০৬:২০ পি.এম
কক্সবাজারে বৃষ্টি কমে যাওয়ার কারণে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী নদীর পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে, কিন্তু দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি। বিবিধ এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও প্রবল হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ ৫৪টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে।
সোমবার চকরিয়ার বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অনেক বাড়িতে এখনো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি রয়েছে। নলকূপ তলিয়ে যাওয়ার কারণে বিশুদ্ধ পানির উৎস প্রায় নেই বললেই চলে। বহু পরিবার বাধ্য হয়ে বন্যার পানি ব্যবহার করছে। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় খাদ্য সংগ্রহের কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু স্থানে, কেউ ঘরের মাচায়, আবার কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে গাদাগাদি করে দিন কাটাচ্ছেন। অধিকাংশ পরিবারের রান্নার চুলা পানির নিচে থাকায় রান্নার কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।
শৌচাগার তলিয়ে যাওয়ার কারণে নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা না গেলে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
কাকারা এলাকার বাসিন্দা আলী আহমদ বলেন, "ঘরে এখনো পানি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাচায় আছি। রান্না করতে পারছি না। নলকূপ ডুবে গেছে। এখন সবচেয়ে বেশি দরকার শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং দ্রুত ত্রাণ।"
বরইতলীর আবুল কালাম বলেন, "ঘরে যা খাবার ছিল সব শেষ। ছোট ছোট সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি।"
হারবাংয়ের জাহদা বেগম বলেন, "বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছি না। বাচ্চাদের নিয়ে খুব ভয় লাগছে। সবাই ত্রাণের কথা বলছে, কিন্তু আমাদের এলাকায় এখনো কেউ আসেনি।"
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান জানান, জেলার ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ অবস্থান করছেন। দুর্গতদের জন্য সরকারিভাবে ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন