ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় সীমান্তজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ


রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় সীমান্তজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন সংঘাত ও বিমান হামলার সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সীমান্তে উদ্বেগ বাড়ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ আবারও সীমান্তে আসার চেষ্টা করছে। এর বিপরীতে, যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য বিজিবি ও কোস্টগার্ড সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার কথা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মতে, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে আশ্রয় নেওয়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার চাপ সামলানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান মন্তব্য করেন, ‘আমরা সবসময় সীমান্ত নিরাপত্তার কথা বলি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, রাতের অন্ধকারে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। যদি সীমান্তে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা যায়, তাহলে এই অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হবে না। মিয়ানমারের সংঘর্ষ চলুক বা না চলুক, তারা কোনো না কোনো পথ দিয়ে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তাই অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।’

এদিকে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার চাপের মধ্যে নতুন করে কাউকে আশ্রয় দেয়ার কোনো সক্ষমতা নেই বলে জানায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন। সংস্থাটি আরও বলছে, রোহিঙ্গারা মাতৃভূমি ছেড়ে এলে সংকট আরও বাড়বে এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও জটিল হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানান, ‘বর্তমানে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। গত কয়েক বছরে যে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা দেশে এসেছে, তাদের জন্যও পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ফলে অনেকেই পাহাড় কেটে বা পাহাড়ের ভেতরে গর্ত করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে এবং এতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। এই অবস্থায় বোঝা যায়, বাংলাদেশে আর নতুন করে রোহিঙ্গাদের জায়গা দেয়ার মতো সক্ষমতা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাখাইনের পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সেখানে বিমান হামলা চলছে এবং নতুন যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েছে। জানা গেছে, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় আরাকান আর্মির সদস্যরা অবস্থান নেয়ায় ওই অঞ্চলে বিমান হামলা হচ্ছে। ফলে রোহিঙ্গাদের আবারও সীমান্তের দিকে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। প্রতি সপ্তাহে ৩০ থেকে ৫০ জনের মতো বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আরও বেশি মানুষ সীমান্তের দিকে আসতে পারে বলে আমরা শুনছি। তবে বিজিবি তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে এবং নতুন অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করবে বলেই আমাদের আশা।’

রোহিঙ্গারা নিজেদের মাতৃভূমি ছেড়ে এলে তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতাদের অনুরোধ করেছি, যেন তারা রাখাইনে অবস্থানরত তাদের জনগণকে সেখানেই থাকতে উৎসাহিত করেন এবং বাংলাদেশে আসতে নিরুৎসাহিত করেন।’

রাখাইনে বর্তমানে কতজন রোহিঙ্গা রয়েছে, সে বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলেও ধারণা করা হয় সেখানে এখনও প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। এছাড়া, প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমারের অন্যান্য অঞ্চলে, বিশেষ করে ইয়াঙ্গুনের দিকে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

কমিশনার আরও জানান, ‘বর্তমান সংঘাতের কারণে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যায়। তবে আমরা তাদের বারবার বোঝাচ্ছি, যেন তারা নিজেদের স্বজনদের বাংলাদেশে আসতে উৎসাহিত না করেন। কারণ এতে প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে যাবে। তাদের উচিত নিজেদের মাতৃভূমিতে থেকেই পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করা, সবমিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং উদ্বেগজনক।’

রাখাইনে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি। টেকনাফের নাফ নদী থেকে শুরু করে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে বর্তমানের থেকে বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক জলযান, ড্রোন প্রযুক্তি ও নিয়মিত টহলের মাধ্যমে সীমান্তে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে কোস্টগার্ড।

কক্সবাজারস্থ ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. খায়রুল আলম বলেন, ‘বর্তমানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কিছুটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। সম্প্রতি সেখানে কয়েকটি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর প্রেক্ষাপটের কারণে ওই এলাকায় অবস্থানরত কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে।’

তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে সীমান্তে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আমাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। রোহিঙ্গা হোক বা মিয়ানমারের অন্য কোনো নাগরিক—বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করলেই আমরা তাদের শনাক্ত ও আটক করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমাদের নজরদারি যতদূর সম্ভব বিস্তৃত করা হয়েছে, যাতে কেউ আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে।’

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশনের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন জানান, ‘নাফ নদীসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ডের বিভিন্ন আধুনিক জলযান দিয়ে ২৪ ঘণ্টা টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন জলযান ও উন্নত ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে নাফ নদীসংলগ্ন এলাকা সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। দিন-রাত সবসময় আমাদের জলযান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ব্যবহার করে সীমান্ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থলভাগেও নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’

রাখাইনের পরিস্থিতি কোন দিকে এগোচ্ছে, তা সীমান্তের আগামী দিনে চিত্রকে নির্ধারণ করবে। তবে নতুন করে রোহিঙ্গাদের ঢল ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামলার পর সৌদি আরবে জারি হলো জরুরি সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৫ এম


হামলার পর সৌদি আরবে জারি হলো জরুরি সতর্কতা

ইয়েমেনে হামলার পর সৌদি আরবের জাজান ও ইয়ানবু গভর্নরেটে সাময়িকভাবে ‘সম্ভাব্য বিপদের’ সতর্কতা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স ডিরেক্টরেট।

মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) পরিচালিত জরুরি সতর্ক বার্তার মধ্যে দুই অঞ্চলের জন্য বিপদমুক্তির ঘোষণা দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যা বার্তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই করা হয়।

সৌদি সিভিল ডিফেন্স ডিরেক্টরেট প্রাথমিকভাবে ইয়ানবু গভর্নরেটের বাসিন্দাদের জন্য শান্ত থাকতে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেয়।

তবে এই সতর্কতার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ বা কি ধরনের হুমকি তৈরি হয়েছিল সে সম্পর্কে ডিরেক্টরেটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

সূত্র: আল জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানকে অস্ত্র সরবরাহে চীন ও রাশিয়াকে কঠোর বার্তা দিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩১ এম


ইরানকে অস্ত্র সরবরাহে চীন ও রাশিয়াকে কঠোর বার্তা দিলেন ট্রাম্প

চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে ওই দেশ দুটির জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। এমনকি কোনও চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও তা করা হবে না।

নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট শি বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আমাকে বলেছেন যে তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন বা বিক্রি করবেন না। এই বিবৃতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমি তার কথায় আস্থা রাখছি, তা ছাড়া আমিও তাকে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা করছি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। 

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোকে করি। তারা পুরো মূল্য পরিশোধ করে, আর সেই অস্ত্রগুলো কীভাবে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই।

ট্রাম্প বলেন, অতএব, ইরান প্রসঙ্গে মানুষ প্রায়শই যে দুটি প্রধান দেশের কথা বলে, আমার মতে তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। যদি তারা তা করত, তবে তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। নিঃসন্দেহে এটি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিটি ঘরে পর্যায়ক্রমে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ এম


প্রতিটি ঘরে পর্যায়ক্রমে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট সমাধানে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ঘরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে সরকারি পুকুরগুলোকে সংস্কার করা হবে, যাতে তা সংরক্ষিত মিঠা পানির আধার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এর ফলে উপকূলের মানুষ নিরাপদ সুপেয় পানির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চত্বরে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের উদ্যোগে এবং রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব উল্লেখ করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘উপকূলীয় রামপাল ও মোংলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকট বিরাজমান। এই সংকট সমাধানে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় প্রাথমিকভাবে তিন হাজার পানির ট্যাংক বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এর ধারাবাহিকতায় আজ ৮২টি ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে।’

তিনি জানান, ‘এই অঞ্চলের অধিকাংশ পানির উৎস লবণাক্ত হয়ে গেছে। এমনকি অনেক টিউবওয়েলের পানিও ব্যবহার উপযোগী নয়। তাই, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা নিরাপদ সুপেয় পানির অন্যতম কার্যকর উপায় বলে জানা যায়। এবং এই উদ্দেশ্যে পরিবারের হাতে পানির ট্যাংক তুলে দেওয়া হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, ‘সরকার উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য নিরাপদ পানির স্থায়ী সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া, সরকারি পুকুরগুলোকে সংস্কার করে মিঠা পানির আধারে রূপান্তরিত করা হবে। এসব পুকুরে মাছ চাষের অনুমতি দেয়া হবে না, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ সুপেয় পানির সুবিধা পেতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিপরীত প্রভাব মোকাবিলা করতে, উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা দিতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসী, বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক, রামপাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন, রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাজীব আল রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিন, সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম জাহিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, রামপালে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে অতি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন, নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একসঙ্গে সমুদ্রে গোসলে নেমে ছেলে বেঁচে ফিরলেও বাবা নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৩ এম


একসঙ্গে সমুদ্রে গোসলে নেমে ছেলে বেঁচে ফিরলেও বাবা নিখোঁজ

একসঙ্গে সমুদ্রে গোসলে নেমে বাবা নিখোঁজ হয়ে গেছেন, যদিও তাঁর ছেলে জীবিত উদ্ধার হয়েছে। কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে এটি ঘটেছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজারের কলাতলী সৈকতের সায়মন বিচের দক্ষিণ পাশে মডার্ন হ্যাচারিসংলগ্ন সমুদ্র এলাকার ভেতর এই ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ বাবার নাম হেলাল শেখ, যিনি মেহেরপুরের পশু হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর ছেলে দীপ বেঁচে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দলকে পাঠানো হয়। এরপর দীপকে সমুদ্র থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে নিখোঁজ থাকা হেলাল শেখের সন্ধানে জেলা প্রশাসন উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

সৈকত কর্মীদের (বিচকর্মী) সুপারভাইজার মাহবুব আলম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে জানার সাথে সাথে জেলা প্রশাসন ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির নিয়ন্ত্রিত লাইফগার্ড এবং উদ্ধারকর্মীদের নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত সমুদ্রে তল্লাশি পরিচালিত হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%