০৯:৪৯ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় রেলওয়ের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন- আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদ মেম্বারের ছেলে আল আমিন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আল আমিন প্রভাব খাটিয়ে উপজেলার আজমপুর কড়ি গাছতলা এলাকায় আখাউড়া-বিজয়নগর সড়কের পাশে রেলওয়ের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, প্রায় ১০ দিন ধরে সড়কের পাশে সামিয়ানা টানিয়ে দিন-রাত নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, রেলওয়ের জায়গা দখল করে নির্মাণাধীন স্থাপনার বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করা হোক এবং সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করে অবৈধ দখলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
সরেজমিনে দেখা যায়, রেলওয়ের জায়গায় সামিয়ানা টানিয়ে নির্মাণসামগ্রী রেখে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের মতে, সরকারি সম্পত্তি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের ফলে রেলওয়ের জায়গা সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি সম্পদের ক্ষতি ও রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
রেলওয়ের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে নির্মাণকাজে বাধা দিয়েছেন। তারা একই সঙ্গে জানিয়েছেন, যদি কাজ বন্ধ না করা হয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে আল আমিন বলেছেন, তিনি আজমপুর রেলওয়ে স্টেশনের লামিয়া স্টোরের মালিক সোহাগের মাধ্যমে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্য রেজাউলকে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। তার দাবি, ওই টাকা দেওয়ার পর তাকে বলা হয়েছিল, নির্মাণকাজের সময় কেউ বাধা দেবেন না। তবে পরে বাধা দেওয়ার ফলে তার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, আল আমিনের এই বক্তব্য অস্বীকার করেছেন আরএনবি সদস্য রেজাউল। তিনি জানান, “আমার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ মিথ্যা। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি এসব কাজে জড়িত নই।”
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
লামিয়া স্টোরের মালিক সোহাগ বলেন, “এখানে প্রায় দেড়শোর মতো দোকান রয়েছে। অন্যরা যেভাবে দোকান করেছে, তিনিও সেভাবেই করেছেন। আমাকে শুধু পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আমি পরিচয় করিয়ে দিয়েছি। কীভাবে কী করেছে, সেটা আল আমিনই ভালো জানেন। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি জানি না।”
স্থানীয় ৬ নম্বর ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়া জানিয়েছেন, “রেলওয়ের জায়গায় দোকান নির্মাণ করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে কীভাবে জায়গাটি দখল করে নির্মাণকাজ করা হয়েছে, সেটা আল আমিনই ভালো বলতে পারবেন।”
আজমপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বিষয়টি জানার পর রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।”
রেলওয়ে ফিল্ড কাননগো মো. শহিদুজ্জামান জানান, “রেলওয়ের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি শুনেছি। জায়গাটি পরিদর্শন করে তাকে প্রাথমিকভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। এরপরও কাজ বন্ধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী-কার্য (আইডব্লিউ) আব্দুর রউফ বলেন, “বিষয়টি আমি জেনেছি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে আখাউড়া সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এ.ই.এন) আবু হানিফ পাশা জানান, “রেলওয়ের জায়গায় কেউ অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। বিষয়টি আমরা জেনেছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”
আখাউড়া রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সব সময় সজাগ রয়েছি। রেলের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে আমি রেলওয়ে থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেছি। টাকা লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি এরকম কোনো বিষয় প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “রেলের জায়গা কেউ দখল করতে পারবে না। কেউ দখল করে ঘর বা দোকান নির্মাণ করে থাকলে সে অপরাধ করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন