বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:০১ এম
দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার উদ্দেশ্যে সরকার ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের শেষ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই তথ্য উপস্থাপন করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একটি সম্পূর্ণ পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তরিত করা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এরই অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সরকার কোনো ধরনের চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না।'
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দুর্নীতি দমনের বিষয়েও সরকারের কঠোর অবস্থান প্রাধান্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দুর্নীতি দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার রয়েছে। আমরা দেখেছি স্বৈরাচারের সময় কীভাবে প্রতিবছর এই দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করে দেওয়া হয়েছে। এই দুর্নীতিকে যেকোনোভাবেই হোক, এটি হাত বেঁধেই হোক কিংবা টুঁটি চেপেই হোক—যেকোনো উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।'
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সরকারের পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশের মানুষের অন্যতম চাওয়া হচ্ছে একটি নিরাপদ পরিবেশ। একজন কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ছোট ব্যবসায়ী—যে-ই হোক না কেন, প্রত্যেক মানুষ চায় দিনশেষে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে এবং পরিবার নিয়ে নিরাপদে চলাফেরা করতে। জনগণের এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে আরও পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।'
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার। আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করি এবং সম্মান করি। জনগণের জীবন এবং সম্পদ সুরক্ষা সরকারের পবিত্র আমানত। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে রাষ্ট্র ও সরকার হবে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক এবং নাগরিকের জীবন হবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা নতুন করে পৃথক Department of Data Science খোলার দাবি না করে পরিসংখ্যান বিভাগের সঙ্গে ডেটা সায়েন্সকে একীভূত করে Department of Statistics and Data Science নামে একটি বিভাগ পরিচালনার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন, বিশ্বব্যাপী ডেটা সায়েন্স প্রধানত পরিসংখ্যান, গণিত ও কম্পিউটেশনাল মডেলিংয়ের সম্মিলনে গড়ে ওঠা একটি আন্তঃবিষয়ক শাখা। নতুন বিভাগ খোলার পরিবর্তে বিদ্যমান পরিসংখ্যান বিভাগে ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক আধুনিক কোর্স সংযোজন করা হলে শিক্ষার্থীরা আরও সমন্বিত শিক্ষা লাভ করবে।
তারা যুক্তি দিয়েছেন, আলাদা বিভাগ চালু হলে একই ধরনের পাঠ্যক্রম ও দক্ষতার ফলে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে চাকরি, উচ্চশিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এজন্য শিক্ষার্থীরা নতুন বিভাগ চালুর পরিবর্তে Department of Statistics and Data Science নামে বিভাগ পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছেন।
পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অলিপ বলেছেন, ডেটা সায়েন্সের ভিত্তি হল পরিসংখ্যান। আলাদা বিভাগ খোলার পরিবর্তে পরিসংখ্যান বিভাগের সঙ্গে ডেটা সায়েন্সকে একীভূত করার ফলে শিক্ষার্থীরা আরও সমৃদ্ধ এবং যুগোপযোগী শিক্ষা পাবে। তারা আধুনিক কারিকুলামের দাবিতে আছে, বিভাজন নয়।
২০২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া জানিয়েছেন, বিশ্বের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেটা সায়েন্স পরিসংখ্যান বিভাগের অধীনে পড়ানো হয়। তাই হাবিপ্রবিতেও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে Department of Statistics and Data Science গঠন করা হলে সেটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য আরও উপকারী হবে।
২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেধা বলেছেন, তারা ডেটা সায়েন্সের বিরোধী নন। বরং তারা চান, আধুনিক বিষয়গুলো পরিসংখ্যান বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন একটি বিভাগ গড়ে তোলা হোক, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আর্জেন্টিনা তাদের একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে। টানা দ্বিতীয় বারের মতো ফাইনাল খেলতে ভীষণ মরিয়া আলবিসেলেস্তারা।
সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে মাঠে নামা একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল। তার পরিবর্তে শুরুতে সুযোগ পেয়েছেন জুলিয়ানো সিমিওনে।
ম্যাচের আগে ঘোষিত একাদশে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি এই পরিবর্তনটি এনেছেন। ডি পলের অনুপস্থিতি মাঝমাঠে দলের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। ডি পলের পরিবর্তে সিমিওনেকে শুরু থেকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টিনা কোচ।
গোলপোস্টের নিচে নিয়োজিত থাকছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। রক্ষণভাগে নাহুয়েল মলিনার সঙ্গে আছেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো।
মাঝমাঠে জুলিয়ানো সিমিওনের সঙ্গে খেলবেন এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। আক্রমণভাগের মূল ভরসা হচ্ছে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেজ।
আর্জেন্টিনা একাদশ: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, নাহুয়েল মলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, জুলিয়ানো সিমিওনে, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেজ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারায় দলটি।
গোল হজমের পর ইংল্যান্ডের কাছে একাধিক সুযোগ নষ্ট হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে এনজো করেন সমতা ফেরানো গোল। এরপর ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করলেন। ৯২ মিনিটে ২-১ গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।
৬৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বদলি নেমেই ম্যাচে ছাপ রাখেন গঞ্জালেজ। পরের মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি লম্বা বল হেড করেছিলেন গঞ্জালেজ। কিন্তু ইংল্যান্ড বিপদমুক্ত করে।
৬৯ মিনিটে ডানদিক থেকে মেসির ক্রসে দারুণ এক হেড করেছিলেন গঞ্জালেজ। কিন্তু পিকফোর্ড নিচু ডাইভে অবিশ্বাস্য সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেন।
৭২ মিনিটে আর্জেন্টিনা তিনটি পরিবর্তন আনে। সিমিওনে, মলিনা ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে উঠিয়ে দে পল, মোন্তিয়েল ও ওতামেন্দিকে নামান স্কালোনি।
চার মিনিট পর দে পলের বাড়ানো ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটে গঞ্জালেজের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। লাইন্সম্যান ততক্ষণে অফসাইডের পতাকা ওড়ান।
৮৪ মিনিটে এনজোর শট গোলপোস্টের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান পিকফোর্ড। পরের মিনিটে কর্নার থেকে মেসির বাড়ানো বলে ২৫ গজ দূর থেকে শট নেন তিনি। বল পিকফোর্ডের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়ল আর্জেন্টিনা। অ্যান্থনি গর্ডন ৫৫ মিনিটে তাদের জালে বল ঠেলে দিলেন। ইংল্যান্ড এগিয়ে গেল।
ইংলিশ খেলোয়াড়রা ডান দিক থেকে গতি বাড়িয়ে পাল্টা আক্রমণ চালায়। কেইন নিচে নেমে রজার্সকে বল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজ অ্যাক্রোব্যাটিক ভঙ্গিতে বলটি ক্লিয়ার করে দেন। আলগা বলটি পেয়ে রাইস রজার্সকে খুঁজে নেন। তার দুর্দান্ত ক্রস বক্সের মধ্যে ঢোকে। ব্যাকপোস্টে গর্ডন মলিনার পেছন থেকে বল কেড়ে নিয়ে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান।
এর আগে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্জেন্টাইন কিপারের লম্বা পাসের পর ডান দিক থেকে ডি বক্সে আক্রমণ চালায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেখানে মেসি ও আলভারেজের দারুণ বোঝাপড়ায় আলভারেজ পোস্টে একটি জোরালো শট নেন। পিকফোর্ড চমৎকারভাবে বাঁচিয়ে দেন। ফিরতি শটটি জালের বাইরের অংশে লাগলেও সেটি সম্ভবত ডিফেন্ডারের গায়ে লেগেছিল এবং রেফারির পক্ষ থেকে কর্নারের সংকেত দেওয়া হয়।
অ্যাটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে দুই দলের আক্রমণভাগের কোনো নৈপুণ্য দেখা যায়নি। লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেইনরা এই সময়ে কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য স্কোরে। প্রথম ৪৫ মিনিটে ছিল ফাউলের ছড়াছড়ি।
হাইড্রেশন ব্রেকের আগেই ১১ ফাউল। আর্জেন্টিনার ৬টির বিপরীতে ইংল্যান্ডের পাঁচ। প্রথমার্ধের পানি পানের বিরতির আগে ম্যাচে শারীরিক লড়াইটাই বেশি হয়েছে। হাফটাইমের আগে বাকি সময়েও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রথমার্ধ শেষে দুই দল মোট ১৯টি ফাউল করেছে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা করেছে ১২টি, বাকি সাতটি ইংল্যান্ডের। তবে রেফারি ইসমাইল খুবই সংযত ছিলেন। মাত্র দুইবার হলুদ কার্ড বের করেছেন তিনি, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের একজন করে সেটা দেখেছেন।
প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলের কেউই লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেনি। এমনকি শট নিতেও দেখা যায়নি কাউকে। দুই দলই একে অন্যের অর্ধে গিয়ে আক্রমণ চালালেও সুবিধা করতে পারেনি। দুই কিপারকেও বড় কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি।
এই সময়ে আর্জেন্টিনা ৫৮ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল। তাদের প্রধান তারকা লিওনেল মেসিও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। পানি পানের বিরতির আগে তার ফ্রি কিক জর্ডান পিকফোর্ড পাঞ্চ করে কর্নার বানান। কর্নারেও শট নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এনজো ফার্নান্দেজ পিকফোর্ডকে ফাউল করায় সেটি কাজে লাগেনি।
৩৩ মিনিটে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ইংল্যান্ডের ফ্রি কিক ঠেকাতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ডেক্লান রাইসের ফ্রি কিকে স্টোনসের হেড সাইড নেটে লাগে। দুই মিনিট পর ইংল্যান্ডের ফাইনাল থার্ডে তিন চারজন খেলোয়াড়ের বাধার মুখে পড়েন মেসি। এলিয়ট অ্যান্ডারসন তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন। ফ্রি কিক থেকে মেসির পাস ধরে ইংল্যান্ডের বক্স থেকে ফিরে আসা বলে শট নেন এনজো। ৩৯ মিনিটে তার শক্তিশালী শট অল্পের জন্য গোলবারের ওপর দিয়ে যায়।
তিন মিনিট পর রজার্সকে পেছন থেকে টেনে ধরে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। প্রথমার্ধে তিন মিনিটের ইনজুরি টাইমেও কোনো দল লক্ষ্যে শট রেখেছিল না। তবে বিরতি থেকে ফিরে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর কর্মসূচির অংশ হিসেবে, সরকার দেশে জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপন্ন প্রায় ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে যাচ্ছে।
বুধবার, ১৫ জুলাই, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি যোগ করেন, নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকারের যে কৌশল রয়েছে, তার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
বিপিডিবির চেয়ারম্যান জানান, আমরা সারা দেশে জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করতে আরও বেশি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এর ফলে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
বিপিডিবি সূত্র জানায়, তাদের পাওয়ার সেক্টর ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের ১৯টি স্থানে মোট ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘোড়াশালে ১.৩ মেগাওয়াট, খুলনায় ০.২৬ মেগাওয়াট, রাজশাহী প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ০.১২ মেগাওয়াট, চট্টগ্রাম প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ০.১৩ মেগাওয়াট, বিবিয়ানায় ০.৪০ মেগাওয়াট, বড়পুকুরিয়ায় ০.২৫ মেগাওয়াট এবং দেশের আরও কয়েকটি স্থানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনার কার্যক্রম চলছে।
রুফটপ প্রকল্পের সঙ্গে বিপিডিবি মোট ৭৭.৫ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার তিনটি বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নও করছে। ৫০, ২০ ও ৭.৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্পগুলোর দরপত্র ২৩, ২৪ ও ২৫ জুন খোলা হয়েছে এবং বর্তমানে কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়নের প্রক্রিয়া চলছে।
আগামী মাসে মূল্যায়ন প্রতিবেদন বিদ্যুৎ বিভাগে জমা দেওয়া হবে এবং এরপর তা সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির কাছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
বর্তমানে দেশজুড়ে অবস্থিত সৌরবিদ্যুতের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১,৮০৭.৭৫ মেগাওয়াট, যা দেশের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫.০১ শতাংশ।
এছাড়া, বিপিডিবি ১২টি স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) সঙ্গে মোট ৯১৮ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭.৮০ মার্কিন সেন্ট, যা আগের তুলনায় প্রায় আড়াই সেন্ট কম। সাধারণত, চুক্তি স্বাক্ষরের ২৪ মাসের মধ্যে গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উৎপাদনে আসে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত পূর্বে পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ ও জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নয়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের সরকারের অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি রূপান্তর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ