী মুচিদাহ গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট রাতে গৃহকর্মী মিলন তার ২ সহযোগী রিয়াজ ও তেছের আলীকে সঙ্গে নিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী রুনা খাতুনকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে এবং সম্পদ লুট করে পালিয়ে যায়। তবে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার করে।
নিহতের ভাই মো. রায়হান বাদী হয়ে পাংশা থানায় ওই তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশের চার্জশিট ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামির বিরুদ্ধে আজ এই রায় ঘোষণা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। এই কারণে ইউপি চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সাধারণ সদস্য ও সাধারণ সদস্য আসনের জন্য প্রতীক বরাদ্দ করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন গত ১৭ সেপ্টেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে আজ বুধবার সেই প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চেয়ারম্যানদের জন্য ২০টি, সংরক্ষিত আসনে ১০টি এবং সাধারণ সদস্য প্রার্থীর জন্য ১২টি প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে।
কোন পদে থাকছে কী প্রতীক
চেয়ারম্যান পদের জন্য বরাদ্দকৃত ২০টি প্রতীক হলো: কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবি টেক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা এবং হাঁস।
সাধারণ আসনের জন্য বরাদ্দকৃত ১২টি প্রতীক হলো: উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব এবং মোরগ।
সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বরাদ্দকৃত ১০টি প্রতীক হলো: আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ এবং হেলিকপ্টার।
এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের নিজস্ব ও নির্ভরশীলদের সম্পদের হিসাবও দিতে হবে।
বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাতিল হয়ে যাবে।
এদিকে, চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ব্যয়ের সীমা বৃদ্ধি করে ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য পদপ্রার্থীদের ব্যয় ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাছ ধরার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা জেলেদের জন্য একের পর এক সংকট দেখা দিয়েছে। সামনে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আসন্ন। নিষেধাজ্ঞার শুরুতে কয়েকটি দিন মেঘনায় মাছ শিকার করে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন মনপুরার জেলেরা। কিন্তু তাদের সেই আশায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ।
৮ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের জন্য মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আগে নদীতে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মনপুরার অনেক জেলে। তাদের প্রত্যাশা ছিল, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মাছ ধরতে না পারার ফলে যে আয়-রোজগারের ঘাটতি হবে, তার কিছুটা আগে মাছ ধরে পূরণ করবেন।
তবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের কারণে বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে নদী ও সাগরে মাছ ধরার ব্যাপারে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে জেলেদের মধ্যে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় গভীর নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার আগে কয়েকদিন নদীতে মাছ ধরে সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন মনপুরার জেলেরা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরতে না পারলে তাদের সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলেদের ভাষ্য, বছরের বড় একটি সময় নদী ও সাগরে মাছ ধরেই তাদের সংসার চলে। মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা, বৈরী আবহাওয়া এবং নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ার কারণে অনেক সময় ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। নিষেধাজ্ঞার আগে মাছ ধরার সুযোগটুকুও যদি আবহাওয়ার কারণে নষ্ট হয়, তাহলে পরিবারের খাবার, নৌকার জ্বালানি, জাল মেরামত ও অন্যান্য খরচ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় জেলেরা বলছেন, একদিকে সামনে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে তার আগেই গভীর নিম্নচাপ সব মিলিয়ে তাদের জীবনে যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জেলেদের দাবি, বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারা মাছ ধরতে না পারলে নিষেধাজ্ঞার সময় ও পরবর্তী সময়ে তাদের পরিবারগুলোর জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।
মেঘনার তীরে এখন তাই একটাই প্রশ্ন, নিষেধাজ্ঞার আগে যে ক’দিন মাছ ধরে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন জেলেরা, গভীর নিম্নচাপের বৈরী আবহাওয়া সেই স্বপ্নকে কতটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ