ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আশুলিয়ায় বৈদ্যুতিক মিটার চোর চক্রের দুই সদস্য আটক


আশুলিয়ায় বৈদ্যুতিক মিটার চোর চক্রের দুই সদস্য আটক

ঢাকার আশুলিয়ায় শিল্প কারখানার বৈদ্যুতিক মিটার চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, এই চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ায় বিভিন্ন শিল্পকারখানায় বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে আসছিলেন। তারা চুরির পর ঘটনাস্থলে মোবাইল নাম্বার রেখে যেতেন এবং পরে ফেরত দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতেন। টাকা না দিলে তারা পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে চুরি করা মিটার বিক্রি করে দিতেন। এছাড়া, বিভিন্ন শিল্পকারখানায় মিটার চুরির পর তারা মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে চোরদের শনাক্ত করার কাজ করে। পরে অভিযান চালিয়ে চক্রের দুই সদস্য সবুজ মিয়া ওরফে মিটার সবুজ এবং মারুফ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, সবুজ মিয়ার নামে বিভিন্ন জেলায় চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ ১০টি মামলা রয়েছে এবং মারুফ মোল্লার নামে ৬টি মামলা রয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি চুরি হওয়া মিটার উদ্ধারের কাজ করছে পুলিশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শরীয়তপুরে ঝগড়ার প্রতিশোধে শিশুকে গলাকেটে হত্যা, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২১ পি.এম


শরীয়তপুরে ঝগড়ার প্রতিশোধে শিশুকে গলাকেটে হত্যা, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সোয়াইফ হোসেন (সাড়ে ৩ বছর) নামে এক শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটির মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় পাওয়া যায়।

এ ঘটনার পর এলাকার মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরে রাসেল শিকদার নামে এক যুবককে আটক করে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম আদাসন এলাকা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সোয়াইফ হোসেন সেলিম সরদার ও শিমুলী দম্পতির সন্তান। শিশুটির পরিবারের দাবি, প্রতিবেশী আবু আলম শিকদার এবং তার ছেলে রাসেল শিকদার এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৭টার দিকে সোয়াইফ বাড়ির বাইরে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটির সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে আবু আলম শিকদারের বসতঘরের পেছনের একটি ডোবা থেকে শিশুটির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশ রাসেল শিকদারকে আটক করে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

শিশুটির বাবা সেলিম সরদার বলেন, "শুক্রবার সন্ধ্যায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার মায়ের সঙ্গে প্রতিবেশী আবু আলমের ঝগড়া হয়। রাতে আমার মা বিষয়টি আমাকে জানান। শনিবার সকালে আমি বাজারে গেলে ফিরে এসে দেখি আমার সন্তান নেই। পরে থানায় গিয়ে জিডি করি। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে আবু আলমের বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে আমার ছেলের বস্তাবন্দি গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন। আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।"

ঘটনার পর অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) শামসুল আরেফিন বলেন, "খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। যারাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিড-ডে মিলে আসছে কুপন, খাবার পছন্দ না হলে শিক্ষার্থীর কাছে ‘টাকা থাকবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২১ পি.এম


মিড-ডে মিলে আসছে কুপন, খাবার পছন্দ না হলে শিক্ষার্থীর কাছে ‘টাকা থাকবে’

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কুপন পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার সেগুনবাগিচায় ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অধীনে, প্রতিটি শিশুকে ৩৮ টাকা ৫০ পয়সার কুপন প্রদান করা হবে। শিক্ষার্থীরা এই কুপন ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে তালিকাভুক্ত খাদ্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিজেদের পছন্দের খাবার কিনতে পারবে। তবে, যদি শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের খাবার না পায়, তাহলে কুপনের অর্থ তাদের কাছে থাকবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার ভিত্তিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তালিকাভুক্ত করা হবে। যদি কোনো শিক্ষার্থী তালিকাভুক্ত দোকানে বা ব্যবসায়ীর কাছে তাদের পছন্দের খাবার না পায়, তাহলে তারা খাবার কিনবে না। এই পরিকল্পনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং মন্ত্রণালয় আরও আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই বিতরণ করা হবে। বইয়ের মান নিশ্চিত করতে এবারের উদ্যোগে ভালো মানের কাগজ ও কালি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, নিম্নমানের কারণে প্রকাশকদের কাছ থেকে তিন লাখ বই ফেরত নেওয়া হয়েছে। যদি কোনো প্রকাশকের কাজের মানে ঘাটতি পাওয়া যায়, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বই বিতরণের পরেও যদি কোনো অনিয়ম বা গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া, ২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফর্মসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মনোহরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, বর্জ্যের বিনিময়ে পণ্য বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৪ পি.এম


মনোহরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, বর্জ্যের বিনিময়ে পণ্য বিতরণ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্জ্যের বিনিময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণের একটি কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে।

এই কার্যক্রমটি শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বাইশগাঁও ইউনিয়নের মান্দারগাঁও বাজারে শুরু হয়।

‘পরিষ্কার পরিবেশ, সুস্থ সমাজ গড়তে বর্জ্য হোক সম্পদ’ এই স্লোগানের আওতায় মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. শাহ আলম মিয়া এ কর্মসূচির আয়োজন করেন।

এ সময় বাজারের অলিগলি, সড়ক ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। পরে এসব বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে ধ্বংস করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

কর্মসূচিতে ৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত বর্জ্যের বিনিময়ে পরিমাণভেদে আটা, লবণ, পেঁয়াজ, আলু, তেল ও ডাল বিতরণ করা হয়।

আয়োজক মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, "ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি যেখানে-সেখানে বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"

এ সময় বাইশগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মোক্তার হোসেন বাচ্চু, হুমায়ুন কবির বাবলু, আমিনুল ইসলাম, মোহাম্মদ বাবুল, শরীফ, মোস্তাক ও কিরণসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিষ্টি–গাজী নজরুলের আগে বিতর্কে জড়ানো এমপিদের শেষ পরিণতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৫ পি.এম


মিষ্টি–গাজী নজরুলের আগে বিতর্কে জড়ানো এমপিদের শেষ পরিণতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দুইজন সংসদ সদস্য বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছেন। তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে নির্বাচিত গাজী নজরুল ইসলাম এবং বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

গাজী নজরুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও সংসদ সদস্য পদে তিনি বহাল আছেন।

অন্যদিকে, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। ঢাকার মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তার নাম আসার পর তিনি পদত্যাগ করেন।

সংসদ সদস্যদের বিতর্কে জড়ানোর কারণে পদত্যাগের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে অন্তত পাঁচজন সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার নজির রয়েছে। অন্তত চারজন সংসদ সদস্য দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। তবে এসব কারণে তাদের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা সৃষ্টি হয়নি। তবে দলবদল ও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার কারণে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে অতীতে অন্তত তিনজনের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের নজির রয়েছে।

মিষ্টি–গাজী নজরুলের আগে বিতর্কে জড়ানো সংসদ সদস্যদের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল তা তুলে ধরা হলো।

লতিফ সিদ্দিকী-

টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এর ফলস্বরূপ ১২ অক্টোবর তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়। একই দিনে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সভাপতিমণ্ডলীর পদ থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার দলীয় সদস্যপদও সাময়িক স্থগিত করা হয়।

২০১৪ সালের ২৪ অক্টোবর লতিফ সিদ্দিকীর প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। দেশে ফেরার পর নভেম্বরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় তিনি নয় মাস কারাগারে ছিলেন। তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের চিঠি চালাচালি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে শুনানির উদ্যোগ নেয় কমিশন। ২০১৫ সালের আগস্টে সেই উদ্যোগের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে বিফল হন লতিফ সিদ্দিকী।

পরে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে লতিফ সিদ্দিকী জানান, শুনানির প্রয়োজন নেই এবং তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ইচ্ছার’ কথা উল্লেখ করেন। পরে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সংসদে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

মুরাদ হাসান-

২০২১ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে অশ্লীল মন্তব্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এবং জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুরাদ হাসান। সমালোচনার মধ্যে তার ফোনালাপের একটি অডিও প্রকাশিত হয়। ওই ফোনালাপে তিনি এক চিত্রনায়িকার সঙ্গে কথা বলার সময় অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন এবং তাকে হুমকিও দেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়েও তিনি আপত্তিকর বক্তব্য দেন।

এসব ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন মুরাদ হাসান। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়। সে সময় তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি উঠেছিল। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়েছিল। কিন্তু মুরাদ হাসান সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল ছিলেন।

গোলাম মাওলা রনি-

আওয়ামী লীগের তৎকালীন সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিকে ২০১৩ সালে বেসরকারি ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের দুজন সাংবাদিককে পেটানোর ঘটনায় কারাগারে যেতে হয়েছিল। পরবর্তী নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন পাননি। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং পটুয়াখালী-৩ আসনে মনোনয়ন পান।

মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুল-

২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুল। বিপুল অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নোমানকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিয়ে তিনি নিজের বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শহিদ ইসলাম কুয়েতে মানব পাচার ও ভিসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন, এই অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের জুনে তিনি কুয়েতে গ্রেপ্তার হন। পরে ঘুষ লেনদেনের মামলায় ২০২১ সালের ২৮ জানুয়ারি তাকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার জরিমানা করেন দেশটির আদালত। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সংসদ সদস্যের বিদেশের মাটিতে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা। ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শহিদ ইসলামের আসন শূন্য ঘোষণা করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। অর্থাৎ তিনি সংসদ সদস্য পদ হারান।

আবুল কাশেম-

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবুল কাশেম। তাকে ‘ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপি’ উল্লেখ করে ২০০৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন একই আসনে পরাজিত প্রার্থী বিএনপির মাহমুদুল হাসান। আবেদনে বলা হয়, সোনালী ব্যাংকে আবুল কাশেমের ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৭ টাকা ঋণ রয়েছে। ময়মনসিংহ টেলিফোন এক্সচেঞ্জে কাশেমের নামে ৩২ হাজার ১১০ টাকা ফোনের বিল বকেয়া রয়েছে।

শুনানি শেষে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল আবুল কাশেমকে সংসদ সদস্য ঘোষণা-সংক্রান্ত গেজেট অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কাশেম আপিল বিভাগে যান। ২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ কাশেমের আপিল খারিজ করে দেন। ফলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যায়।

মহীউদ্দীন খান আলমগীর-

‘ওয়ান–ইলেভেন’–এর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দুর্নীতির দায়ে ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতা মহীউদ্দীন খান আলমগীরের। ২০ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের অক্টোবরে তিনি মুক্তি পান। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু কারাদণ্ডের কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। পরে আইনি লড়াইয়ে তার প্রার্থিতা বহাল হয়।

এরপর নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হন মহীউদ্দীন খান আলমগীর। দণ্ডপ্রাপ্ত অবস্থায় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার অভিযোগে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের রায় মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বিরুদ্ধে যায়। সেই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।

মেজর (অব.) জসিমউদ্দিন-

২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোলা-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মেজর (অব.) জসিমউদ্দিন। জসিমউদ্দিনকে ২০০৪ সালের আগস্টে সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছিল। তখনকার আইন অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর পাঁচ বছর পূর্ণ না হলে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করা যেত না। জসিমউদ্দিনের এই আইনি অযোগ্যতার বিষয়টি তুলে ধরে উচ্চ আদালতে রিট করেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বর্তমান সংসদের স্পিকার)। আইনি লড়াইয়ের পর উচ্চ আদালত জসিমউদ্দিনের সংসদ সদস্য পদ অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর নির্বাচন কমিশন তার আসন শূন্য ঘোষণা করে।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান-

কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ২০০০ সালে বিএনপি সংসদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এ কারণে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার আসন শূন্য হয়ে যায়। আখতারুজ্জামান এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছিলেন। ২০০১ সালের জুলাই মাসে সপ্তম সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার আগপর্যন্ত তার আসনটি শূন্যই ছিল।

হাসিবুর রহমান (স্বপন)-

সিরাজগঞ্জ-৭ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সপ্তম সংসদে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন হাসিবুর রহমান (স্বপন)। ১৯৯৮ সালে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে উপমন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু ৭০ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি সংসদ সদস্য পদ হারান।

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন-

১৯৯৮ সালে রাজশাহী-৫ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। একপর্যায়ে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী হন। এ কারণে তার আসন শূন্য হয়ে যায়। তবে পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি আবার সংসদ সদস্য হন।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও জাহিদুর রহমানের ঘটনা ২০১৮ সালের নির্বাচন-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ বেশ নাটকীয় ছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে আটজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে তারা শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। তবে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচিত ঐক্যফ্রন্টভুক্ত গণফোরামের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ২০১৯ সালের ৭ মার্চ শপথ নেন। সেদিনই গণফোরাম থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ২৫ এপ্রিল শপথ নেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী জাহিদুর রহমান। দুই দিন পর তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি তাদের সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকার ক্ষেত্রে বাধা হয়নি।

অবশ্য এই নির্বাচনের কয়েক মাস পর বিএনপি সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দলের চারজন সংসদ সদস্য ২৯ এপ্রিল শপথ নেন। দলের তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বর্তমান রাষ্ট্রপতি) বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও শপথ নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। পরে তার আসনে উপনির্বাচনে জিতে শপথ নেন বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। একপর্যায়ে জাহিদুর রহমানের বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয় বিএনপি।

এইচ এম গোলাম রেজা-

মহাজোটের মনোনয়নে ২০০৮ সালে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির নেতা এইচ এম গোলাম রেজা। জীবনবৃত্তান্তে ও সংসদে অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ২০১২ সালের অক্টোবরে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তবে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়নি।

আবু হেনা-

অষ্টম সংসদ নির্বাচনে (২০০১-০৬) রাজশাহী-৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন সাবেক আমলা আবু হেনা। ২০০৫ সালে তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে তৎকালীন বিএনপি সরকারের এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। মূলত নিজের এলাকার (রাজশাহীর বাগমারা) মানুষ উগ্রবাদীদের হাতে নির্যাতিত হওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এই বক্তব্যের পর আবু হেনাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে সংসদের তৎকালীন স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার সিদ্ধান্ত দেন, আবু হেনার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%