ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গোপালগঞ্জে মৎস্য বীজ উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত, মৎস্যচাষে আশার আলো


গোপালগঞ্জে মৎস্য বীজ উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত, মৎস্যচাষে আশার আলো

জেলার একমাত্র সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮শ’ টাকার মাছের পোনা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে মৎস্য অধিদপ্তর। এর ধারাবাহিকতায়, মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারটিতে এ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে।

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রেণু, কার্পজাতীয় ও পাবদা মাছের পোনা উৎপাদন করে তা বিক্রি করা হয়েছে।

খামার সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে খামারটিতে ১২৭ কেজি রেণু পোনা, ১ হাজার ৩৯১ কেজি কার্পজাতীয় মাছের পোনা এবং ১ লাখ পাবদা মাছের পোনা উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে ১২৭ কেজি রেণু পোনা ২ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ টাকায়, ১ হাজার ৩৯১ কেজি কার্পজাতীয় পোনা ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকায় এবং ১ লাখ পাবদা পোনা ২ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

আরও জানা যায়, সরকারি এ খামারে উৎপাদিত ফলমূল ও শাক-সবজি বিক্রি করে আয় হয়েছে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে এই খামার থেকে মোট ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮০০ টাকা আয় হয়েছে। আয়ের পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে।

গোপালগঞ্জ মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারের খামার ব্যবস্থাপক তানজিলা আক্তার নিপা বাসস’কে জানান, খামারটির আয়তন ১ দশমিক ৬২ হেক্টর। এখানে মোট ৮টি পুকুর এবং একটি হ্যাচারি রয়েছে। ৪টি পুকুরে পোনা মজুদ করা হয় এবং অপর ৪টি পুকুরে সারা বছর ব্রুড মাছ সংরক্ষণ করা হয়। ব্রুড মাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করে নিজস্ব হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদন করা হয়। উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়, ফলে এ খামার থেকে সঠিক আকার ও গুণগত মানসম্পন্ন পোনা উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে এসব পোনা বিক্রি করা হয়। মানসম্মত পোনা হওয়ায় চাষিরা এ খামারের পোনা নিয়ে মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।

জেলার সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের মৎস্যচাষী হাবিবুল বাহার (৫৯) বলেন, ‘১৫ বছর ধরে মাছ চাষ করছি। গোপালগঞ্জ মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার থেকে সরকারি নির্ধারিত সাশ্রয়ী মূল্যে মাছের পোনা সংগ্রহ করি। এসব পোনা পুকুরে ছাড়ার পর উৎপাদন ভালো হয়। পোনা মারা যাওয়ার হারও কম। বছর শেষে প্রত্যাশিত হারে মাছের ওজন বৃদ্ধি পায়। এখানকার পোনার মান খুবই ভালো। মানসম্মত পোনা দিয়ে চাষ করে আমি লাভবান হয়ে আসছি।’

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

একই উপজেলার কাজুলিয়া গ্রামের মৎস্যচাষী কামরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, ‘গোপালগঞ্জ সরকারি মৎস্য খামার থেকে মাছের পোনা কিনে সবাই লাভবান হয়েছে। এখানকার পোনা মাছ চাষের জন্য উপযোগী। তবে চাহিদার তুলনায় খামারটি পোনা সরবরাহ করতে পারে না। তাই এখানে পোনা উৎপাদন আরও বাড়ানো প্রয়োজন। উৎপাদন বাড়ানো হলে জেলার মৎস্যচাষীরা আরও বেশি লাভবান হবেন।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পিসহ সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদে ৭ দিনের রিমান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পিসহ সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদে ৭ দিনের রিমান্ড

রাজধানীর মতিঝিল থানার একটি চাঁদাবাজি ও অফিসে গুলি বর্ষণের মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তানিম রেজা বাপ্পি এবং তার সহযোগী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে আদালতের পক্ষ থেকে।

শনিবার (১৮ জুলাই) আসামিদের ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ও মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোমিনুর রহমান সাতদিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেন। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এই রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন।

পুলিশের কাছে থেকে জানা যায় যে, গতকাল শুক্রবার রাতে দিলকুশার হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পিকে এবং দুপুরের সময় উত্তর কমলাপুর এলাকা থেকে তার সহযোগী রাকিবুলকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতের বেলা দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড রিভলভারের গুলি, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ মে ইসমাইল হোসেন নামক একজন ব্যবসায়ী বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় চাঁদাবাজির এই মামলাটি করেন। ইসমাইল হোসেন হলেন মতিঝিল এলাকার ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের পাশে কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাটের ইজারাদার।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত ১৫ মে রাতে এজিবি কলোনিতে অবস্থানকালীন ইসমাইলের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি ফোন এসেছিল। ফোনে আসামিরা কোরবানির গরুর হাটে তাদের মনোনীত ব্যক্তিকে অংশীদার হিসেবে রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। একইসাথে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে এবং তাদের লোককে হাটের দায়িত্ব না দিলে ইসমাইলকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এর চার দিন পর, ১৯ মে ভোরে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা ইজারাদার ইসমাইলের অফিসে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।

মতিঝিল থানা পুলিশ জানায়, এই ঘটনার পর দায়ের হওয়া মামলায় বাপ্পি ও রাকিবুল গ্রেফতার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং এই চক্রের সাথে কারা জড়িত রয়েছে, তা জানতে আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাকের ধাক্কায় রাঙ্গামাটিতে প্রা-ণ হারালেন অন্তঃ-সত্ত্বা শিক্ষিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ পি.এম


ট্রাকের ধাক্কায় রাঙ্গামাটিতে প্রা-ণ হারালেন অন্তঃ-সত্ত্বা শিক্ষিকা

রাঙ্গামাটির সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে যাওয়ার পথে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক অন্তঃসত্ত্বা স্কুলশিক্ষিকা। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের ১৪ মাইল চাম্পাতলী এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর নাম সুমন্তি চাকমা (৩০)। তিনি সাজেক ইউনিয়নের চাপ আদাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, প্রসবের জন্য সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল তাকে। এরই মধ্যে, পথে একটি ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশাটি খাদে পড়ে যায়। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্চয়ন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সুমন্তি চাকমা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন। তিনি সকালে একটি অটোরিকশায় করে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। চাম্পাতলি এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার কারণে সুমন্তি চাকমা গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমি রাঙ্গামাটি এলাকায় অবস্থান করছি। তবে শুনেছি বিজিবির একটি বড় গাড়ির সাথে অটোরিকশার ধাক্কা লাগে। এতে মোট ৫ জন যাত্রী ছিল। তাদের মধ্যে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী গুরুতর আহত অবস্থায় খাগড়াছড়ি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে এবং শুনেছি নিহত নারী একজন শিক্ষিকা ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্কুল থেকে ছেলেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগে বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ পি.এম


স্কুল থেকে ছেলেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগে বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

নিজেদের পারিবারিক বিরোধের কারণে নিজের চার বছরের সন্তানের স্কুল থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগে এক বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি ভারতের মধ্য প্রদেশের মোরেনায় এই ঘটনা ঘটেছে। টানা তিন দিন খোঁজাখুঁজির পর, রাজস্থানের পালি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম নীলেশ রাজপুত। পুলিশ জানায়, নীলেশ ও তার স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিবাদ চলছিল। বনিবনা না হওয়ায় স্ত্রী তার চার বছরের সন্তান কার্তিকেয়কে নিয়ে মোরেনায় বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।

স্ত্রীর বিরুদ্ধে নীলেশের অভিযোগ ছিল যে, তিনি সন্তানকে বাবার সঙ্গে দেখা করতে দিতেন না। নিজের সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে না পেরেই, শেষ পর্যন্ত তাকে স্কুল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন নীলেশ।

মোরেনার পুলিশ সুপার ধর্মরাজ মিনা শনিবার জানান, কার্তিকেয়কে পালি থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। গত ৭২ ঘণ্টার প্রযুক্তিগত তথ্য ও নিবিড় তদন্তের পর আসামির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এই ঘটনায় নীলেশের সঙ্গে আরো দুটি জনও জড়িত ছিলেন। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

জানা যায়, এটি কোনো হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল না। সন্তানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য নীলেশ ও তার দুই সহযোগী ১২ দিন ধরে মোরেনার একটি লজে অবস্থান করেছিলেন। এই সময়ে তারা শিশুর স্কুল এলাকা পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

গত ১৪ জুলাই স্কুল ছুটির পর, নীলেশ বাইরে অপেক্ষা করেছিলেন। শিশুটি বের হলে এক সহযোগীর স্কুটারে করে তাকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে চম্বল নদীর সেতুর কাছে স্কুটারটি ফেলে রেখে অন্য একটি গাড়িতে করে রাজস্থানে পালিয়ে যান তারা। পুলিশ জানায়, অপরাধে ব্যবহৃত স্কুটারটি ওই লজের মালিকের ছিল।

পুরো ঘটনাটি স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি শিশুটিকে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রথমে, শিশুটির মা ফুটেজের ওই ব্যক্তিকে নিজের স্বামী বলে স্বীকার করতে চাননি। তবে পরে তিনি পুলিশকে সহযোগিতা করেন। লজের মালিকও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নীলেশকে শনাক্ত করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধসে পড়ল স্কুল ভবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৮ পি.এম


ধসে পড়ল স্কুল ভবন

খুলনার কয়রার গাজী আব্দুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ দুই তলা অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনের অংশ ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

দীর্ঘসময় ধরে ভবনটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। ভবনের ছাদ ও পিলারে বড় বড় ফাটল দেখা যাচ্ছিল, পলেস্তারা খসে পড়ছিল এবং রড বেরিয়ে এসেছিল। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ার সমস্যাও চলছিল।

নতুন ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু কার্যাদেশ জারি না হওয়ায় নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার আগেই ওই দুইতলা ভবনের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে।

ঘটনাটি খুলনার কয়রার গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে, যেখানে মাধ্যমিকের ক্লাস অনুষ্ঠিত হতো।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলবেলায় ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদসহ সামনের অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ওইদিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় স্কুলের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক কেউ সেই সময় উপস্থিত ছিলেন না। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

তবে ভবনটির ধসের ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ রোববার (১৯ জুলাই) থেকে পাশের একতলা ভবনে মাধ্যমিক এবং কলেজ— দুই শাখার ক্লাস একসাথে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ছিল উপকূলের অন্যতম পুরাতন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০০০ সালে এই দুইতলা অ্যাকাডেমিক ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

আইলা, ইয়াস ও রিমালের মত ঘূর্ণিঝড়ে লবণাক্ত পানিতে বারবার প্লাবিত হওয়ার কারণে ভবনটির কাঠামো দুর্বল হয়ে যায়। একসময়ে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও শ্রেণিকক্ষে সংকটের কারণে ক্লাস চলতে থাকে।

ধসে পড়া ভবনে প্রাণহানি না হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল হায়দার কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শুক্রবার ছুটির দিন বড় অংশ ধসে পড়া ক্রিকেটার ঘটনার কারণে প্রাণহানির সন্ধি হয় নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক গোলাম রসুল বলেন, শুক্রবার স্কুল বন্ধ ছিল ঠিক তাই ভবনটি ভেঙে পড়েছে। কিন্তু যদি ক্লাস চলাকালে ভবনটি ধসে পড়ত, তাহলে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এখন আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক শাখার শিক্ষক রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে মাধ্যমিকে ২৩০ জন শিক্ষার্থী ও ১৯ জন শিক্ষক এবং ৫ জন কর্মচারী রয়েছেন। ধসে পড়া ভবনে তাদের ক্লাস নেওয়া সম্ভব হবে না। এর ফলে পাশের একতলা ভবনে এতদিন শুধুমাত্র কলেজ শাখার ক্লাস চলত, এখন মাধ্যমিক ও কলেজ— দুই শাখার ক্লাস একসাথে পরিচালনা করতে হবে। এর ফলে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কোনো ঘূর্ণিঝড় হলে স্থানীয় মানুষের জন্য বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে। কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিদেশরঞ্জন মৃধা বলেছেন, ভবনটি ধসে পড়ায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ার সাথে সাথে দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের জন্যও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দ্রুত নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু এবং বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন।

নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ক কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভবন ধসে পড়ার পর বিষয়টিকে আরো গুরুত্ব সহকারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে।

জানা গেছে, গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য চলতি বছর আবার দরপত্র (টেন্ডার) সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্পটি মূলত ২০১৭–১৮ অর্থবছরে অনুমোদিত হয়েছিল। তবে এলাকার মাটির স্তর (সয়েল লেয়ার) সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নকশা ও কারিগরি বিষয় একাধিকবার পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। সয়েল টেস্টের জটিলতা কাটিয়ে আবারও টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে।

খুলনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ধনঞ্জয় মিস্ত্রী জানিয়েছেন, প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির ওপর একতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ পরিকল্পনা রয়েছে, যা পরবর্তীতে চারতলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা যাবে। পাশাপাশি পাঠদান সচল রাখতে দুই ইউনিট টিনশেড ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। যদিও এখনো কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) জারি হয়নি। কার্যাদেশ জারি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে নির্মাণকাজ শুরু হবে। দরপত্রে ঠিকাদারের দেওয়া দর অনুযায়ী প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%