০৭:০৫ পি.এম
জেলার একমাত্র সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮শ’ টাকার মাছের পোনা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে মৎস্য অধিদপ্তর। এর ধারাবাহিকতায়, মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারটিতে এ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে।
নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রেণু, কার্পজাতীয় ও পাবদা মাছের পোনা উৎপাদন করে তা বিক্রি করা হয়েছে।
খামার সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে খামারটিতে ১২৭ কেজি রেণু পোনা, ১ হাজার ৩৯১ কেজি কার্পজাতীয় মাছের পোনা এবং ১ লাখ পাবদা মাছের পোনা উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে ১২৭ কেজি রেণু পোনা ২ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ টাকায়, ১ হাজার ৩৯১ কেজি কার্পজাতীয় পোনা ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকায় এবং ১ লাখ পাবদা পোনা ২ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
আরও জানা যায়, সরকারি এ খামারে উৎপাদিত ফলমূল ও শাক-সবজি বিক্রি করে আয় হয়েছে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে এই খামার থেকে মোট ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮০০ টাকা আয় হয়েছে। আয়ের পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে।
গোপালগঞ্জ মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারের খামার ব্যবস্থাপক তানজিলা আক্তার নিপা বাসস’কে জানান, খামারটির আয়তন ১ দশমিক ৬২ হেক্টর। এখানে মোট ৮টি পুকুর এবং একটি হ্যাচারি রয়েছে। ৪টি পুকুরে পোনা মজুদ করা হয় এবং অপর ৪টি পুকুরে সারা বছর ব্রুড মাছ সংরক্ষণ করা হয়। ব্রুড মাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করে নিজস্ব হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদন করা হয়। উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়, ফলে এ খামার থেকে সঠিক আকার ও গুণগত মানসম্পন্ন পোনা উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে এসব পোনা বিক্রি করা হয়। মানসম্মত পোনা হওয়ায় চাষিরা এ খামারের পোনা নিয়ে মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
জেলার সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের মৎস্যচাষী হাবিবুল বাহার (৫৯) বলেন, ‘১৫ বছর ধরে মাছ চাষ করছি। গোপালগঞ্জ মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার থেকে সরকারি নির্ধারিত সাশ্রয়ী মূল্যে মাছের পোনা সংগ্রহ করি। এসব পোনা পুকুরে ছাড়ার পর উৎপাদন ভালো হয়। পোনা মারা যাওয়ার হারও কম। বছর শেষে প্রত্যাশিত হারে মাছের ওজন বৃদ্ধি পায়। এখানকার পোনার মান খুবই ভালো। মানসম্মত পোনা দিয়ে চাষ করে আমি লাভবান হয়ে আসছি।’
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
একই উপজেলার কাজুলিয়া গ্রামের মৎস্যচাষী কামরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, ‘গোপালগঞ্জ সরকারি মৎস্য খামার থেকে মাছের পোনা কিনে সবাই লাভবান হয়েছে। এখানকার পোনা মাছ চাষের জন্য উপযোগী। তবে চাহিদার তুলনায় খামারটি পোনা সরবরাহ করতে পারে না। তাই এখানে পোনা উৎপাদন আরও বাড়ানো প্রয়োজন। উৎপাদন বাড়ানো হলে জেলার মৎস্যচাষীরা আরও বেশি লাভবান হবেন।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন