বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:০৬ পি.এম
উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজমান থাকায় পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলে টানা ছয় দিন ধরে মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বাসস’কে জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার সকাল ৬টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮২ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে হলো উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্যের প্রভাবের কারণে।
তিনি বলেন, আজও উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো অথবা দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই কারণে পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্রবন্দরসমূহে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছধরা ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালীর বাউফল, দশমিনা, গলাচিপা ও কলাপাড়া উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় মৎস্যচাষি ও বর্ষাকালীন সবজি চাষিদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। বিশেষ করে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচল এবং নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষদের কর্মসংস্থান ব্যাহত হওয়ায় তাঁরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার, এবং পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩ জন ব্যক্তি এবং ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ‘জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬-এর জাতীয় অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পদক তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
পরিবেশ পদক-২০২৫ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ ক্যাটাগরিতে আলহাজ ফরহাদ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. হাসমত আলী, পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার ক্যাটাগরিতে মো. মনির হোসেন এবং পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ক্যাটাগরিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও অধ্যাপক প্রফেসর ড. আব্দুস সালাম পদক লাভ করেছেন।
এ ছাড়া, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ ক্যাটাগরিতে ক্লাসিকাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড, পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার ক্যাটাগরিতে ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটও পরিবেশ পদক পাওয়ার সম্মানে ভূষিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এছাড়াও বুধবার (৮ জুলাই) পত্রিকায় প্রকাশিত এই সংবাদকে সূত্র ধরে তিনি পরিবেশ দূষণ রোধের জন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও অনুশাসনের আলোকে সারাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বগুড়ার উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া জেলার উন্নয়ন কর্মসূচি স্থগিত ছিল।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করতে কাজ চলছে এবং সেখানে উত্তর অঞ্চলের জন্য বিমান বাহিনীর প্রথম বিমান ঘাঁটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে আসন্ন নতুন যুদ্ধ বিমানগুলোও বগুড়ার এয়ারপোর্টের সাথে যুক্ত হবে।
তিনি জানান, সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, বগুড়ায় তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ড্রোন নির্মাণ কারখানা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
বগুড়াকে প্রতারণার উদাহরণের স্বরূপ তুলে ধরে বোঝান, ২০০৬ সালের পর আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম থাকা সত্ত্বেও সেখানে কোনও আন্তর্জাতিক মানের খেলা অনুষ্ঠিত হয়নি।
উপজেলা নামকরণের বিষয়ে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিছু ইউনিয়ন ছিল যেগুলো বড় বড় ইউনিয়ন ছিল। সেসব ইউনিয়নকে বিভক্ত করা অপরিহার্য ছিল। সেই কাজের অংশ হিসেবে নতুন চারটি ইউনিয়ন তৈরি করা হয়েছে। ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় নতুন নামকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেভাবে এলাকাবাসী ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন বগুড়া জেলা উন্নয়নবঞ্চিত ছিল, এ বিষয়ে সবার অবগতির কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বগুড়ার উন্নয়ন হয়নি, রাস্তাঘাট ও ব্রিজের অবস্থা খুবই খারাপ।” নিজের ভূমিকার বিষয়ে তিনি জানান, মন্ত্রী হিসেবে এসব ঘাটতির পূরণে চেষ্টা করছেন। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি নতুনভাবে এলাকাবাসীর জন্য একটি বহুমাত্রিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত রেলপথ সংযোগ প্রায় ৭২ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের এ সংযোগ ছিল না, কিন্তু বর্তমানে রেলপথ সংযোগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, জমি অধিগ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘জাতীয় রাজনীতিতে আমার কোন পথ পাথেয় ছিল না; আমি তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি কিন্তু আমরা কাজ শুরু করেছি। আমাদের কাজ করার সক্ষমতা আছে, এটি নিশ্চিত করতে কিছুদিন সময় নিন। যদি শুরুতেই আমাকে টার্গেট করা হয়, তাহলে আমার মেধা বিকাশের সুযোগ হবে না।’
তিনি বলেন, “আমি আমার মন্ত্রণালয়ে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি কারণ আমার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আমাকে নিয়ে যেকোনো বড় সিদ্ধান্তগ্রহণ করেন।”
নতুন অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের বাজেটে নির্বাচন পরিচালনার জন্য টাকা রয়েছে। আগামীতে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলি অনুষ্ঠিত হবে। তিনি পাঠকদের জানান, ‘আমাদের সন্তানরাও মামলার আসামি হয়েছিল’।
সম্পদ নিয়ে গণমাধ্যমে আসা খবরের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী হলফনামায় সব তথ্য দেওয়া আছে, যা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। কেননা, উচ্চারণ হওয়ার আগে যাচাই-বাছাই করা উচিত।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমার কথা খণ্ডিত ভাবে প্রচার করবেন না। বরং পুরো বক্তব্যটি তুলে ধরুন। আমার বিরুদ্ধে সমালোচনা হলেও আমি চিন্তিত নই। বরং, সমালোচনায় আমি দেশবাসীর কাছে পরিচিত হই। ভালো-মন্দ বিচার জনগণ করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মিড ডে খাবার পরিদর্শনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান গিয়েছিলেন। সেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারে পচা ডিম তিনি পান।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাবারের মান পরিদর্শনের জন্য বিদ্যালয়ে যান। সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া খাবার পর্যবেক্ষণকালে তিনি পচা ডিম পান। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
আরও জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি জনাব আলী টিটুর স্ত্রী হেনা বেগম সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য কলা ও ডিম সরবরাহ করেন।
নয়ানখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মওলা বলেন, "আজকে ইউএনও পরিদর্শনে এসেছিলেন। তিনি এসে একটি ডিম পচা পেয়েছেন। তবে ততক্ষণে শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিম বিতরণ করা হয়নি। এছাড়া, বিদ্যালয়ের সব দিক তিনি ভালো পেয়েছেন।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, "আজকে নয়ানখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম, সেখানে খাবারের মান ঠিক আছে কিনা দেখতে। তবে সেখানে ডিম নষ্ট ছিল। সার্বিক বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসারকে তদারকি করার জন্য বলেছি।"
নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, "বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ এবং উত্তাল সাগরের কারণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প।
এদিকে, পর্যটকশূন্য সৈকতের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হোটেল-রিসোর্ট মালিকসহ সবাই চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। ইতোমধ্যে পর্যটকরা তাদের হাজার হাজার রুম বুকিং বাতিল করেছেন। এছাড়াও, বন্ধ রয়েছে শত শত দোকানপাট ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে, মাত্র কয়েক দিনেই কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজমান। লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। যাদের এসে উপস্থিতি ছিল, তাদেরও বৃষ্টির কারণে সৈকতে বেশি সময় অবস্থান না করে দ্রুত হোটেলে ফিরে যেতে দেখা গেছে। সৈকতের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ, খোলা থাকা দোকানগুলোও ক্রেতাশূন্য। ঝালমুড়ি, চটপটি, কিটকট, বিচ বাইক ও ঘোড়ার ব্যবসাসহ প্রায় সব ধরনের পর্যটননির্ভর কর্মকাণ্ডে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
লাবণী পয়েন্টে ঝালমুড়ি বিক্রেতা মো. আল আমিন বলেন, 'টানা চার দিনের ভারী বর্ষণের কারণে সমুদ্রসৈকতে এসে ব্যবসা করতে পারিনি। জীবিকার তাগিদে বুধবার দোকান নিয়ে এলেও বৃষ্টি যেন পিছু ছাড়ছে না। দুপুর পর্যন্ত মাত্র ১০০ টাকার ঝালমুড়িও বিক্রি হয়নি। অথচ স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকার বিক্রি হতো।'
বিচ বাইক চালক মহিউদ্দিন বলেন, 'সমুদ্রসৈকতে বিচ বাইক চালিয়েই আমার সংসার চলে। কিন্তু ভারী বৃষ্টিপাত ও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের কারণে পর্যটক না থাকায় ব্যবসা একেবারেই বন্ধ। তিন দিন পর সৈকতে এলেও কোনো আয় হয়নি।'
ঘোড়াওয়ালা মো. নিশান জানান, 'কক্সবাজার সমুদ্রসৌন্দর্যের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে ৪৫ জন ঘোড়াওয়ালা রয়েছেন। কিন্তু টানা ভারী বর্ষণ ও পর্যটক সংকটের কারণে আমাদের সকলের আয়-রোজগার কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন থমকে যাওয়ায় আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি।'
কিটকট ব্যবসায়ী মফিজ বলেন, 'বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও কিছু পর্যটক সৈকতে এলেও টানা বৃষ্টির কারণে তারা বেশিক্ষণ অবস্থান না করে দ্রুত হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে সৈকতের কিটকটগুলো সারাদিনই প্রায় ফাঁকা পড়ে থাকছে, আর ব্যবসাও একেবারে স্থবির হয়েছে।'
রাসেল চটপটির স্বত্বাধিকারী মো. আরিফ বলেন, 'প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার বিক্রি হতো, সেখানে এখন সারাদিনেও এক হাজার টাকার ব্যবসা হচ্ছে না।'
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টজুড়ে থাকা সহস্রাধিক বার্মিজ পণ্যের দোকানেও নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ দোকান বন্ধ রয়েছে। যেসব দোকান খোলা আছে, সেগুলোও ক্রেতাশূন্য।
লাবণী ছাতা মার্কেটের ব্যবসায়ী মোরশেদ আলম মন্তব্য করেন, 'এই মার্কেটে প্রায় ২০০টি বার্মিজ পণ্যের দোকান রয়েছে। কিন্তু গত চার দিন ধরে কার্যত কোনো বেচাকেনাই নেই। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিটি দোকানে দৈনিক ৩০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতো, সেখানে এখন অনেক দোকানে সারাদিনে একটি পণ্যও বিক্রি হচ্ছে না।'
সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী মো. ফারুক বলেন, 'স্বাভাবিক সময়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে প্রতিদিন ৫০ হাজারেরও বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটে। তবে টানা বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে গত চার দিনে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজারে। আগত পর্যটকরাও কিছুক্ষণ সৈকতে অবস্থান করে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে লাইফগার্ডরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং কাউকে সমুদ্রে নেমে গোসল করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।'
মেরিন ড্রাইভ-কলাতলী হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, 'টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে কক্সবাজারে যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে। গত চার দিনে কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে প্রায় ৬০ হাজার পর্যটকের রুম বুকিং বাতিল হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক অবস্থান করলেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তারাও নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।'
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র আবিদ আহসান সাগর জানিয়েছেন, 'টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ পুরো পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত চার দিনেই কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ