ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজধানীর ১২০ মোড়ে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল বসানোর পরিকল্পনা


রাজধানীর ১২০ মোড়ে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল বসানোর পরিকল্পনা

মোতাহার হোসেন

ঢাকা, ২১ জুলাই, ২০২৬ : রাজধানীর ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ইতোমধ্যে ১২টি পয়েন্টে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মাসখানেকের মধ্যে এই সংখ্যা ৬০ পর্যন্ত পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ।

এছাড়া, যানজট হ্রাস করতে গত প্রায় এক বছরে নগরীর ৭৫টি পয়েন্টে সড়ক ডাইভারশন ও স্থাপত্যগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। ডিএমপির পরিকল্পনা রয়েছে ভবিষ্যতে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিকীকরণ করার।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে ডিএমপি ট্রাফিকে প্রায় ৪ হাজার ১০০ সদস্য কাজ করছেন। কিন্তু ছুটি, প্রশিক্ষণ ও অসুস্থতার কারণে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ সদস্য রাজধানীর ৬৬৮টি ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ২৫টিরও বেশি পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা ডিউটি দিতে হয়, যেখানে তিন পালায় দায়িত্ব পালিত হয়। বেশিরভাগ পয়েন্টে দুই পালায় কাজ করা হয়।

আনিছুর রহমান জানাচ্ছেন, সীমিত জনবল দিয়ে রাজধানীর যানজট কমাতে গত বছর বিভিন্নভাবে ৭৫টি পয়েন্টে ডাইভারশন ও মডিফিকেশন করা হয়েছে। সেখানে কিছু পরিবর্তনের ফলে এখন পর্যন্ত কোন বড় ধরনের যানজট বা নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়নি। বরং মাঠে যানজট কমার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

তিনি উদাহরণ হিসেবে বলছেন, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-এর পশ্চিম প্রান্তে আসাদ গেটের ওপাশের চার রাস্তার মোড়ে পূর্বে বেশিরভাগ সময় যানজট লেগে থাকত এবং সেখানে বেশি সংখ্যক ট্রাফিক সদস্য মোতায়েনের প্রয়োজন পড়ত। তবে পরে ওই মোড়ে চলাচল বন্ধ করে বাম দিকে ঘুরে ইউটার্ন নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এতে বাম লেন সব সময় সচল থাকে এবং যানবাহনের চাকা থেমে থাকে না। এছাড়া যুদ্ধে মোহাম্মদপুরের বসিলা, বনানীর কাকলী, মিরপুরের ইসিবি চত্বর ও কালশী ফ্লাইওভারের নিচেও একই ধরনের ডাইভারশন ও মডিফিকেশন করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, ঢাকা একটি অত্যন্ত জনবহুল মেগাসিটি। সেক্ষেত্রে শুধু ট্রাফিক সদস্যের সংখ্যা বাড়ানো সমস্যার সমাধান দিতে সক্ষম হবে না।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

সড়কের নকশা বিশ্লেষণ করে বৈজ্ঞানিকভাবে ডাইভারশন এবং মডিফিকেশন করা হলে কার্যকারিতা প্রচুর বৃদ্ধি পাবে। এ কারণে ৭৫টি স্থানে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং আরও অনেক পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলি বাস্তবায়িত হলে দর্শকদের সঙ্গে আরও ভাল সেবা প্রদান সম্ভব হবে বলেও তার বিশ্বাস।

তিনি আরো বলেন, কোথায় কখন যানজট হয়, সে সম্পর্কে ট্রাফিক বিভাগের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পিক আওয়ার, অফ-পিক আওয়ার অনুযায়ী সদস্যদের দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। তবে শুধুমাত্র ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। এই ব্যবস্থায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সংযোগ ঘটাতে হবে, সেটাই হবে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর সমাধান।

আনিছুর রহমান উল্লেখ করেছেন, রাজধানীতে ধীরে ধীরে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। বর্তমান ১২টি পয়েন্টে এ ব্যবস্থা রয়েছে, যা আগামী এক মাসের মধ্যে ৬০টি পয়েন্ট অতিক্রম করবে। এরপর আগামী ছয় মাসে রাজধানীর প্রধান ১২০টি পয়েন্টকে এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

বर्तमान সিগন্যালগুলো ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিগন্যালের সময় পরিবর্তন করা সম্ভব। তবে উন্নত দেশগুলোতে পুরো সিস্টেম একটি অ্যালগরিদমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। একজন সিগন্যাল অন্য আরেকটি সিগন্যালের সাথে যুক্ত থাকে, এবং নির্দিষ্ট সময়ে কতগুলো যানবাহন এসেছে তার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিগন্যালের সময় নির্ধারণ করা হয়।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

বর্তমানে সেমি-অটোমেটিক ব্যবস্থা চালুর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, উন্নত বিশ্বের সড়কগুলো অত্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে পরিকল্পিত। যেখানে বলা হয় কোথায় কিভাবে মোড় তৈরি হবে, কত ডিগ্রি কোণে বাঁক থাকবে, এবং কোথায় উঁচু বা নিচু হবে। আমাদের দেশে সড়কব্যবস্থার পরিকল্পনা তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। এজন্য উন্নত দেশের মডেল পুরোপুরি এখানে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।

বর্তমান ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আনিছুর রহমান বলেন, গত দুই মাসে নগরবাসীর কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সহযোগিতা পাওয়া গেছে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলছে এবং সিগন্যাল অনুসরণ করে শৃঙ্খলা রক্ষা করছে। এর ফলে আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার ঘটনা কমেছে।

তবে তিনি সতর্ক করেন, ঢাকার সব সমস্যা শেষ হয়নি। ভারী বৃষ্টিপাত হলে সড়ক অচল হয়ে যায় এবং সড়ক অবরোধ করা হলে যান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। সুতরাং ঢাকা শহরের যানজটকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বিভিন্ন সমস্যাসমূহ একে অপরকে প্রভাবিত করে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের সময় অটোমেটিক সিস্টেম পরিচালনা করতেও বিভিন্ন সময়ে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। সেক্ষেত্রে ম্যানুয়াল সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তবে ভবিষ্যতে পুরোপুরি অটোমেটিক ব্যবস্থায় যাওয়া পরিকল্পনা রয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর নির্ভর করবে এ উদ্যোগের বাস্তবায়ন।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

এছাড়া, যানজট নিরসনের জন্য শুধু ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলে জানান আনিছুর রহমান। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা এবং সড়ক ব্যবহারকারী প্রত্যেক মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দেশের বড় সমস্যা হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। অনেক সময় প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছাড়াই রাতারাতি রাস্তা কেটে উন্নয়ন কাজ শুরু করা হয়, যা যান চলাচলে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পর্যাপ্ত যেসব কাজে ত্রুটি সৃষ্টি হচ্ছে তাদের মধ্যেও রাস্তা কেটে কাজ শুরু করা নিয়েই বড় সমস্যা দেখা দেয়। আবার উন্নয়ন কাজের সময় ট্রাফিক সিগন্যালের কেবল কেটে ফেলায় পুরো সিগন্যাল ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা আবশ্যক।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ১১৮ পুলিশ; গ্রেপ্তার ৭০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৯ এম


দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ১১৮ পুলিশ; গ্রেপ্তার ৭০

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে পুলিশের সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে অন্তত ১১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ৭০ জন ককরোচ বিক্ষোভকারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

এ ঘটনা সোমবার (২০ জুলাই) দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ঘটে। আজ (২১ জুলাই) দিল্লি পুলিশ তার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত এবং ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ৬ জুন থেকে আন্দোলন করতে দেখা যাচ্ছে অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টিকে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোমবার (২০ জুলাই) যন্তর মন্তর থেকে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার অনুষ্ঠান ছিল।

পুলিশ জানায়, কর্মসূচির শুরুতে কিছুক্ষণের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এই সময় পুলিশ হালকা লাঠিচার্জও করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা উল্লেখ করেছেন।

এর পর কিছুক্ষণের মধ্যে আবারও যন্তর মন্তর এলাকায় জড়ো হয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ বাধা দিলেও উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

দিল্লি পুলিশের দাবি অনুসারে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল এবং পাথর নিক্ষেপ করেন, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা চালান এবং সরকারি যানবাহন ও সম্পদের ক্ষতি করেন। এই ঘটনার ফলে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গুরুতর হুমকির মুখে পড়ে বলেও পুলিশ দাবি করেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আহত ১১৮ জনের মধ্যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তাদের মধ্যে বিশেষ পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

তবে পুলিশের লাঠিচার্জের ফলে বিক্ষোভকারীরাও আহত হয়েছেন বলে দিল্লি পুলিশ স্বীকার করেছে। তাদের তথ্য অনুসারে, এ ঘটনায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও, অন্যদের এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে তারেক রহমানের অভিনন্দন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩২ এম


যুক্তরাজ্যের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে তারেক রহমানের অভিনন্দন

ঢাকা, ২০ জুলাই, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী আজ রাতে বাসসকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ যুক্তরাজ্যের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দনবার্তা পাঠিয়েছেন।’

অভিনন্দনবার্তায় তারেক রহমান অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি কামনা করেন।

এছাড়া, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়া ও দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশ সরকার, দেশের জনগণ এবং নিজের পক্ষ থেকে লেবার পার্টির নেতাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

জানা যায়, তারেক রহমান বলেন, অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া তার নেতৃত্বের প্রতি তার দল এবং যুক্তরাজ্যের জনগণের আস্থারই প্রতিফলন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক সুশাসন এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বার্তায় তারেক রহমান বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক এবং বহুমাত্রিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, কমনওয়েলথের নীতি এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভিত্তিতে এই অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে।’

এছাড়া, তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা, নিরাপত্তা, অভিবাসন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর মতে, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছেন এবং উভয় দেশের অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন।

অভিনন্দন বার্তায় তারেক রহমান বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

একই সঙ্গে তিনি সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সুস্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত কল্যাণ এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সফল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম আজ (সোমবার) আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাইরাল হওয়া রুনাকে আটক করল গোয়েন্দা পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ এম


ভাইরাল হওয়া রুনাকে আটক করল গোয়েন্দা পুলিশ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর আলোচনা সৃষ্টি করা যশোরের রুনা পারভীন (২৫) এবার অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

ডিবি পুলিশ জানায়, রোববার (১৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের সাতমাইল মোড়লপাড়া গ্রামে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রুনা পারভীনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (২০ জুলাই) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার রুনা পারভীন ওই গ্রামের নুরুল আমিনের কন্যা।

পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পেরেছেন, সাতমাইল এলাকার দেলবার মণ্ডলের বাড়িকে কেন্দ্র করে একটি চক্র ই-ট্রানজেকশন এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে নিষিদ্ধ অনলাইন বেটিং সাইট পরিচালনা করছে। এরপর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের উপপরিদর্শক (এসআই) জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে অভিযান শুরু করা হয়।

অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের কয়েকজন সদস্য পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে রুনা পারভীনকে আটক করা হয়। এই সময় অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন এবং বিভিন্ন আইএমইআই নম্বরযুক্ত একাধিক সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিবি পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুনা পারভীন দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

এ ঘটনায় এসআই জয়নুল আবেদীন বাদী হয়ে শার্শা থানায় জুয়া আইন এবং ডিজিটাল অপরাধ-সংক্রান্ত প্রযোজ্য ধারায় মামলা দায়ের করেন। পরে সোমবার দুপুরে তাকে যশোরের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত পলাতক সদস্যদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, উল্লেখ্য যে, রুনা পারভীন এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর আলোচনায় এসেছিলেন। এবার অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার গ্রেপ্তার নতুন করে আলোকপাত করেছে। তবে মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয় না পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে অভিযুক্ত, দোষী নন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারের আশ্বাসের পরও যন্তর মন্তরে অবস্থানে ককরোচ জনতা পার্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪১ এম


সরকারের আশ্বাসের পরও যন্তর মন্তরে অবস্থানে ককরোচ জনতা পার্টি

ভারতের জাতীয় রাজধানীতে নাটকীয় ঘটনার একদিন পর, ব্যঙ্গাত্মক মঞ্চ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) জানিয়েছে যে, দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

এর আগে সোমবার দিনব্যাপী বিক্ষোভ ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে জড়ায় বিক্ষোভকারীরা। এক সময় পুলিশ যন্তর মন্তর থেকে মঞ্চ ও তাঁবুগুলো সরিয়ে নিলেও, মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীরা স্থানটি পুনরুদ্ধার করে এবং অবস্থান নেয়।

সিজেপি বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানের পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোর থেকেই বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরে আসতে শুরু করেন। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আরএএফ সদস্য মোতায়েন ছিল তখন।

সোমবার সংসদ অভিমুখে যাত্রা করেন সিজেপির সদস্য ও সমর্থকরা। এ সময় রাজধানীতে অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়, যখন হাজার হাজার প্রতিবাদী শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে আসে, যার ফলে বিশৃঙ্খলা, সংঘর্ষ এবং পুলিশি হস্তক্ষেপের সৃষ্টি হয়।

এক পর্যায়ে সংসদের কয়েক মিটারের মধ্যে চলে আসা জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলে ১০০ জনেরও বেশি পুলিশ ও ৬০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী আহত হন।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবারের মিছিল চলাকালে প্রায় ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয় এবং সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ বলেছে, বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা অবাধ্য, আক্রমণাত্মক ও সহিংস আচরণ করেছে। এতে আরও বলা হয়েছে যে, বারবার সতর্কবার্তা এবং আইনানুগ নির্দেশনা দেয়া সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হতে অস্বীকার করে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে।

অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা ‘সংসদ চলো’ মিছিল চলাকালে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে এবং তাদের দাবি, এতে বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হয়েছে।

এদিকে, জানা গেছে, বিশৃঙ্খলা, সংঘাত ও স্লোগানের মধ্যে সরকার সোমবার প্রতিবাদী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা সোমবার বিকেলে তার বাসভবনে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তাদের দাবি শোনেন এবং প্রতিবাদ শেষ করার জন্য তাদের কাছে আবেদন জানান।

সিজেপি দলটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে তিনটি দাবি পেশ করে: সোনম ওয়াংচুকের চলাচলে কোনো বাধা ছাড়াই মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নিট ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা সমস্ত নিট পরীক্ষার্থীদের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ।

নাড্ডা তাদের দাবি স্বীকার করে নিয়েছেন এবং এক্স-এ পোস্ট করেছেন যে, সিজেপি নেতারা বিকেল ৪টার দিকে তার কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সিজেপি সরকারের কাছে আলোচনার জন্য যোগাযোগ করার পর এই আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৈঠকের পর সিজেপি-র সৌরভ দাস বলেন, মন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি যথাযথ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়নি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীরা বিশ্রাম নেবে না।

সূত্র: এনডিটিভি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%