১২:৫১ এম
ধ্যপ্রাচ্যে চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে সরকারের তরফ থেকে জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আরও ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে সচল রাখতে এবং জ্বালানি খাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশে ৯০ দিনের মজুত সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল (গ্যাস অয়েল) এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল (উড়োজাহাজের জ্বালানি) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড’, যার জন্য বাজেট ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানাচ্ছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় এই জ্বালানি তেল ক্রয় করতে যাচ্ছে। সম্প্রতি বিপিসির এ প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সরকার প্রতি ছয় মাসে দেশের চাহিদার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল, বিশেষ করে ডিজেল এবং জেট ফুয়েল আমদানি করে। এ কারণে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের চাহিদার বিপরীতে বিপিসি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাচ্ছে। সেটি পরে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য পাঠাচ্ছে। ইতোমধ্যেই কমিটি শব্দকৃতভাবে অনুমোদন দিয়েছে।’
মনির হোসেন চৌধুরী আরও জানান, ‘আমরা প্রশাসনিক ছাড়পত্র দিয়ে এটি বিপিসির কাছে পাঠিয়েছি। পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য বিপিসি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নোয়া (নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড) দেবে এবং এরপর সরবরাহ শুরু হবে।’
বিপিসির কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংকটের সময়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজার অস্থিতিশীল। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং কৃষিকাজ যথার্থভাবে চলতে পারে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান বলেন, গত ১০ জুন সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার চিঠি ১৭ জুন পাওয়া গেছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ‘নোয়া’ দেওয়ার পর দ্রুতই তেল সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মিজানুর রহমান আরও জানান, ‘সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে—যেকোনো মূল্যে দেশে ৯০ দিনের জ্বালানি তেল মজুদ রাখতে হবে। বর্তমানে প্রায় ৬০ দিনের মজুত রয়েছে এবং প্রতি ছয় মাস পর পর নিয়মিত তেল আমদানি করা হবে।’
এদিকে, গত ২৪ মে জ্বালানি বিভাগে পাঠানো বিপিসির এক প্রস্তাবে জানানো হয়েছে, জুন-আগস্ট সময়সীমার মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৯০ হাজার টন ডিজেল এবং ৯০ হাজার টন জেট ফুয়েল আমদানি করা হবে। দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দরপত্রে পরিমাণের কিছুটা কম-বেশি রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের গত ১৩ মে তারিখের ডলারের বিনিময় হার অনুযায়ী এই আমদানিতে সম্ভাব্য মোট ব্যয় ৬২ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৬ মার্কিন ডলার।
বৈশ্বিক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি এবং বাজারের পরিস্থিতি নিয়ে বিপিসির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও জটিল।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
বিপিসির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। আগামী ৬০ দিনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং এলসি খোলার ক্ষেত্রে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে, তাই সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কোনো আশঙ্কা নেই।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণে একটি স্বয়ংক্রিয় ফর্মুলা বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা ভোক্তাদের স্বস্তি দেবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি মজুত ক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে এবং শিল্প ও কৃষিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন