ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পরকীয়ার জেরে স্বামী কেতাব উদ্দিন হত্যা: স্ত্রী-প্রেমিকসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন


পরকীয়ার জেরে স্বামী কেতাব উদ্দিন হত্যা: স্ত্রী-প্রেমিকসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতে পরকীয়ার জেরে স্বামী কেতাব উদ্দিনকে হত্যা করার দায়ে স্ত্রী এবং তার প্রেমিকসহ মোট চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালত। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা দায়রা আদালতের অতিরিক্ত বিচারক জয়নাল আবেদীন এই রায় প্রদান করেন। মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: ফুলবাড়ির গোড়ক মণ্ডল এলাকার নুর নাহার, শাশুড়ি ছকিনা বেগম, শ্বশুর নুর মোহাম্মদ এবং স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক গফুর। মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৮ এপ্রিল কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর গোড়কমণ্ডল গ্রামে স্ত্রী নুরনাহার তার স্বামী কেতাব উদ্দিনকে দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে কৌশলে পার্শ্ববর্তী এলাকায় তার পরকীয়া প্রেমিকের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে স্ত্রী নুর নাহার এবং তার বাবা-মা এবং তার পরকীয়া প্রেমিক মিলিত হয়ে কেতাব উদ্দিনকে হত্যা করে বাড়ির পাশের জমিতে মরদেহ লুকিয়ে রাখে। পরদিন ১৯ এপ্রিল কেতাব উদ্দিনের বাবা আলী মুদ্দিন বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযুক্ত চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন, পাশাপাশি বাকি আসামিদের খালাস প্রদান করেন আদালত। মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন: অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন আলো এবং সরকার পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী স্বাস্থ্য ও ক্যান্সার প্রতিরোধে ডিজিটাল অ্যাপ ও আন্তর্জাতিক ফেলোশিপের তাগিদ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫২ পি.এম


নারী স্বাস্থ্য ও ক্যান্সার প্রতিরোধে ডিজিটাল অ্যাপ ও আন্তর্জাতিক ফেলোশিপের তাগিদ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতের

দেশে নারী স্বাস্থ্য ও কল্যাণে বৃহৎ ধরনের পরিবর্তন আনতে ডিজিটাল স্বাস্থ্য অ্যাপ চালুর বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।

তিনি জানান, মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে তরুণ চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক উচ্চতর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।

ডা. মুহিত বলেছেন, ‘নারী স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে আমাদের দল সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য আমাদের যে ম্যান্ডেট রয়েছে, আমরা তাদের দোরগোড়ায় সেই স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেব।’

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘হার হেলথ বাংলাদেশ: নারীদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ ত্বরান্বিতকরণ—জাতীয় মাতৃস্বাস্থ্য এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক-এর যৌথ অর্থায়নে এবং ইউএনএফপিএ-এর সহযোগিতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়া হায়দারও বক্তব্য রাখেন।

প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত তার বক্তব্যে কর্মসূচির রূপান্তর ও প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘প্রজেক্টের ‘ডিজিটাল হেলথ অ্যান্ড ইনোভেশন’ স্তম্ভটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এই কর্মসূচির আওতায় একটি দ্বি-মুখী ডিজিটাল অ্যাপ তৈরি করা অত্যাবশ্যক, যার একটি ইন্টারফেস রোগীরা ব্যবহার করবেন এবং অন্যটি ব্যবহার করবেন সেবাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সহজে সংগ্রহ করা যাবে এবং রোগীরাও অ্যাপের মাধ্যমে তাদের পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলো-আপ রিমাইন্ডার ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক শিক্ষা লাইভ ও সরাসরি লাভ করতে পারবেন।’

চিকিৎসক ও মাঠকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের বিশাল মাঠ পর্যায়ের কর্মীবাহিনীকে স্তন ক্যান্সার ও ফিস্টুলা স্ক্রিনিংয়ের সঠিক প্রশিক্ষণ প্রদান জরুরি। এর সাথে সাথে তরুণ সার্জনদের জন্য সার্জিক্যাল ট্রেনিং এবং ডাক্তারদের জন্য ক্যান্সার থেরাপির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের বিষয়টি এই প্রজেক্টে থাকা উচিত।’

তিনি ইউরোপীয় বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সাথে কোলাবোরেশনের মাধ্যমে দেশের তরুণ চিকিৎসকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ফেলোশিপের সুযোগ তৈরি করতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন।

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়া হায়দার তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা ঢেলে সাজানোর একটি যুগান্তকারী রূপরেখা তুলে ধরেন।

ডা. জিয়া বলেন, “মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমাদের বর্তমানে তিন ধরনের ফ্রন্টলাইন কর্মী রয়েছেন। আমরা তাদের সবাইকে একত্রিত করে 'কমিউনিটি হেলথ ওয়াকার' নামে একটি একক ও সমন্বিত বাহিনী গড়ে তুলছি। নতুন এক লাখসহ, দেশের মোট এক লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার দেশের প্রতিটি পরিবার পরিদর্শন করবেন এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবেন।”

সেমিনারে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) শাহ ইমাম আলী রেজা, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন ক্যামকং এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীমসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বান্দরবানে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ও ৩ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


বান্দরবানে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ও ৩ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ১ নম্বর আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিনসহ চারজন জনপ্রতিনিধিকে সরকার সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।

এই বরখাস্তের কারণ হলো রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে ভুয়া নাগরিক সনদ ও প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

গত ১২ জুলাই জারি করা স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম-২০২৫ উপলক্ষে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যে কিছু ভুয়া নাগরিক সনদ এবং ‘রোহিঙ্গা নন’ মর্মে প্রত্যয়নপত্র প্রদান, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া ও অসম্পূর্ণ তথ্যসংবলিত প্রত্যয়নপত্র ইস্যু করে ভোটার তালিকাভুক্তিতে সহায়তা করা হচ্ছে।

এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রশাসনিকভাবে পাওয়া গেছে, যা ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকালাপের মধ্যে পড়ে।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিন, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সন্তোষ কান্তি দাশ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাকের হোসেন এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মতিন রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বর্তমান দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিকভাবে সমীচীন নয়। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪)(খ) ও (ঘ) এবং ৩৪(১) ধারার আওতায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অভিযুক্তদের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) জবাব দেয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর আলম মন্তব্য করে বলেন, ‘এটি সাময়িক বরখাস্ত, চূড়ান্ত বরখাস্ত নয়। তাদের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি যে নির্দেশনা দেবেন, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোলায় পরিকল্পনার অভাবে ৩০ বছর ধরে পড়ে আছে বিপুল গ্যাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


ভোলায় পরিকল্পনার অভাবে ৩০ বছর ধরে পড়ে আছে বিপুল গ্যাস

দ্বীপজেলা ভোলায় গ্যাসের অভাবনীয় প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও, সময়োপযোগী পরিকল্পনার অভাবে শেষ তিন দশকে কাঙ্ক্ষিত শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি। এর ফলে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাস অলস অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নতুন করে সন্ধান পাওয়া গেছে দুটি গ্যাসক্ষেত্রেরও।

চাহিদার তুলনায় বেশি উৎপাদন ক্ষমতার সাথে শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা করছে বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি। এ কারণে ভোলাবাসীরা উন্নয়ন বিচ্ছিন্ন থাকছেন এবং বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা থমকে গেছে। তবে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত শিল্পপার্ক স্থাপনের মাধ্যমে ভোলাবাসী নতুন করে গ্যাসভিত্তিক উন্নয়নের আশা দেখছেন। বিগত দিনের মতো আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে এই ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন চান তারা।

১৯৯৫ সালে ভোলার বোরহানউদ্দিনে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে বাপেক্স। সেখানে মজুত আছে প্রায় দুই টিসিএফ গ্যাস। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০০৯ সালে সেই গ্যাসের বাণিজ্যিক উত্তোলন শুরু হয়। বর্তমানে, এই ক্ষেত্র থেকে দৈনিক উত্তোলন ক্ষমতা ১২২ মিলিয়ন ঘনফুট।

মাধ্যমে ১৪ জুলাই সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির মাধ্যমে বোরহানউদ্দিনে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সাতটি শিল্পকারখানায় (শেলটেক সিরামিক লিমিটেড, কাজী ফিড, প্রিয় অটো, অ্যাডভান্স অটোব্রিকস, সাগর বেকারি, আল মদিনা ও জিকে ট্রেডার্স) গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সাথে ২ হাজার ৩৪৪টি আবাসিক সংযোগে ৭০ থেকে ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। আবার, অন্যদিকে ইন্ট্রাকো সিএনজি আকারে ঢাকায় নিচ্ছে দৈনিক এক মিলিয়ন ঘনফুট। এর পরেও, প্রতিদিন উদ্বৃত্ত থাকে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

এছাড়া, ২০১৮ সালে আবিষ্কৃত ভোলা নর্থ ও ২০২৩ সালে ইলিশা-১ গ্যাসক্ষেত্র থেকে এখনো গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়নি। গ্যাস সংযোগের জন্য বর্তমানে দুটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের আবেদন প্রক্রিয়াধীন। আবুল উলাইয়া টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ও প্রাণ-আরএফএলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাজ চলছে।

গ্যাসের মতো মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ থাকার পরও ভোলাবাসী কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। বেকারত্ব সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বিগত সরকার যা সারকারখানা, ইপিজেড, এলএনজি স্টেশন ও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়ন হয়নি। পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস অন্যত্র নিয়ে যাওয়া বাদ দিয়ে ভোলাতেই ব্যয়সাশ্রয়ী শিল্পকারখানা গড়ে তোলার দাবিতে স্থানীয়রা দীর্ঘ বছর ধরে আন্দোলন করছেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে ভোলায় ‘শিল্পপার্ক’ করার ঘোষণা দিলে হতাশা কেটে নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। স্থানীয়রা কম খরচে নৌপথে পণ্য পরিবহন ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎসহ শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুকূল পরিবেশ কাজে লাগানোর দাবি জানিয়েছেন।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ভোলা জেলা সভাপতি মো. সোলাইমান জানান, ‘শিল্পকারখানা করার সকল পরিবেশ ভোলায় রয়েছে। বিগত দিনে বহু উদ্যোক্তা এসেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের বাস্তবায়ন হয়নি। এর পেছনে সরকারের ব্যর্থতা রয়েছে।’

উন্নয়ন কর্মী মো. ইকরামুল আলম বলেন, গত ১৭ বছর ধরে তারা শুধু ইকোনমিক জোন ও কলকারখানা হওয়ার আশ্বাস শুনেছেন। ঢাকা থেকে কর্মকর্তারা সরেজমিন দেখে গেলেও বাস্তবে কিছুই হয়নি। তিনি বলেছন, ‘বিভিন্ন উদ্যোক্তারা যখন ভোলায় এসেছেন, তখন বিশেষ শ্রেণি সিন্ডিকেট করে জমির দাম বাড়িয়েছে, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। ফলে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে যেন এমন কোনো সিন্ডিকেট বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেটি কঠোর হাতে দমন করতে হবে।’

গণমাধ্যম কর্মী আবদুর রহমান হেলালের ভাষ্য হচ্ছে, গ্যাসের পাশাপাশি ভোলায় বিদ্যুৎ ও নদীপথের সহজ যোগাযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকার ও বিরোধীদল দুই পক্ষ এখানে শিল্পপার্ক স্থাপনের ব্যাপারে একমত হয়েছে, তাই এর দ্রুত বাস্তবায়ন চান তিনি।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রাইসুল আলম জানান, ‘ভোলার উন্নয়নের পাঁচটি দাবির অন্যতম হলো গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন। যার মাধ্যমে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান দুটোই হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি শিল্পপার্ক স্থাপনের কাজ শুরুর দাবি করেন। এর ফলে গ্যাসের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নের জন্য অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন এই বিএনপি নেতা।

ভোলার গ্যাস খুলনা বা বরিশালে নিয়ে শিল্পায়ন করাকে বিপুল অর্থের অপচয় মনে করেন ভোলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর। তিনি বলেন, ‘গ্যাস কেবল বরিশাল পর্যন্ত নিয়ে যেতে ১১শ কোটি টাকা খরচ হবে। এই বিপুল টাকা খরচ না করে ভোলাকেই শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এতে ভোলার মানুষের পাশাপাশি সারা দেশের মানুষ উপকৃত হবে। নৌপথের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সারকারখানা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, ইপিজেড ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গ্যাসভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠার ব্যাপক অবকাশ রয়েছে এখানে।’

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব ও প্রবীণ ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘সম্পদের তুলনায় ভোলা উন্নয়নের সূচকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভোলার গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করেন। এরপর উত্তোলন শুরু হলেও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন হয়নি। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্পপার্কের ঘোষণা দিয়েছেন, সেটি আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি।’

এদিকে শিল্পকারখানা স্থাপনে সরকারের নির্দেশনা পালনে সব ধরনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ডা. শামিম রহমান। তিনি বলেন, ‘গ্যাসভিত্তিক উন্নয়ন ভোলাবাসীর প্রাণের দাবি। স্থানীয় প্রশাসন জমি বরাদ্দসহ যা যা প্রয়োজন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এখানে ছোট ইন্ডাস্ট্রির পাশাপাশি ভারী ইন্ডাস্ট্রি করার সুযোগ রয়েছে।’ দেশের উন্নয়নে ভোলার গ্যাসের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

ভোলার এই গ্যাসের উত্তোলন সীমাবদ্ধ না রেখে সরকার দ্রত শিল্পপার্ক গড়ে তুলবে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে; এমনটাই প্রত্যাশা জেলার ২০ লাখ মানুষের।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিক্ষুব্ধ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দিলেন যে আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০০ পি.এম


বিক্ষুব্ধ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দিলেন যে আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রী

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের অনুরোধ, আসুন আমরা উভয়ে আবার, যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যাই।” শিক্ষামন্ত্রী এই বিষয়ে আরও যোগ করেন, “সঠিকভাবে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। আমি আশ্বাস দিচ্ছি, যেসব কেন্দ্রে ভুল-ত্রুটি হয়েছে, সেসব জায়গায় পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।”

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন শফিকুল ইসলাম মাসুদ শিক্ষামন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, “গতকাল যেসব এইচএসসি পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের বিশেষ মূল্যায়ন সহায়তা ব্যবস্থা এবং যেসব কেন্দ্র এখনো পানির নিচে, সে বিষয়ে কি বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? একই সঙ্গে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে?”

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জবাবে বলেন, “বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে ছিলাম এবং আছি। যেসব কেন্দ্রে পানি উঠে গেছে, তাৎক্ষণিকভাবে আমরা কেন্দ্র সরিয়ে দিয়েছি। স্থানীয় প্রশাসনকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।” শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, “এ যাবৎ শুধুমাত্র কুমিল্লা সরকারি কলেজের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাছাড়া অন্যান্য যেসব গুটি কয়েক কেন্দ্রে সমস্যা হয়েছিল, সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র পাল্টানো হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুবিধা দেয়া হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, যেসব শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের শুধরে নেয়া বিরাট কোনো কাজ নয়। কারণ আমরা অনেক জায়গায় পরীক্ষা বন্ধ করেছি এবং আবার তাদের পরীক্ষা নেবো।” শিক্ষামন্ত্রী জানান, “আমরা পর্যলোচনা করছি, যদি কোথাও প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জলবদ্ধতার ফলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে না পারে, তাহলে জরিপ করে আমরা পুনরায় পরীক্ষাও নিতে পারি।”

এসময় শিক্ষামন্ত্রী জানান, “বর্ষা মৌসুম এড়াতে পরীক্ষা কীভাবে এগিয়ে নেয়া যায়, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে। ২০২৭ সালে এসএসসি থেকে বেজ ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বছরও আমরা এক মাস এগিয়ে নিয়েছি এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে শিক্ষাবর্ষ আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। সিলেবাস কীভাবে শেষ করবে সে বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।”

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%